1. arif.arman@gmail.com : Daily Coxsbazar : Daily Coxsbazar
  2. dailycoxsbazar@gmail.com : ডেইলি কক্সবাজার :
  3. litonsaikat@gmail.com : ডেইলি কক্সবাজার :
  4. shakil.cox@gmail.com : ডেইলি কক্সবাজার :
  5. info@dailycoxsbazar.com : ডেইলি কক্সবাজার : Daily ডেইলি কক্সবাজার
নিরাপদ কৃষিজ খাদ্যশস্য ও জনস্বাস্থ্য ভাবনা - Daily Cox's Bazar News
সোমবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৩, ০৩:৫২ পূর্বাহ্ন
নোটিশ ::
ডেইলি কক্সবাজারে আপনার স্বাগতম। প্রতি মূহুর্তের খবর পেতে আমাদের সাথে থাকুন।
সংবাদ শিরোনাম ::
কট্টরপন্থী ইসলামী দল হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জ: এসএডিএফ কক্সবাজারের আট তরুণ তরুণীকে ‘অদম্য তারূণ্য’ সম্মাননা জানাবে ঢাকাস্থ কক্সবাজার সমিতি Job opportunity বিশ্বের সবচেয়ে বড় আয়না, নাকি স্বপ্নের দেশ! আল-আকসা মসজিদে ইহুদিদের প্রার্থনা বন্ধের আহ্বান আরব লীগের পেকুয়ায় পুলিশের অভিযানে ৮০ হাজার টাকার জাল নোটসহ গ্রেফতার-১ পেকুয়ায় অস্ত্র নিয়ে ফেসবুকে ভাইরাল : অস্ত্রসহ আটক শীর্ষ সন্ত্রাসী লিটন টেকনাফে একটি পোপা মাছের দাম হাঁকাচ্ছেন সাড়ে ৭ লাখ টাকা ! কক্সবাজারের টেকনাফে র‍্যাবের অভিযানে ইয়াবাসহ আটক-১ নিউ ইয়র্কে মেয়র কার্যালয়ে শহীদ মিনার নির্মাণ নিয়ে কনসাল জেনারেলের আলোচনা

নিরাপদ কৃষিজ খাদ্যশস্য ও জনস্বাস্থ্য ভাবনা

ডেইলি কক্সবাজার ডেস্ক ::
  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ৭ জানুয়ারী, ২০১৬
  • ৩২২ বার পড়া হয়েছে

editor-new-dc-2দেশের খাদ্যশস্যের উৎপাদন ১৯৭২ সনের দিনগুলোর তুলনায় বর্তমানে তিনগুন বৃদ্ধি পেয়েছে কৃষকদের শ্রমে ও ঘামে। উৎপাদন বাড়াতে ব্যবহৃত হচ্ছে গবেষণালব্ধ বহুপ্রজ বীজ। প্রয়োজন হয়েছে এতে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহারও। এই দুই পদার্থ জনস্বাস্থ্যের জন্য যে ক্ষতিকারক, তাও প্রতিষ্ঠিত সত্য। কিন্তু উপায় নেই। তবে, এখন এর বিকল্পের কথাও ভাবা হচ্ছে।

দেশে-বিদেশে কৃষি-বিজ্ঞানীরা এখন চাষাবাদে ও খাদ্যশস্য উৎপাদনে জনস্বাস্থ্যের নিরাপত্তার ভাবনাটিকে প্রাধান্য দিয়ে যাচ্ছেন। খাদ্যশস্যকে রোগবালাই ও কীটপতঙ্গের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য কীটনাশক ব্যবহার ভিন্ন অন্য কোনো গতি নেই। তাই, মানবস্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক জেনেও ক্ষতিকারক এই রাসায়নিক উপাদানের ব্যবহার বাধ্য হয়েই করতে হচ্ছিল। পাশাপাশি কৃষিবিদদের প্রচেষ্টাও অব্যাহত ছিলো কীটপতঙ্গের আহার হওয়া থেকে ক্ষেতের ফসলকে রক্ষার জন্য নিরাপদ ও মানবস্বাস্থ্যের অনুকূল কী ধরনের উপাদান-উপকরণ ব্যবহার করা যায়, তার সন্ধান পাওয়ার খোঁজে।
