1. arif.arman@gmail.com : Daily Coxsbazar : Daily Coxsbazar
  2. dailycoxsbazar@gmail.com : ডেইলি কক্সবাজার :
  3. litonsaikat@gmail.com : ডেইলি কক্সবাজার :
  4. shakil.cox@gmail.com : ডেইলি কক্সবাজার :
  5. info@dailycoxsbazar.com : ডেইলি কক্সবাজার : Daily ডেইলি কক্সবাজার
খাদ্যে ভেজালকারীর বিরুদ্ধেও যুদ্ধ ঘোষণা করুন - Daily Cox's Bazar News
শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২০, ০৮:৫৪ অপরাহ্ন
নোটিশ ::
ডেইলি কক্সবাজারে আপনার স্বাগতম। প্রতি মূহুর্তের খবর পেতে আমাদের সাথে থাকুন।

খাদ্যে ভেজালকারীর বিরুদ্ধেও যুদ্ধ ঘোষণা করুন

ডেইলি কক্সবাজার ডেস্ক ::
  • আপডেট সময় রবিবার, ১২ মে, ২০১৯
  • ১৪ বার পড়া হয়েছে

হাইকোর্টের অনুরোধ

খাদ্যে ভেজালকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রয়োজনে যুদ্ধ ঘোষণা করতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, সরকার মাদকের বিরুদ্ধে যেমন যুদ্ধ পরিচালনা করেছে, তেমনি খাদ্যে ভেজালকারীদের বিরুদ্ধে জরুরি অবস্থা জারি করে অভিযান পরিচালনা করতে সরকার, সরকারি দল ও প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ রাখছি। আদালত বলেন, সরকারের নির্বাহী বিভাগের অগ্রাধিকার কাজ কী হবে তা হাইকোর্ট নির্ধারণ করে দিতে পারে না। তার পরও বলব, খাদ্যে ভেজাল রোধের বিষয়টিকে এক নাম্বার অগ্রাধিকার দিয়েই কাজে নামা উচিত।

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ভেজাল ও নিম্নমানের ৫২টি পণ্য বাজার থেকে সরাতে গতকাল নির্দেশ দেওয়ার আগে বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চ তাঁর পর্যবেক্ষণে উল্লিখিত মন্তব্য করেন ও প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানান। ভোক্তা অধিকার সংস্থা ‘কনসাস কনজুমার্স সোসাইটি’র (সিসিএস) করা এক রিট আবেদনে এ আদেশ দেওয়া হয়।

হাইকোর্ট তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেন, খাদ্যে ভেজাল রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা শুধু একজন কর্মকর্তা হিসেবে নন, একজন দেশপ্রেমিক হিসেবে জনগণের প্রতি ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতা থেকে অর্পিত দায়িত্ব পালন করবেন বলে এই আদালত প্রত্যাশা করছে। আদালত আরো বলেন, খাদ্য নিরাপত্তার ব্যাপারে আপস করার কোনো সুযোগ নেই। এ সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের সমন্বিতভাবে কাজ করা উচিত। আদালত বলেন, যে পরিস্থিতি দেখছি তাতে এ দেশে থাকাটাই অনিরাপদ হয়ে গেছে। আদালত বলেন, আমাদের যাদের দ্বৈত নাগরিকত্ব নেই, তাদের এ দেশেই থাকতে হবে। আমাদের সন্তানদের এ দেশেই থাকতে হবে। তাই এ রকম অবস্থায় হাইকোর্ট চুপ করেও বসে থাকতে পারেন না। আদালত বলেন, দুধের কি অবস্থা দেখুন। দুধে পানি মেশানো হচ্ছে। আদালত বলেন, টেলিভিশনে দেখলাম, ইটের গুঁড়ো দিয়ে মসলা বানাচ্ছে, ভুসি দিয়ে মসলা বানানো হচ্ছে। অথচ নামিদামি কম্পানির বিজ্ঞাপনে দেখি তাদের মসলা সবচেয়ে ভালো। আদালত বলেন, এই খাদ্যে ভেজালের কারণে গত ১০ বছরে দেশে ক্যান্সার রোগীর সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে গেছে। রাস্তায় মানুষ দেখলেই কারো না কারো হাতে মেডিক্যালের ফাইল দেখা যায়। এ সময় আদালত বলেন, সুস্থভাবে বাঁচতে হলে প্রয়োজনে হলুদ ছাড়াই রান্না করে খেতে হবে। প্রয়োজনে সিদ্ধ ডিম খাব। আদালত ডিম নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন, এখন তো প্লাস্টিকের ডিম পাওয়া যায়।

এ সময় রিটকারী আইনজীবী ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খান বলেন, কম্পানিগুলো এমনভাবে বিজ্ঞাপনের প্রচারণা চালায় যে, যিনি মসলা খান না তিনিও ওই মসলা কিনতে প্রলুব্ধ হন। আদালত বিএসটিআইয়ের অভিযান পরিচালনা নিয়ে বলেন, দেখা যায়, রমজান এলেই খাদ্যে ভেজাল নিয়ন্ত্রণে অভিযান জোরদার করা হয়। কিন্তু তাদের সারা বছরই খাদ্যে ভেজালের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখা উচিত। আদালত বলেন, এসব অভিযান নিয়েও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ শোনা যায়। তাদের অভিযোগ, তাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের চাঁদা চাওয়া হয়।

এ সময় বিএসটিআইয়ের সহকারী পরিচালক মো. রিয়াজুল হক নিম্নমানের পানির বিরুদ্ধে বিএসটিআইয়ের পরিচালিত অভিযানের তথ্য তুলে ধরে আদালতকে বলেন, শুধু রমজান মাসেই নয়, সারা বছরই বিএসটিআই অভিযান পরিচালনা করে। রমজান মাসে অভিযানের প্রচার একটু বেশি হয়। তিনি বলেন, আগে বিএসটিআইয়ের মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সক্ষমতা ছিল। কিন্তু এখন নেই। তাই বিএসটিআই যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারে না। বিএসটিআইয় মোবাইল কোর্ট পরিচালনার ক্ষমতা পেলে আরো বেশি অভিযান পরিচালনা করতে পারবে। এ সময় আদালত ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আইনে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার ক্ষমতা দেওয়া আছে। কিন্তু তারা তো সেটা করে না। আপনারা ক্ষমতা পেলে কি করবেন? আদালত আরো বলেন, আপনারা তো আমাদের আদেশের পর অভিযান পরিচালনা করেছেন।

আদালত নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের মহাপরিচালকের আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা একজন কর্মকর্তাকে ডাকলাম। তিনি পাঠিয়েছেন এমন এক কর্মকর্তা যিনি এক সপ্তাহ আগে যোগদান করেছেন। ওই কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি কিছুই বলতে পারবেন না। কেন, তিন-চার মাস ধরে আছেন এমন কর্মকর্তাও কি নেই যাকে আদালতে পাঠানো যেত? মহাপরিচালকের এই আচরণ আদালতের সঙ্গে ফাজলামো ছাড়া আর কিছুই নয়। এখন যদি ডিজিকে ডাকি তাহলে তাঁর সমালোচনা করা হবে।

আদালত নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের আইনের বিভিন্ন ধারা উল্লেখ করে বলেন, এই দুটি আইনের চেয়ে কি আর ভালো আইন আছে? এখানে সব আছে। আর কি লাগে! তাদের হাতে সব অস্ত্র আছে। আদালত বলেন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে ওসির ক্ষমতা দেওয়া আছে। একজন মহাপরিচালক চাইলে অনেক কিছু করতে পারেন। অথচ ক্ষমতাবানরা এসির মধ্যে নিশ্চুপ বসে থাকেন। ইচ্ছা নেই কিছু করার। হয়তো বিভিন্ন জায়গা থেকে চাপ আসে।

আদালত তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেন, বিএসটিআই ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ আদালতকে নিশ্চিত করেছে যে ওই সব পণ্য (ভেজাল ও নিম্নমানের ৫২টি পণ্য) এখনো বাজারে রয়ে গেছে। আদালত বলেন, ভেজাল পণ্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ওই দুটি প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু তারা কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় বিষয়টি আদালতের সামনে এসেছে। তাই আদালত জনস্বার্থে আদেশ দিচ্ছেন।

আদালত শ্রমজীবী ও সাধারণ মানুষের জন্য নিরাপদ খাবার পানি সরবরাহ করতে ঢাকা ওয়াসার প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, পাইপলাইনের মাধ্যমে নিরাপদ খাবার পানি সরবরাহ করতে হবে।

শেয়ার করুন

One thought on "খাদ্যে ভেজালকারীর বিরুদ্ধেও যুদ্ধ ঘোষণা করুন"

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2020 Dailycoxsbazar
Theme Customized BY Media Text Communications