সংবাদ শিরোনাম

৯ বছর আগের বাংলাদেশ আর আজকের বাংলাদেশ এক নয়

৯ বছর আগের বাংলাদেশ আর আজকের বাংলাদেশ এক নয়। আজকের বাংলাদেশ আত্মপ্রত্যয়ী বাংলাদেশ। মাত্র এক দশক আগেও বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে অর্ধাহারে, অনাহারে দিন কাটত বড় একটি জনগোষ্ঠীর। অধিকাংশ অঞ্চল ছিল বিদ্যুতহীন অন্ধকারাচ্ছন্ন। অধিকাংশ ঘরবাড়ি ছিল মাটির দেয়াল অথবা পাটখড়ি বা বাঁশের বেড়া আর খড়ের ছাউনিতে তৈরি। বর্তমানে গ্রামাঞ্চলের সেই চিত্র আর নেই। মাত্র ৯ বছরেই পাল্টে গেছে দেশের সার্বিক দৃশ্যপট। অধিকাংশ বাড়িঘর দাঁড়িয়ে আছে ইট-সিমেন্ট অথবা টিনের ওপরে। শতকরা ৮০ ভাগ মানুষের বাড়িতে জ্বলছে বিজলি বাতি। ক্ষুধা, দারিদ্র্য, অশিক্ষা গ্রামাঞ্চল থেকে প্রায় বিতাড়িত হয়েছে বললেও ভুল হবে না। মঙ্গা নামক শব্দটি এখন ইতিহাস। বদলে গেছে তলাবিহীন ঝুড়ির কথিত ভাবমূর্তিও। জঙ্গী-সন্ত্রাসীরাও পড়েছে অস্তিত্বের সঙ্কটে। নানামুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেই শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার বাংলাদেশকে নিয়ে যাচ্ছে উন্নয়নের মহাসড়কে। টানা ৯ বছর ধরেই উন্নয়ন-অগ্রগতির মহাসোপানে এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ।’

বর্তমান সরকারের চার বছর পূর্তি সামনে রেখে রাজনৈতিক বিশ্লেষক থেকে শুরু করে অতি সাধারণ মানুষ দেশের সার্বিক চিত্র পাল্টে যাওয়ার বর্ণনা দিয়েছেন ঠিক এভাবেই। বন্ধুর পথ পাড়ি দিয়ে সব সূচকে অগ্রগতি, সাফল্য আর উন্নয়নের পায়রা উড়িয়েই আজ শুক্রবার টানা দ্বিতীয় মেয়াদের ক্ষমতার চার বছর পূর্ণ করল শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার। আগামীকাল শনিবার থেকে শুরু হবে বর্তমান সরকারের মেয়াদের শেষ বছর। ইতোমধ্যে আগামী নির্বাচনের ঘণ্টাও বেজে উঠেছে সারাদেশেই।

আজ সন্ধ্যা সাতটায় জাতির উদ্দেশে প্রদত্ত ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর সরকারের গত চার বছরের সাফল্য এবং অবশিষ্ট এক বছরে দেশ আরও এগিয়ে নিতে গৃহীত পরিকল্পনার কথা দেশবাসীর সামনে তুলে ধরবেন।

সরকারের চতুর্থ বর্ষের সরকার পরিচালনার সাফল্য-ব্যর্থতার খেরোখাতায় যে লাইনটি সর্বাগ্রে উঠে এসেছে তা হচ্ছে- গত তিন বছরের ন্যায় চতুর্থ বছরেও দেশের রাজনীতিসহ সবকিছুর নিয়ন্ত্রণই ছিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে। নানামুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে দেশকে উন্নয়ন-অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির পথে নিয়ে যাচ্ছে শেখ হাসিনার সরকার। ভয়াল জঙ্গীবাদ-সন্ত্রাসে সৃষ্ট শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি শক্তহাতে মোকাবেলা করেই দেশকে অগ্রগতির মিছিলে শামিল করার পাশাপাশি সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ নিয়েই ক্ষমতার পঞ্চম অর্থাৎ শেষ বর্ষে পদার্পণ করল আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় সরকার।

