আজকের দিন-তারিখ

  • মঙ্গলবার ( রাত ৮:৫৮ )
  • ২০শে আগস্ট, ২০১৯ ইং
  • ১৯শে জিলহজ্জ, ১৪৪০ হিজরী
  • ৫ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ ( শরৎকাল )

Archive Calendar

আগস্ট ২০১৯
সোম মঙ্গল বুধ বৃহস্পতি শুক্র শনি রবি
« জুলাই    
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
সারাদেশ

কর্ণফুলী ড্রেজিং পিছিয়ে

20views

চট্টগ্রাম ডেস্ক রিপোর্ট : সদরঘাট থেকে বাকলিয়া চর পর্যন্ত কর্ণফুলী ক্যাপিটাল ড্রেজিং-এর জন্য কাটার সাকশন ড্রেজার এসে পৌঁছেছে বহির্নোঙরে। নির্ধারিত সময়ের প্রায় ৩ মাস পর তা পৌঁছলো। আর সময় মত এই খনন যন্ত্রটি না আসা এবং উপরিভাগে জমে থাকা পলিথিন ও আবর্জনার কারণে লক্ষ্যমাত্রার ধারেও যেতে পারেনি কার্যক্রম।
শাহ আমানত সেতুর কাছে সৎসঙ্গ বিহারের ওখানে ২০ ইঞ্চি মাপের দু’টি ড্রেজার নিয়োজিত রয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, ড্রেজার দু’টি একটানা চালু রাখা যাচ্ছে না। চিপসের প্যাকেট, প্লাস্টিকের বোতল আর পলিথিন আটকে যাচ্ছে এগুলোর দাঁতে। তা অপসারণ করতে বারে বারে বন্ধ করতে হচ্ছে। আধা ঘণ্টা চালুর পর বন্ধ করে দিতে হচ্ছে আটকে যাওয়া আবর্জনা সরানোর জন্য। তাতে কাজ ব্যাহত হচ্ছে ১০ মিনিট থেকে ১৫ মিনিট। ড্রেজারে পলিথিন আটকে যাওয়া কাজের গতিকে মন্থর করেছে বলে জানালেন সংশ্লিষ্টরা। বললেন, বর্তমান পর্যায়ে এটাই সবচেয়ে সংকট তৈরি করেছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ সদরঘাটে ৪০০ মিটারের জেটি তৈরি করেছে অনেকদিন। কিন্তু চালু করা যায়নি জেটিমুখ ভরাট হয়ে থাকায়। অকেজো পড়ে থাকায় সেটা নগরীর অন্যতম বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল। প্রতিদিন হাজার হাজার লোক সেখানে জমায়েত হয়। কিন্তু সে অবস্থা আর নেই। টনে টনে পলিমাটি তুলে জেটিতে রাখা হচ্ছে দিনভর। তাতে সেখানে বিনোদনের সুযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। রাতে প্রায় ৭০টি ট্রাকে জেটি থেকে মাটি সরানো হয়।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের বড় কাজের জন্য ৩১ ইঞ্চির একটি চায়নিজ কাটার সাকশন ড্রেজার আসার কর্মসূচি ছিল গত নভেম্বরে। কিন্তু তৎকালীণ সময়ে দেশের নানা পরিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনায় সেটা নিয়ে আসার ক্ষেত্রে কৌশলে সময় ক্ষেপন করা হয়। এ কারণে ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের মূল কাজ পিছিয়ে পড়েছে। হামিদচরে মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় মাটি ভরাটের জন্য ড্রেজিং করা পলিমাটি নিয়ে যাওয়া হবে। যে ৩টি ছোট ড্রেজার নিয়োজিত রয়েছে সেগুলোর এই সক্ষমতা নেই। তা রয়েছে কেবল ৩১ ইঞ্চির কাটার সাকশন ড্রেজারের। এই ড্রেজারটি অতি সম্প্রতি এসে পৌঁছেছে বহির্নোঙরে। মধ্য ফেব্রুয়ারিতে এই ড্রেজারটি পলিমাটি খনন শুরু করলে পাইপলাইনে সরাসরি নিয়ে যাওয়া হবে হামিদচরে। এটা দ্বিতীয় বৃহত্তম ড্রেজার, যা বাংলাদেশে কাজ করবে। এরচেয়ে বড় অর্থাৎ ৩২ ইঞ্চির ড্রেজারটি নিয়োজিত রয়েছে মহেশখালীর মাতারবাড়ি এলাকায়। সেটা জাপানের জাইকা প্রকল্পের আওতায়।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, বড় ড্রেজারটি সময় মত না আসা এবং কর্ণফুলীর উপরিভাগে ও তলদেশে জমে থাকা পলিথিনের কারণে প্রকল্পের কাজ পিছিয়ে পড়েছে। এ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে কমপক্ষে ৪০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে তা ১৭ ভাগের বেশি নয়।