1. arif.arman@gmail.com : Daily Coxsbazar : Daily Coxsbazar
  2. dailycoxsbazar@gmail.com : ডেইলি কক্সবাজার :
  3. litonsaikat@gmail.com : ডেইলি কক্সবাজার :
  4. shakil.cox@gmail.com : ডেইলি কক্সবাজার :
  5. info@dailycoxsbazar.com : ডেইলি কক্সবাজার : Daily ডেইলি কক্সবাজার
উদ্বোধনের আগেই অনিয়ম আঞ্চলিক পাসপোর্ট ভবনে - Daily Cox's Bazar News
সোমবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০২:৫৩ অপরাহ্ন
নোটিশ ::
ডেইলি কক্সবাজারে আপনার স্বাগতম। প্রতি মূহুর্তের খবর পেতে আমাদের সাথে থাকুন।
সংবাদ শিরোনাম ::
কট্টরপন্থী ইসলামী দল হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জ: এসএডিএফ কক্সবাজারের আট তরুণ তরুণীকে ‘অদম্য তারূণ্য’ সম্মাননা জানাবে ঢাকাস্থ কক্সবাজার সমিতি Job opportunity বিশ্বের সবচেয়ে বড় আয়না, নাকি স্বপ্নের দেশ! আল-আকসা মসজিদে ইহুদিদের প্রার্থনা বন্ধের আহ্বান আরব লীগের পেকুয়ায় পুলিশের অভিযানে ৮০ হাজার টাকার জাল নোটসহ গ্রেফতার-১ পেকুয়ায় অস্ত্র নিয়ে ফেসবুকে ভাইরাল : অস্ত্রসহ আটক শীর্ষ সন্ত্রাসী লিটন টেকনাফে একটি পোপা মাছের দাম হাঁকাচ্ছেন সাড়ে ৭ লাখ টাকা ! কক্সবাজারের টেকনাফে র‍্যাবের অভিযানে ইয়াবাসহ আটক-১ নিউ ইয়র্কে মেয়র কার্যালয়ে শহীদ মিনার নির্মাণ নিয়ে কনসাল জেনারেলের আলোচনা

উদ্বোধনের আগেই অনিয়ম আঞ্চলিক পাসপোর্ট ভবনে

ডেইলি কক্সবাজার ডেস্ক ::
  • আপডেট সময় রবিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০১৬
  • ২২০ বার পড়া হয়েছে

Passport-officeতিনি সরকারি চাকরিজীবী। বর্তমানে উপ- সহকারী পরিচালক হিসেবে পদায়ন পেয়েছেন কক্সবাজার আঞ্চলিক পাসর্পোট অফিসে। স্বাভাবিকভাবেই তার কাছে সাধারণ পাসর্পোট প্রার্থীরা ভদ্র ও বিনয়ী আচরণ পাওয়ার আশা করে। কিন্তু তাঁর বদমেজাজি আচার-আচরণ ও দুর্নীতি কারণে কক্সবাজার পাসর্পোট অফিস এক নরকে পরিণত হয়েছে। তার আচার-আচরণে স্পষ্ট বোঝা যায় তিনি একজন ‘মানসিক প্রতিবন্ধী’ স্বভাবের। কখন কী বলেন, তা তিনিই জানেন না। তার এমন স্বৈরাতান্ত্রিক মনোভাব, সরকারি অফিসটা যেন তার বাপের টাকা দিয়ে তৈরি করা। যাঁর কথা বলছি- সে হচ্ছে কক্সবাজার আঞ্চলিক পাসর্পোট অফিসের উপ-সহকারী পরিচালক ও ঘোষখুর বাহিনীর প্রধান সওকত কামাল। তার ক্যাডারি আচার-আচারনের দাপটে অসহায় হয়ে পড়েছে জেলার দূরদোরান্ত থেকে আসা পাসপোর্ট প্রার্থীরা। এই কারণে সরকারি এস সেবা প্রতিষ্ঠানের ভাবমুর্তি দিনদিন ক্ষুন্ন হওয়ার পাশাপাশি বিদেশ গমন ইচ্ছুকরা চরম বিপাকে পড়েছে।

