আজকের দিন-তারিখ

  • শুক্রবার ( বিকাল ৪:৫৩ )
  • ২২শে নভেম্বর, ২০১৯ ইং
  • ২৫শে রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরী
  • ৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ ( হেমন্তকাল )

Archive Calendar

নভেম্বর ২০১৯
সোম মঙ্গল বুধ বৃহস্পতি শুক্র শনি রবি
« জুলাই    
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০  
সারাদেশ

সহস্রাধিক জঙ্গি জামিন নিয়ে পলাতক

292views

অনলাইন ডেস্ক : সহস্রাধিক জঙ্গি আদালতের মাধ্যমে জামিন নিয়ে পালিয়েছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের এসব সদস্য কারাবন্দি ছিল। এদের অনেকে পাড়ি জমিয়েছে বিদেশে। অনেকে দেশে আত্মগোপনে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তালিকায় পলাতক দুর্র্ধর্ষ ৯১২ জঙ্গির অনেকে নানাভাবে সক্রিয়।
এ প্রসঙ্গে পুলিশ সদর দপ্তরের ইন্টেলিজেন্স উইং ল’ফুল ইন্টারসেপশন সেলের (এলআইসি) এআইজি আঞ্জুমান কালাম ভোরের কাগজকে বলেন, জামিন নিয়ে পলাতক এমন জঙ্গিদের একটি তালিকা রয়েছে। এ ছাড়া জামিনে থেকে নিয়মিত হাজিরা দিচ্ছে এমন জঙ্গিরাও আছে নজরদারিতে। তিনি বলেন, জামিন নিয়ে পলাতক হলে তাদের জামিনদারদের ধরতে হবে। তবে দেশে কোনো জামিনদার আটকের নজির নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিষয়টি দুঃখজনক। আঞ্জুমান কালাম বলেন, জঙ্গি ঝুঁকি মোকাবেলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সবসময় প্রস্তুত ও তৎপর রয়েছে। জামিন নিয়ে পলাতকদের ধরার চেষ্টা চলছে। এ ব্যাপারে আদালতেরও করণীয় রয়েছে।
কারা অধিদপ্তরের দেয়া হিসেবে, গত মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত দেশের ৬৮টি কারাগারে ৫৪৯ জঙ্গি বন্দি রয়েছে। এর মধ্যে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের (হুজিবি) ৩৭ জন, হিযবুত তাহ্্রীরের ৭ জন, আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের (এবিটি) ১৬ জন, জামাতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) ৪৮৯ জন। এর আগে গত বছরের ১ মে ৬৮ কারাগারে বন্দি ছিল ৬১৬ জন জঙ্গি। গত এক বছরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়েছে শতাধিক জঙ্গি।
কারা অধিদপ্তর, পুলিশ, র‌্যাব ও আদালতের হিসাবে পর্যালোচনা করে জানা গেছে, এর আগেও কয়েকশ জঙ্গি জামিন নিয়ে লাপাত্তা হয়। গত এক বছরে উচ্চ আদালত যেসব জঙ্গিদের নিম্ন আদালত আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছেন তাদের বড় অংশ আত্মগোপন করেছে। জামিন পেয়ে আদালতে নিয়মিত হাজির না হয়ে আত্মগোপন করেছে একটি বড় অংশ।
পুলিশ ও আদালত সূত্র জানায়, নাশকতা মামলার আসামি হয়ে কেউ আদালতে জামিনের শরণাপন্ন হয়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটকের পর কারাবন্দিদের অনেকে নানা অজুহাতে জামিন পেয়েছেন।
পুলিশের কাউন্টার টেররিজম এন্ড ট্র্যান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট সূত্র মতে, জামিন নিয়ে পালিয়ে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ জঙ্গিদের বিষয়ে খোঁজখবর নিতে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে নির্দেশনা দেয়া আছে। এ ছাড়া কাউন্টার টেররিজম এন্ড ট্র্যান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের গোয়েন্দারা তাদের বিষয়ে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছেন। বিশেষ করে জামিনে পলাতক গুরুত্বপূর্ণ ২০ থেকে ২৫ জঙ্গি নেতার খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে।
পুলিশ ও র‌্যাব সূত্র মতে, সারা দেশে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে অভিযানে দুই সহস্রাধিক দুর্র্ধর্ষ জঙ্গি গ্রেপ্তার হয়। এসব সংগঠনের মধ্যে নব্য জেএমবি, আনসারুল্লাহ বাংলা টিম (এবিটি), আনসার আল ইসলাম, হিযবুত তাহ্্রীর ও হরকাতুল জিহাদ বাংলাদেশের (হুজি) বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী রয়েছে। যাদের বেশিরভাগ ২০১৬ থেকে ২০১৮ সালের নভেম্বর পর্যন্ত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারসহ বিভিন্ন জেলার কারাগার থেকে জামিন নিয়ে বাইরে বেরিয়েছে। তারপর থেকেই তাদের বেশিরভাগের হদিস পাচ্ছে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
সম্প্রতি নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) বর্তমান প্রধান সালাউদ্দীন সালেহীন চাঁপাইনবাবগঞ্জের লালগোলা সীমান্ত দিয়ে পাকিস্তানে পালিয়েছে। জামিন নিয়ে দেশের বাইরে পালিয়েছে ময়মনসিংহের ত্রিশালে পুলিশের প্রিজনভ্যানে হামলাকারী জঙ্গি নেতা আজমির ওরফে অমিত। একই মামলার আসামি গোলাম সারওয়ার রাহাত জামিন নিয়ে দেশের অভ্যন্তরে আত্মগোপন করেছে। সম্প্রতি লালমনিরহাট জেলার কারাগার থেকে জামিন নিয়ে বেরিয়ে ছদ্মবেশে বিভিন্ন অঞ্চলে লুকিয়ে রয়েছে নব্য জেএমবির জঙ্গি তৌহিদুল ইসলাম (২৫), হাসানুল বান্না (২৪), হযরত আলী (৪৫) ও তাজুল ইসলাম (৪৫)। এ তালিকায় আরো রয়েছে রাজধানীর খিলক্ষেত থানার ১৪ নম্বর মামলার পলাতক আসামি হাবিবুর রহমান, গুলশান থানার ৩২ নম্বর মামলার পলাতক জঙ্গি ছগির হোসেন, কালিয়াকৈর থানার ১২ নম্বর মামলার জঙ্গি রফিকুল ইসলাম ওরফে রকিব ওরফে সুমন ওরফে ছমির ভুঁইয়া। ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন মামলার পলাতক অন্যান্য জঙ্গিরা হচ্ছে কাজী মো. রেজওয়ান শরীফ, জসিমউদ্দিন আহমেদ, মো. হানফি, মুশফিকুর রহমান, মিনহাজ আবেদীন, মো. মনিরুজ্জামান, সায়েফ ও নাজমুল। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার জঙ্গি আবদুন নূর সাঈদী ওরফে তিতুমীর, তরিকুল ইসলাম ওরফে এখতিয়ার পালিয়েছে। একই জেলার নাচোল থানার কলারনা গ্রামের বাসিন্দা মোস্তফার ছেলে কারবান আলী পালিয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে বোয়ালিয়া থানায় মামলা রয়েছে।
পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ থানার সোনাহার গজপুরী গ্রামের বাসিন্দা আবদুল্লাহর ছেলে নব্য জেএমবির সদস্য নজরুল ইসলাম ওরফে বাইক নজরুল ওরফে পারভেজ ওরফে হাসান জামিনে বের হয়ে আত্মগোপন করেছে। জামিন পেয়েছে একই জেলার হিযবুত তাহরীরের জঙ্গি আশরাফ আলী। কক্সবাজার জেলার নব্য জেএমবির জঙ্গি সদস্য নূর মোহাম্মদ চৌধুরী ওরফে রবিন সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একাধিক মামলার আসামি। সম্প্রতি সেও জামিন নিয়ে পালিয়ে গেছে। একই জেলার সদর থানার মধ্যপেচা গ্রামের বাসিন্দা ও চট্টগ্রাম রাউজান থানার মামলার আসামি হরকাতুল জিহাদ বাংলাদেশ বা হুজিবির দুর্ধর্ষ জঙ্গি মাওলানা নোমানও সম্প্রতি জামিন নিয়ে আত্মগোপনে আছে। ফেনীর হিযবুত তাহরী রের সদস্য তৌহিদা আক্তার ওরফে ঊর্মি, শাহ ইমরান, মো. ওমর ফারুক, মো. মাঈনউদ্দিন, ফেরদৌস ওয়াহিদ ওরফে প্রিন্স জামিন পেয়েছে।
এ ছাড়া সাতক্ষীরা জেলা থেকে ৭ জঙ্গি, মেহেরপুর জেলা থেকে ৩, ঝিনাইদহ থেকে ৬, মাগুরা থেকে ৭, সিলেট জেলা থেকে ২ (হুজি), মৌলভীবাজার থেকে ৩ (জেএমবি), হবিগঞ্জের ১৩, বরিশালের ১৯, বরগুনা জেলার ৩৯, ঝালকাঠির ৩, পটুয়াখালীর ২, পিরোজপুরের ৯, রংপুরে ৯, ঠাকুরগাঁওয়ে ৩০, দিনাজপুরে ১৭, নীলফামারীতে ১৬, কুড়িগ্রামে ৮, পঞ্চগড়ে ২, গাইবান্ধায় ২১ ও লালমনিরহাট জেলার সন্ত্রাসবিরোধী ও বিস্ফোরক আইনের মামলার ৭ জঙ্গি জামিন নিয়েছে। একইভাবে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ২৭, ঢাকা জেলার ৩২, নারায়ণগঞ্জের ১৬, টাঙ্গাইলে ২২, গাজীপুরে ২২, ফরিদপুরে ১৪, মাদারীপুরে ১৫, রাজবাড়ীতে ৫, গোপালগঞ্জে ১০, শরীয়তপুরে ২, কিশোরগঞ্জে ১০, নরসিংদী জেলার ৭, মানিকগঞ্জের ৫, মুন্সীগঞ্জের ১২, ময়মনসিংহের ৫০, নেত্রকোনার ৬, শেরপুরে ৯, জামালপুরে ৩১, রাজশাহীতে ২০, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩০, জয়পুরহাটে ৩৬, নওগাঁর ৭, নাটোরে ৮, বগুড়ার ১৬, পাবনার ১৬, সিরাজগঞ্জে ৭, সিএমপির ১৪, চট্টগ্রামের ৩১, কক্সবাজারে ৯, কুমিল্লার ১৪, নোয়াখালীর ২৩, বি-বাড়িয়ার ২৮, চাঁদপুরের ২৭, লক্ষ্মীপুরের ১৮, ফেনী ১৫, খাগড়াছড়ির ১, রাঙ্গামাটির ১, কেএমপির ২৩, খুলনার ৩, চুয়াডাঙ্গার ৭, যশোর ৭, নড়াইলের ২, কুষ্টিয়ার ১৬, বাগেরহাট জেলার বিভিন্ন থানার তালিকাভুক্ত ১৩ জঙ্গি আত্মগোপন করেছে।