আজকের দিন-তারিখ

  • রবিবার ( রাত ১১:৩৪ )
  • ১৮ই আগস্ট, ২০১৯ ইং
  • ১৭ই জিলহজ্জ, ১৪৪০ হিজরী
  • ৩রা ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ ( শরৎকাল )

Archive Calendar

আগস্ট ২০১৯
সোম মঙ্গল বুধ বৃহস্পতি শুক্র শনি রবি
« জুলাই    
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
কক্সবাজার

টেকনাফে পক্ষকাল ধরে সব ধরনের আমদানি বন্ধ

24views

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট : 

মিয়ানমারে অভ্যন্তরীন অস্থিরতার কারণে প্রায় বিশ দিন ধরে মিয়ানমার থেকে সব ধরনের আমদানি বাণিজ্য বন্ধ রয়েছে। বিশেষ করে গবাদি পশু ও কাঠ আমদানি বন্ধ থাকায় স্থানীয় বাজারে মাংসের সংকট ও বৃদ্ধি পেয়েছে দাম। এসব কারণে সীমান্ত বাণিজ্য ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা শংকায় দিন কাটাচ্ছেন।

টেকনাফ শুল্ক বিভাগ জানায়, গত ২৩ জানুয়ারি হতে কক্সবাজারের টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপ করিডোরে পশু আমদানি না হওয়ায় সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। চলতি বছর ২২ জানুয়ারী পর্যন্ত ৩ হাজার ৩৯১টি গরু, ৪৪০টি মহিষ আমদানী করে ১৯ লাখ ১৫ হাজার ৫শ টাকা রাজস্ব আদায় হয়। এরপর থেকে করিডোরে কোন ধরনের গবাদিপশু আসেনি। চোরাইপথে গবাদিপশু আসা রোধে ২০০৩ সালে ২৫ মে শাহপরীর দ্বীপ করিডোর চালু করা হয়। করিযোর দিয়ে আসা গরু-মহিষ প্রতি ৫০০ এবং ছাগল থেকে ২০০ টাকা হারে রাজস্ব আদায় করা হয়। বিজিবি ও শুল্ক বিভাগের তত্বাবধানে সোনালী ব্যাংকে রাজস্ব জমা পড়ে।

টেকনাফ উপজেলা পশু আমদানি কারক সমিতির সভাপতি ও প্যানেল মেয়র আবদুল্লাহ মনির বলেন, মিয়ানমারে অভ্যন্তরীন অস্থিরতার কারণে সেদেশের ব্যবসায়ীরা রপ্তানি নিরাপদ মনে করছেন না। অভ্যন্তরীন সমস্যায় সীমান্তে নিরাপত্তা কড়াকড়ি করা হয়। এ নিয়ে ব্যবসায়ীদের মাঝে আতংক বিরাজ করছে। তাই চাহিদা পাঠানোর পরও সেদেশের ব্যবসায়ীরা পশু পাঠাচ্ছেনা। তাই গত বিশ দিন ধরে পশু আমদানী বন্ধ রয়েছে। ফলে ব্যাপক ক্ষতির সম্মূখীন হচেছন ব্যবসায়ী ও আমদানীকারকরা।

আরেক পশু ব্যবসায়ী মো. শরীফ বলেন, দেশে গবাদি পশুর চাহিদা পূরনে মিয়ানমার থেকে পশু আমদানী করা হয়। বর্তমানে পশু না আসায় এপারে গবাদি পশুর চাহিদা ও দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সমস্যার কারণে টেকনাফ সীমান্ত বাণিজ্যের পণ্য আমদানীতেও প্রভাব পড়ছে। মিয়ানমার থেকে প্রতিমাসে বিপুল পরিমান কাঠ আমদানী হয়। গত তিন সপ্তাহ বন্দরে কাঠ আমদানী বন্ধ। গত জানুয়ারী মাসে স্থল বন্দরে কাঠ আমদানী করে সরকার ২ কোটি ৭২ লাখ টাকা রাজস্ব আয় করে। চলতি ফেব্রুয়ারী মাসে এ পর্যন্ত ৩০ লাখ টাকা মত রাজস্ব আয় হয় বলে জানায় শুল্ক বিভাগ।

সূত্র জানায়, জানুয়ারী মাসে টেকনাফ শুল্ক ষ্টেশনে রাজস্ব আদায় করেছে ২২ কোটি ১০ লাখ টাকা। সে মাসে টার্গেট ছিল ১৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। টার্গেটের চেয়ে ৫ কোটি ৩৫ লাখ টাকা বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছেন। চলতি ফেব্রুয়ারী মাসে রাজস্বের টার্গেট পূরন নিয়ে শংকিত বলে জানায় বন্দর সংশ্লিষ্টরা।

টেকনাফ স্থল বন্দর শুল্ক কর্মকর্তা শংকর কুমার দাশ বলেন, পশুর করিডোর থেকে সরকার প্রতি বছর কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করে আসছে। স্থানীয় প্রশাসন ও পশু ব্যবসায়ীদের সহায়তায় তা সম্ভব হয়। গত জানুয়ারী মাসের শেষে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীন সমস্যার কারনে গবাদি পশু আসা বন্ধ রয়েছে। শুধু গবাদি পশু ও কাঠ নয়, আমদানি ও রপ্তানি সব ধরণের পণ্যতে এর প্রভাব পড়েছে। এতে চলতি মাসে রাজস্ব আদায়ের টার্গেট পূরন নিয়ে শংকা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।