1. arif.arman@gmail.com : Daily Coxsbazar : Daily Coxsbazar
  2. dailycoxsbazar@gmail.com : ডেইলি কক্সবাজার :
  3. litonsaikat@gmail.com : ডেইলি কক্সবাজার :
  4. shakil.cox@gmail.com : ডেইলি কক্সবাজার :
  5. info@dailycoxsbazar.com : ডেইলি কক্সবাজার : Daily ডেইলি কক্সবাজার
কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম সীমান্ত : প্রতিমাসেই পাচার হয় দুই কোটি ইয়াবা! - Daily Cox's Bazar News
সোমবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৩, ০৪:১৫ পূর্বাহ্ন
নোটিশ ::
ডেইলি কক্সবাজারে আপনার স্বাগতম। প্রতি মূহুর্তের খবর পেতে আমাদের সাথে থাকুন।
সংবাদ শিরোনাম ::
কট্টরপন্থী ইসলামী দল হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জ: এসএডিএফ কক্সবাজারের আট তরুণ তরুণীকে ‘অদম্য তারূণ্য’ সম্মাননা জানাবে ঢাকাস্থ কক্সবাজার সমিতি Job opportunity বিশ্বের সবচেয়ে বড় আয়না, নাকি স্বপ্নের দেশ! আল-আকসা মসজিদে ইহুদিদের প্রার্থনা বন্ধের আহ্বান আরব লীগের পেকুয়ায় পুলিশের অভিযানে ৮০ হাজার টাকার জাল নোটসহ গ্রেফতার-১ পেকুয়ায় অস্ত্র নিয়ে ফেসবুকে ভাইরাল : অস্ত্রসহ আটক শীর্ষ সন্ত্রাসী লিটন টেকনাফে একটি পোপা মাছের দাম হাঁকাচ্ছেন সাড়ে ৭ লাখ টাকা ! কক্সবাজারের টেকনাফে র‍্যাবের অভিযানে ইয়াবাসহ আটক-১ নিউ ইয়র্কে মেয়র কার্যালয়ে শহীদ মিনার নির্মাণ নিয়ে কনসাল জেনারেলের আলোচনা

কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম সীমান্ত : প্রতিমাসেই পাচার হয় দুই কোটি ইয়াবা!

ডেইলি কক্সবাজার ডেস্ক ::
  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০১৬
  • ২৬২ বার পড়া হয়েছে

1বানের স্রোতের মতো চারদিক থেকে দেশে ঢুকে পড়ছে মরণনেশা ইয়াবা। প্রতিদিন আমদানি করা লাখ লাখ পিস ইয়াবা শুধু দেশের আনাচেকানাচে ছড়িয়ে দিয়েই ক্ষান্ত থাকছে না পাচারকারীরা, তারা চালান পাঠাচ্ছে দুবাই ও পাকিস্তানে। এ দুটি দেশে ইয়াবা চালানের বিপরীতে আসছে সোনা, অস্ত্র ও জাল রুপি। ফলে দেখতে দেখতে মরণঘাতী নেশা ইয়াবা হয়ে উঠেছে আত্মঘাতী বাণিজ্যের অন্যতম বাহন। বিজিবির গোয়েন্দা সূত্র জানায়, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম সীমান্ত দিয়েই প্রতি মাসে প্রায় দুই কোটি পিস ইয়াবা ট্যাবলেট রাজধানীসহ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে। সাগর ও নদীপথ ছাড়াও প্রায় ৫৪ কিলোমিটার উন্মুক্ত মিয়ানমার সীমান্তের অন্তত ৪০টি পয়েন্ট দিয়ে ইয়াবা ও এর উপকরণ ঢুকছে বাংলাদেশে। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ৫০ লক্ষাধিক পিস ইয়াবা দেশে ঢুকছে বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারণা। মিয়ানমারে উৎপাদিত মরণনেশা ইয়াবা পাচার রোধ করতে সরকার বছরের পর বছর কঠোর পদক্ষেপ নিলেও বন্ধ হচ্ছে না এর পাচার।

ইয়াবা পাচার রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যত কঠোর হচ্ছে, পাচারকারীরা ততই নিত্যনতুন কৌশল অবলম্বন করে যাচ্ছে। এমনকি তারা জীবনের ঝুঁকি নিতেও দ্বিধা করছে না। তাদের অভিনব কৌশলের কাছে হিমশিম খাচ্ছে প্রশাসন। ইদানীং পাচারকারীরা ইয়াবার চালান নিরাপদ রাখতে গভীর সমুদ্রপথ ব্যবহার করছে। লোকচক্ষুর আড়ালে থেকে, প্রশাসনের দৃষ্টি এড়িয়ে ফিশিং ট্রলার বোঝাই করে লাখ লাখ পিস ইয়াবার চালান যাচ্ছে টেকনাফ, কক্সবাজার, চট্টগ্রামের সীমানা ছাড়িয়ে। কখনো সেসব ফিশিং বোট গিয়ে থামছে নোয়াখালী-লক্ষ্মীপুরের উপকূলে, আবার কখনো তা মেঘনা মোহনা পেরিয়ে ঢুকে পড়ছে চাঁদপুর কিংবা আরও ভিতরের কোনো জনপদে। বড় বড় চালান আরও বেশি নিরাপদ করতে মিয়ানমারের গভীর সমুদ্র থেকে ইয়াবা-বোঝাই ফিশিং ট্রলারগুলো সরাসরি চলে যাচ্ছে পটুয়াখালী উপকূলে।

