1. arif.arman@gmail.com : Daily Coxsbazar : Daily Coxsbazar
  2. dailycoxsbazar@gmail.com : ডেইলি কক্সবাজার :
  3. litonsaikat@gmail.com : ডেইলি কক্সবাজার :
  4. shakil.cox@gmail.com : ডেইলি কক্সবাজার :
  5. info@dailycoxsbazar.com : ডেইলি কক্সবাজার : Daily ডেইলি কক্সবাজার
৫ শীর্ষ সন্ত্রাসী আটক নিয়ে পুলিশের লুকোচুরি - Daily Cox's Bazar News
মঙ্গলবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৫:০১ পূর্বাহ্ন
নোটিশ ::
ডেইলি কক্সবাজারে আপনার স্বাগতম। প্রতি মূহুর্তের খবর পেতে আমাদের সাথে থাকুন।
সংবাদ শিরোনাম ::
কট্টরপন্থী ইসলামী দল হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জ: এসএডিএফ কক্সবাজারের আট তরুণ তরুণীকে ‘অদম্য তারূণ্য’ সম্মাননা জানাবে ঢাকাস্থ কক্সবাজার সমিতি Job opportunity বিশ্বের সবচেয়ে বড় আয়না, নাকি স্বপ্নের দেশ! আল-আকসা মসজিদে ইহুদিদের প্রার্থনা বন্ধের আহ্বান আরব লীগের পেকুয়ায় পুলিশের অভিযানে ৮০ হাজার টাকার জাল নোটসহ গ্রেফতার-১ পেকুয়ায় অস্ত্র নিয়ে ফেসবুকে ভাইরাল : অস্ত্রসহ আটক শীর্ষ সন্ত্রাসী লিটন টেকনাফে একটি পোপা মাছের দাম হাঁকাচ্ছেন সাড়ে ৭ লাখ টাকা ! কক্সবাজারের টেকনাফে র‍্যাবের অভিযানে ইয়াবাসহ আটক-১ নিউ ইয়র্কে মেয়র কার্যালয়ে শহীদ মিনার নির্মাণ নিয়ে কনসাল জেনারেলের আলোচনা

৫ শীর্ষ সন্ত্রাসী আটক নিয়ে পুলিশের লুকোচুরি

ডেইলি কক্সবাজার ডেস্ক ::
  • আপডেট সময় রবিবার, ২৪ জানুয়ারী, ২০১৬
  • ২৩৮ বার পড়া হয়েছে

model thana coxশহরের ক্রাইমজোন খ্যাত রুমালিয়ারছড়া এলাকা থেকে অস্ত্রসহ ৫ জন দূর্ধর্ষ সন্ত্রাসীকে আটকের ২০ ঘন্টায়ও মুখ খুলছে না পুলিশ। গতকাল শনিবার সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এসব সন্ত্রাসীকে আটক নিয়ে লুকোচুরির আশ্রয় নেয় কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ। অভিযোগ উঠেছে- মোটা অংকের টাকায় এসব সন্ত্রাসীদের ছাড়িয়ে নিতে পুরোদিনই চলে দেনদরবার। এমনকি থানায় ডিউটি অফিসারের দৈনিক আসামী রেজিষ্ট্রার খাতায় পর্যন্ত তাদের নাম-পরিচয় অর্ন্তভুক্ত করা হয়নি বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার সদর মডেল থানায় কর্তব্যরত ডিউটি অফিসার। গতকাল শনিবার রাতে দৈনিক সকালের কক্সবাজারের পক্ষ থেকে সরাসরি এবং বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ করা হলেও ‘স্যারের কড়া নির্দেশ’ থাকায় আটককৃত সন্ত্রাসীদের নাম-পরিচয় প্রকাশে অপরাগতা প্রকাশ করেন অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তা এসআই আবুল কালাম ও কর্তব্যরত ডিউটি অফিসার। পর্যটন শহর কক্সবাজারের পাহাড়ী এলাকায় ভয়ংকর অর্ধশত সন্ত্রাসী বাহিনীকে দীর্ঘদিন ধরে গোপনে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়া কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশের অসাধু একটি চক্র এ অনৈতিক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত বলে জানা গেছে। চক্রটি অপরাধী ধরতে পরিচালিত বিশেষ অভিযানসহ বিভিন্ন অভিযানের গোপন তথ্য সন্ত্রাসীদের কাছে পৌঁছে দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

বেশ কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, প্রতিদিনের ন্যায় দিনে ও রাতে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ সংঘঠিত করে গতকাল শনিবার ভোররাতে পাহাড়ের আস্তানায় ঢুকে যাওয়ার সময় দক্ষিণ রুমালিয়ারছড়া চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় সিএনজিসহ পুলিশের হাতে আটক হয় সাদ্দাম বাহিনীর প্রধান সাদ্দামসহ ৫ জন শীর্ষ সন্ত্রাসী। এসময় তাদের কাছে আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশিয় অস্ত্র পাওয়া যায়। পরে তাদের থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী এক ব্যক্তি জানান, গতকাল শনিবার ভোররাতে সদর থানার এসআই আবুল কালামের নেতৃত্বে একটি পুলিশ ভ্যান দক্ষিণ রুমালিয়ারছড়া সড়ক দিয়ে চেয়ারম্যানঘাটার রাস্তায় অবস্থান নেয়। ওই সময় সন্ত্রাসী সাদ্দাম তার অপর ৪ সহযোগীসহ একটি সিএনজি নিয়ে ওই সড়কে প্রবেশ করে। আর ওই সিএনজি’র পেছনে প্রবেশ করে ওসি (তদন্ত) বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরীর গাড়ি। কিছুদূর যাওয়ার পর তিন রাস্তার মাথায় কালভার্টের উপর দু’দিকে পুলিশের গাড়িতে আটকা পড়ে সন্ত্রাসীরা। পরে ৫ জনকেই সিএনজিসহ আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। ওই প্রত্যক্ষদর্শী আরো জানান, আটককৃতদের মধ্যে রুমালিয়ারছড়ার সমিতিবাজার এলাকার ছালেহ আহমদ প্রকাশ বুশিয়্যার পুত্র শীর্ষ সন্ত্রাসী সাদ্দাম হোসেন (২৩), জমির সিকদারের পুত্র আলাউদ্দিন, বাবুসহ ৫ জন রয়েছেন।