সাফল্য-ব্যর্থতার বিচারে টানা দ্বিতীয় মেয়াদের এই চার বছরে সাফল্য-ব্যর্থতার পরিমাপে সরকারের ঝুলিতে সাফল্যের পরিমাণ যে কয়েকগুণ বেশি, তা চরম সমালোচকও মানতে বাধ্য হচ্ছেন। ক্ষমতার টানা ৯ বছরেই বন্ধুর পথ পাড়ি দিয়ে দেশকে উন্নয়নের মহাসড়কে স্থাপিত করেছেন শেখ হাসিনার সরকার। সারাবিশ্বের উন্নয়নের রোলমডেল এখন বাংলাদেশ। বিশ্বের অনেক বাঘা বাঘা নেতাও এত স্বল্প সময়ে বাংলাদেশের উন্নয়ন-অগ্রগতি দেখে বিস্ময়ও প্রকাশ করেছেন। আগের যে কোন সময়ের তুলনায় এখন অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। চার বছর পূর্তিতেও আওয়ামী লীগ সরকারও রয়েছে অনেকটা সুবিধানজনক অবস্থানে।

ঠিক চার বছর আগে ২০১৪ সালের এই দিনে তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথের সময় দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না, বরং ছিল অত্যন্ত ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ। আওয়ামী লীগ সরকারকে বছরের শুরুতে বিএনপি-জামায়াত সৃষ্ট দুর্যোগের ঝড়ের মুখেই যাত্রা শুরু করতে হয়েছিল। সেই দুর্যোগ মোকাবেলার পর ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি ঘিরে আবারও ভয়াল সহিংসতা মোকাবেলা করতে হয়েছে বর্তমান সরকারকে। বিএনপি-জামায়াতের টানা ৯২ দিনব্যাপী ভয়াবহ নারকীয় সন্ত্রাস-সহিংসতা ও অগ্নিসন্ত্রাসে পুড়েছে গোটা দেশ। দেশের কয়েক হাজার কোটি টাকার সম্পদ ধ্বংস হয়েছে ওই রাজনৈতিক সন্ত্রাসে। তিনটি মাস ধরে দেশের মানুষ ছিল অগ্নিসন্ত্রাসের কাছে কার্যত অবরুদ্ধ। জোট সন্ত্রাসীদের পেট্রোল বোমায় পুড়ে জীবন গেছে প্রায় ৩১৩ নিরীহ সাধারণ মানুষের।

কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর দৃঢ়, সাহসী ও বুদ্ধিদীপ্ত নেতৃত্ব দিয়ে দেশে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনার বিশাল চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার অগ্নিপরীক্ষায় শুধু উত্তীর্ণই হননি, দেশের মানুষকে শান্তি-স্বস্তি প্রদানের পাশাপাশি গত চার বছরে ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশ টেনে তুলে প্রগতি ও অগ্রগতির মিছিলে শামিল করতে সক্ষম হয়েছে। গণতন্ত্র ধ্বংসের সকল ষড়যন্ত্র-বেড়াজাল ছিন্ন করে দেশ স্থিতিশীল ও শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ রেখেই বর্তমান সরকার মেয়াদের পঞ্চম বর্ষে পদার্পণ করল।

অতীত সরকারগুলোর বছর পূর্তিতে ব্যর্থতা ও অভিযোগের ঝাঁপি খুলে বিরোধী পক্ষ দেশব্যাপী ঝড় তুললেও এবারের চিত্র একেবারেই ভিন্ন। দ্বিতীয় মেয়াদের বর্তমান সরকারের চার বছরের হিসাব মেলাতে গিয়ে চরম বৈরীবিরোধী পক্ষও বড় ধরনের ব্যর্থতার দালিলিক প্রমাণ হাজির করতে পারেনি দেশবাসীর সামনে। বরং অধিকাংশ মানুষের মূল্যায়নে বেরিয়ে এসেছে, বর্তমান সরকার প্রথম থেকেই সঠিক পথেই এগোচ্ছে। চার বছরে ব্যর্থতার চেয়ে সরকারের সাফল্যের পাল্লা অনেকগুণ ভারি। জনগণের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির ব্যবধানও কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে।

এ দেশে সাধ ও সাধ্যে, চাওয়া ও পাওয়ার মধ্যে সেতুবন্ধ রচনা খুব সহজ নয়। তবে দেশবাসী খোলা মনে প্রথম চার বছরের ভাল কাজের প্রশংসা এবং মন্দ কাজের সমালোচনা করলেও সরকারের ওপর তাদের আস্থা এতটুকুও কমেনি, বরং বেড়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অসম সাহস, দক্ষতা, দূরদৃষ্টি ও অসীম ধৈর্যের সঙ্গে দেশ পরিচালনার প্রতিটি পদক্ষেপকে যেমন দেশের মানুষ এখনও অধিকমাত্রায় সমর্থন করছেন, ঠিক তেমনি চার বছরে দেশী-বিদেশী সকল রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ের বিচার সম্পন্ন হওয়া, একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীসহ সকল রাজনৈতিক হত্যাকা-ের বিচার ও রায় কার্যকরের দৃঢ় ও সাহসী পদক্ষেপকেও নিরঙ্কুশভাবেই অনুমোদন দিয়েছেন।