সরকার জেলার সাধারন মানুষের সেবা নিশ্চিত করার জন্য কোটি টাকা ব্যায়ে নতুন পাসর্পোট ভবন তৈরি করে দিয়েছে। কিন্তু এই অদক্ষ, অযোগ্য ও বদমেজাজের এই কর্মকর্তা অফিসে বসাতে সরকারে এই সেবার মান বেস্তে বসেছে। বর্তমানে অফিসটি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃষ্টির বাহিরে হওয়ায় এই স্বচতুর কর্তা অফিসে অনিয়মের স্বগরাজ্যে পরিণত করেছে। তাঁর এসব অনিয়ম কাজে সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করছেন কক্সবাজার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের দীর্ঘ দিন ধরে বহাল তবিয়তে ডাটা অপারেটর রাসেল মাহমোদ চৌধুরী ও পিয়ন আলী আক্বর। এই দু’কর্মকর্তা পাসপোর্ট অফিসে নিজস্ব সিন্ডিকেট তৈরি করে নিজেদেরকে মহাক্ষমতাধর ব্যক্তিত্বে পরিণত করতে পাসর্পোট অফিসে গড়ে তুলেছে বিশাল এক ‘নেটওয়ার্ক’। এই নেটওয়ার্ক সৃষ্টি করে যেভাবেই পারছেন, সেভাবেই দু’হাতে কামাচ্ছেন অঢেল টাকা। এখানকার সাধারণ মানুষ কক্সবাজার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে পাসপোর্ট করতে চাইলে তাঁদের কাগজপত্র ঠিক থাকলেও তা ঠিক নেই বলে ওরা জানিয়ে দেন- ‘আপনারা কাল আসুন, কাল গেলে বলেন পরশু আসুন।’ এভাবে দিনের পর দিন ঘুরে কোনো উপায় না দেখে বাধ্য হয়েই তাদেরকে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে পাসপোর্ট করতে বাধ্য হন ভুক্তভোগীরা।

দু’ই মহাক্ষমাতাধার পরিচয়ে সওকত কামাল ও ডাটা অপারেটর রাশেল মাহমুদ, যারা  বিভিন্ন ভাবে বলে বেড়ায় তারা ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগ, পরে আওয়ামী লীগ করেছেন। তবে তাদের পরিচিতজনদের কেউই বলতে পারেননি। অথচ চাকরির খুঁটি মজবুত করতে পরিচয় দেন সরকার দলীয় একজন বড় আমলা।  চট্রগ্রামে এখনো নাকি বড় একজন ক্যাডার হিসেবে পরিচিত তারা। তাদের ধ্যান-জ্ঞানের সর্বত্রই নাকি আওয়ামী লীগের প্রতিচ্ছবি ইত্যাদি, ইত্যাদি। অথচ তারাই সরকারি চাকরিজীবী!। পাসপোর্ট অফিসে আসা লোকজন ও কক্সবাজারের মানুষ এই  দুই কর্মকর্তা বিরুদ্ধে ক্ষোভের শেষ নেই। অনেকেই জানতে চেয়েছেন, সওকত কামাল ও রাসেল এর খুঁটির জোর কোথায়? প্রকাশ্যে ঘুষ লেনদেন করার পরও কী করে এ দু’জন এখনও স্বপদে বহাল থাকেন তা শুনে অনেকেই তাজ্জব বনে গেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কক্সবাজার জেলার পাসর্পোট প্রর্থীদের দীর্ঘ দিনের প্রাণের দাবী ছিল এই দুর্নীতিবাজ ও বদমেজাজি সওকত কামাল প্রত্যহার করার জন্য। এই দুর্নীতিবাজকে প্রত্যহারের দাবীতে লাগাদার বিভিন্ন গণমাধ্যমে তথ্যবহুল সংবাদ প্রকাশ, মানববন্ধন, পাসর্পোট অফিস ঘেরাও জেলা প্রশাসকে স্মারক লিপিসহ নানা রকম কর্মসূচী পালন করছে স্থানীয়রা। পরে সওকত কামালের দুনির্তী ও অফিসের বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্বে বিভাগীয় তদন্ত হলেও এখনো যে লাও সে কদু। অভিযোগ রয়েছে যারা তদন্তে এসেছিল তারা সওকত কামাল তাদেরকে মোটা অংকে ম্যানেজ করেছে। যার কারণে  দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার দুর্নীতির মাত্রা তিন থেকে চারগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

পাসর্পোট অফিসকে এই দু’ই স্বচতুর কর্র্তা ঘুষের স্বর্গ রাজ্যে পরিনত করায় খোদ অফিসের  অন্যান্য কর্মচারীদের সাথে তাদের ¯œায়ু বিরোধ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েজন কর্মচারী জানান এরা দু’জন সবকিছুর অঘোষিত নিয়ন্ত্রক। সরকার থেকে বেতন নেন। অথচ কোন ধরনের সেবা তাদের কাছে নেই। শুধু টাকা আ টাকা।  ঘুষ দিলে আবেদন গ্রহণ ও দিনের দিনই ছবি তোলাসহ যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন হচ্ছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সদর উপজেলার পিএমখালী এলাকার নবী হোছনের স্ত্রী রুমা আক্তার ক’দিন আগে পাসপোর্ট করতে কক্সবাজার আঞ্চলিক নতুন অফিসে যান। সেখানে গিয়ে তিনি সরকার নির্ধারিত ফি ব্যাংকে জমা দিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে চাই। পরে তিনি অসুস্ত বিধায় সরাসরি সওকত কামালের কাছে দস্তখতের জন্য গেলে ষুষ না পাওয়ায় তেলে বেগুনে জ্বলে উঠে। পরে তাকে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে লাঞ্চিত করে তাড়িয়ে দেয় এবং মহিলার সাথে থাকা তার স্বজন রাশেদকেও লাঞ্চিত করে অফিস থেকে বের করে দেয়।

একইভাবে খুরুশকুল এলাকার আইয়ুব হোছেনের অভিযোগে প্রকাশ তিনি একটা পাসর্পোট জমা দিতে গেলে  তাঁর আবেদন প্রথমে নিতেই চাননি শওকত কামালের অধীনস্থ কর্মকর্তারা। তারা ২ হাজার টাকা দাবী করে।   পরে অনেক চেষ্টার পর তিনি পাসপোর্ট ফরম জমা দিতে পারলেও নির্ধারিত সময়ে পাসপোর্ট হাতে পাননি। ঘুষের টাকা না দেওয়ায় দিন যায়, মাস যায়; কিন্তু আইয়ুব হোসেন পাসপোর্ট হাতে না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে আইয়ুব হোসেন অনেক আশা নিয়ে দেখা করেন পাসপোর্ট অফিসের উপ-সহকারী পরিচালক শওকত কামালের সঙ্গে। তিনি আইয়ুব হোসেনকে সহযোগিতা তো করেনইনি উল্টো তাঁকে বলেনÑ আমাদের কিছু করার নেই। এরকম বলে দারোয়ানের মাধ্যমে অফিস থেকে বের করে দেয়। তিনি আরো জানান, প্রতিদিন সাধারণ প্রাসর্পোট প্রার্থীদেরকে অফিসে সাররিক ও মানসিক নির্যাতিতসহ যা খুশি তা করছে সওকত কামাল।

