আজকের দিন-তারিখ

  • মঙ্গলবার ( বিকাল ৩:২৫ )
  • ১২ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং
  • ১৫ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরী
  • ২৮শে কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ ( হেমন্তকাল )

Archive Calendar

নভেম্বর ২০১৯
সোম মঙ্গল বুধ বৃহস্পতি শুক্র শনি রবি
« জুলাই    
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০  
সারাদেশ

কাঠগড়ায় আসামিদের হুঙ্কার

265views

সোনাগাজীর মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার ২১ আসামিকে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইনের আদালতে হাজির করা হয়। আসামিরা আদালতের কাঠগড়ায় থেকেই মামলার বাদী নুসরাতের বড় ভাই মাহমদুল হাসান নোমান ও বাদীপক্ষের আইনজীবী রফিকুল ইসলাম খোকনকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। তাদের হুমকি-ধমকি দেন।

এ সময় আসামিদের হুঙ্কার, হই-হুল্লোডে আদালতে বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য কম থাকায় আসামিদের নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি। এর আগে একই আদালতে বুধবার মামলার চার্জশিট দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ওসি শাহ আলম।

সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আলোচিত হত্যা মামলাটি পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করেন। মামলার পরবর্তী তারিখ ১০ জুন ধার্য করা হয়েছে।

সেদিন মামলার চার্জশিট গ্রহণের ওপর শুনানি হবে। বাদীর আপত্তি না থাকলে সেদিন মামলার কার্যক্রম চলবে। বাদীপক্ষের আইনজীবী রফিকুল ইসলাম খোকন জানান, আসামিরা আদালতের কাঠগড়া থেকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করেছে। আসামিরা পারলে সেখানেই আমাদের খুন করত। তাদের ব্যবহারে বোঝা গেছে তারা সংঘবদ্ধ একটি খুনি চক্র। তাদের আত্মীয়স্বজনও হুঙ্কার দিয়েছে।

তিনি আরও জানিয়েছেন, প্রয়োজনে নুসরাতের মতো তিনিও মরে যাবেন; তবু শেষ পর্যন্ত লড়ে যাবেন। মামলার বাদী ও নুসরাতের বড় ভাই মাহমদুল হাসান নোমান জানান, আদালতে প্রচুর বিশৃঙ্খলা হয়েছে। ফেনীর কোর্ট পরিদর্শক মো. গোলাম জিলানী জানান, গ্রেপ্তার অধ্যক্ষ এস.এম সিরাজ-উদ-দৌলা, কাউন্সিলর ও পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আলম, শিক্ষক আবছার উদ্দিন, সহপাঠী আরিফুল ইসলাম, নূর হোসেন, কেফায়াত উল্যাহ জনি, মোহাম্মদ আলা উদ্দিন, শাহিদুল ইসলাম, অধ্যক্ষের ভাগ্নি উম্মে সুলতানা পপি, জাবেদ হোসেন, জোবায়ের আহমেদ, নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, মো. শামীম, কামরুন নাহার মনি, আবদুর রহিম ওরফে শরিফ, ইফতেখার হোসেন রানা, এমরান হোসেন মামুন, মহিউদ্দিন শাকিল, হাফেজ আবদুল কাদের ও আওয়ামী লীগ সভাপতি ও নুসরাতের মাদ্রাসার সহ-সভাপতি রুহুল আমিনকে গতকাল আদালতে হাজির করা হয়।

এর আগে বুধবার আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে পিবিআই। পিবিআইয়ের ৮০৮ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদনে এজাহারনামীয় ৮ জন, এজাহারবহির্ভূত তদন্তে প্রাপ্ত আসামি ৮ জন। এ মামলায় সব অভিযুক্ত আসামির মৃত্যুদ- চেয়ে সুপারিশ করা হয়েছে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী এম. শাহজাহান সাজু বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা ১৬ জনের নামে অভিযোগপত্র দাখিল করেছেন। এ মামলায় ২১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৬ জনকে রেখে ৫ জনকে নট সেন্ট আপ করেছে।

নট সেন্ট আপ করা আসামি হিসেবে যাদের পিবিআই বাদ দিয়েছেÑ নুর হোসেন হোনা মিয়া, আলা উদ্দিন, কেফায়েত উল্যাহ জনি, সাইদুল এবং আরিফুল ইসলাম এ ৫ জনকে নিয়ে যদি এজাহারকারীর আপত্তি থাকে এবং এদের মধ্যে অপরাধী আছেন বলে মনে করেন তবে আমরা বাদীর সঙ্গে কথা বলে নারাজি দেব। না হয় পিবিআইয়ের দেওয়া চার্জশিট গ্রহণ করতে আদালতকে বলব।

ইতোমধ্যে আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করে বিচারিক আদালত অর্থাৎ নারী শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে যাতে অভিযোগ পাঠানো হয় সে বিষয়ে আমরা পদক্ষেপ নেব। এ মামলায় মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলা, নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, উম্মে সুলতানা পপি, কামরুন নাহার মনি, জাবেদ হোসেন, আবদুর রহিম ওরফে শরীফ, হাফেজ আবদুল কাদের, জোবায়ের আহমেদ, এমরান হোসেন মামুন, ইফতেখার হোসেন রানা ও মহিউদ্দিন শাকিল আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

চলতি বছরের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌননিপীড়ের দায়ে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ৬ এপ্রিল ওই মাদ্রাসা কেন্দ্রের সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে অধ্যক্ষের সহযোগীরা নুসরাতের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়। টানা পাঁচ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে মারা যান নুসরাত জাহান রাফি।