প্রথম থেকেই সঠিক পথে চলায় বর্তমান সরকারের কাছ থেকে মানুষের প্রত্যাশা বেড়েছে কয়েকগুণ। মেয়াদের বাকি এক বছরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনগণকে দেয়া সকল প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করে দেশকে বিশ্বসভায় ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত, উন্নত-সমৃদ্ধ শান্তিময় দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবেন- এমন আশায় বুক বেঁধেছেন দেশের মানুষ। সম্প্রতি বিশ্বের কয়েকটি জরিপ রিপোর্টেও বর্তমান সরকার ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা যে অতীতের চেয়েও বৃদ্ধি পেয়েছে তা উঠে এসেছে।

তবে সরকারের মেয়াদের শেষ এই একটি বছর বর্তমান সরকারের সামনে নিয়ে এসেছে অনেক চ্যালেঞ্জ নিয়ে, অনেক অগ্নিপরীক্ষার সম্মুখীনও হতে হবে এই নির্বাচনী বছরে। এই বছরের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হবে আগামী একাদশ জাতীয় নির্বাচন। আগামী নির্বাচনে টানা তিনবার অর্থাৎ হ্যাটট্রিক বিজয়ী হয়ে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামী লীগ চলমান উন্নয়ন-অগ্রগতির ধারা অব্যাহত রাখতে পারবে কি না, নাকি ফের বিএনপির কাঁধে চড়ে পাকিস্তানী প্রেতাত্মার মদদপুষ্ট উগ্রসাম্প্রদায়িক অপশক্তি জনগণকে বিভ্রান্ত করে ক্ষমতায় এসে দেশকে আবারও অন্ধকারের অতল গহ্বরে ধাবিত করবে, দেশকে আবারও পিছিয়ে দিয়ে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করবে- এমন অনেক চ্যালেঞ্জ নিয়েই এসেছে সরকারের বাকি একটি বছর।

রাজনৈতিক অভিজ্ঞ মহলেও আশঙ্কা, জনপ্রিয়তার ব্যারোমিটারে বিএনপির তুলনায় আওয়ামী লীগ অনেক এগিয়ে থাকলেও শুধু দলটির অভ্যন্তরীণ বিভেদের কারণে অনেক আসন হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে। মেয়াদের শেষ বছরে যদি আওয়ামী লীগ শক্তহাতে দলের মধ্যে সৃষ্ট বিভেদ দূর করে দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ঐক্যের বাঁধনে বাঁধতে না পারে তাহলে দলটিকে বড় ধরনের মাশুল গুনতে হতে পারে। সবাইকে মনে রাখতে হবে, সরকারের ধারাবাহিকতা কোনভাবে ব্যত্যয় ঘটলে গৃহীত মেগাপ্রকল্প পদ্মা সেতু, মেট্টোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, গভীর সমুদ্র বন্দর, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত কেন্দ্র তো বন্ধ হবেই, সেই সঙ্গে সারাদেশে আবারও জঙ্গী-সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িকতার অভয়ারণ্যে পরিণত হবে বাংলাদেশ। এখন সব সূচকে একাত্তরের পরাজিত দেশ পাকিস্তান বাংলাদেশের কাছ থেকে পিছিয়ে রয়েছে। ওই অপশক্তি ক্ষমতায় এলে আবারও দেশকে পাকিস্তানের চেয়েও খারাপ ব্যর্থ রাষ্ট্রের দিকে নিয়ে যাবে।