এদিকে সাদ্দাম বাহিনীর সাদ্দামসহ ৫ জন শীর্ষ সন্ত্রাসীকে অস্ত্রসহ ভোর রাতে আটক করলেও গতকাল শনিবার গভীর রাত পর্যন্ত সাংবাদিকদের কোন তথ্য দেয়নি সদর থানা পুলিশ। উল্টো আটকের ঘটনা নিয়ে পুলিশ লুকোচুরির আশ্রয় নেয়। থানায় কর্তব্যরত ডিউটি অফিসারসহ বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা এ ধরনের একটি ঘটনা ঘটেছে বলে স্বীকার করলেও আটকদের সম্পর্কে কোন তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এমনকি কেউ কেউ বিষয়টি সরাসরি অস্বীকার করেন। গতকাল রাতে থানায় কর্তব্যরত ডিউটি অফিসারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আটকের বিষয়টি আমি জেনেছি। কিন্তু তাদের নাম-ঠিকানা এখনো পর্যন্ত ডিউটি অফিসারের রেজিষ্টার খাতায় অর্ন্তভুক্তি করা হয়নি।’ এ বিষয়ে তিনি ওসির সাথে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন। পরে অভিযান পরিচালনাকারী উপ-পরিদর্শক আবুল কালামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আমি জানিনা। এটি ওসি (তদন্ত) স্যার সম্পূর্ণভাবে জানে’ বলেই ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
পরে সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আসলাম হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি আটকের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘আমি সারাদিন বাইরে ছিলাম। আটকদের সম্পর্কে পুরোপুরি জানিনা। বখতিয়ার (ওসি তদন্ত) বিষয়টি জানে। তার (বখতিয়ার) সাথে কথা বলেন।’ ওসি’র পরামর্শ অনুযায়ী ওসি (তদন্ত) বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরীর ব্যবহৃত মোবাইলে সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেন নি।

এলাকাবাসী অভিযোগ করে জানান, সাদ্দাম বাহিনী রুমালিয়ারছড়া, সাহিত্যিকা পল্লী, গরুর হালদা, সমিতিবাজারসহ আশপাশের বেশকিছু এলাকায় নিয়মিত ত্রাস সৃষ্টি করে। ওই বাহিনীর হাতে জিম্মি রয়েছে ওইসব এলাকার সাধারণ মানুষ। ছিনতাই, ডাকাতি, ভাড়ায় খুন, জমি দখল, চাঁদাবাজিসহ নানা ধরণের অপরাধ কর্মকান্ড বেপরোয়াভাবে চালিয়ে আসছে বাহিনীটি। তাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ। এছাড়া দিনের বেলায় আড়ালে থেকে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালালেও প্রতিদিন রাত ১১ টার দিকে তারা ২/৩ টি সিএনজি নিয়ে আলাদা আলাদা গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পুরো শহরের প্রধান সড়ক, হোটেল মোটেল জোনসহ বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাই করে বেড়ায়। সারারাত ছিনতাই শেষে ভোর রাতের দিকে তারা পুনরায় পাহাড়ে ঢুকে পড়ে। গতকাল শনিবারও তারা ছিনতাই শেষে আস্তানায় ঢুকে পড়ছিল।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন জানান, সাদ্দাম বাহিনীর অস্ত্রের মুখে ২/৩ টি এলাকার মানুষ চরম অসহায়ত্বের সাথে জীবন যাপন করছে। তাদের বিরুদ্ধে কারও কথা বলার সাহস নেই। কারণ ওই বাহিনীটি একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার ছত্রছায়ায় থাকে। থানা পুলিশের সাথেও তাদের রয়েছে সখ্যতা। সাদ্দাম বাহিনীর প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ছিনতাই, ডাকাতি, হত্যা, অপহরণ, হত্যাচেষ্টা, জমি দখল, ইয়াবা পাচারসহ বিভিন্ন অপরাধের প্রায় ডজনাধিক মামলা রয়েছে। এছাড়া ওই গ্রুপের বেশির ভাগ সদস্য আব্দুল্লাহ হত্যা মামলার আসামী।

তারা আরো জানান, গত কয়েকদিন আগে দক্ষিণ রুমালিয়ারছড়া চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকায় ইয়াবার টাকা ভাগবাটোয়ারা নিয়ে ওই বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে কোন্দল সৃষ্টি হয়ে সংঘর্ষ হয়। এতে বাহিনীর সদস্য আলাউদ্দিন ও মোরশেদ হোসেন মেহেরাজ এবং দুই পথচারী সাইমু হোসেন ও পাখি আক্তার গুরুত্বর আহত হয়। ওই সময় পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে মেহেরাজসহ অন্যদের উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিয়ে আসলেও আহতাবস্থায় কৌশলে পালিয়ে যায় সন্ত্রাসী আলাউদ্দিন। সন্ত্রাসী ছোটন ও মুন্না গ্রুপের সাথে আলাউদ্দিনের নেতৃত্বে মোরশেদ, জাহাঙ্গীর আজাদসহ বেশ কয়েকজন সন্ত্রাসীর সংঘর্ষ হয়েছিল।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2020 Dailycoxsbazar
Theme Customized BY Media Text Communications