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চিফ হাইড্রোগ্রাফার কমান্ডার এম আরিফুর রহমান-এর সাথে যোগাযোগ করা হলে দৈনিক পূর্বকোণকে জানান, বিভিন্ন কারণে লক্ষ্যমাত্রা অনুসারে কাজ হয়নি। কাটার সাকশন ড্রেজার এসে পৌঁছেছে ইতিমধ্যে। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি নাগাদ এটা চালু হলে সর্বোচ্চ মাত্রায় ড্রেজিং চলবে। আপাতত লক্ষ্যমাত্রা থেকে পেছনে থাকলেও পূর্ণগতিতে কাজ শুরু হলে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে তা সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। তবে একটি সমস্যার কথা জানালেন তিনি। চাক্তাই, রাজাখালি এবং লইট্টা- এই ৩টি বড় বড় খাল এসে পড়েছে কর্ণফুলীতে। নদী ভরাটের অন্যতম কারণ খাল তিনটি বয়ে আসা পলিথিন, ময়লা ও আবর্জনা। এই উৎস বন্ধ করা প্রয়োজন। নতুবা বছর ঘুরে আসতে না আসতে আবারও ভরাট হয়ে যাবে। সিডিএ এবং সিটি কর্পোরেশন বর্তমানে যে খাল খনন করছে সে প্রকল্পের আওতায় মুখে নেট বা ফাঁদ তৈরি করে ব্যবস্থা নেয়া যায় বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।
‘সদরঘাট থেকে বাকলিয়ার চর পর্যন্ত কর্ণফুলী নদী ড্রেজিং’ প্রকল্পের আওতায় খনন করা হচ্ছে। গত ৫মে নৌ বাহিনীর সাথে বন্দরের এ ব্যাপারে চুক্তি হয় । মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২৫৮ কোটি টাকা। বাকলিয়ার চর থেকে সদরঘাট পর্যন্ত কর্ণফুলীর তলদেশে জমে থাকা পলি ও আবর্জনা অপসারণ করা হচ্ছে। অন্তত ৪৩ লাখ কিউবিক মিটার পলি ও আবর্জনা সরাতে হবে বলে অনুমান করা হয়েছে।
কর্ণফুলীর ধারণ ক্ষমতা কমে গেছে বছরের পর বছর ধরে ক্যাপিটাল ড্রেজিং না হওয়ায় । পানি নামতে না পারায় এক পশলা বৃষ্টিপাতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয় নগরীজুড়ে। ২০১১ সালে বন্দর কর্তৃপক্ষ ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের জন্য নিয়োগ দিয়েছিল মালয়েশিয়ান মেরিটাইম এন্ড ড্রেজিং কর্পোরেশনকে। ২৩০ কোটি টাকা ব্যয় সাপেক্ষে প্রকল্পের আওতায় ৩৬ লাখ কিউবিক মিটার ড্রেজিং, ৪০০ মিটার জেটি নির্মাণ, ২,৬১৫ মিটার বেড়িবাঁধ এবং পাশে ১০ মিটার চওড়া ওয়াকওয়ে তৈরির কথা ছিল। ২০১৩ সালের আগস্টে কাজ বন্ধ করে দেয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি। এর আগেই ১৬৫ কোটি টাকা রানিং বিল হিসেবে আদায় করে নেয় তারা। এতে নানা আইনি জটিলতায় বন্ধ হয়ে যায় ক্যাপিটাল ড্রেজিং। মালয়েশিয়ান কোম্পানির আবেদনের প্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত থেকে নিষেধাজ্ঞা জারি হয় ড্রেজিং-এর ওপর। আদালত দীর্ঘ শুনানিশেষে নিষেধাজ্ঞা দেন। বন্দর কর্তৃপক্ষ এরপর নতুন নামে প্রকল্প নিয়েছে বাকলিয়া থেকে সদরঘাট পর্যন্ত নদীর বুকে জমে থাকা পলিমাটি অপসারণের। সদরঘাট থেকে বাকলিয়া চর পর্যন্ত কর্ণফুলী নদীর আড়াই কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ড্রেজিং সম্পন্ন করতে সময় লাগবে প্রায় এক বছর। পরবর্তী ৪ বছর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ড্রেজিং করা হবে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি (ডিপিএম)’তে নিয়োগ দিয়েছে নৌ বাহিনীকে। সংস্থাটি ই-ইঞ্জিনিয়ারিং এবং চায়না হারবারকে নিয়োগ দিয়েছে এই প্রকল্পে। কাজ শুরু হয়েছে গত সেপ্টেম্বরশেষে।