1. arif.arman@gmail.com : Daily Coxsbazar : Daily Coxsbazar
  2. dailycoxsbazar@gmail.com : ডেইলি কক্সবাজার :
  3. litonsaikat@gmail.com : ডেইলি কক্সবাজার :
  4. shakil.cox@gmail.com : ডেইলি কক্সবাজার :
  5. info@dailycoxsbazar.com : ডেইলি কক্সবাজার : Daily ডেইলি কক্সবাজার
ভয় কম্পন চোখের কোণায় জল, অত:পর পুরো সেন্টমার্টিন দ্বীপ ভ্রমণ - Daily Cox's Bazar News
সোমবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৩:০৮ অপরাহ্ন
নোটিশ ::
ডেইলি কক্সবাজারে আপনার স্বাগতম। প্রতি মূহুর্তের খবর পেতে আমাদের সাথে থাকুন।
সংবাদ শিরোনাম ::
কট্টরপন্থী ইসলামী দল হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জ: এসএডিএফ কক্সবাজারের আট তরুণ তরুণীকে ‘অদম্য তারূণ্য’ সম্মাননা জানাবে ঢাকাস্থ কক্সবাজার সমিতি Job opportunity বিশ্বের সবচেয়ে বড় আয়না, নাকি স্বপ্নের দেশ! আল-আকসা মসজিদে ইহুদিদের প্রার্থনা বন্ধের আহ্বান আরব লীগের পেকুয়ায় পুলিশের অভিযানে ৮০ হাজার টাকার জাল নোটসহ গ্রেফতার-১ পেকুয়ায় অস্ত্র নিয়ে ফেসবুকে ভাইরাল : অস্ত্রসহ আটক শীর্ষ সন্ত্রাসী লিটন টেকনাফে একটি পোপা মাছের দাম হাঁকাচ্ছেন সাড়ে ৭ লাখ টাকা ! কক্সবাজারের টেকনাফে র‍্যাবের অভিযানে ইয়াবাসহ আটক-১ নিউ ইয়র্কে মেয়র কার্যালয়ে শহীদ মিনার নির্মাণ নিয়ে কনসাল জেনারেলের আলোচনা

ভয় কম্পন চোখের কোণায় জল, অত:পর পুরো সেন্টমার্টিন দ্বীপ ভ্রমণ

ডেইলি কক্সবাজার ডেস্ক ::
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০১৬
  • ৩২৫ বার পড়া হয়েছে

কক্সবাজার অনলাইন প্রেস ক্লাব বনপা উদ্যোগে গত ২২ ২৩ জানুয়ারী ২০১৬ প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনে পিকনিকের আয়োজন করা হয় এর উপর ভিত্তি করে অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকদের মধ্যেভ্রমণ কাহিনীপ্রতিযোগিতার ঘোষণা দেয়া হয় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বাছাই করে কক্সবাজার নিউজ ডটকম (সিবিএন) সৌজন্যে ১ম পুরস্কার ২০০০ টাকা  , ২য় পুরস্কার১৫০০ টাকা ৩য় পুরস্কার১০০০ টাকা দেয়া হবে প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবে আজ  ১ম কিস্তির ভ্রমণ কাহিনীাটি প্রকাশ করা হল পাঠক প্রিয়তা যাচাইয়ে  ফেসবুকে শেয়ার কমেন্টকে বিবেচনা করা হবে তবে প্রেসক্লাব বনপা কর্তৃপক্ষ চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেনকক্সবাজার অনলাইন প্রেস ক্লাব বনপা কক্সবাজার

DSC_0171_1এমরান ফারুক অনিক :