সেখানে চালান খালাস করে গাড়িযোগে ঢাকায় পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। র‌্যাব-৭-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মিফতা উদ্দিন আহমেদ বলেন, কক্সবাজার থেকে মাছধরার ট্রলারে ইয়াবার চালান চট্টগ্রামে আসছিল। এমন তথ্য পাওয়ার পর র‌্যাব বেশ কয়েকটি অভিযান চালায়। গত বছর র‌্যাব-৭ বিভিন্ন অভিযানে প্রায় ৩২ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে, যার বেশির ভাগই পাওয়া গেছে বঙ্গোপসাগর বা উপকূলঘেঁষা এলাকায়।

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ইয়াবার কয়েকজন বড় চোরাকারবারির পাশাপাশি নগরীর কতিপয় রাঘব-বোয়াল ব্যবসায়ীও ইয়াবা পাচারে বিনিয়োগ করেছে বলে তথ্য আছে। র‌্যাব কর্মকর্তা মিফতা উদ্দিন আহমেদ জানান, কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে মাছধরার ট্রলারে করে ইয়াবার চালান নেওয়া হচ্ছে দক্ষিণাঞ্চলের পটুয়াখালীসহ বিভিন্ন জেলার নির্জন এলাকায়। কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামে আনার পথে র‌্যাব, কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনী একাধিক বড় চালান আটকের পর পাচারকারীরা নতুন রুট আবিষ্কার করে। র‌্যাবের এ কর্মকর্তা বলেন, ‘মাছধরার ছোট ট্রলার নিয়ে বঙ্গোপসাগর পাড়ি দেওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

দিক হারানো কিংবা বিপদ হলে সাহায্য পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। এর পরও পাচারকারীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নতুন রুটে যাচ্ছে।’ অন্যদিকে প্রশাসনের ব্যাপক নজরদারির কারণে টেকনাফ-উখিয়ার বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে ইয়াবা দেশে প্রবেশের ঘটনা দিন দিনই কমে এসেছে। এ সীমান্তের বিপরীতে মিয়ানমারের মংডুসহ আশপাশে স্থাপিত ৩৭টি ইয়াবা কারখানার মধ্যে নয়টি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সেসব কারখানা স্থাপন করা হয়েছে বান্দরবান জেলার সীমান্তঘেঁষা মিয়ানমার অংশে। এখন নাইক্ষ্যংছড়ির দুর্গম সীমান্ত এলাকা দিয়েই বেশির ভাগ ইয়াবা পাচার হয়ে আসছে। স্থানীয় সূত্রগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করেও এ তথ্যের সত্যতা পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, ইয়াবা পাচারের নতুন রুট হয়ে উঠেছে পার্বত্য জেলা বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা। এ উপজেলার সীমান্তের ১০টি স্থান দিয়ে মিয়ানমারের কারখানায় তৈরি বিপুলসংখ্যক ইয়াবা ট্যাবলেট ঢুকছে বাংলাদেশে।

তারপর সড়কপথে রামু-গর্জনিয়া-ঈদগড় হয়ে চট্টগ্রাম-ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে তা।

সাগরপথে পাচারের নেপথ্য চক্র :

কক্সবাজারের কলাতলী পয়েন্টের সাগরে ৪০ কোটি টাকার ১০ লাখ ইয়াবার চালান ধরা পড়ার নেপথ্যে বেরিয়ে এসেছে নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য। আর সাগরপথে ইয়াবা পাচারে উঠে এসেছে হাবীব মেম্বার-কালা জামাল-ওয়াহিদুর রহমান ও ওয়াহিদুজ্জামান মাফিয়া চক্রের নাম। পাশের দেশ মিয়ানমারের আটটি সিন্ডিকেট মাছধরার ট্রলারযোগে প্রতি সপ্তাহে কক্সবাজারের সমুদ্রপথে ইয়াবার চালান পাঠাচ্ছে নারায়ণগঞ্জে। এসব চালান খালাস হয়ে পৌঁছে যাচ্ছে ঢাকার গুলশান-বনানীসহ অভিজাত পাড়ায়। ৫ জানুয়ারি র‌্যাব-৭-এর একটি দল কক্সবাজারের কলাতলী পয়েন্টের গভীর সমুদ্রে তাড়া করে এফভি ইমন-এফ ৯৬৪৩ নামের মাছধরার ট্রলারের ভিতর থেকে উদ্ধার করা হয় ১০ লাখ পিস ইয়াবা। এ ঘটনায় কক্সবাজারের ইয়াবাসম্রাট জয়নাল আবেদীনসহ আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তারা কীভাবে এবং কাদের নেতৃত্বে সমুদ্রপথে মিয়ানমার থেকে ইয়াবার চালান নিয়ে আসে সে বিষয়ে নানা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেয়। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ১০ লাখ পিস ইয়াবার চালানটি মিয়ানমার থেকে সেন্টমার্টিনের শীলের কুম পয়েন্টে খালাস করে নদীবন্দর নারায়ণগঞ্জে পাঠাচ্ছিল ইয়াবাজগতের মাফিয়া খ্যাত টেকনাফ-ঢাকাকেন্দ্রিক ইয়াবার গডফাদার ও শাহপরীর দ্বীপের মিস্ত্রিপাড়ার বাসিন্দা সাবেক মেম্বার হাবিবুর রহমান হাবীব, একই এলাকার বাজারপাড়ার জামাল হোসেন (কালা জামাল), কক্সবাজার শহরের ওয়াহিদুজ্জামান এবং আমিরাবাদের ওয়াহিদুর রহমান সিন্ডিকেট।