কেমন গেল এই চার বছর? অনেক বিচক্ষণ ব্যক্তি, দল ও গোষ্ঠী বলেছিল, ২০১৪ সালের নির্বাচন হলে কী হবে, শেখ হাসিনার সরকার এই দফায় এক বছরও টিকবে না। সৌভাগ্য শেখ হাসিনার, সৌভাগ্য দেশের মানুষের। শত বাধা-বিপত্তি ও প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবেলা করে শেখ হাসিনার সরকার শুধু টিকেই যায়নি, এই চার বছরে দেশকে অগ্রগতির পথে অনেক দূর নিয়ে গেছেন। শত্রুর মুখে ছাই দিয়ে শেখ হাসিনার বৃহস্পতি গত বছরও ছিল তুঙ্গে। শুধু বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নন, শেখ হাসিনাকে অনেকেই উন্নয়নশীল দেশের ‘উন্নয়নের রোলমডেল নেতা’ হিসেবেও মনে করেন। তাঁর সরকারের অর্জনের কথা এখন যুক্তরাষ্ট্রসহ শক্তিশালী দেশগুলোর সরকারপ্রধানদের বক্তৃতাতেও নিয়মিত উঠে আসছে।

উন্নয়নের মহাসড়কে বাংলাদেশ ॥ বর্তমান সরকারের চতুর্থ বছর পূর্তির সাফল্যে-ব্যর্থতার খেরোখাতায় এসেছে- সরকারের চতুর্থ বছরটি ছিল বাংলাদেশের সাফল্যের বছর। সরকারের গৃহীত উন্নয়ন পরিকল্পনার সফল বাস্তবায়নের ফলে গত মেয়াদের পাঁচ বছর এবং এই মেয়াদের চার বছরে বাংলাদেশ আর্থ-সামাজিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে বিশ্বের সামনে রোলমডেল হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান বিশ্বের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে এগিয়ে যাওয়া পাঁচটি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। দেশের গড় প্রবৃদ্ধি ৭ ভাগের ওপরে, মাথাপিছু আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬১০ মার্কিন ডলারে। বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন ২৫০ বিলিয়ন ডলারও বেশি। ৫ কোটি মানুষ নিম্ন আয়ের স্তর থেকে মধ্য আয়ের স্তরে উন্নীত হয়েছে। ছয়গুণ রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়ে প্রায় ৩৩ হাজার বিলিয়ন মার্কিন ডলার। টানা ক্ষমতার ৯ বছরে ধারাবাহিকভাবে সাড়ে ৬ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি ধরে রেখে পুরো বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ।

১৯৭৪ সালের ৩০ অক্টোবর তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার বাংলাদেশকে ‘বটমলেস বাস্কেট’ বা তলাবিহীন ঝুড়ি বলে অভিহিত করেছিলেন। যার মানে হচ্ছে, এখানে যত অর্থই ঢালা হবে, তলা না থাকায় কোন কিছুই আর অবশিষ্ট থাকবে না। সেই দেশটিরই পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকা সফরে এসে বলে গেছেন, বাঙালী জাতির মেধা, পরিশ্রম আর একগ্রতার মাধ্যমে বাংলাদেশ আজ সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাচ্ছে। আর এই শান্তি ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যেতে একসঙ্গে কাজ করতে চায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তার আগে বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধান অর্থনীতিবিদ হিসেবে কৌশিক বসু বাংলাদেশ সফরে এসে বাংলাদেশের অগ্রগতির ভূঁয়সী প্রশংসা করেছেন। বলেন, বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে গেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ প্রভাবশালী অধিকাংশ দেশগুলোর নেতারাই নানা আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন যে, সবার কাছে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোলমডেল।

বর্তমান সরকার চতুর্থ বছরেও দেশের জন্য অনেক অর্জন আনতে সক্ষম হয়। চতুর্থ বর্ষেও প্রধানমন্ত্রী দেশের জন্য এনেছেন অনেক আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। দেশকে উন্নয়নের পথে ধাবিত করলেও গত চার বছরে অনেক বন্ধুর পথও পাড়ি দিতে হয়েছে বর্তমান সরকারকে। ষড়যন্ত্র-চ্যালেঞ্জ পিছু ছাড়েনি এই চার বছর। সামনে এসেছে নিত্যনতুন নানা চ্যালেঞ্জ। বিএনপি-জামায়াতের চরম রাজনৈতিক সহিংসতা মোকাবেলা করে দেশ যখন স্থিতিশীল পরিবেশে অর্থনৈতিকসহ নানা ক্ষেত্রে ইতিবাচক ধারায়, ঠিক তখনই আবার নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে এসেছে জঙ্গীবাদ। তবে এসব চ্যালেঞ্জের বেশির ভাগই স্বাভাবিকভাবে সৃষ্ট নয়; বরং ষড়যন্ত্রমূলক। সরকারকে বিপাকে ফেলে চলমান বহুমুখী উন্নয়ন কর্মকা- ও দেশের অগ্রযাত্রা স্তিমিত করে দেয়াই ছিল ষড়যন্ত্রকারীদের উদ্দেশ্যে। তবে সব ষড়যন্ত্র আর চ্যালেঞ্জ প্রজ্ঞার সঙ্গে মোকাবেলা করেই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এত সাফল্যে আর গত চার বছরই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিএনপি-জামায়াত মাথা তুলে দাঁড়াতে না পারলেও নিজ দলের মধ্যে সৃষ্ট কোন্দল-দ্বন্দ্ব আর সিনিয়র নেতাদের লাগামহীন মন্তব্যে শুধু অস্বস্তিই নয়, প্রায়শই বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে পড়তে হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। প্রথম দুই বছরে বিএনপি-জামায়াত জোটের নাশকতা-সহিংসতা গত দুই বছরে সরকারবিরোধী জোরালো কোন আন্দোলন ছিল না, ছিল না রাজপথে রাজনৈতিক সংঘাত-সংঘর্ষ। তা সত্ত্বেও নির্বাচনী বছরে সরকারকে অস্বস্তি অবস্থায় ফেলেছে মনোনয়নকে ঘিরে দলের মধ্যে সৃষ্ট কোন্দল, দ্বন্দ্ব ও বিভেদ।

