আজকের দিন-তারিখ

  • সোমবার ( সন্ধ্যা ৬:১৩ )
  • ২১শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং
  • ২২শে সফর, ১৪৪১ হিজরী
  • ৬ই কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ ( হেমন্তকাল )

Archive Calendar

অক্টোবর ২০১৯
সোম মঙ্গল বুধ বৃহস্পতি শুক্র শনি রবি
« জুলাই    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১  
জাতীয়রাজনীতি

দুই জোটই ছাড়ছে বিএনপি

41views

২০ দলীয় জোট এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট, দুটিই ছাড়তে চায় বিএনপি। বিএনপির নীতিনির্ধারণী স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আবশ্যক ফর্মুলা হিসেবে দুই জোট ছাড়তে বলা হয়েছে। যদিও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বিএনপির একটি অংশ ২০ দলীয় জোট বিশেষ করে জামাতকে বাদ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে থাকার পক্ষে ছিলেন। কিন্তু মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়সহ অন্য নেতারা ২০ দল বাতিলের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করেন। তারা বলেন, বিএনপি যদি ২০ দলীয় জোটে না থাকে তাহলে কোন জোটেরই প্রয়োজন নেই। এক্ষেত্রে তারা জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকেও সরে আসার ঘোষণা দেন।

গতরাতে অনুষ্ঠিত বিএনপির স্থায়ী কমিটির অনির্ধারিত এই বৈঠকে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় আরও বলেন, ‘২০ দলীয় জোট থাকা না থাকা যেমন এখন অর্থহীন, তার চেয়েও অর্থহীন হলো জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থাকায় বিএনপির আরও ক্ষতি হচ্ছে বিএনপির পক্ষের জনসমর্থন নষ্ট হচ্ছে। গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের এই বক্তব্যকে মির্জা আব্বাসসহ আরও কয়েকজন নেতা সমর্থন করেন। এই প্রেক্ষিতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা লন্ডনের শরণাপন্ন হন এবং আপোস ফর্মুলা হিসেবে আপাতত সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি এবং সাংগঠনিক পুনর্গঠনের দিকে বিএনপিকে মনযোগ দেয়ার কথা বলা হয়। যতক্ষণ পর্যন্ত বিএনপি পুনর্গঠিত না হয় ততক্ষণ পর্যন্ত কোন জোটে না থাকার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দেয়া হয়।

এ বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য মির্জা ফখরুল ড. কামাল হোসেনকে টেলিফোনে অনুরোধ জানান। এরই প্রেক্ষিতে ড. কামাল হোসেন আগামীকাল শুক্রবার বিকেলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের জরুরি বৈঠক ডেকেছেন।

বিএনপির একাধিক নেতা বলছেন, মূলত নির্বাচনী ইস্যুকে কেন্দ্র করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হয়েছিল। যেহেতু নির্বাচন শেষ এবং নির্বাচন কেন্দ্রিক আন্দোলনের কোন বাস্তবতা নেই, কাজেই এখন আর জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থাকার প্রয়োজনীয়তা নেই।

তবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মনে করেন, যেহেতু নির্বাচনের ফলাফলের বিরুদ্ধে নির্বাচনী ট্রাইবুনালে অনেকগুলো মামলা করা হয়েছে এবং এ মামলাগুলো দেখভাল করছেন ড. কামাল হোসেন ও অন্যান্য আইনজীবী, যাদের সবাই গণফোরাম ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সংযুক্ত। সেজন্য জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে থাকাটা অত্যন্ত জরুরি ছিলো। দ্বিতীয় কারণ হিসেবে তিনি মনে করছেন, আন্তর্জাতিক বলয়ে বিএনপির ভাবমূর্তি এবং গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করার জন্য জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। কারণ ড. কামাল হোসেনের যে গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে সেটা বিএনপি বা ২০ দলের অন্য কারোর নেই। এই প্রেক্ষিতে তিনি চাইছিলেন জাতিয় ঐক্যফ্রন্ট যেন থাকে।

কিন্তু জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ব্যাপারে স্থায়ী কমিটি বাদ দিলেও দলের তৃণমূলের মধ্যে তীব্র আপত্তি রয়েছে। তারা মনে করছে যে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট বিএনপিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। ২০ দলীয় জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য বিএনপির ওপর আন্তর্জাতিক চাপ রয়েছে। বিএনপির পক্ষে কোনো কূটনৈতিকরাই এখন পারতপক্ষে কথা বলছে না যতক্ষণ পর্যন্ত না তারা আনুষ্ঠানিকভাবে জামাতের সঙ্গ ত্যাগ না করে। এই বাস্তবতায় বিএনপি এখন একলা চলো নীতি অনুসরণ করবে।

একলা চলো নীতির মধ্যে বিএনপি তিনটি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। একটি হলো সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি, দ্বিতীয়ত সাংগঠনিক নেতৃত্ব পুনর্বিন্যাস করা ও শূন্য পদগুলোতে যতগুলো সম্ভব নেতৃত্ব প্রদান করা এবং তৃতীয়ত জনগণের ইস্যুগুলো নিয়ে আন্দোলন শুরু করা। বিএনপি আগামী কিছুদিন একলা চলছে। একলা চলার মাধ্যমে আন্দোলনের মাধ্যমে তাঁদের সমার্থক সংগঠনগুলোকে খুঁজতে চায় যারা আন্দোলনে যুগপৎভাবে সমর্থন দিবে এবং অভিন্ন কর্মসূচিতে আন্দোলন করবে।

বিএনপির একজন শীর্ষস্থানীয় নেতা বলেছেন, আপাতত বিএনপি কোনো জোটেই থাকবে না বরং বিএনপি একক শক্তিতে নিজেদেরকে শক্তিশালী করার জন্যই মনোনিবেশ করবে।

১ Comment

Comments are closed.