সরকার প্রশাসনকে গতিশীল করে জনগনের দোড়গোড়ায় সেবা প্রদান নিশ্চিত করার জন্য সরকারি কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম। কিন্তু সরকারের নিতির্নিধারকদের এসব নির্দেশনা তোয়াক্কাও করছেন না এই মহাশক্তিধার ব্যক্তি।  সেবা তো দুরের কথা সরকারি এই অফিসে সারাবছর সওকত কামালের বিভিন্ন অত্যচারে পিষ্ট হচ্ছে সাধারণ পাসর্পোট প্রার্থীরা। সরকারি এই সেবা প্রতিষ্ঠানে তার এসব দুর্নীতি ও অনিয়মের তথ্য সংগ্রহ করতে গেল উপ-সহকারী পরিচালক সওকত কামালের হাতে লাঞ্ছিত বিভিন্ন মিডয়ার কর্মরত অনেক সাংবাদিক। তিনি ক্যাডারি ষ্টালেই বলেন, বর্তমানে এখানে পাসপোর্টের যে নতুন অফিসটা হয়েছে তা সচিবালয়ে পরিণত করব। এখানে কোন সাধারণ মানুষ ও মিডিয়াকর্মী ডুকতে চাইলে প্রথম গেইট থেকে টুকেন নিয়ে প্রবেশ করতে হবে। এই অফিস আমার কারণে হয়েছে। এখানে আমি যা বলি তা হবে। সরকারী এই প্রতিষ্ঠানের সুনাম অক্ষুন্ন ও সেবার মান নিশ্চিত করতে এমন বদমেজাজি ও দুর্নীতীবাজ কর্মকর্তাকে দ্রুত অপসারনের দাবী জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

সরকারি চাকরির পদ-পদবিতে তিনি একজন এডির সুযোগ-সুবিধা ভোগ করার কথা। বেতন পান সর্বসাকুল্যে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকার মতো। ফ্যামেলি নিয়ে কক্সবাজারে এক ভাড়া বাসায় থাকেন। ফ্যামেলি বলতে অন্য দশজনের মতো নয়। তিনি করেন একেবারে আলিশান জীবনযাপন। বিলাসী জীবনযাপনে যা যা দরকার, সবই তাঁর হাতের মুঠোয়। ১বছর চাকুরীর মাথায় ব্যবহার করছে নিজস্ব প্রভেইট কার। চলেন নবাবী ধাঁচে। সূত্র জানিয়েছে, সওকত কামাল কয়েক সেট বিদেশি কোট (ব্লেজার) রয়েছে, যেগুলো তিনি সংগ্রহ করেছেন দেশের নামি-দামি ফ্যাশন হাউস থেকে। যার মূল্য কয়েক লাখ টাকা বলে তাঁরই কয়েক ঘনিষ্ঠজন জানিয়েছেন। অথচ তিনি বেতন পান মাত্র ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা! এছাড়া সরকারি-বেসরকারি কয়েকটি ব্যাংকেই নামে-বেনামে হিসাব রয়েছে তাঁর।

শওকত কামালের নিজ এলাকা সুত্রে জানা গেছে, ওই এলাকার মানুষ তাঁর অত্যাচারে অতিষ্ঠপ্রায়। জনরোষের শিকার হতে পারেন- এমন শঙ্কায় পরিবার নিয়ে গ্রামে যায়না তেমন একটা। সূত্রে জানা গেছে, শওকত কামাল ছোটবেলা থেকেই ছিলেন প্রতারক, ঠক ও ধান্ধাবাজ স্বভাবের।

এব্যাপারে কক্সবাজার আঞ্চলিক পাসর্পোট অফিসের উপসহকারী পরিচালক হুমক্কার করে বলেন, আমার নাম শওকত কামাল। আমার বিরুদ্ধে লিখলেও কিছু করতে পারবে না বলে সংযোগ বিছিন্ন করে দেন।

জেলা প্রশাসক আলী হোছেন জানান, এই অফিসে বিভিন্ন অনিয়ম হচ্ছে আমি তা  অবগত আছি। সরকারি অফিসের প্রধান কর্মকর্তারা যদি আচার আচারণ খারাপ করে তা আমাদের জন্য খুবই দুঃখজনক। আপনারা অনিয়মের বিরুদ্ধে লিখতে থাকেন। বিষয়টি আমি দেখব।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2020 Dailycoxsbazar
Theme Customized BY Media Text Communications