রাজনৈতিক কৌশল প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিএনপিকে গত চার বছর ধরেই কোণঠাসা এবং সাংগঠনিকভাবে অতীতের যে কোন সময়ের তুলনায় দুর্বল করতে সক্ষম হলেও সরকারের শেষ মেয়াদে আওয়ামী লীগের প্রধান প্রতিপক্ষই যেন হয়ে উঠেছে আওয়ামী লীগই। সারাদেশের তিনশ’ আসনের প্রায় প্রতিটিতেই আওয়ামী লীগের প্রধান প্রতিপক্ষ এখন আওয়ামী লীগ। একেকটি আসনে দুই থেকে ডজন পর্যন্ত মনোনয়ন প্রত্যাশীরা একে অপরের বিরুদ্ধে কাঁদা ছোড়াছুড়ি কিংবা প্রকাশ্য কোন্দল-দ্বন্দ্বে লিপ্ত হয়েছে। তাই সরকারের পঞ্চম অর্থাৎ মেয়াদের শেষ বর্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রধান চ্যালেঞ্জই হচ্ছে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি নিজ দলের চেইন অব কমান্ড গড়ে তোলা। অতীতের মতো শক্তহাতেই সকল জঙ্গীবাদ, সন্ত্রাস, দুর্নীতি এবং দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র দমন করে সুখী-সমৃদ্ধ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তোলা।

দেশের খ্যাতনামা ইতিহাসবিদ ও কলামিস্ট অধ্যাপক মুনতাসীর মামুনও এ প্রসঙ্গে সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, একাত্তরের পাকিস্তানপ্রেমী বাঙালীরাই আজ বিএনপিসহ সাম্প্রদায়িক দলে ভিড়ে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। মনে রাখতে হবে আগামী নির্বাচন অসাম্প্রদায়িক ও প্রগতির পক্ষের শক্তির জন্য অস্তিত্বের প্রশ্ন। বর্তমানের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে হলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পুনরায় নির্বাচিত করা ছাড়া জাতির সামনে আর কোন বিকল্প নেই। জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে তাঁদের ব্যালটের মাধ্যমে বিএনপি-জামায়াত নামক পাকিস্তানীপ্রেমীদের আবারও পরাজিত করতে হবে। তবে মনে রাখবেন গ্রামে-গঞ্জের মানুষ বলাবলি করছে যে, আওয়ামী লীগ হারলে আওয়ামী লীগের জন্যই হারবে। কেননা প্রতিটি আসনে আ’লীগের অসংখ্য প্রার্থী। তাই নব্য আওয়ামী লীগারদের সম্পর্কে সজাগ থাকতে হবে। ষড়যন্ত্র হচ্ছে তাই ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে হবে। আমাদের মধ্যেই ষড়যন্ত্রকারী আছে, তাদেরও শনাক্ত করতে হবে।

 
Editor- Sayed Mohammad SHAKIL.
Office: Evan plaza, sador model thana road, cox’sbazar-4700. Email: dailycoxsbazar@gmail.com / phone: 01819099070
অনুমতি ছাড়া অথবা তথ্যসূত্র উল্লেখ না করে এই ওয়েব সাইট-এর কোন অংশ, লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনী