1. arif.arman@gmail.com : Daily Coxsbazar : Daily Coxsbazar
  2. dailycoxsbazar@gmail.com : ডেইলি কক্সবাজার :
  3. litonsaikat@gmail.com : ডেইলি কক্সবাজার :
  4. shakil.cox@gmail.com : ডেইলি কক্সবাজার :
  5. info@dailycoxsbazar.com : ডেইলি কক্সবাজার : Daily ডেইলি কক্সবাজার
টালমাটাল জাতীয় পার্টি - Daily Cox's Bazar News
মঙ্গলবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৪:৩১ পূর্বাহ্ন
নোটিশ ::
ডেইলি কক্সবাজারে আপনার স্বাগতম। প্রতি মূহুর্তের খবর পেতে আমাদের সাথে থাকুন।
সংবাদ শিরোনাম ::
কট্টরপন্থী ইসলামী দল হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জ: এসএডিএফ কক্সবাজারের আট তরুণ তরুণীকে ‘অদম্য তারূণ্য’ সম্মাননা জানাবে ঢাকাস্থ কক্সবাজার সমিতি Job opportunity বিশ্বের সবচেয়ে বড় আয়না, নাকি স্বপ্নের দেশ! আল-আকসা মসজিদে ইহুদিদের প্রার্থনা বন্ধের আহ্বান আরব লীগের পেকুয়ায় পুলিশের অভিযানে ৮০ হাজার টাকার জাল নোটসহ গ্রেফতার-১ পেকুয়ায় অস্ত্র নিয়ে ফেসবুকে ভাইরাল : অস্ত্রসহ আটক শীর্ষ সন্ত্রাসী লিটন টেকনাফে একটি পোপা মাছের দাম হাঁকাচ্ছেন সাড়ে ৭ লাখ টাকা ! কক্সবাজারের টেকনাফে র‍্যাবের অভিযানে ইয়াবাসহ আটক-১ নিউ ইয়র্কে মেয়র কার্যালয়ে শহীদ মিনার নির্মাণ নিয়ে কনসাল জেনারেলের আলোচনা

টালমাটাল জাতীয় পার্টি

ডেইলি কক্সবাজার ডেস্ক ::
  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ২১ জানুয়ারী, ২০১৬
  • ৩০২ বার পড়া হয়েছে

বাবলু বাদ, হাওলাদারকে মহাসচিব পদে ফেরালেন এরশাদ, প্রত্যাখ্যান সংসদীয় দলের

jpপ্রায় ৩৪ বছর আগে, ১৯৮২ সালে সেনাবাহিনীপ্রধান থাকা অবস্থায় ক্ষমতা দখল করে ১৯৮৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হিসেবে দেশ শাসন করেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। পরে বিচারপতি আহসান উদ্দিন চৌধুরীকে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সরিয়ে নিজেই রাষ্ট্রপতি হন এবং ১৯৮৬ সালের ১ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ আরো কয়েকটি দল থেকে নেতাদের বাগিয়ে গঠন করেন জাতীয় পার্টি (জাপা)। পাঁচ ভাগে বিভক্ত সেই জাতীয় পার্টির অবস্থা এখন টালমাটাল।

গত রোববার রংপুরে ছোট ভাই জিএম কাদেরকে নিজের উত্তরসূরি এবং দলের কো-চেয়ারম্যান করার পরদিন বিদ্রোহের মুখে পড়েন এরশাদ। দলের মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু এবং ১৮ জন সংসদ সদস্যসহ দলের একটি অংশ গত সোমবার এক যৌথ সভা করে রওশন এরশাদকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ঘোষণা করে। পাল্টা হিসেবে এরশাদও মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুকে সরিয়ে দলের মহাসচিব করেন এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদারকে। পরে বিকালে এক সভায় এরশাদের এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে জাতীয় পার্টির সংসদীয় দল। এ অবস্থার মধ্যেই এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি এখন সবচেয়ে বড় ধরনের ভাঙনের মুখে পড়েছে।

