আজকের দিন-তারিখ

  • শনিবার ( রাত ১১:৪০ )
  • ৭ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং
  • ১০ই রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরী
  • ২৩শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ ( হেমন্তকাল )

Archive Calendar

ডিসেম্বর ২০১৯
সোম মঙ্গল বুধ বৃহস্পতি শুক্র শনি রবি
« জুলাই    
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
জাতীয়

নুসরাত হত্যা মামলায় ১৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল

268views

ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় অধ্যক্ষ সিরাজসহ ১৬ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ মামলায় গ্রেপ্তার ২১ জন আসামির মধ্যে পাঁচজনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

আজ বুধবার দুপুরে ফেনীর বিচারিক হাকিম আদালতে এ মামলায় ৮০৮ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র দেয় পিবিআই। এর মধ্যে মামলার এজাহারভুক্ত আটজন এবং এজাহারবর্হিভূত আটজন আসামি আছেন।

অভিযোগপত্রভুক্ত আসামিরা হলেন সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এস এম সিরাজউদদৌলা, নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন ওরফে শামীম, কাউন্সিলর মাকসুদ আলম, জোবায়ের আহম্মেদ, জাবেদ হোসেন, হাফেজ আবদুল কাদের, প্রভাষক আফছার উদ্দিন, কামরুন্নাহার মণি, উম্মে সুলতানা পপি, আবদুর রহিম শরীফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন মামুন, মো. শামীম, মো. রুহুল আমিন ও মহি উদ্দিন শাকিল। আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল শেষে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতের কাছে অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের সুপারিশ করেন। ১৬ আসামির মধ্যে একজন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ, দুজন পরিচালনা পর্ষদের সহসভাপতি ও সদস্য, দুজন শিক্ষক, বাকি আসামিরা নুসরাতের সহপাঠী বর্তমান ও সাবেক ছাত্র।

আদালত সূত্র জানায়, আজ দুপুরে ফেনীর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মো. জাকির হোসাইনের আদালতে ৮০৮ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র জমা দেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পিবিআইয়ের পরিদর্শক মো. শাহ আলম। এ সময় পিবিআই চট্টগ্রামের বিশেষ পুলিশ সুপার মো. ইকবাল, ফেনীর পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মনিরুজ্জামান, কোর্ট পরিদর্শক গোলাম জিলানীসহ পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. শাহ আলম অভিযোগপত্র দাখিল করে আদালতকে জানান, গত ৮ এপ্রিল সোনাগাজী থানায় নুসরাতের গায়ে আগুন লাগানোর ঘটনায় তাঁর ভাই মাহমুদুল হাসান বাদী হয়ে আটজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা পাঁচ-ছয়জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন। ১০ এপ্রিল নুসরাত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। মামলাটি তখন হত্যা মামলায় রূপ নেয়। মামলার শুরু থেকে থানা-পুলিশের পক্ষপাতের অভিযোগ ও রহস্যজনক ভূমিকার কারণে ১০ এপ্রিল মামলাটি আদালত পিবিআইকে তদন্ত করার জন্য হস্তান্তর করেন। মামলার নথিপত্র হাতে পাওয়ার পর থেকে পিবিআই ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটন ও জড়িতদের খুঁজে বের করতে মাঠে কাজ শুরু করে। ৩৩ কর্মদিবসে তদন্ত শেষ করে এ মামলার অভিযোগপত্র চূড়ান্ত করা হয়। পিবিআই দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে মোট ২১ জনকে গ্রেপ্তার করে। এ মামলায় গ্রেপ্তার আসামিদের মধ্যে ১২ জন আসামি দোষ স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। এ ছাড়া ১৮ জন আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।

অভিযোগপত্র দাখিল শেষে আদালত চত্বরে সংক্ষিপ্ত প্রেস বিফ্রিং করেন পিবিআই চট্টগ্রামের বিশেষ পুলিশ সুপার মো. ইকবাল। সোনাগাজীর ওসি মোয়াজ্জেমকে কেন এ মামলায় আসামি করা হয়নি—সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পিবিআই প্রধান কার্যালয় থেকে একটি তদন্ত দল তাঁর বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিয়েছে। ওই প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

গত ৬ এপ্রিল ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি পরীক্ষা দিতে গেলে দুর্বৃত্তরা তাঁর গায়ে আগুন লাগিয়ে দেয়। গুরুতর অবস্থায় ওই দিন রাতে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। ১০ এপ্রিল রাতে তিনি মারা যান।

এর আগে গত ২৭ মার্চ ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজউদদৌলার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগে মামলা করেন নুসরাতের মা। গত ৭ এপ্রিল নুসরাত চিকিৎসকদের কাছে দেওয়া শেষ জবানবন্দিতে বলেছিলেন, ‘নেকাব, বোরকা ও হাতমোজা পরা পাঁচজন তাঁর গায়ে আগুন ধরিয়ে দেন।’