সংবাদ শিরোনাম

কক্সবাজারে তিনদিন ব্যাপী উন্নয়ন মেলা শুরু

আগে ম্যানুয়েল সিস্টেমে ভুমি অফিসে নামজারির আবেদন করতে সরাসরি উপস্থিত হয়েও অনেক কাঠখড় পুড়াতে হত। এরপর ওই আবেদনের নিষ্পত্তি হতে মাসের পর মাস, এমনকি বছরও ঘুরে যেত। কিন্তু এখন আর সেই সময় নেই। ডিজিটাল পদ্ধতিতে এখন ঘরে বসেই আবেদন করা যাচ্ছে ভূমি নামজারির। এরফলে কাজের স্বচ্ছতা যেমন ফিরেছে, তেমনি সেবাও মিলছে দ্রুত গতিতে। আর এতে বেশ সন্তুষ্ট সাধারণ সেবাপ্রার্থীরাও।

গত ৩১ ডিসেম্বর থেকে সারাদেশের প্রতিটি উপজেলা ভূমি অফিসে ই-নামজারি ব্যবস্থা চালু করে সরকার। অন্যান্য উপজেলার মত কক্সবাজার সদর উপজেলা ভূমি কার্যালয়েও ই-নামজারি ব্যবস্থা চালু হয় ওই সময়। (িি.িষধহফ.মড়া.নফ) নামের ওই ওয়েব সাইটে এখন ঘরে বসেই নামজারির আবেদন করছেন সেবাপ্রার্থীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ৭ জানুয়ারি ঘরে বসে অনলাইনে ই-নামজারির জন্য আবেদন করেন সদর উপজেলার ভারুয়াখালী ইউনিয়নের সাবেক পাড়া এলাকার রাহামত উল্লাহ। তিনি বলেন, আগে নামজারি করার জন্য ভূমি অফিসে যেতে হত। এরপর সেখানে পিয়ন থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্তরের কর্মচারিদের সাথে যোগাযোগ করতে করতে অনিহা চলে আসতো। এরপর ওই আবেদনের নিষ্পত্তি হতে আরও কত কাহিনী। দীর্ঘ এ সময়ে নানা ধরণের হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হয় মানুষ।

তিনি আরও বলেন, কিন্তু এখন আর সময় নষ্ট হয় না, ভোগান্তিও নেই। সম্প্রতি ঘরে বসেই তিনি সহজভাবে নির্দিষ্ট ওয়েব সাইটে ই-নামজারি পদ্ধতিতে আবেদন করেন। আর আবেদনের পর পরই তিনি মুঠোফোনে আবেদন গ্রহণের বার্তা (এসএমএস) পান। সেবা প্রদানে এই ধরণের সহজ পদ্ধতি চালু করায় সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

সদর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) নাজিম উদ্দিন বলেন, ম্যানুয়েল সিস্টেমে আগে নামজারির আবেদন নেওয়ার পর নিষ্পত্তিতে অনেক সময় লেগে যেত। কিন্তু এখন ডিজিটাল ব্যবস্থায় নামজারি আবেদন পদ্ধতি চালু হওয়ায় দ্রুত নিষ্পত্তি করা যাবে। আবেদন করার সঙ্গে সঙ্গে সেবাপ্রার্থীর মুঠোফোনে এসএমএস পেয়ে যান। এছাড়াও আবেদন নিষ্পত্তিতে যেখানে ছয় থেকে আট মাস সময় লাগতো, সেখানে এখন সর্বোচ্চ ৩০ থেকে ৪৫ দিন সময় লাগবে। এতে হয়রানি ও দালাল সৃষ্টি হওয়ার সুযোগ কমে যাবে। সেবাপ্রার্থীদের মধ্যে ই-নামজারি ব্যবস্থা বেশ সাড়া ফেলেছে বলে জানান তিনি।

সূত্রমতে, ম্যানুয়েল সিস্টেমের কারণে ভূমি ব্যবস্থাপনায় দুর্নীতি ও মামলা মোকদ্দমার হার বেড়ে যায়। কিন্তু ভূমি ব্যবস্থাপনায় পুরোপুরি অটোমেশন ও ডিজিটালাইজেশন বাস্তবায়ন করা গেলে ভূমি সেবার মান বাড়বে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। তাই ই-নামজারী বাস্তবায়নের উপর জোর দিতে হবে বলে মনে করেন সচেতন মহল।

সাধারণ মানুষকে সবচেয়ে বেশি হয়রানি এবং ভোগান্তি পোহাতে হয় ভূমি সেবা পেতে। কিন্তু এখন ডিজিটাল পদ্ধতি চালু হওয়ায় খুব সহজভাবেই ভূমি সেবা পাচ্ছেন জনগণ। ভূমি অফিসে শুধুমাত্র ই-নামজারি নয়, ই-রেকর্ডরুম সিস্টেমসহ বেশিরভাগ সেবা পদ্ধতিই এখন ডিজিটালাইজেশন করা হয়েছে।

