আজকের দিন-তারিখ

  • শনিবার ( বিকাল ৩:৫৯ )
  • ২০শে জুলাই, ২০১৯ ইং
  • ১৭ই জিলক্বদ, ১৪৪০ হিজরী
  • ৫ই শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ ( বর্ষাকাল )

Archive Calendar

জুলাই ২০১৯
সোম মঙ্গল বুধ বৃহস্পতি শুক্র শনি রবি
« জুন    
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  
জাতীয়

পলিথিনে কর্ণফুলীর সর্বনাশ

চট্টগ্রাম ডেস্ক রিপোর্ট : পলিথিনের ভয়াবহতা প্রত্যক্ষ করতে শুরু করেছে চট্টগ্রাম। কর্ণফুলী নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে গেছে পলিথিনে। নালা-নর্দমায় ফেলা পলিথিন এখন কর্ণফুলীর গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ পলিথিনের জন্যই পদে পদে ব্যাহত হচ্ছে ১৬৮ কোটি টাকার প্রকল্প। করা যাচ্ছে না খননও। এর ফলে নদী খননের সুফল প্রাপ্তি নিয়েও দেখা দিয়েছে শঙ্কা। নদীর জীববৈচিত্র্যও হুমকির মুখে বলে আশঙ্কা করছেন পরিবেশবিদরা। 

পরিবেশবিদ অধ্যাপক ইদ্রিস আলী সমকালকে বলেন, ‘কর্ণফুলীর সর্বনাশ ডেকে আনছে পলিথিন। চট্টগ্রামের ছোট ছোট নালা-নর্দমার পলিথিন কর্ণফুলীতে এসে পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে জমতে জমতে এখন তলদেশে আর মাটিই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না! প্রায় তিন-চার ফুট গভীরে গিয়েও মাটির অস্তিত্ব পাওয়া যাচ্ছে না। শুধু পলিথিন আর পলিথিন। এ কারণে নদীতে চলমান খনন কাজ পদে পদে বিঘ্নিত হচ্ছে।’ নদীর তলদেশ পলিথিনে ভরাট হয়ে যাওয়াকে জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি উল্লেখ করে ইদ্রিস আলী বলেন, ‘পলিথিন বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থে ভরপুর। তা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। এটা নদীর তলদেশে চলে যাওয়ায় সামুদ্রিক প্রাণীর অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে। এ বিষয়ে সরকারকে এখনই কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে।’

সরেজমিন দেখা যায়, কর্ণফুলী নদীর সদরঘাট ফিরিঙ্গীবাজার অংশে বর্তমানে ‘সদরঘাট টু বাকলিয়ার চর ড্রেজিং’ নামের প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। ১৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত এ প্রকল্পের সার্বিক তত্ত্বাবধানে রয়েছে নৌবাহিনী। বুয়েটের সমীক্ষা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সদরঘাট থেকে বাকলিয়ারচর পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার দীর্ঘ এবং ২৫০ মিটার চওড়া এলাকায় এ ড্রেজিং করা হচ্ছে। কিন্তু ড্রেজিং করতে গিয়েই দেখা দেয় বিপত্তি। ড্রেজার দিয়ে মাটি তুলতে গিয়ে আসে পলিথিন। বারবার ড্রেজিং করেও মাটির নাগাল পাওয়া যাচ্ছে না। নদীর তিন ফুটের বেশি গভীরে গিয়েও পাওয়া যাচ্ছে না মাটি। চার-পাঁচ ফুট পলিথিনের স্তরের জন্য ড্রেজারের কাঁটার ব্যবহার করা যাচ্ছে না। 

এভাবে মেশিন ব্যবহার করতে করতে কিছুক্ষণ পরপর বন্ধ হয়ে যায়। আবার চালু করলেও একই অবস্থা হচ্ছে। 

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল জুলফিকার আজিজ বলেন, ‘এটি একটি ভয়াবহ অভিজ্ঞতা। না দেখলে বিশ্বাসই করবেন না যে, নদীর তলদেশে কী ঘটেছে। নদীর তলদেশে এত বেশি পলিথিন জমে আছে যে, ড্রেজার মেশিন কাজ করতে পারছে না। আমাদের তিন-চার ফুট গভীর পর্যন্ত পলিথিন সরিয়ে তবেই মাটি তুলতে হচ্ছে।’ একই প্রসঙ্গে সদরঘাট টু বাকলিয়ার চর ড্রেজিং প্রকল্প পরিচালক কমান্ডার মোহাম্মদ আরিফ বলেন, ‘শুধু পলিথিনের কারণে আমাদের প্রকল্পের কাজ ব্যাহত হচ্ছে। আমাদের করণীয় কাজের মাত্র অর্ধেকই আমরা করতে পেরেছি এ সময়ে। চট্টগ্রাম শহরে বছরের পর বছর ধরে ব্যবহূত পলিথিনসহ বিভিন্ন ধরনের জঞ্জালে নদীর তলদেশ ভরে গেছে। নগরবাসী সচেতন না হলে ভবিষ্যতে আমাদের জন্য আরও বড় দুর্ভোগ অপেক্ষা করছে।’

এদিকে, নদীর তলদেশ পলিথিনে ভরে যাওয়াকে উদ্বেগজনক বলছেন পরিবেশবিদরা। এর ফলে নদীর জলজ প্রাণীর অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা তাদের। এ ব্যাপারে সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিও জানান তারা।