আজকের দিন-তারিখ

  • মঙ্গলবার ( রাত ৮:৫০ )
  • ২০শে আগস্ট, ২০১৯ ইং
  • ১৯শে জিলহজ্জ, ১৪৪০ হিজরী
  • ৫ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ ( শরৎকাল )

Archive Calendar

আগস্ট ২০১৯
সোম মঙ্গল বুধ বৃহস্পতি শুক্র শনি রবি
« জুলাই    
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
কক্সবাজার

জেলায় বেড়েছে নিত্যপণ্যের দাম, বিপর্যস্ত জনজীবন

24views

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট :

কক্সবাজারে নতুন বছর ও নতুন সরকারের শুরুতে চালের দাম বাড়ায় কিছুটা অস্বস্তিতে পড়েছেন জেলার সাধারণ মানুষ। জেলার বাজারে চাল, ডাল, পেঁয়াজ, আদা, রসুন, তেল সব ধরনের তরিতরকারিসহ ইত্যাদি নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে। এতে সাধারণ মানুষ বিশেষ করে নিম্নআয়ের মানুষজন বিপাকে পড়েছেন। বিক্রেতাদের দাবি হঠাৎ করে সব ধরনের জিনিসের চাহিদা বেড়ে গেছে কিন্তু সে অনুযায়ী সরবরাহ অনেক কম তাই বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়ছে।

পাইকারী ও খুচরা চাল ব্যবসায়ীরা বলছেন, মিল মালিকদের অতি মুনাফার প্রবণতাই দাম বাড়ার কারণ। শহরে চালের দাম পাইকারী বাজারে প্রতি বস্তা ১০০/১৪০ টাকা করে বাড়লেও খুচরা বাজারে দ্বিগুণ বেড়েছে। যার ফলে চালের মুল্য নিয়ে অস্বস্থিতে পড়েছে খেটে খাওয়া লোকজন। নির্বাচনের দুইদিন আগে থেকে চালের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানালেন পাইকারী ব্যবসায়ীরা।

শহরের বিভিন্ন পাইকারী ও খুচরা বাজার ঘুরে এ তথ্য পাওয়া গেছে। শহরের বড় বাজারের পাইকারী ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মালিকরা জানান, নির্বাচনের আগের সপ্তাহ থেকে চালের সরবরাহ কম থাকায় চালের (৫০) কেজি বস্তা প্রতি ১২০/১৫০ টাকা বেড়েছে। মিনিকেট (২৮) ১৮০০ টাকা থেকে বেড়ে বস্তা ১৯৫০ টাকা, বেতী (২৯) বস্তা ১৬৫০ টাকা থেকে বেড়ে ১৭৫০ টাকা, কাটারি বস্তা প্রতি ২৭০০ টাকা থেকে বেড়ে ২৮৫০ টাকা, চিনিগুড়া ৩৭০০ টাকা থেকে ৩৯০০ টাকা ও সিদ্ধ চাল প্রতি বস্তা ১৭০০ টাকা থেকে বেড়ে ১৯০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে খুচরা বাজারে আরও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে চাল। চালের দাম হঠাৎ বৃদ্ধি পায়নি, নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগে থেকেই চালের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে তা আর কমে আসেনি।

পাইকারী ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, হঠাৎ কেন সরবরাহ কমে গেল তা চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরাও জানেন না। নির্বাচনের আগে পরিবহন সংকটের জন্য চাল সরবরাহ কমেছে এমন দাবি করছেন চট্টগ্রামের আড়তদারেরা। এখন কোন সংকট না থাকলেও কেন দাম কমে নাই তা কারো জানা নেই। পাইকারী বাজারে চাল কেজিতে ২ টাকা বাড়লে খুচরা বাজারে ৩/৪ টাকা করে বৃদ্ধি পায়।

শহরের কানাইয়া বাজারের খুচরা ব্যবসায়ী আরমান জানিয়েছেন, আমরা পাইকার থেকে চাল এনে কিছু বাড়তি দরে বিক্রি করি, না হয় পোশায় না। চালের মুল্য বৃদ্ধির বিষয়টি আমাদের জানা থাকার কথা নয়। পাইকারী বাজারে বাড়লে আমাদেরও বাড়াতে হয়।দিনমজুর আরফাত জানান, বছরের শুরু থেকে কোন কারণ ছাড়াই চালের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। খুচরা ব্যবসায়িরা পাইকারদের কথা বলেন আর পাইকাররা আড়াতদাদের কথা বলেন। এরই মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি আমরা।

এদিকে চাল, ডাল, পেঁয়াজ, আদা, রসুন, তেল সব ধরনের তরিতরকারীসহ ইত্যাদি নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে। এতে সাধারণ মানুষ বিশেষ করে নিম্নআয়ের মানুষজন বিপাকে পড়েছেন। বিক্রেতাদের দাবি হঠাৎ করে সব ধরনের জিনিসের চাহিদা বেড়ে গেছে কিন্তু সে অনুযায়ী সরবরাহ অনেক কম তাই বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়ছে। আর উখিয়া-টেকনাফের অবস্থা আরো খারাপ। এখানে সব ধরনের পণ্যের দাম দ্বিগুণ বেড়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।

এদিকে সাধারণ মানুষের দাবি কক্সবাজারে ব্যাপক হারে রোহিঙ্গা আসায় একটি বড় চাপ তৈরি হয়েছে। তাই নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে। এই অবস্থার আরও অবনতি হতে পারে বলে ধারণা করছেন তারা।

শহরের বাহারছড়া বাজারে নিত্যপণ্য সামগ্রী কিনতে আসা এডভোকেট নুর মোহাম্মদ জানান, মোটামুটি খাওয়ার উপযুক্ত চাল বিক্রি হচ্ছে কেজিতে ৫৩ টাকা। ১ সপ্তাহের ব্যবধানে ডালের দাম বেড়ে দাড়িয়েছে ১৩০ টাকা। এভাবে হলে তো সাধারণ মানুষ অনেক কষ্টে পড়বে।  চালের দামের সাথে সাথে বেড়েছে ডালের দামও। এতে আমাদের চরম অবস্থা বিরাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, এই অবস্থা চলতে থাকলে খুব ক্ষতি হবে। কারণ আমাদেরতো আর আয় বাড়েনি। এভাবে যদি দৈনিক খরচ বাড়তে থাকে তাহলে কিভাবে চলবে। ধারণা দাম আরও বাড়তে পারে, কারণ বাজারে সব পণ্যের একটু ঘাটতি দেখা যাচ্ছে।

কক্সবাজার জাতীয় পার্টি পৌর শাখার সদস্য সচিব নাজিম উদ্দিন জানান, ভারত থেকে আমদানী করা পেয়াজ প্রতি কেজি খরচ হয় ৪/৫ টাকা, সেই পেয়াজ বাজারে ৪৫ টাকা কেন? গত সপ্তাহ পেঁয়াজ কিনেছি ২৫ টাকায়, সেটা এখন ৪৫ টাকা। চালের দামের সাথে সাথে বেড়েছে ডালের দামও। এভাবে যদি দৈনিক খরচ বাড়তে থাকে তাহলে কিভাবে চলবে।

বেসরকারী চাকুরিরত মো. কামাল বলেন, আমি ছোটখাট চাকরি করি। আমাদের আয় সীমাবদ্ধ, এখন যদি প্রতি সপ্তাহে জিনিস পত্রের দাম বাড়ে তাহলে আমাদের জন্য খুবই অসুবিধা হয়।

এদিকে শহরের বড় বাজার এলাকায় গিয়ে দেখা যায় সেখানেও সব জিনিসের দাম বাড়তি। ডাল, তেল, পান, কাঁচা মরিচ, শাকসবজিসহ সব ধরনের তরিতরকারির দাম বেড়েছে। মাছের দামও বেড়েছে অনেক। বর্তমানে উখিয়া টেকনাফের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ বলে জানান স্থানীয়রা।

এ ব্যাপারে একজন সংবাদকর্মী বলেন, মাছ তরকারী পাওয়া খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে। মাছ ও শাকসবজির দাম বেড়েছে অনেক।

বিক্রেতা সেলিম বলেন, তরিতরকারী হচ্ছে দ্রুত পচনশীল। যে কোনো তরকারী ১/২ দিনের মধ্যে বিক্রি করে ফেলতে হয়। আর বর্তমানে সব জিনিসের চাহিদা বেশি থাকায় আগে চকরিয়া বা চট্টগ্রাম থেকে সপ্তাহে যেখানে ১টি গাড়ি করে আনলে হতো বর্তমানে সপ্তাহে ২ বার গাড়ি করে আনতে হয়। তারপরও সংকট হয়। কারণ অধিকাংশ তরকারি চলে যাচ্ছে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। সেই কারণে মূলত দাম বৃদ্ধি হচ্ছে।

এভাবে পণ্যের সংকট ও দাম বেড়ে যাওয়ায় নিম্নমধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্তের লোকজনের চরম সমস্যা চলছে। তাদের এখন আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের সঙ্গতি কোনোভাবেই মিলছে না। এতে তাদের দৈনন্দিন জীবনে মারাত্মক প্রভাব পড়ছে। দেখা দিয়েছে অভাব-অনটন।