সদর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট নাজিম উদ্দিন বলেন, আগে রেকর্ড রুম থেকে অনেক নথি গায়েব হয়ে যেত। আবার অনেক নথি দীর্ঘ সময় ধরে পড়ে থাকায় নষ্টও হয়ে যেত। কিন্তু এখন ই-রেকর্ড রুম সিস্টেম চালু হওয়ায় সব ধরণের নথি সেখানে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। এরফলে আর কোন ধরণের নথি হারিয়ে যাওয়া বা নষ্ট হওয়ার সুযোগ নেই।
তিনি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত তিনি ২৬ হাজার নথি ই-রেকর্ড রুমে সংরক্ষণ করেছেন তিনি। প্রতিদিনই নথি গুলো সেখানে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। এছাড়াও আগে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী একটি নথি পেতে ১৫ দিন সময় লাগতো। কিন্তু এখন মাত্র ২ থেকে ৩ দিনের মধ্যেই নথি পাবে সেবাপ্রার্থীরা।

এভাবেই সরকারের সব দপ্তরের সেবা পদ্ধতি ডিজিটালাইজেশন হওয়ায় সহজে সেবা পাচ্ছে সাধারণ মানুষ। সেবা পেতে ভোগান্তি যেমন কমছে, তেমনি দুর্নীতি বা অনিয়মের সুযোগও কমে যাচ্ছে। তাই সরকারের ডিজিটাল পদ্ধতির উদ্যোগকে আন্তরিকতার সাথে বাস্তবায়নের জন্য সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিদের আহ্বান জানান সাধারণ মানুষ।

এদিকে সারাদেশের ন্যায় কক্সবাজারেও আজ থেকে শুরু হচ্ছে ডিজিটাল উন্নয়ন মেলা। বর্তমান সরকারের গৃহিত উন্নয়ন কার্যক্রম প্রান্তিক জনগণের কাছে তুলে ধরে দেশের সকল জনগণকে সরকারের উন্নয়ন কাজের সাথে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে তিনদিন ব্যাপী এই মেলার আয়োজন করা হচ্ছে। আজ থেকে শুরু হয়ে এই চলবে আগামি ১৩ জানুয়ারী পর্যন্ত। এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় ‘উন্নয়নের রোল মডেল-শেখ হাসিনার বাংলাদেশ’।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের সাধারণ শাখা সূত্রে জানা গেছে, শহীদ দৌলত ময়দানে আয়োজিত এবারের মেলায় ৭৮ টি স্টল অংশ নিচ্ছে। এতে জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি, সংস্থার অংশগ্রহণের মাধ্যমে সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড প্রদর্শনসহ সরাসরি বিভিন্ন ধরনের নাগরিক সেবা প্রদান করবে।

জেলা প্রশাসনের সাধারণ শাখার সহকারি কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট তানভীর আহমেদ স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বেশকিছু সেবা তুলে ধরা হয়। এরমধ্যে জেলা প্রশাসনের স্টল থেকে মিলবে ফ্রন্ট ডেস্কে নাগরিক আবেদন গ্রহণ, জমির খতিয়ান, নকল ও সংবাদ প্রদান এবং জমির ক্ষতিপূরণের এল এ চেক প্রদান সেবা। এছাড়াও উপজেলা ভূমি অফিসের স্টল থেকে মিলবে ভূমি উন্নয়ন কর প্রদান সেবা, অনলাইনে নামজারি আবেদন গ্রহণ, ভিপি লিজ নথি নবায়নের আবেদন গ্রহণ, খাস জমি বন্দোবস্ত পাওয়ার আবেদন গ্রহণ সেবা। পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের স্টল থেকে মিলবে এক নজরে কক্সবাজার জেলার তথ্য, মোট সক্ষম দম্পতির বিপরীতে গ্রহণকারী ও গ্রহণকারীর হার (ঈঅজ) অগ্রগতির প্রতিবেদন, সম্পাদিত পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতির লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে অর্জনের হার, মা ও শিশু স্বাস্থ্য সেবার প্রতিবেদন, টঐ্ঋডঈ-তে সম্পাদিত গঈঐ সেবার তথ্য, বল প্রয়োগে বাস্তুচ্যুত মায়ানমার নাগরিকদেরকে মোট ঋচ-গঈঐ সেবা ও ঈড়ঁহংবষরহম এর প্রতিবেদনের সেবা। এছাড়াও মেলায় স্বাস্থ্য বিভাগের স্টল থেকে মিলবে ৬ জন ডাক্তারের উপস্থিতিতে স্বাস্থ্যসেবা ও ব্যবস্থাপত্র, ব্লাড গ্রুপিং, ব্লাড প্রেসার, ওজন পরিমাপ, ডায়াবেটিকস পরীক্ষা ও অন্যান্য সেবা। এছাড়াও সরকারি, বেসরকারি সংস্থার সকল স্টল থেকে প্রতিষ্ঠান ভিত্তিক ডিজিটাল সেবা পাওয়া যাবে মেলায়।

Editor- Sayed Mohammad SHAKIL.
Office: Evan plaza, sador model thana road, cox’sbazar-4700. Email: dailycoxsbazar@gmail.com / phone: 01819099070
অনুমতি ছাড়া অথবা তথ্যসূত্র উল্লেখ না করে এই ওয়েব সাইট-এর কোন অংশ, লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনী