1. arif.arman@gmail.com : Daily Coxsbazar : Daily Coxsbazar
  2. dailycoxsbazar@gmail.com : ডেইলি কক্সবাজার :
  3. litonsaikat@gmail.com : ডেইলি কক্সবাজার :
  4. shakil.cox@gmail.com : ডেইলি কক্সবাজার :
  5. info@dailycoxsbazar.com : ডেইলি কক্সবাজার : Daily ডেইলি কক্সবাজার
তারেকের সিদ্ধান্ত সমালোচনায় - Daily Cox's Bazar News
শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২০, ০৯:৪৮ অপরাহ্ন
নোটিশ ::
ডেইলি কক্সবাজারে আপনার স্বাগতম। প্রতি মূহুর্তের খবর পেতে আমাদের সাথে থাকুন।

তারেকের সিদ্ধান্ত সমালোচনায়

ডেইলি কক্সবাজার ডেস্ক ::
  • আপডেট সময় বুধবার, ১ মে, ২০১৯
  • ৫৩ বার পড়া হয়েছে

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের নির্বাচিতদের শপথগ্রহণের পরও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন প্রক্রিয়ার অগ্রগতি না হওয়ায় নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। চার এমপির শপথগ্রহণ নিয়ে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে দলের ভেতরে ও বাইরে। এর আগে দলের কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে এভাবে তারেক রহমানের সমালোচনা করতে দেখা যায়নি। দলের জ্যেষ্ঠ নেতার ভাষায়, ‘বিএনপিতে আগুন ঝরছে।’

বিএনপি থেকে নির্বাচিত চার এমপি শপথ নেওয়ার পর সোমবার থেকে নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ ও হতাশা ব্যক্ত করে আসছে। গতকাল হাইকোর্টে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন না হওয়ায় তা তীব্র হয়। তাদের বক্তব্য, কিসের ভিত্তিতে চার নেতা শপথ নিলেন। খালেদা জিয়া জামিন পাননি। তা হলে কিসের আশায় এমন সিদ্ধান্ত।

সবার মতামত উপেক্ষা করে তারেক রহমানের একক সিদ্ধান্ত এবং দলের বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্যেষ্ঠ নেতাদের অনেকেই ‘অপমানবোধ’ করছেন। এ ধরনের অপরিপক্ব রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ কেউ-কেউ প্রশ্ন তোলেন- এমন পরিস্থিতিতে জ্যেষ্ঠ নেতাদের কয়েকজন পদত্যাগ করলে দলের অবস্থা কী হবে? সেটা কি ভেবেছেন তারেক রহমান? তার তো সেটাও ভাবা উচিত। দলের স্থায়ী কমিটির পরবর্তী বৈঠকে এ বিষয়ে তারেক রহমানের কাছে জানতে চাওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্থায়ী কমিটির এক নেতা।

এদিকে দলীয় সিদ্ধান্তে ‘কৌশল’-এর অংশ হিসেবেই শপথ নিচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
গণমাধ্যমে তার শপথগ্রহণ নিয়ে নানা সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে দুপুরে এক আলোচনাসভায় বিএনপির মহাসচিব দলের এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। একাদশ নির্বাচনে বগুড়া-৬ আসনে নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শপথের সাংবিধানিক সময় পার হওয়ার পর গতরাতে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী মির্জা ফখরুলের আসনশূন্য ঘোষণা করেন।

এ ব্যাপারে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বরচন্দ্র রায় বলেন, যেহেতু দলের সিদ্ধান্তে চারজন শপথ নিয়েছেন, মির্জা ফখরুলের শপথ নেওয়া উচিত ছিল? শপথ না নেওয়ায় দলের সিদ্ধান্ত ভঙ্গ হলো।

মির্জা ফখরুলের উপস্থিতিতে বিএনপির মিত্র নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নাও সরকারের সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে কিনা জানতে চান। তিনি বলেন, ‘সমঝোতা হলে খোলাসা করুন।’

গতকাল বিএনপি নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের কথায় এক ধরনের হতাশা ফুটে উঠেছে। খালেদা জিয়ার মামলা নিয়ে হাইকোর্টের আদেশের পর নেতারা বলেন, আশা ছিল জামিন হবে। তা তো হলো না। তা হলে আমাদের অন্ধকারে রেখে কেন এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো?

