আজকের দিন-তারিখ

  • সোমবার ( সন্ধ্যা ৬:৪২ )
  • ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং
  • ১৭ই মুহাররম, ১৪৪১ হিজরী
  • ১লা আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ ( শরৎকাল )

Archive Calendar

সেপ্টেম্বর ২০১৯
সোম মঙ্গল বুধ বৃহস্পতি শুক্র শনি রবি
« জুলাই    
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০  
জাতীয়

পোশাক শ্রমিকদের ছয় গ্রেডেরই মজুরি বাড়ল

31views

ডেস্ক রিপোর্ট :

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের বেতন কাঠামো সংশোধন করা হয়েছে; ৬টি গ্রেডেরই বেতন বাড়িয়েছে সরকার। একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত নতুন সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্যদের নাম যেদিন ঘোষণা করা হয়, সেদিনই অর্থাৎ ৬ জানুয়ারি পথে নেমে আসেন পোশাক শ্রমিকরা।সরকার ঘোষিত নতুন বেতন কাঠামোতে কয়েকটি গ্রেডে বেতন কমে যাওয়ার অভিযোগ জানিয়ে ঢাকা ও আশপাশের গার্মেন্টস অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে বিক্ষোভ শুরু করেন তারা। অনেক কারখানায় নির্ধারিত সময়ে নতুন মজুরি কাঠামো বাস্তবায়ন হয়নি বলেও অভিযোগ করেন আন্দোলনরত শ্রমিকরা। তারা মহাসড়ক অবরোধের পাশাপাশি যানবাহন ভাঙচুর চালান। এর পর নতুন সরকার বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আশ্বাস দিয়ে মালিক, শ্রমিক ও সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিনিধি নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটি গতকাল সর্বশেষ বৈঠক শেষে জানায়, ৬টি গ্রেডে বেতন কাঠামো সংশোধন করে তা বৃদ্ধি করা হয়েছে। শ্রম মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে গতকালের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়।বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি জানান, প্রথম গ্রেডের একজন কর্মী এখন থেকে সব মিলিয়ে ১৮ হাজার ২৫৭ টাকা বেতন পাবেন। ২০১৩ সালের বেতন কাঠামোতে এ গ্রেডের মজুরি ছিল ১৩ হাজার টাকা। ২০১৮ সালে নতুন মজুরি কাঠামোর গেজেটে তা ১৭ হাজার ৫১০ টাকা করা হয়েছিল।দ্বিতীয় গ্রেডের সর্বমোট বেতন ধরা হয়েছে ১৫ হাজার ৪১৬ টাকা। ২০১৩ সালের বেতন কাঠামোতে এ গ্রেডের বেতন ১০ হাজার ৯০০ টাকা এবং ২০১৮ সালে মজুরি কাঠামোর গেজেটে তা ১৪ হাজার ৬৩০ টাকা ছিল।তৃতীয় গ্রেডের সর্বমোট বেতন ঠিক হয়েছে ৯ হাজার ৮৪৫ টাকা, যা ২০১৩ সালের বেতন কাঠামোতে ৬ হাজার ৮০৫ টাকা এবং ২০১৮ সালের গেজেটে ৯ হাজার ৮৪৫ টাকা করা হয়েছিল।চতুর্থ গ্রেডের সর্বমোট বেতন ধরা হয়েছে ৯ হাজার ৩৪৭ টাকা। ২০১৩ সালের বেতন কাঠামোতে এ গ্রেডের বেতন ৬ হাজার ৪২০ টাকা এবং ২০১৮ সালে মজুরি কাঠামোর গেজেটে তা ৯ হাজার ২৪৫ টাকা করা হয়েছিল।পঞ্চম গ্রেডে সর্বমোট বেতন ঠিক হয়েছে ৮ হাজার ৮৭৫ টাকা, যা ২০১৩ সালের বেতন কাঠামোতে ৬ হাজার ৪২ টাকা এবং ২০১৮ সালের গেজেটে ৮ হাজার ৮৭৫ টাকা করা হয়েছিল।ষষ্ঠ গ্রেডের সর্বমোট বেতন ধরা হয়েছে ৮ হাজার ৪২০ টাকা। ২০১৩ সালের বেতন কাঠামোতে তা ছিল ৫ হাজার ৬৭৮। আর ২০১৮ সালে মজুরি কাঠামোর গেজেটে তা করা হয়েছিল ৮ হাজার ৪০৫ টাকা।