জাতীয় পার্টি নামে এখন মাঠে সক্রিয় দল আছে ৫টি। এর মধ্যে ৪টির নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধন রয়েছে। এরশাদের পতনের পর থেকে বেশ কয়েকবার ভাঙন ধরে দলে। এর মধ্যে তিনটি ভাঙন ছিল বড় ধরনের, তারা দল থেকে বেরিয়ে একই নামে আবার দল করেছেন। এছাড়া বিভিন্ন সময় দলটির আরো কিছু নেতা দলছুট হয়েছেন, একাধিকবার ছোট ছোট ভাঙনের মুখে পড়েছে দলটি। বড় ভাঙনগুলো হয়েছিল মূলত বিভিন্ন সময়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে-পরে। কখনো আওয়ামী লীগ-বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটে যাওয়া-না যাওয়া নিয়ে, আবার কখনো ভেঙেছে মন্ত্রী হওয়া নিয়ে।
এখন এরশাদ এবং তার স্ত্রী রওশনের দ্বন্দ্বে পার্টি আবারো ভাঙনের মুখে পড়েছে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে যাওয়া-না যাওয়া নিয়ে জাপায় এরশাদ ও রওশনকে কেন্দ্র করে দলে দুটি বলয় তৈরি হয়। সেই দুটি বলয় এখন প্রকাশ্য দুই শিবিরে বিভক্ত। গত রোববার রংপুরে এরশাদ তার ভাই জিএম কাদেরকে জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান ঘোষণা করেন। এর এক দিনের মাথায় সোমবার রওশনপন্থীরা এরশাদের স্ত্রী রওশন এরশাদকে পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ঘোষণা করেন। এর প্রতিক্রিয়ায় এরশাদ বলেছেন, রওশনকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ঘোষণা অবৈধ। এখনো অবশ্য এই দুটি অংশের কেউ আলাদা হওয়ার ঘোষণা দেয়নি।
রওশনকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করায় আলাদা জাতীয় পার্টি হলো কিনা, এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে জাতীয় পার্টির সদ্য অব্যাহতি পাওয়া মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু বলেন, এরশাদ দলের চেয়ারম্যান আছেন। রওশন এরশাদ ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। অবশ্য এরশাদ বলেছেন, রওশনকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করা সম্পূর্ণ অবৈধ। এ ব্যাপারে শিগগিরই তিনি ব্যবস্থা নেবেন।
এরশাদের নেতৃত্বাধীন এই অংশটি মূল জাতীয় পার্টি হিসেবে পরিচিত। নির্বাচন কমিশনে এই দলটি নিবন্ধিত লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে। এছাড়া আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি (জেপি) নিবন্ধিত বাইসাইকেল প্রতীক নিয়ে এবং নাজিউর রহমান মঞ্জুর জাতীয় পার্টি (বিজেপি) নিবন্ধিত গরুর গাড়ি প্রতীক নিয়ে। আর গত নির্বাচনের আগে এরশাদের দলে আরেক দফা ভাঙন ধরিয়ে নতুন জাতীয় পার্টি করেন কাজী জাফর আহমদ। এর বাইরে কাঁঠাল প্রতীকে তাসমিনা মতিনের নামেও জাতীয় পার্টির নিবন্ধন রয়েছে। জাতীয় পার্টির নেতা এমএ মতিনের নেতৃত্বে এই অংশটি আলাদা হয়েছিল।
জাতীয় পার্টির জন্ম