বিদেশের কেমিক্যালে ঢাকায় ইয়াবা! 

এদিকে প্রশাসনিক কড়াকড়ির মুখে মাদক সিন্ডিকেটগুলো পাচারঝুঁকি এড়াতে বাংলাদেশেই একাধিক কারখানা বসিয়ে দেদারসে ইয়াবা প্রস্তুত করছে বলে চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে। রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান, বনানী, উত্তরার সুরক্ষিত বাসা-বাড়িতে এ ধরনের কারখানা থাকার ব্যাপারে গোয়েন্দাদের কাছেও তথ্য রয়েছে। এর আগে ঢাকা মহানগর ডিবি একাধিক অভিযানে চলন্তপথে ইয়াবা তৈরির সরঞ্জাম ও রাসায়সিক দ্রব্যাদিসহ কয়েক ব্যক্তিকে আটক করতে সক্ষম হয়। তবে তাদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করেও গোয়েন্দারা কোনো কারখানার অবস্থান শনাক্ত করতে পারেননি। দীর্ঘদিন ইয়াবা সরবরাহ ও পাইকারি ব্যবসা পরিচালনার সঙ্গে সম্পৃক্ত একাধিক ব্যক্তি সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর ধরে প্রশাসনিক ঝুঁকি এড়াতে ট্যাবলেটের পাশাপাশি তরল পদার্থ হিসেবেও ইয়াবা প্রবেশ করেছে ঢাকায়। মিয়ানমারসহ দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা দিয়ে অবাধে ঢুকছে এটি।

ইয়াবার ট্রানজিট বাংলাদেশ! 

বাংলাদেশের শহর-বন্দর-গ্রাম জনপদ ছেয়ে গেছে ইয়াবার আগ্রাসী ধোঁয়ায়। এখন এ মরণনেশার যাত্রা শুরু হয়েছে দুবাই ও পাকিস্তানমুখে। সাগরপথে ইয়াবা পাচারকারী সিন্ডিকেটের মূল হোতাদের সঙ্গে দুবাইয়ে অবস্থানকারী সোনা পাচারকারী চক্রের ব্যবসায়িক সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। চট্টগ্রামের সাতকানিয়া ও কক্সবাজার এলাকার বেশ কয়েকজন অধিবাসী সোনা চোরাচালান মামলার আসামি হওয়ার পর থেকে দুবাইয়ে নিজেদের সেকেন্ড হোম গড়ে তুলেছে। তারা আরও আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে পড়েছে সোনা চোরাচালান বাণিজ্যে। সাম্প্রতিক সময়ে দুবাইয়ে স্থায়ীভাবে অবস্থানকারী এই সোনা চোরাচালানিদের সঙ্গে চট্টগ্রাম-কক্সবাজারের ইয়াবা সিন্ডিকেটের ব্যবসায়িক যোগসূত্র জমে উঠেছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র নিশ্চিত করে জানায়, যেসব পাচারকারী দুবাই থেকে সোনা বহন করে বাংলাদেশে আসছে, তারাই ফিরতি ট্রিপে নিয়ে যাচ্ছে হাজার হাজার পিস ইয়াবা। প্রবাসী একাধিক বাংলাদেশি নাগরিক সূত্রে জানা যায়, দুবাইয়ে গত প্রায় এক বছর ধরে গুটিকয় বাঙালি ইয়াবা-বাণিজ্যের আলাদা সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে। অন্যদিকে পাকিস্তানকেন্দ্রিক যে চক্রগুলো বাংলাদেশের বিমানবন্দর হয়ে ভারতীয় বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্টে জাল রুপি সরবরাহ দেওয়ার কর্মকাণ্ড চালায়, তারাও ফিরতিপথে ব্যাপক হারে ইয়াবার চালান নিয়ে যাচ্ছে। ফলে দিন দিনই বাংলাদেশ পরিণত হচ্ছে ইয়াবা পাচারের ট্রানজিট রুটে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2020 Dailycoxsbazar
Theme Customized BY Media Text Communications