আজকের দিন-তারিখ

  • বুধবার ( রাত ১২:৫৮ )
  • ২০শে আগস্ট, ২০১৯ ইং
  • ১৯শে জিলহজ্জ, ১৪৪০ হিজরী
  • ৬ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ ( শরৎকাল )

Archive Calendar

আগস্ট ২০১৯
সোম মঙ্গল বুধ বৃহস্পতি শুক্র শনি রবি
« জুলাই    
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
জাতীয়

অগ্নিকন্যা প্রীতিলতা

20views

অগ্নিকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার পরাধীন ভারতের প্রথম নারী শহীদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধা। তিনিই গেরিলা আন্দোলনের নবদিগন্তের সূচনা করেছিলেন। আজ সেই মহীয়সী বাঙালি কন্যার ১০৮তম জন্মদিন। ছোটবেলায় হতে চেয়েছিলেন বিজ্ঞানী। কিন্তু জাতির প্রয়োজনে হয়ে উঠেছিলেন বিপ্লবী। আত্মত্যাগের বিনিময়ে পরেছিলেন পরাধীন ভারতের প্রথম শহীদ নারী মুক্তিযোদ্ধার মুকুট। পেয়েছিলেন সত্য আদর্শ ও আত্মত্যাগে বলীয়ান নেতা মাস্টারদা সূর্য সেনের ঐকান্তিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ। প্রীতিলতা ১৯১১ সালের ৫ মে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার ধলঘাট গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা জগবন্ধু ওয়াদ্দেদার ও মা প্রতিভা দেবী। 

১৯২৮ সালে প্রীতিলতা কয়েকটি বিষয়ে লেটার মার্কস পেয়ে কৃতিত্বের সঙ্গে প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিক পাস করেন। ১৯৩০ সালে আইএ পরীক্ষায় তিনি মেয়েদের মধ্যে প্রথম এবং সবার মধ্যে পঞ্চম স্থান লাভ করেছিলেন। এই ফলের জন্য মাসিক ২০ টাকার বৃত্তি নিয়ে কলকাতার বেথুন কলেজে বিএ পড়তে যান। প্রীতিলতা ইংরেজি সাহিত্য নিয়ে পড়লেও দর্শন বিষয়ে অনার্স করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বিপ্লবের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার কারণে অনার্স পরীক্ষা তার আর দেওয়া হয়নি। ১৯৩২ সালে ডিসটিংশান নিয়ে তিনি বিএ পাস করেন। কিন্তু ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে সম্পৃক্ত থাকায় তিনি ও তার সঙ্গী বীণা দাশগুপ্তের পরীক্ষার ফল স্থগিত রাখা হয়। অবশেষে তাদেরকে ২২ মার্চ, ২০১২ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাবর্তনে মরণোত্তর স্নাতক ডিগ্রি প্রদান করা হয়। ১৯২৪ সালে বেঙ্গল অর্ডিন্যান্স নামে এক জরুরি আইনে বিপ্লবীদের বিনা বিচারে আটক শুরু হয়। গ্রেফতার এড়াতে বিপ্লবীদের অস্ত্রশস্ত্র, সাইকেল ও বইপত্র গোপনে রাখার ব্যবস্থা করতে হতো। প্রীতিলতার নিকটাত্মীয় পূর্ণেন্দু দস্তিদার সরকার কর্তৃক বাজেয়াপ্ত কিছু গোপন বই প্রীতিলতার কাছে রাখেন। তখন প্রীতিলতা দশম শ্রেণির ছাত্রী। লুকিয়ে লুকিয়ে তিনি পড়েন ‘দেশের কথা’, ‘বাঘা যতীন’, ‘ক্ষুদিরাম’ আর ‘কানাইলাল’। এই বইগুলো প্রীতিলতাকে বিপ্লবের আদর্শে অনুপ্রাণিত করে এবং তখন তিনি দাদা পূর্ণেন্দু দস্তিদারের কাছে বিপ্লবী সংগঠনে যোগদান করার গভীর ইচ্ছা ব্যক্ত করেন। ১৯২৯ সালে প্রীতিলতা দীপালি সংঘের সদস্য হন এবং লাঠি খেলা, ছোরা খেলা ইত্যাদি বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। ১৯৩০ সালে কলকাতার বেথুন কলেজে পড়ার সময় প্রীতিলতা সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড শুরু করেন। গড়ে তোলেন এক বিপ্লবী চক্র, যেখানে অনেক মেয়ে সদস্য যোগ দেয়। তখনও গোয়েন্দা বিভাগ মেয়েদের সন্দেহ করত না বলে মাস্টারদার অনুমতি পাওয়ার পর নারীদের বিপ্লবের বিভিন্ন কাজে যুক্ত করা হয়। বিএ পরীক্ষা শেষে মাস্টারদার নির্দেশে স্থায়ীভাবে চট্টগ্রামে চলে আসেন তিনি। ১৯৩২ সালে চট্টগ্রাম অপর্ণাচরণ ইংরেজি বালিকা বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। 

১৯৩২ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ কাট্টলী গ্রামে এক গোপন বৈঠকে মাস্টারদার নির্দেশে প্রীতিলতা ও কল্পনা দত্তকে ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমণের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এটা সেই ক্লাব, যেখানে একটি সাইনবোর্ডে লেখা ছিল- কুকুর ও ভারতীয়দের প্রবেশ নিষেধ। পুরুষের বেশে ইউরোপিয়ান ক্লাব পরিদর্শনে গেলে পথে পাহাড়তলীতে কল্পনা দত্ত ধরা পড়েন। তখন প্রীতিলতার নেতৃত্বে ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। বীরকন্যা প্রীতিলতার নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের একটি বিপ্লবী দল ১৯৩২ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে পাহাড়তলী ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমণ করে সফল হয়। আক্রমণ শেষে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার সময় তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। এ অবস্থায় ধরা পড়ার আগে প্রীতিলতা দেশবাসীর কাছে আত্মত্যাগের আহ্বান রেখে পটাসিয়াম সায়ানাইড খেয়ে আত্মহত্যা করেন। তার এই আত্মদান সেদিন সারা ভারত উপমহাদেশের স্বাধীনতাকামী বিপ্লবীদের উজ্জীবিত করেছিল। প্রীতিলতা জীবনের শেষবিন্দু দিয়ে সমগ্র জাতিকে এই বার্তা দিয়েছিলেন- স্বাধীনতা অনেক মূল্যবান। এর জন্য প্রয়োজন ত্যাগ, বিসর্জন, রক্ত ও সংগ্রামের। প্রীতিলতার জন্মদিনে আমাদের রইল অসীম শ্রদ্ধা।