বিশেষজ্ঞবৃন্দ এক্ষেত্রে সবসময়ই প্রকৃতিজাত উপাদান-উপকরণের উপর নির্ভর করতে চেয়েছেন। কেননা, এ-জাতীয় বস্তুসামগ্রী সাধারণত প্রাণীম-লের জন্য ক্ষতিকারক হয় না এবং তা পরিবেশবান্ধব হয়। রাসায়নিক কীটনাশকের মতো পরিবেশ-প্রতিবেশ বিনাশক হয় না। রাসায়নিক কীটনাশকের বিকল্প সন্ধানে গবেষকবৃন্দ আশার আলো দেখতে পেয়েছেন ‘গোচোনা’য়, অর্থাৎ গরুর মূত্রে। বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক শোধন প্রক্রিয়ায় প্রাপ্ত এই গোচোনা একটি উত্তম কীটনাশক হিসেবে ব্যবহারযোগ্য এবং প্রাণীকূলের জন্য নিরাপদ।
আমাদের দেশেও আধুনিক কৃষি-ব্যবস্থায় নানা জাতের ক্ষতিকারক কীট-পতঙ্গের উপদ্রব রোধ করা, অন্যদিকে খাদ্য চাহিদা পূরণ করতে হলে কীট-পতঙ্গের খাদ্য হওয়া থেকে ক্ষেতের ফসলকে বাঁচানোর বিষয়টি সর্বাগ্রে রাখতে হবে। তাই দরকার পড়বে কীটনাশকের ব্যবহার। তবে, এমন কোনো উপাদান-উপকরণ কৃষিজপণ্যের উৎপাদনে প্রয়োগ করা যাবে না, যা মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হয়। চাষাবাদের বিভিন্ন পর্যায়ে বর্তমানে দেশের শস্য উৎপাদন বৃদ্ধি ও ফসল রক্ষার জন্য ব্যবহার হয়ে আসছে অপরিকল্পিতভাবে নানা জাতের রাসায়নিক সার ও কীটনাশক। দীর্ঘদিনের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, এই জাতীয় উপাদানের অপরিমিত ও অপ্রয়োজনীয় প্রয়োগের কারণে ফসলের জমিতে নোতুন ধরনের শক্তিশালী পোকা-মাকড়ের জন্ম হচ্ছে। আবার, কোনো কোনো পোকা-মাকড় প্রতিরোধ ক্ষমতা অর্জন করায় প্রচলিত ও বহুল ব্যবহৃত কীটনাশকের বিষক্রিয়া তাদের জন্য অকার্যকর হয়ে যাচ্ছে। এখন এই বিষয়টি বিবেচনা পাচ্ছে।
নোতুন গবেষণায় কৃষিবিদগণ লক্ষ্য করেছেন, গোচোনা হচ্ছে পেস্টিসাইড ও ইনসেকটিসাইড-এর একটি ভাল প্রতিস্থাপক। গোচোনা হতে তৈরি হবে পেস্টিসাইড। চোনা ও গোবরের বিশেষ সংমিশ্রণে তৈরি হবে ইনসেক্টিসাইড, যা নানা জাতের পোকা-মাকড় ও কীট-পতঙ্গের আক্রমণ প্রতিরোধে সক্ষম। আগেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই বিশেষ কীটনাশকটি পরিবেশবান্ধব। গোচোনো বিশেষ প্রক্রিয়ায় গ্যাঁজানো তথা ফারমেনটেশনের ফলে তা ইনসেক্ট বা কীট-পতঙ্গ নিবারণ ক্ষমতা অর্জন করে। গোচোনো গ্যাঁজানোর কাজটি মাটির পাত্র আর প্লাস্টিক কনটেইনারে করা যায়।
মাটির পাত্রের মাধ্যমে গোচোনো ফারমেনটেশন তথা গ্যাঁজানো সম্পন্ন করে কীটনাশক তৈরি করতে হলে ৪/৫টি গরু থেকে চোনা সংগ্রহ করে একসাথে মিশিয়ে তা কমপক্ষে ১৪ দিন মাটির নিচে পুঁতে রাখতে হয়। অতঃপর তাতে নিম, সিতাফল, পাইথন উদ্ভিদের নির্যাস নির্দিষ্ট মাত্রায় মেশাতে হয়। এরপর এই মিশ্রণ শতকরা ৩০ ভাগ ঘনমাত্রায় শস্যক্ষেত্রে স্প্রে করতে হয়। গোচেনার বিকর্ষক কর্মকা- ওই উদ্ভিদের নির্যাসের সঙ্গে মেশালে ত্বরান্বিত হয়।
প্লাস্টিক কনটেইনারে ফরমেন্টেশনের জন্য প্রাথমিকভাবে ৫ লিটার গেচোনা, ৫ কেজি গোবর এবং ৫ লিটার পানি একসাথে ভাল করে মিশিয়ে এমনভাবে ঢাকনা লাগাতে হবে যাতে কনটেইনারে বাতাস প্রবেশ করতে না পারে। অতঃপর মুক্ত এসিড এবং বিষাক্ত ফেনলকে নিরপেক্ষ করার জন্য ১০০ গ্রাম লাইম যোগ করতে হবে। পরে ৮০ লিটার পানির সঙ্গে মিশিয়ে দ্রবণ তৈরি করে এক একর জমিতে স্প্রে করতে হবে।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে গোচোনাজাত কীটনাশক বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সাধারণ শস্যসমূহের পোকা-মাকড় ও কীট-পতঙ্গের বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিরোধকরূপে ব্যবহৃত হচ্ছে। গোচোনার এই মিশ্রণ ছত্রাকজনিত রোগ, উইপোকাসহ দানা-জাতীয় ফসল, শাকসবজি ও ফলের বৃক্ষের পোকা-মাকড় ও রোগজীবাণুর বিরুদ্ধে কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে। সুফল পাওয়া গেছে প্লান্ট প্যাথজেনিক ফানজাই, হিউম্যান প্যাথজেনিক ফানজাই ও ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে গেচোনাজাত কীটনাশকের ব্যবহার।
গবেষক ও কৃষি বিজ্ঞানীদের মতে, বাংলাদেশে তিন শতাধিক ধরনের ফসলের চাষাবাদ হয়। এসব ফসলের আবাদের সময় ১০০০ পোকা-মাকড়, ১২০০ রোগ বালাই এবং বেশকিছু আগাছা ফসলের ব্যাপক ক্ষতি করে। এই ক্ষতি বন্ধ করা গেলে বছরে আরও ৪০ লক্ষ টন খাদ্যশস্যের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং ১৩ লাখ শ্রমিকের কর্মসংস্থান সম্ভব হবে। রোগ বালাই ও পোকা-মাকড়ের কারণে প্রতিবছর দেশে ৭ হাজার কোটি টাকার ফসল উৎপাদন কম হয়, যা দিয়ে ১৫/১৬ কোটি মানুষের পুরো ২ মাসের খাবারের ব্যবস্থা করা যেতো। গোচোনা থেকে প্রস্তুত কীটনাশক আমাদের মতো দরিদ্র দেশে রাসায়নিক কীটনাশকের বদলে ব্যবহৃত হওয়া দরকার। কেননা, এটি পরিবেশ-বান্ধব, জনস্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ এবং বাণিজ্যিকভাবে সহজলভ্য ও সস্তা। এদেশের জনগণের খাদ্য চাহিদা পূরণে এবং ক্ষুধামুক্তিতে গোচোনাজাত কীটনাশক বিশেষ অবদান রাখতে সক্ষম। আমাদের দেশের চাষীভাইদের প্রশিক্ষণ দিয়ে নিজেদের গবাদিপশুর এই বর্জ্যকেই ব্যবহার করে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের উপর নির্ভরতা প্রত্যাহার করে নেওয়া সম্ভব হবে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2020 Dailycoxsbazar
Theme Customized BY Media Text Communications