সব দেশের কিছু না কিছু থাকে যা অমূল্য সম্পদ। যাকে ঘিরে গড়ে উঠে স্বপ্ন আর জীবন। যার টানে বারবার ছুড়ে যেতে চায় মন। তেমনি এক সম্পদ, বঙ্গোপসাগরের উপকূলে সেন্টমার্টিন দ্বীপ। দিগন্ত যেখানে মাথা নুয়ে চলে, উত্তাল সমুদ্রের মাঝ দিয়ে গান হঠাৎ কানে বাজে, নীল জলরাশির ফেনায় ভর করে মন যেথায় নাচে অজান্তে। বিশালতার মাঝে নিজেকে খুঁজে ফেরার তাড়নায় উৎকন্ঠিত, আর অগণিত নারিকেল গাছ ও কেয়া গাছের বনের ফাঁকে তপ্ত রোদে গরম বালুর পরশ। সব মিলিয়ে এক অনাবিল, অন্য রকম মোহ কাজ করে নিজের মাঝে এই সেন্টমার্টিন দ্বীপে। সূর্যদয় ও সূর্যাস্ত দেখার অনন্য স্থান এই সেন্টমার্টিন সৈকত। এখানে রয়েছে প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর। আকাশে যদি একটি চাঁদ থাকে, তাহলে তো কথায় নেই! সুন্দরে বিমোহিত হয়ে আপনি পাগল হয়ে গেলেও কিছু করার থাকবে না।
নৌকার সাথে পরিচয় সেই ছোট কাল থেকেই, তবে জাহাজের সাথে সখ্যতা স্কুলে জীবনের শেষের দিকে। সে বারই প্রথম বন্ধুদের সাথে জাহাজে করে সেন্টমার্টিন যাওয়া। এরপর থেকে প্রতি বছরই কোন না কোন জায়গায় ভ্রমণে যায়, কিন্তু জাহাজে করে যাওয়া হয়নি। প্রায় ১০ বছর পর জাহাজে করে আবারও গেলাম সেই নারিকেল জিনজিরা খ্যাত স্বপ্নের দ্বীপ দারুচিনি দ্বীপে। কক্সবাজার অনলাইন প্রেস ক্লাব ও বাংলাদেশ অনলাইন নিউজ পোর্টাল এসোসিয়েশন (বনপা), কক্সবাজার শাখার যৌথ আয়োজনে ‘প্রবালদ্বীপে একদিন’ ব্যানারে এ যাত্রা শুরু হয় ২২ জানুয়ারি শুক্রবার। যদিও এ প্রোগ্রামটি ছিল ২২ ও ২৩ জানুয়ারি, ২ দিনের। কক্সবাজার শহর থেকে সকাল ৬টায় রওয়ানা টেকনাফের জাহাজ ঘাটের উদ্দেশ্যে। গাড়িতে উঠা মাত্রই ‘সিবিএন’ এর সৌজন্যে একটি করে ‘টি শার্ট’ প্রদান করা হয়। সকাল পৌনে ৯টার দিকে পৌঁছলাম, আর সেখানে আগে থেকেই আমাদের জন্য অপেক্ষায় ছিলেন টেকনাফের প্যানেল মেয়র সাংবাদিক আবদুল্লাহ মনির। তারপর যার যার মতো হাল্কা নাস্তার পর্ব, টিকেট চেকিং সেরে উঠলাম ‘কেয়ারী ক্রুজ’ নামক জলযান। এরপর সকাল ১০টার দিকে ঘাট থেকে জাহাজ ছাড়ে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে।
DSC_0058_1২০০৫ সালে সেবার গিয়েছিলাম আমরা ৩ জন, আর এবার প্রায় ৫০ জনের ‘বাহিনী’। ৩ ঘন্টার এই জাহাজ ভ্রমণে হাত পা ছড়িয়ে সাগরের দুই ধারের দৃশ্যগুলো দেখতে দেখতে যাওয়ার মজাই আলাদা। জাহাজের খোলা ডেকে বসে আড্ডা দিতে দিতে সময় কাটানো, নাচ-গান, ঢেউয়ের সাথে জাহাজের ধাক্কায় লোনা পানিতে ভিজে যাওয়া ও অন্য জাহাজের চলাচল ঘাড় ঘুরিয়ে তাকিয়ে দেখা। মাঝে মাঝে অন্য জাহাজের মানুষগুলোর বাই বাই বলা ও ছবি ধারণের দৃশ্যগুলোও চোখে পড়ার মতো। আর স্ত্রী বা প্রেমিকাদের সাথে আলিঙ্গনের ছবির কথা নাই বা বলি!
জাহাজ ছাড়ার কিছুক্ষণ পরই শুরু হয় হৈ-হুল্লোডের পর্ব। কক্সবাজার সিটি কলেজের অধ্যাপক ও বনপা কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আকতার চৌধুরী (সবার প্রিয় আকতার ভাই) প্রথমে ধরলেন একটি আধুনিক গান। পরের গান ছিল ‘বকুল ফুল বকুল ফুল’ সুমন বাংলাদেশীর। এরপর আবদুল্লাহ নয়ন ভাই কক্সবাজারের আঞ্চলিক গানের সম্রাট ও ‘হেডমাস্টার’ খ্যাত সিরাজ এর ‘ও মামুরে… হেডমাস্টারে তুয়ারে তুয়ার…’, এরপর পর ‘তুই কেন পুরুষ, এসিড মাইল্লে তুই মারস’, ‘মানা গইজ্জিলাম তরে ফিরিত ন… গরিস’ সহ আঞ্চলিক, আধুনিক ও ভান্ডারি গান ননস্টপ ছিল। তবে প্রায় সব গানই ২/৪ লাইনের চেয়ে বেশি আগানোর সুযোগ কারো ছিল না! কেউ কেউ গানের সাথে সাথে ‘ঢোল’ এর বিকল্প হিসেবে জাহাজের টেবিল ও পানির বোতলকে বেছে নেন। আর সেখানে সবচেয়ে মজার বিষয় ছিল, আমাদের প্রিয় আনছার ভাইয়ের ছেলে ‘রুদ্র’। এই বেটার কতো বড় সাহস, এত বড় বড় আংকেলদের সাথে সেও মজা নিচ্ছে!
জাহাজ চলছে তার আপন গতিতে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে, তার সাথে সাথে আমাদের সময়টাও কাটছে আড্ডা, গল্প ও ছবি তুলে। আবার অনেকেই এই সময়টা কাটায় ঘুমিয়ে। এরই মধ্যে ভাগ্যের লটারি বিক্রি শুরু। লটারির দাম ৩০ টাকা করে ধার্য করা হলেও, আকতার ভাইয়ের অনুরোধে ৫ টাকা করে কম নিয়ে ২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর এই ঘোষণাটি আসে ইসলাম ভাইয়ের মুখ থেকে।
শুক্রবার বেলা ১২টার দিকে পৌঁছলাম সেন্টমার্টিন ঘাটে, সেখানে চোখে পড়ল আমাদেরকে স্বাগত জানিয়ে টাঙানো ব্যানার ও গেইট। ঘাটে আমাদের স্বাগত জানান সেন্টমার্টিন বিডি নিউজ ডট কম সম্পাদক। সেখান থেকে পায়ে হেঁটে আমাদের গন্তব্যস্থল আগে থেকেই ঠিক করে রাখা ‘ময়নামতি রিসোর্ট’। ১১টি রুম নিয়ে এই রিসোর্ট এর পরিবেশ অত্যন্ত ভাল মানের। আমাদের রুম নং- ১০৫, আর সঙ্গী হিসেবে পেলাম রামুর বক্কর ভাই, ‘মিতা’ আরজ ফারুক ও মনির। একটু ফ্রেশ হয়ে, জুমার নামাজ আদায় করতে সেন্টমার্টিন কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে অবস্থান। সেখানে থেকে ফিরে বিছানায় ‘থা’ দিচ্ছিলাম, এমন সময় দুপুরের খাবার ভক্ষনের ডাক। খাবার টেবিলে আলু ভর্তা, ডাল, সবজির সাথে সেই চেনা মুরগী। চোখগুলো বড় হয়ে গেল, ‘মাছের দেশে’ এসে মুরগী! তারপরও সবার যে গতি, আমারও তা।
Sentmartin (Anik-1)_1কিছুক্ষণ বিশ্রামের পর, এবার প্রীতি ফুটবল ম্যাচ। লাল দল ও নীল দল হয়ে এই ২৫ মিনিটের মধ্যকার ম্যাচ হয়। প্রথমার্ধে নীল দলের হয়ে ‘বিতর্কিত’ গোল করেন আবু হেনা মোস্তফা, রেফারি আকতার ভাই প্রথমে গোল ঘোষণা করলেও, পরবর্তীতে তা অনেকটা বাতিল করেন। এরপর ৫ মিনিটের বিরত দিয়ে আবার মাঠে গড়ায় খেলা। এবার লাল দলের ডিফেন্ডার আমার বাড়ানো বলে (এমরান ফারুক অনিক) স্ট্রাইকার পলাশ বড়–য়া ‘ক্লিন’ গোল করেন। খেলায় রেফারি আকতার ভাই নীল দলের ‘মান-সম্মান রক্ষার্থে’ উভয় দলকে বিজয়ী ঘোষণা করেন এবং ৫০০ টাকা পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। তবে তার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে লাল দলের খেলোয়াড়রা। এরপর পুরস্কারের টাকাসহ নিজ উদ্যোগে নারিকেল জিনজিরা নামের স্বার্থকতা পরখ করান (ডাবের পানি) আবদুল্লাহ নয়ন ভাই।
খেলা শেষে সৈকতের হিমেল বাতাসে কনকনে শীতে হাঁটতে বের হয় আমাদের রুমের সদস্যরা। বালিয়াড়িতে হেঁটে হেঁটে এই সেন্টমার্টিনকে সাহিত্য ও মিডিয়ায় তুলে ধরা ‘দারুচিনি দ্বীপ’ এর উদ্ভাবক বিশিষ্ট লেখক ড. হুমায়ুন আহমেদের বাংলো দেখতে গেলাম। পরবর্তীতে অনেক পথ পায়ে হেঁটে পাড়ি দিয়ে সন্ধ্যার দিকে রুমে ফিরি, এরই মধ্যে রুমে আলোও আসল। বলে রাখা ভাল, সেন্টমার্টিনে সন্ধ্যা তথা মাগরিবের নামাজের পর থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত জেনারেটরের সাহায্যে আলোক সজ্জিত হয়ে থাকে। কেউ মুঠোফোন, ট্যাব ও ক্যামেরায় চার্জ দিচ্ছেন, আবার অনেকেই ল্যাপটপে মুভি দেখে, যে যার মতো সময় কাটাচ্ছি। এরই মধ্যে মজার খবর পেল, বক্কর ভাই। দ্বিতীয় বারের মতো সন্তানের বাবা হলেন তিনি। একটি ছেলে ও একটি মেয়ে এই শ্লোগানকে ধারণ করেছেন বলেই মনে হচ্ছে বক্কর-মুনমুন দম্পতি!
st. martineকিছুক্ষণ পর আকতার ভাই রুমে এসে বললেন- সেন্টমার্টিন বিডি নিউজ ডট কম এর উদ্দেশ্যে স্থানীয়দের সাথে মতবিনিময় অনুষ্ঠান। সেখানে অংশ নিয়ে, স্থানীয়দের দু:খের কথায় বেশি শোনা গেল কানে। আর সেখানেই মজার ঘটনা ঘটল আমার সাথে, এক ফেসবুক বন্ধুর (সাইদুল বশির) সাথে প্রথম দেখা। যদিও তার বাড়ি উখিয়ার পালংখালীতে, কিন্তু কর্মসূত্রে টেকনাফে। আর সেন্টমার্টিন হচ্ছে, তার নানুর বাড়ি! আলাপচারিতা শেষে বন্ধুকে বিদায় দিয়ে রুমে ফিরে সাড়ে ৯টার দিকে রাতের খাবার শেষ।
‘ময়নামতির’ আম গাছ তলায় রাত ১০টার দিকে পরিচয় পর্ব ও উন্মুক্ত গানের আসর। এই গানের আসরে আমাদের দলে স্থানীয় কয়েকজন শিল্পী ও বিশিষ্ট জনও যোগ দিলেন। এভাবে করে রাত প্রায় সাড়ে ১২টার দিকে শুরু হয় লটারির ড্র। আমি কিন্তু লটারিতে বিশ্বাসী নই, তবুও জহির ভাইয়ের কারণে অনেকটা জোর করেই নিতে হলো। তারপর একটির পর একটি ড্র হচ্ছে, কিন্তু আমার নেয়া নম্বরগুলো কোথায় যেন হারিয়ে গেলো! লটারির সবচেয়ে দামি ও আকৃষ্ট পুরস্কার ছিল মুঠোফোন, আর এই পুরস্কারটি নিজের করে নিলেন টেকনাফের সেলিম ভাই। তার আরো একটি পরিচয় রয়েছে, দৈনিক সমুদ্রকন্ঠের পরিচালক হিসেবে।
পুরস্কার বিতরণ শেষে রাত ১টার দিকে। ভ্রমণে অংশগ্রহণকৃত প্রতিনিধিত্বকারীদের অনলাইন পোর্টালকে একটি করে ক্রেস্ট উপহার হিসেবে প্রদান করেন ‘সিটিএন’ পরিবার।
ভ্রমণের আনুষ্ঠানিকতা শেষ, এবার নিজের পালা! গেলাম চাঁদের ১৩ দিনের সেই চাঁদনি রাত দেখতে সেন্টমার্টিন সৈকতে। কক্সবাজার সৈকতে অনেক বার রাত জেগে চাঁদনি রাত উপভোগ করেছি, আর সেন্টমার্টিন গিয়ে সুযোগ পাওয়ার পরও না দেখলে কি ভাল লাগে? তাই সুযোগ ও সময় হাতছাড়া করিনি, সোজা গেলাম সৈকতের বালিয়াড়িতে হাঁটতে। আর আমার সঙ্গী ছিল, স্কুল বন্ধু ও এক সময় শিশুদের নিয়ে কাজ করা সহকর্মী আরজ ফারুক। সৈকতে প্রচন্ড বাতাস, সাথে হিমবাহ। আরো ছিল হাঁড় কাপাঁনো কনকনে শীত। তারপর অনেকক্ষণ পাথরের উপর বসে চাঁদের অপরূপ আলো দেখছি। তারপর সৈকত থেকে রুমে এরপর রাত ৩টার দিকে বিছানা গরম করতে শুরু করি।
২৩ জানুয়ারি শনিবার, ভোর ৫টার দিকে মুঠোফোনের মাধ্যমে ঘুম ভেঙে দেয় প্রিয় এক বন্ধু। যার সাথে আমার অনেক স্মৃতি, যার হাত ধরে আমার সৈকতে, পাহাড়ে হাঁটা। সেই প্রিয় বন্ধু প্রত্যেক মজার মুহুর্তের মতো এদিনও হাতছাড়া করেনি, তাই তো তার কড়া নির্দেশে বাধ্য ছেলের মতো ভোরের পাথুরে বীচ সেন্টমার্টিনে হাঁটতে বের হলাম। আর আকাশী ঠিকানার মাধ্যমে তাকেও আমার সাথে ঘুরালাম এই সৈকতে। এরপর সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সকালের নাস্তা খিচুড়ি দিয়ে ভ্রমণের মুহুর্ত শুরু। রাতেই ঘোষণা ছিল, যারা যারা বাংলাদেশের শেষ সীমানা ছেঁড়াদ্বীপ যাবেন সবাই মিলে যাবে। কিন্তু অনেকেই নিজেদের ইচ্ছায় ৪/৫ জন মিলে গ্রুপ করে চলে গেল, আবার কয়েকজন গেলেন না। বাদ বাকি আমরা ২৪ জন ছেঁড়াদ্বীপের উদ্দেশ্যে সেন্টমার্টিন ঘাটে।
20160123_102705_1এক পর্যটকের মুখে শুনেই নিজের মাথায় খড়কা লাগল, ইস্্ আমরাও যদি মহাসাগর থেকে সেন্টমার্টিন দ্বীপটি পুরো ঘুরে দেখতে পারতাম! প্রিয় আকতার ভাইকে বুঝিয়ে বলার পর পরই রাজি হয়ে গেলেন। ছেঁড়াদ্বীপে ডেনিস ও গাছের বোট নিয়ে আসা-যাওয়া করা হয়। আমরা ডেনিস বোট রিজার্ভ করে রওয়ানা দিলাম, পুরো সেন্টমার্টিন দ্বীপটি ঘুরে দেখার। কিছুক্ষণ চলার পর পরই শুরু হয়, একটু ভয়, একটু কম্পন ও চোখের কোণায় কয়েক ফোটা জল!
সচরাচর আমরা যতটুকু জানি, শীতকালে সাগর ও নদীর পানি ঠান্ডা থাকে। কিন্তু আজ দেখছি, ঠিক উল্টো! এক একটি ঢেউ, আমাদেরকে প্রতি মুহুর্তে মৃত্যুর ভয় দেখাচ্ছে। যত ডেনিস বোটটি সাগরের বুক চিরে সামনে যাচ্ছে, মৃত্যু ততটাই আমন্ত্রণ জানাচ্ছে! পরে জানতে পারি, শীতকালে সূর্যের তাপ যত বাড়বে, ঢেউয়ের সাইজও তত বড় হবে। সকালের খাবার ইতিমধ্যে অনেকেরই পেট থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে! যার দলে অনেকেই ছিলেন, প্রথমেই শুরু করেন আনছার ভাইয়ের ছেলে রুদ্র। এরপর তার সঙ্গী- আনছার ভাই, বক্কর ভাই, শাহজাহান ভাই, শিহাবসহ আরো ৩/৪ জন। তারপর বোটেই শুয়ে যান- আনছার ভাই, বক্কর ভাই, রুদ্র ও শিহাব। আর ঢাকা থেকে আগত মেহমান সুমন বাংলাদেশী তো ‘মহাফায়ার’। বার বার তাঁর একই কথা- “আকতার ভাই, এই ধরণের রং ডিসিশন নেয়াটা ভাল হয়নি”। আর মুঠোফোনের মাধ্যমে মা-বাবাসহ এক প্রকার চৌদ্দ গোষ্ঠির কাছে কল করে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছেন। আর ‘অবাজি ছৈয়দ আলম’ তো রীতিমতো গরম। সুমন বাংলাদেশী ও ছৈয়দ আলম তো নৌকা ঘুরিয়ে আবারও সেন্টমার্টিন চলে যাওয়ার জন্য মাঝিকে রীতিমতো হাঁকাবঁকা করছে। আর বক্কর মিয়া তো, পুরো দস্তুর ‘ওয়ায়েজ হুজুর” বনে গেলেন। কালেমা ও তাসবিহ সহ ধর্মীয় অনেক দোয়া পড়ছেন বেশ জোর গলায় সবাই। ‘অবাজি ছৈয়দ আলম’ আবার কাকে যেন ফোন করে বলছেন, “কোস্ট গার্ড অথবা নৌ বাহিনীকে জানান”। বক্কর ভাই তো, এতই ভীতিসন্ত্রস্ত হয়েছেন যে, রীতিমতো আমাকে জড়িয়েই ধরেছিলেন। আর আকতার ভাই, মাঝিকে ডেকে এই ভীত পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছিলেন। আর এই বিপদের দিনে জানতে পারি, আরো একটি বিপদের বর্ণনা। কক্সবাজার সদরের পোকখালীতে হত্যাকান্ডের সংবাদ পেয়ে ফোন পান আকতার ভাই, আর বিস্তারিত জানছেন ইমাম খাইর ভাই। নৌকা যতই চলছে, বুক থেকে চাপা কান্না ততই বের হয়ে আসছে। আমি কিন্তু কান্না করতে পারছি না, কারণ আমার কারণেই তো সবার এই ভীতি অবস্থা! তবুও চোখের কোণায় যে কখন জল এসেছিল তা টেরও পেলাম না। কিন্তু চোখে কালো চশমা ছিল বলেই, কেউ টের পায়নি। এভাবে করতে করতে দীর্ঘ দেড় ঘন্টারও অধিক সময় নৌকায় ভীত পরিস্থিতি কাটিয়ে কাঙ্খিত লক্ষ্য ছেঁড়াদ্বীপ পৌঁছলাম। নৌকা থেকে নামার আগেই ফিরতি জাহাজের সময়সূচী মাথায় নিয়ে ঘুরাঘুরির সময় বলে দেন আকতার ভাই। তবে মজার বিষয় হচ্ছে, ছেঁড়াদ্বীপেও মানুষের বসবাস রয়েছে। সেখানে একটি পরিবার দেখলাম, নির্জন দ্বীপে বসবাস করলেও তাঁর দেশপ্রেমের ঘাটতি নেই। নিজ উদ্যোগে বাঁশ দিয়ে তৈরি করেছে শহীদ মিনার, সামনে একটি লাল সবুজের জাতীয় পতাকা। আর ছেঁড়াদ্বীপে নেমে বেশ কয়েকজনের প্রথম লক্ষ্যটা ছিল প্রাকৃতিক কাজ শেষ করা! সোজা কথা বললে, অনেকটাই ভয়ে এই কাজটি করতে হয়েছে। এরপর ছেঁড়াদ্বীপ ঘুরে আবার সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে যাত্রা। এবার কিন্তু সেই ভীত পরিস্থিতিতে পড়ার পথ নই, এবার সোজা পথ।
প্রায় ৩০ মিনিটের মধ্যেই পৌঁছে গেলাম সেন্টমার্টিন জাহাজ ঘাটে, তারপর তড়িঘড়ি করে পায়ে হেঁটে রিসোর্ট রুমে। সেখানে দুপুরের খাবার শেষে, বিদায় জানিয়ে টেকনাফের উদ্দেশ্যে ফিরতি জাহাজে উঠলাম আড়াইটার দিকে। দুপুর ৩টার দিকে জাহাজের যাত্রা শুরু, আবারও সেই সেন্টমার্টিন দ্বীপ ঘুরে দেখার অবস্থা! তখন ছিল ছোট ডেনিস নৌকা, এবার জাহাজ। তারপরও সাগরের ঢেউ গর্জন করে যেভাবে থাবড়া দিচ্ছে, তখনই মনে পড়ে যায় সেই টাইটানিক জাহাজ ডুবির ঘটনা।
20160123_102651_1এরপর আবারও হৈ-হুল্লোডের পর্ব। তবে মজার কথা হচ্ছে, আনছার ভাই ‘পেট থেকে সব কিছু’ বের করে দিবেন। তাই এই হৈ-হুল্লোড়ের যাত্রা! যাওয়ার সময় আকতার ভাই গান ধরলেও, এবার ধরলেন আবদুল্লাহ নয়ন ভাই। একের পর এক চট্টগ্রামের আঞ্চলিক গান ও আধুনিক গানের সাথে, ঢাকা থেকে আগত কবি মোস্তফা ভাইয়ের একটু একটু ঘাড় ও কোমর দোলানোও ছিল। এভাবে করতে করতে টেকনাফের মাদারবনিয়াস্থ জাহাজ ঘাটে পৌঁছলাম। সেখানে আগে থেকেই অপেক্ষমানরত সাংবাদিক আবদুল্লাহ মনির ভাই এর সাথে কিছুটা কথোপকথনের পর কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে বাসে করে যাত্রা।
পথিমধ্যে ওবাইদুল হক চৌধুরী আবু ভাইয়ের সৌজন্যে ঐতিহ্যবাহী ‘নুর হোটেল’ এর মিষ্টি ভক্ষন, সাথে কিন্তু পরাটা ও নিমকি ছিল। মাঝ পথে একজন একজন করে বিদায় দিয়ে, শহরে পৌঁছলাম আমরা বেশ কয়েকজন। বাস তার আপন গন্তব্যে পৌঁছল, আর আমরাও যার যার মতো করে বিদায় নিলাম।
এই ভ্রমণ জীবনের প্রতিটি মুহুর্তে মনে থাকবে। আমার জীবনের দ্বিতীয় ‘রিস্কি’ ভ্রমণ। পরিশেষে, ভুলত্রুটি ক্ষমার চোখে দেখে, সবার কাছ থেকে বিদায় নিলাম। আল্লাহ হাফেজ।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2020 Dailycoxsbazar
Theme Customized BY Media Text Communications