মওদুদ আহমদের ‘গণতন্ত্র ও উন্নয়নের চ্যালেঞ্জ : প্রেক্ষাপট বাংলাদেশের রাজনীতি এবং সামরিক শাসন’ বই থেকে জানা যায়, ১৯৮৪ সালে এরশাদ প্রথমে ‘জনদল’ নামে একটি রাজনৈতিক দলের গোড়াপত্তন ঘটান। ‘৮৫ সালের প্রথমদিকে এরশাদ দুটি প্রধান বিরোধী জোটে ভাঙন ধরাতে সক্ষম হন। আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতা কোরবান আলী এবং বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা আবদুল হালিম চৌধুরীকে তিনি মন্ত্রিত্ব দেন। ১৫ দলীয় জোটের শরিক দল মিজানুর রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের একাংশ, ৫ দলীয় জোটের শরিক ইউপিপির কাজী জাফর আহমদ এবং সিরাজুল হোসেন খানের গণতন্ত্রী পার্টি জোট ছেড়ে এরশাদের সঙ্গে যোগ দেয়। বিএনপির একটি অংশের নেতা শামসুল হুদা চৌধুরী ও ডা. এমএ মতিন এবং আওয়ামী লীগের সাবেক চিফ হুইপ শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন এরশাদের সঙ্গে হাত মিলান। এছাড়া বিএনপির মওদুদ আহমদ ও আনিসুল ইসলাম মাহমুদের মতো কিছু নেতা, মুসলিম লীগের একাংশের নেতা সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরী এবং দলবিহীন বিশেষ ব্যক্তিত্ব আনোয়ার হোসেন মঞ্জুও এরশাদের সঙ্গে হাত মিলান। ১৯৮৫ সালের শেষদিকে এরশাদ তার জনদল, বিএনপির একাংশ, ইউপিপি, গণতান্ত্রিক পার্টি এবং মুসলিম লীগের সমন্বয়ে গঠন করেন জাতীয় ফ্রন্ট। এক পর্যায়ে কাজী জাফর স্বেচ্ছায় ইউপিপি ভেঙে দিয়ে এরশাদের দলে যোগ দেন। শেষ পর্যন্ত ১৯৮৬ সালের ১ জানুয়ারি ‘সরকারি রাজনৈতিক দল’ জাতীয় পার্টির আত্মপ্রকাশ ঘটে।
আর জাতীয় পার্টির নিজস্ব পরিচিতিতে বলা আছে, ১৯৮৬ সালের ১ জানুয়ারি জাতীয় ফ্রন্টের ৫টি শরিক দল একত্রিত হয়ে জাতীয় পার্টির আত্মপ্রকাশ ঘটে। নবগঠিত পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হন এইচএম এরশাদ এবং মহাসচিব নিযুক্ত হন এমএ মতিন।
পার্টিতে ভাঙন : এরশাদের জাতীয় পার্টিতে প্রথম বড় ধরনের ভাঙন ধরে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বের হয়ে আলাদা জাতীয় পার্টি ঘোষণা করলে। ১৯৯৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে সরকার গঠনের সময় জাতীয় পার্টি প্রথমে তাদের সমর্থন দিলেও পরে চারদলীয় জোটে চলে যায়। সেই সময়কার যোগাযোগমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এরশাদের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে জাতীয় পার্টি নামে নতুন দল গঠন করেন।
২০০১ সালের নির্বাচনের আগে এরশাদের জাতীয় পার্টিতে আরেক দফা ভাঙন ধরে। নাজিউর রহমান মঞ্জু জাতীয় পার্টি নামে আরেকটি দল গঠন করেন এবং বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোটের অংশ হয়ে নির্বাচনে যান। বর্তমানে এই অংশের নেতৃত্বে আছেন তার ছেলে আন্দালিব রহমান পার্থ।
এই অংশটির ভেতরেও আরেকটি ভাঙন আছে। মন্ত্রিত্ব নিয়ে ঝামেলার এক পর্যায়ে এমএ মতিন আলাদা জাতীয় পার্টি গঠন করেন।
এক/এগারোর সময়ও জাতীয় পার্টি দুটি অংশে বিভক্ত হয়েছিল। পরে অবশ্য এ দুটি অংশই এরশাদের নেতৃত্বে এক হয়ে যায়।
সর্বশেষ এরশাদের জাতীয় পার্টিতে ভাঙন ধরান তার পুরনো রাজনৈতিক সহকর্মী কাজী জাফর আহমদ। ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে কাজী জাফর এরশাদকে ছেড়ে আলাদা জাতীয় পার্টি গঠন করে যোগ দেন বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটে। ২০১৩ সালের ২০ ডিসেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে দলের বিশেষ কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন জাতীয় পার্টির ঘোষণা দেন কাজী জাফর। একই সঙ্গে তিনি এরশাদকে বহিষ্কারেরও ঘোষণা দেন।
বাবলু বাদ, হাওলাদারকে
ফেরালেন এরশাদ
এইচএম এরশাদের ঘোষণার পাল্টায় রওশন এরশাদকে জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ঘোষণা করে দলের মহাসচিবের পদ খুইয়েছেন জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু। তার জায়গায় ফিরেছেন চেয়ারম্যানের দীর্ঘদিনের আস্থাভাজন এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার।
জাতীয় পার্টিতে আবারো ভাঙনের গুঞ্জনের মধ্যে মঙ্গলবার বনানীতে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে ভাই জিএম কাদেরকে পাশে নিয়ে এরশাদ এই ঘোষণা দেন।
তিনি আবারো বলেন, নেতাকর্মীদের সম্মতিতে পরবর্তীকালে দলের দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত করার জন্যই জিএম কাদেরকে কো-চেয়ারম্যান করা হয়েছে। দলীয় গঠনতন্ত্রে ওই পদ না থাকলেও আগামী সম্মেলনে বিষয়টির সুরাহা করে ফেলা হবে।
বাবলুকে মহাসচিব পদ থেকে অব্যাহতি দেয়ার ঘোষণা দিয়ে পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, দলের কাউন্সিল আয়োজনে বাবলু ব্যর্থ হয়েছেন। বাবলুকে মহাসচিব পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে দলের স্বার্থে।
এরপর দীর্ঘদিনের আস্থাভাজন রুহুল আমিন হাওলাদারকে মহাসচিবের দায়িত্বে ফিরিয়ে আনার ঘোষণা দেন এরশাদ। তিনি বলেন, ‘রুহুল আমিন হাওলাদার আমার মহাসচিব ছিলেন ১৪ বছর। আজ থেকে মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করবেন তিনি।’
বিএনপিবিহীন দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির অংশগ্রহণের বিপক্ষে ছিলেন এরশাদ। হাওলাদারও সেই পক্ষ নেন।
অন্যদিকে, রওশনের নেতৃত্বে পার্টির আরেকটি অংশ নির্বাচনে থাকার পক্ষে অবস্থান নেয়। বাবলু ছিলেন সেই পক্ষে।
বর্জন করেও আইনের মারপ্যাঁচে সেই ভোটে জিতে সংসদ সদস্য হন এরশাদ, পান প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূতের পদ। আর বিএনপির বর্জনে রওশন হয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা।
ভোট নিয়ে সেই মতদ্বন্দ্বের জেরে ২০১৪ সালের এপ্রিলে জাতীয় পার্টির মহাসচিবের পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয় হাওলাদারকে। নতুন মহাসচিব হন রওশনঘনিষ্ঠ বাবলু।
জাতীয় পার্টির নেতাদের সরকারে থাকা নিয়ে বিভিন্ন সময় দু’পক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের মধ্যেই এরশাদ বলেছিলেন, রওশনই তার কা-ারি।
মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে এরশাদ বলেন, ‘দুজন নেতা আমার এবং আমার স্ত্রী রওশন এরশাদের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। আমাদের মধ্যে কোনো বিভেদ নেই, থাকতে পারে না।’
আগের রাতে সভাপতিম-লীর কথিত যে বৈঠক থেকে রওশনকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ঘোষণা করা হয়েছে, সেই সভা রওশন ডাকেননি বলেও দাবি করেন এরশাদ।