আর সপ্তম গ্রেডের মজুরি সব মিলিয়ে গেজেটের মতোই আট হাজার টাকা রাখা হয়েছে। ২০১৩ সালের কাঠামোতে সর্বনিম্ন গ্রেডের বেতন ছিল ৫ হাজার ৩০০ টাকা।বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, সংশোধিত এই কাঠামো গত ডিসেম্বর থেকেই কার্যকর হবে। ফেব্রুয়ারির বেতন প্রদানের সময় সেটি সমন্বয় করা হবে। এ সময় শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মুন্নুজান সুফিয়ানও উপস্থিত ছিলেন।এদিকে আজকের (সোমবার) মধ্যে পোশাক শ্রমিকদের কাজে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দেশের তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। বেঁধে দেওয়া এই সময়ের মধ্যে তারা কর্মস্থলে না ফিরলে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারখানা বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে হুশিয়ার করা হয়েছে সংবাদ সম্মেলন থেকে। পাশাপাশি ‘নো ওয়ার্ক, নো পে’-এর ভিত্তিতে শ্রমিকদের বেতনও বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।রাজধানীর কারওয়ানবাজারের কার্যালয়ে গতকালের সংবাদ সম্মেলনে বিজিএমইএর সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান জানান। তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেন, শ্রমিক ভাইবোনদের উদ্দেশে বলছিÑ আপনারা কর্মস্থলে ফিরে যান। আগামীকাল (সোমবার) থেকে যদি আপনারা ফের কাজ শুরু না করেন, আপনাদের মজুরি দেওয়া হবে না এবং সংশ্লিষ্ট কারখানা শ্রম আইনের ১৩/১ ধারা মোতাবেক অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হবে। তিনি বলেন, শ্রমিকদের নতুন মজুরি কাঠামোর বিষয়ে মতভিন্নতা রয়েছে। উদ্ভূত সমস্যার সমাধানে সরকারের তরফে তিনটি পক্ষ নিয়ে গঠিত কমিটি কাজ করছে। মজুরি কাঠামোতে কোনো সমস্যা হলে কমিটি তা পুনর্বিবেচনা করবে। এ জন্য আন্দোলন ও ভাঙচুর নিষ্প্রয়োজন।বিজিএমইএ সভাপতি শ্রমিকদের উদ্দেশে বলেন, এ খাত ধ্বংস হলে আপনারা কর্মহীন হবেন; সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। দেশি-বিদেশি স্বার্থান্বেষী মহল আপনাদের ব্যবহার করে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির অপতৎপরতায় লিপ্ত রয়েছে। তিনি আরও বলেন, সরকারের কাছে আমরা অঙ্গীকার করেছি, ২০২১ সালের মধ্যে তৈরি পোশাক রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা হবে ৫০ বিলিয়ন ডলার এবং আমরা লক্ষ্য অর্জনে অব্যাহতভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছি। কিন্তু বারবারই বাধার সম্মুখীন হচ্ছি। যখনই রপ্তানি ভালো অবস্থায় উন্নীত হয়, তখনই বিভিন্ন বাধা আসে। ফলে রপ্তানি কমে যায়। এতদিনে আমরা ৪০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয় ছাড়িয়ে যেতে পারতাম। কিন্তু একের পর এক সমস্যার কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না।সংবাদ সম্মেলনে বিজিএমইএর সাবেক সভাপতিদের মধ্যে ছিলেন আবদুস সালাম মুর্শেদী, আতিকুল ইসলাম, বর্তমান সহসভাপতি ফারুক হাসান, মোহাম্মদ নাসির এবং দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন।