1. [email protected] : Daily Coxsbazar : Daily Coxsbazar
  2. [email protected] : ডেইলি কক্সবাজার :
  3. [email protected] : ডেইলি কক্সবাজার :
  4. [email protected] : ডেইলি কক্সবাজার :
  5. [email protected] : ডেইলি কক্সবাজার : Daily ডেইলি কক্সবাজার
কক্সবাজারের সক্রিয় ১৪ রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গোষ্ঠী - Daily Cox's Bazar News
বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১১:০৩ অপরাহ্ন
নোটিশ ::
ডেইলি কক্সবাজারে আপনার স্বাগতম। প্রতি মূহুর্তের খবর পেতে আমাদের সাথে থাকুন।
সংবাদ শিরোনাম ::
কক্সবাজারে অনুষ্টিত হচ্ছে “অনলাইন উদ্যোক্তা হাট” কক্সবাজার এন্টারপ্রেনারস ক্লাব (সিইসি)-এর সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠিত বিজনেস ট্রান্সফরমেশনে একজন সফল উদ্যোক্তা কক্সবাজারের আশিক ভারতীয় ভূখণ্ডে চীনা সৈন্যের প্রবেশ, স্বীকার করল নয়াদিল্লি পাকিস্তানে ক্রিকেট ম্যাচে এলোপাতাড়ি গুলি ওসি প্রদীপসহ তিন আসামি সাতদিনের রিমান্ডে কক্সবাজারে জলবায়ু উদ্বাস্তুদের স্থায়ী ঠিকানা ‘শেখ হাসিনা আশ্রয়ণ প্রকল্প’ জীবন যুদ্ধে সংগ্রাম করে বেড়ে উঠা কক্সবাজারের এক নারী উদ্যোক্তা ‘আইরিন সুলতানা’ করোনায় চীনকে দায়ী করে ১৩ হাজার কোটি পাউন্ড ক্ষতিপূরণ চেয়েছে জার্মানি এমন রমজান আগে দেখেনি মুসলিমরা

কক্সবাজারের সক্রিয় ১৪ রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গোষ্ঠী

ডেইলি কক্সবাজার ডেস্ক ::
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ২৮ মে, ২০১৯
  • ৩২৯ বার পড়া হয়েছে

ইয়াবা, মানব পাচার ও হাটবাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরের অভ্যন্তরে অন্তত ১৪টি রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর মধে৵ হামলা, সংঘর্ষের ঘটনা বাড়ছে। চলছে অস্ত্রের মহড়াও। গত সাড়ে চার মাসে খুন হয়েছে ৩২ রোহিঙ্গা। অপহরণ, ধর্ষণসহ নানা অপরাধও বাড়ছে।

স্থানীয় নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের ভাষ্য, মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন বিলম্বিত ও ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তর প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করতে পরিকল্পিতভাবে শিবিরগুলোকে অস্থিতিশীল করে তোলা হচ্ছে।

বর্তমানে উখিয়া-টেকনাফের ৩৪টি আশ্রয়শিবিরে নিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা ১১ লাখ ১৮ হাজার ৯১৩ জন।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ আবুল কালাম প্রথম আলোকে বলেন, যেসব রোহিঙ্গা শিবিরে অপরাধ বেড়েছে, সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল বাড়ানো হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারিও।

সক্রিয় ১৪ সন্ত্রাসী দল

জেলা পুলিশের তথ্যমতে, টেকনাফ ও উখিয়ার বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে রোহিঙ্গাদের ১৪টি দল রয়েছে, যারা শিবিরের অভ্যন্তরে অপরিকল্পিতভাবে দোকানপাট ও মাদক বিক্রির আখড়া তৈরি, মানব পাচার, অপহরণের পর মুক্তিপণ আদায়, ডাকাতি ও মাদকের টাকায় আগ্নেয়াস্ত্র সংগ্রহসহ নানা অপরাধকর্ম করছে।

পুলিশসহ স্থানীয় একাধিক সূত্রমতে, টেকনাফ ও উখিয়ার শিবিরে সাতটি করে সন্ত্রাসী বাহিনী আছে। এর মধ্যে টেকনাফের আবদুল হাকিম বাহিনী বেশি তৎপর। এই বাহিনীর সদস্যরা মুক্তিপণ আদায়ের জন্য যখন-তখন লোকজনকে অপহরণ করে। মুক্তিপণ না পেলে হত্যা করে লাশ গুম করে। ইয়াবা, মানব পাচারে যুক্ত থাকার পাশাপাশি এ বাহিনীর সদস্যরা রোহিঙ্গা নারীদের তুলে নিয়ে ধর্ষণের ঘটনাও ঘটায়।

২০১৬ সালের ১৩ মে টেকনাফের মুছনী রোহিঙ্গা শিবিরের পাশে শালবন আনসার ক্যাম্পে হামলা চালায় হাকিম বাহিনী। এ সময় আনসার কমান্ডার আলী হোসেনকে গুলি করে হত্যা করে। নিয়ে যায় ১১টি আগ্নেয়াস্ত্র।

