1. arif.arman@gmail.com : Daily Coxsbazar : Daily Coxsbazar
  2. dailycoxsbazar@gmail.com : ডেইলি কক্সবাজার :
  3. litonsaikat@gmail.com : ডেইলি কক্সবাজার :
  4. shakil.cox@gmail.com : ডেইলি কক্সবাজার :
  5. info@dailycoxsbazar.com : ডেইলি কক্সবাজার : Daily ডেইলি কক্সবাজার
শোকার্ত বাংলাদেশ : ফেসবুকে তিন জঙ্গি নিয়ে ঝড় - Daily Cox's Bazar News
বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২০, ০২:৪১ অপরাহ্ন
নোটিশ ::
ডেইলি কক্সবাজারে আপনার স্বাগতম। প্রতি মূহুর্তের খবর পেতে আমাদের সাথে থাকুন।

শোকার্ত বাংলাদেশ : ফেসবুকে তিন জঙ্গি নিয়ে ঝড়

ডেইলি কক্সবাজার ডেস্ক ::
  • আপডেট সময় সোমবার, ৪ জুলাই, ২০১৬
  • ১০২ বার পড়া হয়েছে

ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়া ব্যক্তিরা বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না, এত সুন্দর পরিবেশে থেকে, সর্বাধুনিক শিক্ষার সুযোগ পেয়েও এরা এমন নির্মম সন্ত্রাসী তাণ্ডব চালাতে পারে!

এ বছরেরই ঘটনা। ২৯ ফেব্রুয়ারি বিকেল তিনটা। কোচিংয়ে যাওয়ার উদ্দেশে গাড়িতে করে বের হয় ছেলেটি। বনানী ডিওএইচএসে পরিবারের সঙ্গে থাকে সে। স্কলাস্টিকা স্কুল থেকে ও-লেভেল পাস করে এ-লেভেলে ভর্তি হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ জন্যই কোচিং। গুলশানের একটি কোচিং সেন্টারে যাওয়ার পথে যানজটে আটকে পড়ে তার গাড়ি। গাড়িচালককে ছয়টার দিকে কোচিং সেন্টারে গিয়ে তাকে আনতে বলে সে নেমে যায় গাড়ি থেকে। তারপর বেমালুম হাওয়া।

চিন্তায় পড়ে যান পরিবারের সদস্যরা। ছেলেটিকে কি অপহরণ করেছে কেউ, নাকি নিজে থেকেই কোথাও গিয়ে লুকিয়েছে? ওই দিনই বাবা গুলশান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করলেন। গত ৭ মার্চ মানবজমিন পত্রিকায় এ নিয়ে একটি খবরও প্রকাশিত হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, পুলিশ ছেলেটিকে খুঁজে বের করার ব্যাপারে আশ্বাস দিয়েছিল। পরে তারা গুলশান এলাকার সিসিটিভি ফুটেজে দেখতে পায়, গাড়ি থেকে নামার পর একটি রিকশা নিয়ে সে বনানীর ১১ নম্বর সড়কের দিকে চলে যাচ্ছে।
ওই খবরের তথ্য অনুযায়ী, ওই জিডির তদন্তকারী কর্মকর্তা গুলশান থাকার উপপরিদর্শক (এসআই) নাজমুল জানান, ঘটনার দিন ২টা ৫৫ মিনিট থেকে ছেলেটির মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। ওই সময় একটি সূত্র দাবি করে, সে সম্প্রতি ধর্মীয় উগ্রপন্থার দিকে ঝুঁকে পড়েছে।
নিখোঁজ সেই তরুণের সঙ্গে গত শুক্রবার গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় জড়িত বলে প্রকাশিত একজনের ছবির মিল পাওয়া গেছে। ফেসবুকে এ নিয়ে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, সেই ছেলেটির নাম মীর সামেহ মোবাশ্বের। গুলশানের রেস্তোরাঁয় সন্ত্রাসী হামলায় অংশ নেওয়া সন্ত্রাসীদের যেসব ছবি আন্তবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) ও জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বার্তা সংস্থা হিসেবে পরিচিত আমাক-এর প্রকাশিত ছবিগুলোর মধ্যে একটি ছবির সঙ্গে এই মোবাশ্বেরের ছবির মিল রয়েছে বলে অনেকেই ফেসবুকে মন্তব্য করেছেন। এসব মন্তব্যে ছিল বিস্ময়, পরিতাপ, ভালোবাসা আর শোক।
ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়া ব্যক্তিরা বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না, এত সুন্দর পরিবেশে থেকে, সর্বাধুনিক শিক্ষার সুযোগ পেয়েও এরা এমন নির্মম সন্ত্রাসী তাণ্ডব চালাতে পারে!
শুধু মীর সামেহ মোবাশ্বেরই নয়, নিবরাস ইসলাম নামের আরেক তরুণের ব্যক্তিগত পটভূমিও বেশ জ্বলজ্বলে। গুলশানের ঘটনায় আইএসপিআরের প্রকাশিত রক্তাক্ত অবস্থায় নিথর হয়ে পড়ে থাকা এক সন্ত্রাসীর ছবির সঙ্গে ফেসবুকে প্রকাশিত নিবরাসের ছবির সাদৃশ্য রয়েছে। নিহত ওই সন্ত্রাসীকে এই নিবরাস বলে শনাক্ত করেছেন অনেকে। ফেসবুক স্ট্যাটাসে একজন বলেছেন, এত মিষ্টি ছেলেটা কীভাবে পারে গুলশানে জঙ্গি অ্যাটাক দিতে! এখানে নিবরাসের নিষ্পাপ চেহারার সঙ্গে ওই নৃশংসতার তুলনা করে আফসোস করা হয়েছে।
ফেসবুকে নিবরাসের একটি ভিডিও পাওয়া গেছে, যেখানে এক বন্ধুর সঙ্গে যেতে যেতে ইংরেজিতে অনর্গল কথা বলছিল সে। এতে এটা স্পষ্ট যে পারিবারিক অবস্থানের দিক দিয়ে সমাজের সচ্ছল শ্রেণিতেই ছিল তার অবস্থান। সে যে একসময় অত্যাধুনিক পরিবেশে বিচরণ করত, ফেসবুকে দেওয়া বন্ধুদের সঙ্গে তোলা কিছু ছবি তা প্রমাণ করে। বলিউড তারকা শ্রদ্ধা কাপুরের ভক্ত এই তরুণ তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে প্রিয় তারকার সঙ্গে তার হাত মেলানোর মধুর অনুভূতিও প্রকাশ করেছে।
গুলশানে নিহত আরেক সন্ত্রাসীর ছবির সঙ্গে যে তরুণের চেহারার সাদৃশ্য পাওয়া গেছে, সে রোহান ইবনে ইমতিয়াজ। সামাজিক মর্যাদা ও প্রতিপত্তিতে তার অবস্থানও বেশ উঁচুতে। মা-বাবার সঙ্গে ফেসবুকে তার যেসব ছবি রয়েছে, এই ছেলেটির সঙ্গে নিহত ওই সন্ত্রাসীর মিল থাকার কথা অনেকেই বলেছেন। সামাজিক মর্যাদার দিক দিয়ে রোহানের বাবা বেশ প্রভাবশালী। গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু সংগঠনের সদস্য তিনি। মা-বাবা ও সহপাঠীদের সঙ্গে ফেসবুকে তার যে ছবি দেখা যাচ্ছে, তার সঙ্গে আমাক-এর প্রকাশিত ওই জঙ্গির মিল খুঁজে পেয়ে পরিচিত অনেকেই স্তম্ভিত, মর্মাহত।
রোহানের বাবা নিজের ফেসবুক থেকে গত জানুয়ারি মাসে মা ও ছেলের একটি যুগল ছবি পোস্ট করে ইংরেজিতে লিখেছিলেন, ‘বাবা, তোমার মা অসুস্থ। দয়া করে ফিরে এসো।’ গত ১১ জুন আকুতি জানিয়ে আবার লিখেছেন, ‘বাবা, তুমি কোথায়? প্লিজ, ফিরে এসো।’
এসব স্ট্যাটাস থেকে এটি পরিষ্কার যে রোহান পরিবার থেকে দীর্ঘ সময় ধরে বিচ্ছিন্ন ছিল।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2020 Dailycoxsbazar
Theme Customized BY Media Text Communications