তিনি বলেন, ‘আমার স্ত্রী রওশন এরশাদ প্রেসিডিয়াম মেম্বার। প্রেসিডিয়াম মিটিং ডাকার এখতিয়ার একমাত্র আমার। আমি এখনো চেয়ারম্যান আছি। সিদ্ধান্ত কেবল আমিই দিতে পারি।’
এরশাদ বলেন, পার্টির দিকটি তিনিই দেখেন; রওশন দেখেন পার্লামেন্টারি বডি। তাদের মধ্যে কোনো দ্বন্দ্ব নেই, দ্বন্দ্ব ছিলও না। সোমবার যা হয়েছে, তা প্রেসিডিয়াম মিটিং ছিল না। রওশন কোনো মিটিং ডাকেননি।
তিনি প্রশ্ন করেন, ‘রওশনকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করার যে ঘোষণা এসেছে, তা দেয়ার বাবলু কে?’
সংসদীয় দলের প্রত্যাখ্যান
এদিকে, জাতীয় পার্টিতে নতুন কো-চেয়ারম্যান নিয়োগ এবং মহাসচিব পরিবর্তনের যে সিদ্ধান্ত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ দিয়েছেন, তা প্রত্যাখ্যান করেছে পার্টির সংসদীয় দল।
জাতীয় সংসদের নবম অধিবেশন সামনে রেখে মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনে জাতীয় পার্টির সংসদীয় দলের বৈঠকের পর বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ তাজুল ইসলাম চৌধুরী সাংবাদিকদের এ কথা জানান।
তিনি বলেন, ‘এ পর্যন্ত যা হয়েছে, চেয়ারম্যান যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, দলের প্রতিটি সদস্য তার বিরোধিতা করেছেন। আমরা তা মেনে নিতে পারিনি। প্রেসিডিয়াম এবং সংসদীয় দলের বৈঠকে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বলা হয়েছে। চেয়ারম্যানও বলেছেন, বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’
মহাসচিবের পদ হারানো জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, প্রেসিডিয়াম সদস্য আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এবং মুজিবুল হক চুন্নুসহ রওশন এরশাদপন্থী কয়েকজন সংসদ সদস্য এ সময় তাজুলের পাশে ছিলেন।
তবে সভার বিষয়ে পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদ বা তার নতুন মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হওলাদারের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
শীর্ষ পর্যায়ে ক্ষমতার দ্বন্দ্বে পাল্টাপাল্টি ঘোষণার মধ্যেই বিরোধীদলীয় নেতা রওশনের সভাপতিত্বে জাতীয় পার্টির সংসদীয় দলের ওই বৈঠক হয়, যাতে এরশাদও উপস্থিত ছিলেন। রুহুল আমিন হাওলাদারসহ জাতীয় পার্টির ৪০ জন সংসদ সদস্যের সবাই ছিলেন বৈঠকে।
‘মৃত্যু পর্যন্ত’ অটল
থাকবেন এরশাদ
নতুন কো-চেয়ারম্যান নিয়োগ এবং মহাসচিব পরিবর্তন নিয়ে জাতীয় পার্টিতে বিদ্রোহের মুখে চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, তিনি সিদ্ধান্ত থেকে সরবেন না।
মঙ্গলবার জাতীয় পার্টির সংসদীয় দলের বৈঠকের পর জাতীয় সংসদ ভবন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার সিদ্ধান্ত অটুট থাকবে। জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আমি অটল থাকব।’
ভাঙনের আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘দেয়ার ইজ নো সংকট ইন জাতীয় পার্টি। আমি যতক্ষণ বেঁচে আছি, ততক্ষণ কোনো সংকট নেই। নো ওয়ান কুড ব্রেক ইট।’

শেয়ার করুন

Leave a Reply

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2020 Dailycoxsbazar
Theme Customized BY Media Text Communications