হাকিমের বাড়ি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডু শহরের দক্ষিণ বড়ছড়ায়। ২০১৪ সালে রোহিঙ্গাদের পক্ষে ‘স্বাধিকার’ আন্দোলনের ডাক দিয়ে ‘হারাকান আল ইয়াকিন’ বাহিনী গঠন করে বিভিন্ন জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন তিনি। মাঝেমধ্যে ফেসবুকে ভিডিও বার্তায় রোহিঙ্গাদের সংগঠিত করার ডাক দেন।

হাকিমের পাঁচ ভাই জাফর আলম, রফিক, নুরুল আলম, আনোয়ার ও ফরিদের নেতৃত্বে অনেকে রোহিঙ্গা শিবিরের বিভিন্ন আস্তানা থেকে ইয়াবার টাকা, মুক্তিপণের টাকা, মানব পাচারের টাকা সংগ্রহ করে হাকিমের কাছে পৌঁছে দেন।

টেকনাফ মডেল থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, আবদুল হাকিমকে ধরার চেষ্টা করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ইতিমধ্যে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ এ বাহিনীর দুই সদস্য নিহত হয়েছেন। হাকিমের বিরুদ্ধে টেকনাফ থানায় খুন, অপহরণ ও ধর্ষণের আটটি মামলা রয়েছে। ইয়াবা বিক্রি ও মানব পাচারের টাকায় হাকিম বাহিনী আগ্নেয়াস্ত্র সংগ্রহ করছে।

পুলিশের তথ্যমতে, টেকনাফের বিভিন্ন শিবিরে আরও ছয়টি বাহিনী তৎপর রয়েছে। এগুলো হচ্ছে ছাদেক, হাসান, নুরুল আলম, হামিদ, নুর মোহাম্মদ ও গিয়াস বাহিনী। প্রতিটি দলের সদস্য ১২-২০ জন। ইতিমধ্যে এসব বাহিনীর ছয়জন খুন হয়েছেন। অন্য সদস্যরা আত্মগোপন করায় বাহিনীর তৎপরতা এখন শিবিরে নেই।

অপরদিকে উখিয়া থানার ওসি আবুল খায়েরের ভাষ্য, উখিয়ার বিভিন্ন শিবিরেও রোহিঙ্গাদের সাতটি বাহিনীর তৎপরতা ছিল, তবে এখন নেই। বাহিনীর সদস্যরা ইয়াবা ব্যবসা ও মানব পাচারে জড়িত।

শিবিরে ১৪ সন্ত্রাসী বাহিনীর তৎপরতা প্রসঙ্গে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন বলেন, রোহিঙ্গাদের একাধিক গোষ্ঠী বা বাহিনীর মধ্যে খুনখারাবি, অপহরণের ঘটনা ঘটলেও পুলিশের খাতায় কোনো বাহিনীর তালিকা নেই।

পুলিশের তথ্যমতে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ১৭ মে পর্যন্ত সাড়ে চার মাসে রোহিঙ্গাদের অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন ৩২ জন রোহিঙ্গা। এর মধ্যে জানুয়ারিতে ৮ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৬, মার্চে ১০, এপ্রিলে ৪ ও মে মাসে ৪ জন। টেকনাফ পুলিশের ভাষ্য, ৩২ রোহিঙ্গার মধ্যে পুলিশ ও বিজিবির সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন ১৫ জন। নিহত ব্যক্তিদের অধিকাংশ ইয়াবা ব্যবসায়ী। দুজন মানব পাচারকারী।

বিপদে রোহিঙ্গা মেয়েরা

গত ২৬ মার্চ বালুখালী শিবিরের ই-ব্লক থেকে পুলিশ আয়েশা বেগম (১৯) নামের এক তরুণীর লাশ উদ্ধার করে। ধর্ষণের পর তাঁকে গলাটিপে হত্যা করা হয়। এর আগে গত ৩ ফেব্রুয়ারি রাতে মুখোশধারী একদল রোহিঙ্গা উখিয়ার কুতুপালং শিবির থেকে খতিজা বেগম নামের এক কিশোরীকে অপহরণের পর ধর্ষণ করে। এরপর হত্যা করে লাশ জঙ্গলে ফেলে যায়। উখিয়ার বালুখালী শিবিরের বাসিন্দা এক গৃহবধূ বলেন, সম্প্রতি এক রাতে মুখোশধারী তিন যুবক ঘরে ঢুকে তাঁর এক কিশোরী মেয়েকে অপহরণের চেষ্টা চালায়।

কক্সবাজার বাঁচাও আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক আয়াছুর রহমান বলেন, রোহিঙ্গারা নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। তাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা না গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2020 Dailycoxsbazar
Theme Customized BY Media Text Communications