উখিয়া উপজেলার ব্যস্ততম কোটবাজার ইজারা প্রদানে ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতি ও গোপন আঁতাতের মাধ্যমে ইজারা দেওয়ার ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। গতকাল দৈনিক কক্সবাজার পত্রিকায় সর্বনিম্ন দাম হওয়ায় সরকার বিপুল রাজস্ব বঞ্চিত: কোটবাজার ইজারা প্রদানে ব্যাপক অনিয়ম ও জালিয়তির অভিযোগ শীর্ষক সংবাদ প্রকাশিত হলে উপজেলা প্রশাসন নড়েচড়ে বসেছে। গুরুতর অনিয়মের বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য সচেতন নাগরিক সমাজ জেলা প্রশাসনের নিকট জোরদাবী জানিয়েছেন।
সুশীল সমাজের মতে একটি সংঘবদ্ধ আওয়ামীলীগ বিএনপি সিন্ডিকেট গোপন আঁতাত করে সর্বনিম্ন দর দিয়ে কোটবাজার স্টেশনটি বাজারটি ইজারা নেন। ফলে সরকার লক্ষ লক্ষ টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে। পানির দাম দিয়ে নজিরবিহীনভাবে গোপন আঁতাত করে বৃহত্তর কোটবাজার স্টেশনটি ইজারা দেওয়ার বিষয়টি তদন্ত পূর্বক তা বাতিল করে পূন:ইজারা দেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসনের নিকট দাবী জানিয়েছেন সর্বমহল।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ১৪২৩ বাংলা সনের জন্য গত ১৮ ফেব্রুয়ারী উখিয়ার হাট বাজার সমূহ ইজারা প্রদান করা হয়। কোটবাজার স্টেশনটি ইজারা নেওয়ার জন্য ৭৮টি সিডিউল বিক্রির করা হয়। গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ক্ষমতাসীন দলের কতিপয় নেতা ও একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট মাত্র ৩টি সিডিউল দাখিল করে ২০ লাখ টাকার দর দিয়ে কোটবাজার স্টেশনটি হাতিয়ে নেন। যা সর্বকালের সর্বনিম্ন দর। সচেতন মহলের প্রশ্ন ৭৫টি সিডিউল ক্রয়কারীকে বাঁধা দিয়ে টেন্ডার বক্সে ফেলতে দেয়নি। ফলে পানির দামে বাজারটি হাতিয়ে নেয় সংঘবদ্ধ চক্র। এতে সরকার অন্ততঃ ১০ লক্ষ টাকা মত রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে। গেল ১৪২২ বাংলা সনে বাজারটি ইজারা দেওয়ায় হয় ১৯ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা। মাত্র ২০ হাজার টাকা বেশি দেখিয়ে আওয়ামীলীগ নেতা নুরুল হুদা। গুরুতর অভিযোগ উঠেছে, কম দামে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে গোপন আতাঁত করে বাজার ইজারা নেওয়ার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বপালনকারী হচ্ছে বিএনপি নেতা ছাবের আহমদ কন্ট্রাক্টর। তার নেতৃত্বে বৈঠক বসে ৭৫ জন সিডিউল ক্রয়কারীকে ১২ হাজার ৫শত টাকা করে ৯ লক্ষ ৩৭ হাজার ৫শত টাকা ভাগবাটোয়ারার টাকা প্রদান করেছে। এ বিপুল পরিমান টাকা সরকারী কোষাগারে যেতে দেয়নি তারা। ব্যাপারে জানতে চাইলে ছাবের আহমদ কন্ট্রাক্টর বলেন, আওয়ামীলীগ নেতা নুরুল হুদা ও আছহাব উদ্দিন মেম্বারের নেতৃত্বে ইজারার বিষয়টি দেখ ভাল করছে।
খোজখবর নিয়ে জানা যায়, উখিয়া বাজার গত ১৪২২ সনে ইজারা দেওয়া হয় ২২ লক্ষ টাকায় এবারের ১৪২৩ সালে ইজারা দেওয়া হয়েছে ৫০ লক্ষ টাকায়, মরিচ্যা বাজার গত বাংলা সনে ২০ লক্ষ টাকায় ইজারা দিলেও এবারে তা বেড়ে ৪৯ লক্ষ টাকায় ইজারা দেওয়া হয়। সোনারপাড়া বাজার ইজারা দেওয়া হয়েছে ৫৫ লক্ষ টাকায়। অভিজ্ঞ মহলের প্রশ্ন উখিয়া বাজার, মরিচ্যা বাজার, সোনারপাড়া বাজার ও কুতুপালং বাজার গত বছরের ছেয়ে এ বছর ১৫ লক্ষ থেকে ২০ লক্ষ টাকা বেশি দাম দিয়ে ইজারা প্রদান করা হলেও কোটবাজারটি কেবল ২০ হাজার টাকা বেশি দেখানো হয়েছে। যা লোক দেখানো মাত্র। এখানে কি বড় ধরনের জালিয়তি কিংবা রাজস্ব ফাঁকির বড় ধরনের ঘটনা ঘটেছে। যার প্রমাণ কোটবাজার ইজারা প্রদানের জন্য ৭৮টি সিডিউল বিক্রি হলেও রহস্যজনক কারণে ৭৫টি উধাও হয়ে যায়। এ ধরনের জালিয়তি ও স্বজনপ্রীতি এবং রাজস্ব ফাঁকির ঘটনা জরুরী তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। কারণ উখিয়ায় অন্যান্য বাজার ইজারা প্রদানে যে খানে ১৫ লক্ষ টাকা থেকে ২০ লক্ষ টাকা ২০২২ বাংলা সনের জন্য বেশি মূল্য পাওয়া গেছে কিন্তু রহস্য জনক কারণে উপজেলা প্রশাসন পানির দামে কোটবাজার স্টেশনটি ইজারা দেওয়ার হেতু কি!
এতে বুঝা যায় কোটবাজার স্টেশন মাত্র ২০ লক্ষ টাকা ইজারা দেওয়া সর্বমহলের কাছে প্রশ্ন বিদ্ধ হয়েছে। শুধু তাই নয় ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে পানির দামে বাজারটি হাতিয়ে নেওয়ায় সরকার বিপুল পরিমান রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে। অনেকেই জানিয়েছেন সর্বনিম্ন দাম দিয়ে নেওয়া কোটবাজার স্টেশনটি প্রায় ৬০ লক্ষ টাকার বিনিময় উপ-ইজারা দেওয়া হয়েছে।
সুশীল সমাজ অবিলম্বে অনিয়ম ও জালিয়তির মাধ্যমে নেওয়া কোটবাজার স্টেশনটি ইজারা বাতিল করে পুন:রায় ইজারা প্রদান করার জন্য জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।