আজকের দিন-তারিখ

  • শনিবার ( বিকাল ৪:২৩ )
  • ২০শে জুলাই, ২০১৯ ইং
  • ১৭ই জিলক্বদ, ১৪৪০ হিজরী
  • ৫ই শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ ( বর্ষাকাল )

Archive Calendar

জুলাই ২০১৯
সোম মঙ্গল বুধ বৃহস্পতি শুক্র শনি রবি
« জুন    
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  
কক্সবাজারপযর্টন

ছেঁড়াদ্বীপ

পর্যটন ডেস্ক :

বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের শেষ ভূখণ্ডটির নাম ছেঁড়াদ্বীপ । এর দক্ষিণে বাংলাদেশের আর কোনো ভূখণ্ড নেই। দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনের নির্জন বর্ধিতাংশ এই ছেঁড়াদ্বীপ। স্থানীয়রা এর নাম দিয়েছে ছেঁড়াদিয়া । সেন্টমার্টিন থেকে যার দূরত্ব প্রায় ৫ কিলোমিটার। ছেঁড়াদ্বীপ মানে বিচ্ছিন্ন দ্বীপ। জোয়ারের সময় যখন সমুদ্রের পানি বেড়ে যায় তখন সেন্টমার্টিন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে দ্বীপের এই অংশটি। এজন্যই মূলত দ্বীপের এই অংশটির নাম হয়েছে ছেঁড়াদ্বীপ। ভাটায় জোড়া, জোয়ারে ছেঁড়া এ হলো সেন্টমার্টিনের সঙ্গে ছেঁড়াদ্বীপের সম্পর্ক।
সেন্টমার্টিন থেকে হেঁটে কিংবা ট্রলারে চেপে আপনি যেতে পারেন এই দ্বীপে। হেঁটে যেতে চাইলে খুব সকাল সকাল বেরিয়ে পড়তে হবে। জোয়ার আসার আগেই আপনাকে পৌঁছে যেতে হবে এখানে। হেঁটে যেতে সময় লাগবে আনুমানিক এক থেকে দেড় ঘণ্টা। আর ট্রলারে যেতে লাগবে প্রায় আধঘণ্টা।

স্পীডবোটে ছেঁড়াদ্বীপ ভ্রমণ

সেন্টমার্টিনে গিয়ে ছেঁড়াদ্বীপ না দেখে ফিরে আসা মানেই সেন্টমার্টিনের অর্ধেক দেখা। আকণ্ঠ নির্জনতায় ডুবে থেকে বিশুদ্ধভাবে প্রকৃতির গান শোনা আর আলোর রঙে আঁকা জলছবি দেখার মতো জায়গা এদেশে একটাই আছে- আর তা হচ্ছে এই ছেঁড়াদ্বীপ। এখানে পানির রঙ একদিকে নীল তো কিছুটা পরেই মনে হয় সবুজ। এই স্ফটিক স্বচ্ছ পানির একটু গভীরে চোখ রাখলেই দেখা যায় রঙ-বেরঙের মাছ আর বিচিত্র রঙের প্রবাল। অদ্ভুত সব মাছ আর প্রাণীর দেখা মিলে এই দ্বীপের আশপাশে। এখানকার স্বচ্ছ নীল পানিতে যে রঙ-বেরঙের প্রবালগুচ্ছ এবং বিচিত্র মাছ নিয়ে অপূর্ব সুন্দর জগৎ সৃষ্টি হয়েছে- বাংলাদেশের অন্য কোথাও তার দেখা মেলা ভার। বই পড়ে বা টেলিভিশনের পর্দায় দেখে এই দ্বীপের সৌন্দর্য স্বচ্ছ কোন ধারণা পাওয়া যায় না। এই দ্বীপের সৌন্দর্য উপভোগ করতে হলে স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করার কোনো জুড়ি নেই।

স্ফটিকস্বচ্ছ জলের নীচে সারি সারি প্রবালের স্তুপ

আজ পর্যন্ত কোনো স্থায়ী জনবসতি গড়ে ওঠেনি এই দ্বীপে। বৈচিত্র্যে ভরপুর এই দ্বীপে এখনো গড়ে ওঠেনি রাতে থাকার মতো কোনো মাথা গোজার ঠাঁই। এর মূল কারণ পানীয় জলের অভাব। সেন্টমার্টিনের অন্য ৩টি অংশে সুমিষ্ট পানীয় জল পাওয়া গেলেও এই ছেঁড়াদ্বীপে তা একেবারেই অনুপস্থিত। আর একমাত্র এ কারণেই জীবন ধারণের অন্য সকল উপাদানের প্রাচুর্য থাকা সত্তে¡ও এখনো এখানে গড়ে ওঠেনি কোনো লোকালয়। জীবিকার প্রয়োজনে সকাল বেলা যারা এখানে এসে অস্থায়ী ঠিকানা গড়ে তোলে, আঁধার নামার আগেই তারা আবার তা গুটিয়ে ফিরে যায় আপন ঠিকানায়। সকালে বা দুপুরে যেসব সৌন্দর্য পিপাসু পর্যটক এখানে বেড়াতে আসেন, আকণ্ঠ সৌন্দর্যের তৃষ্ণা মিটিয়ে সন্ধ্যা নামার আগে তারাও ফিরে যায় নিজ নিজ গন্তব্যে।

জনমানবহীন সুনসান ছেঁড়াদ্বীপ

জনবসতিহীন এই ছেঁড়াদ্বীপে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে অসংখ্য জীবিত এবং মৃত প্রবাল। এই দ্বীপে রয়েছে ৬৮ প্রজাতির প্রবাল। মৃত প্রবালগুলো রোদে শুকিয়ে পাথরের মতো শক্ত হয়ে ওঠে, তাই এখানে খালি পায়ে হাঁটা মোটেই নিরাপদ নয়। যে কোনো অসতর্ক মুহূর্তে পা কেটে ঘটতে পারে রক্তারক্তি কান্ড।

সবুজের ছোঁয়া খুব সামান্যই এখানে। বড় কোনো গাছ নেই এই দ্বীপে। আছে কিছু কেয়া আর নিশিন্দার ঝোপ। এই কেয়া ঝোপের মাঝখানে এক জায়গায় রয়েছে একটি পিকনিক স্পট। পর্যটন মৌসুমে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লোকজন এখানে এসে পিকনিক করে। কেউ কেউ আবার তাঁবু খাটিয়ে রাত্রিও যাপন করে। আপনি যদি অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় হোন তাহলে কোনো এক চাঁদ উজাড় পূর্ণিমা রাতে চলে আসতে পারেন এই নির্জন ছেঁড়াদ্বীপে। পূর্ণ চাঁদের আলোয় নিজেকে উজাড় করে দেয়ার মতো এমন সুন্দর জায়গা এদেশে আর দ্বিতীয়টি নেই। কোনো এক চন্দ্রভূক অমাবশ্যা রাতে যদি আসেন এই জনমানবহীন দ্বীপে তাহলে আপনি উপভোগ করবেন অন্ধকারের স্বতন্ত্র সৌন্দর্য। কালিগোলা অন্ধকারে আকণ্ঠ ডুবে থাকা চরাচর ফেলে যখন আপনি আকাশের দিকে চোখ মেলে তাকাবেন তখন আকাশের লক্ষ-কোটি তারার মেলা আপনার হৃদয়ের গহিনে অন্যরকম এক ভালোলাগার স্রোত বইয়ে দেবে। ক্ষণিকের জন্য হলেও আপনি হারিয়ে যাবেন দূর নীলিমার অমৃতলোকে। শহুরে নিয়ন বাতির আলো দেখে লজ্জা পেয়ে এতদিন যেসব তারারা নিজেদেরকে গুটিয়ে রেখেছিল, দেখবেন- মুক্তির মিছিলে তারাও কেমন ছুটি পাওয়া নটি হয়ে উঠেছে।

ঢেউয়ের সঙ্গে প্রবালের চিরন্তন মিতালী

দ্বীপ ঘুরে সঙ্গে করে নিয়ে যেতে হবে স্মৃতি। কোনো শৈবাল, প্রবাল, শামুক কিংবা ঝিনুক নয়। এমনকি বাজার থেকে সামুদ্রিক প্রাণীর তৈরি কোন অলঙ্কার কিংবা শোপিসও নয়। দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপের জীববৈচিত্র্যকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষার স্বার্থেই এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে কর্তৃপক্ষ। আসুন, দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ রক্ষায় গৃহীত কর্তৃপক্ষের সময়োপযোগী এ সিদ্ধান্তকে আমরা স্বাগত জানাই।