দলের এক জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, তারেক রহমান শপথের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা স্থায়ী কমিটি থেকে চেয়ে নিল তখনই তার কাছে পরিষ্কার হয়ে গেছে, তিনি কী সিদ্ধান্ত নিতে চাচ্ছেন। কিন্তু তিনি এমন সিদ্ধান্ত কেন নিলেন তা আমার কাছে পরিষ্কার নয়। এর মাধ্যমে খালেদা জিয়ার জামিন এবং মুক্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে গেলেও ধরা নেওয়া হতো কিছুটা একটা পেয়েছে দল। কিন্তু তা-ও হয়নি।

এ ব্যাপারে গয়েশ্বরচন্দ্র রায় ছাড়া বিএনপির কেউ মুখ খুলছেন না। তিনি আমাদের সময়কে বলেন, ‘তারেক রহমান দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। তার সিদ্ধান্তই দলীয় সিদ্ধান্ত। দলীয় সিদ্ধান্তে চারজন শপথ নিয়েছেন। এটি সঠিক নাকি ভুল, তা ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। তবে ভোটাররা এটিকে ভালোভাবে দেখেনি।’

অবশ্য, তারেক রহমানের পাশাপাশি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সমালোচনাও করছেন নেতাকর্মীরা। বিএনপি মহাসচিব হিসেবে তিনি বিষয়টি সঠিকভাবে সামাল দিতে পারেননি। আবার কারও কারও মতে, শথপ নেওয়ার বিষয়টি তিনি আগে জানতেন, কিন্তু জ্যেষ্ঠ নেতাদের বলেননি। 
দলের মধ্য সারির এক নেতার সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, একটি অপরিপক্ব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সব মৃত্যুতে পরাজয় হয় না। কিছু মৃত্যু ইতিহাস হয়ে থাকে। তারেক রহমান সেটি বুঝতে পারেননি।

দলের নেতাদের মতে, তারেক রহমান যদি খালেদা জিয়াকে তার মা ভেবে মুক্তির জন্য আপস করতে রাজি হন- তা ঠিক হয়নি। কারণ খালেদা জিয়া রাজনীতিবিদ, বিএনপিপ্রধান এবং তিনবারের প্রধানমন্ত্রী। তার ব্যাপারে যে কোনো সিদ্ধান্ত রাজনৈতিকভাবেই নিতে হবে, পারিবারিকভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।

গকতাল মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে মানবাধিকার সংগঠন ‘আওয়াজ’-এর এক আলোচনাসভায় মির্জা ফখরুল বলেন, কয়েকটি চ্যানেল এবং কিছু কিছু পত্রিকায় বলা হচ্ছে, আমি শপথ নেওয়ার জন্য সময় চেয়েছি, আবেদন করেছি। আমি কোনো চিঠি দিইনি, কোনো সময় চাইনি। তিনি বলেন, এখন আপনারা (গণমাধ্যম) আমাকে প্রশ্ন করতে পারেন তা হলে আপনার দলের সিদ্ধান্ত হলো তা হলে আপনি শপথ নিলেন না কেন? এটাও আমার দলের সিদ্ধান্ত। এটা আমাদের কৌশল, সেই কৌশলে আমি শপথ নিইনি। আমি শপথের জন্য কোনো চিঠি দিইনি।

শপথ নেওয়ার বিষয়ে দলের মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিএনপির সাংসদদের শপথ নেওয়াটা রাজনীতির জন্য চমক ও ইউ টার্ন। এ নিয়ে অনেকে অনেক মন্তব্য করেছেন। কিন্তু সময়ই প্রমাণ করবে, শপথ নেওয়াটা সঠিক সিদ্ধান্ত কিনা। আগে আমরা শপথ নিইনি, তার মানে এখন নেব না, তা তো হতে পারে না।

সংরক্ষিত একটি আসন পাবে : সংরক্ষিত আসনের মহিলা এমপির জন্য একটি আসন পাবে বিএনপি। দল কাকে মনোনয়ন দেয়, সেটি দেখার বিষয়। গতকাল কয়েকজনের নাম আলোচনায় এসেছে। সাবেক এমপি শিরিন সুলতানা, রেহানা আক্তার রানু, আফরোজা আব্বাস, শ্যামা ওবায়েদ, নিপুণ রায়চৌধুরী, রুমিন ফারহানার নাম শোনা গেছে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2020 Dailycoxsbazar
Theme Customized BY Media Text Communications