আজকের দিন-তারিখ

  • শনিবার ( রাত ১১:০১ )
  • ৭ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং
  • ১০ই রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরী
  • ২৩শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ ( হেমন্তকাল )

Archive Calendar

ডিসেম্বর ২০১৯
সোম মঙ্গল বুধ বৃহস্পতি শুক্র শনি রবি
« জুলাই    
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
কক্সবাজার

মাতারবাড়িতে এলএনজি এসেছে অপেক্ষা সরবরাহ শুরুর

58views

তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির প্রধান অনুষঙ্গ ভাসমান স্টোরেজ ও পুনরায় গ্যাসে রূপান্তরকরণ ইউনিট (এফএসআরইউ) মহেশখালীর মাতারবাড়িতে এসে পৌঁছেছে। এই এফএসআরইউ কাতার থেকে আমদানি করা এক লাখ ৩৩ হাজার ঘনমিটার এলএনজি নিয়ে এসেছে বাংলাদেশে। অন্যান্য কাজ শেষে মে মাসের প্রথম সপ্তাহেই দেশের প্রথম এলএনজি টার্মিনাল থেকে পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী।
তিনি বলেন, কাতার থেকে তরলীকৃত গ্যাস নিয়ে আসা এফএসআরইউটি মঙ্গলবার বেলা ২টার দিকে মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালের কাছে নোঙর করে। এফএসআরই বা ফ্লোটিং স্টোরেজ রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট হল একটি জাহাজ, যা গ্যাস মজুদের জন্য ভাসমান টার্মিনাল হিসেবে কাজ করে এবং সেখানে তরলীকৃত গ্যাসকে পুনরায় গ্যসীয় অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে ভূমিতে সরবরাহের ব্যবস্থা থাকে।
এই ইউনিট সাগরে ভাসমান অবস্থায় নোঙর করা থাকবে এবং বিদেশ থেকে আমদানি করা এলএনজিবাহী জাহাজগুলো বাংলাদেশ উপকূলে এসে প্রথমে এই এফএসআরইউতে স্থানান্তর করবে। পরে তা গ্যাসে রূপান্তর করে সরবরাহ করা হবে।
মহেশখালীতে দেশের প্রথম এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণে যুক্তরাষ্ট্রের এক্সিলারেট এনার্জি বাংলাদেশ লিমিটেডের সঙ্গে ‘টার্মিনাল ইউজ এগ্রিমেন্টে’ অনুস্বাক্ষর করে পেট্রোবাংলা। প্রায় ১ লাখ ৩৮ হাজার ঘন মিটার এলএনজি ধারণক্ষমতার ওই টার্মিনালের রিগ্যাসিফিকেশন বা তরল থেকে গ্যাসে রূপান্তরের ক্ষমতা রয়েছে দিনে ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট।
রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো কামরুজ্জামান জানান, এক্সিলারেট এনার্জির ওই এফএসআরইউ বাংলাদেশে আসার সময় কাতার থেকে এক লাখ ৩৩ হাজার ঘনমিটার এলএনজি নিয়ে এসেছে।
মের প্রথম সপ্তাহে এফএসআরইউ কাজ শুরু করলে আমদানি করা গ্যাস মহেশখালী থেকে পাইপলাইনে করে প্রথমে যাবে চট্টগ্রামের আনোয়ারায়। পরে তা জাতীয় গ্রিডের মাধ্যমে পাঠানো হবে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে।
তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বলেন, আমদানির এলএনজি থেকে চট্টগ্রামে দৈনিক ৩০০ থেকে সাড়ে তিনশ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস দেওয়া হবে। বাকিটা পাঠানো হবে ঢাকায়। “এর ফলে চট্টগ্রাম ও অন্যান্য জায়গায় গ্যাসের যে চাহিদা রয়েছে তা অনেকটা মিটবে। আমদানির ফলে আমরা এখন নতুন সংযোগও দিতে পারব।” দেশে মোটামুটি ৩৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে পেট্রোবাংলার হিসাবে সোমবার সরবরাহ ছিল ২ হাজার ৫৭৭ মিলিয়ন ঘনফুট।
দেশে গ্যাসের উৎপাদন সীমিত হওয়ায় চাহিদা থাকার পরও সার, বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন উৎপাদনশীল খাত এবং বাসাবাড়ি ও বাণজ্যিক খাতে সংযোগ নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর জ্বালানি সঙ্কট মোকাবেলায় কক্সবাজারের মহেশখালীতে লিকুইফাইড ন্যাচারাল গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল তৈরির উদ্যোগ নেয়। কিন্তু নানা জটিলতায় ওই মেয়াদের পাঁচ বছরে তা বাস্তবায়ন করা যায়নি। ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে আওয়ামী লীগ টানা দ্বিতীয় মেয়াদে সরকার গঠনের পর অগ্রাধিকার প্রকল্পগুলোর মধ্যে এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণও অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
ভাসমান এই টার্মিনাল ছাড়াও মহেশখালী, খুলনা ও পটুয়াখালীর পায়রায় আরও কয়েকটি ভাসমান ও ভূমিভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। এক্সিলারেট এনার্জির সঙ্গে করা চুক্তি অনুযায়ী, টার্মিনাল নির্মাণ ও অন্যান্য খরচ হিসেবে প্রতি হাজার ঘনফুট গ্যাসের জন্য তাদের ৪৯ সেন্ট করে দিতে হবে। অন্যান্য খরচ যোগ হওয়ার পর তা ৫৯ সেন্টের মত হবে। ১৫ বছর পর মহেশখালীর টার্মিনাল ও এফএসআরইউ কোনো বিনিময়মূল্য ছাড়া পেট্রোবাংলার কাছে হস্তান্তর করা হবে।