সংবাদ শিরোনাম

অর্ধেক দামে রোহিঙ্গার ত্রাণ কিনে মজা লুটছে সিন্ডিকেট

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা ত্রাণ হিসেবে পাওয়া খাদ্য সামগ্রী (তেল, ডাল, কম্বল) রাখার জায়গা না থাকায় ও টাকার প্রয়োজনে বিক্রি করে দিচ্ছে।
দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সাহায্য সংস্থা, বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দেয়া ত্রাণ সামগ্রী বাজার মূল্যের চেয়ে অর্ধেক দামে বিক্রি করছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এসব ত্রাণসামগ্রী কিনে বেশি দামে বিক্রি করছে। আবার অনেকেই নিজেদের চাহিদা মোতাবেক কিনে নিচ্ছেন।
সূত্র জানায়, ত্রাণ কিনতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পভিত্তিক কয়েকটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। শিবিরগুলোতে ত্রাণ কিনতে সিন্ডিকেট সদস্যদের হুড়োহুড়ি করতেও দেখা গেছে। এসব ত্রাণ কিনে নিয়ে সিন্ডিকেট সদস্যরা প্রথমে স্থানীয় বিভিন্ন দোকান ও বাসা-বাড়িতে মজুত করেন। পরে তাদের সুবিধা অনুযায়ী নানাস্থানে পাচার করে থাকেন। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে এসব সিন্ডিকেট সদস্যরা একত্রে মালামালগুলো পাচার না করে ভেঙে ভেঙে বিভিন্ন গাড়িতে করে দেশের নানা স্থানে পাচার করে দেয়। সরেজমিনে কুতুপালং, বালুখালী, পালংখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও বাজার ঘুরে দেখা গেছে, রোহিঙ্গাদের দেয়া সব নিত্য প্রয়োজনীয় ত্রাণ সামগ্রী অর্ধেক দামে পাওয়া যাচ্ছে শিবিরগুলোতে। যার ফলে বাজার ছেড়ে স্থানীয়রাও রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে ত্রাণ সামগ্রী কিনছে। বাজারে এক কেজি চালের দাম ৫৫ থেকে ৭০ টাকা, সেখানে রোহিঙ্গারা ত্রাণের চাল বিক্রি করছে মাত্র ৩২-৩৫ টাকা কেজি দরে। ৬০ টাকা কেজি দরে চিনি কিনে রোহিঙ্গাদের মাঝে দেয়া হচ্ছে। রোহিঙ্গারা সেই চিনি বিক্রি করছে মাত্র ৩০ টাকায়। বাজারে প্রতি কেজি ডাল ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সেখানে রোহিঙ্গারা বিক্রি করছে ৭০ টাকায়। ১২০ টাকা লিটারের সয়াবিন তেল মাত্র ৬০ টাকায় বিক্রি করছে রোহিঙ্গারা। এছাড়া, ৫০০ গ্রাম ডানো দুধ বিক্রি করছে ১০০ টাকায়।
কুতুপালং এলাকার একাধিক মুদি দোকানদার জানান, প্রথমে যখন রোহিঙ্গারা আসা শুরু করে হঠাৎ করে আমাদের বেচা-বিক্রি বেড়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রে আমরা পণ্যের দামও বেশিতে বিক্রি করেছি। আড়তদারের কাছ থেকে মালামাল এনে যোগান দিতেও আমাদের কষ্ট হয়েছে। এখন আমাদের বিক্রি নেই বললেই চলে। স্থানীয় অনেকেই আমাদের কাছ থেকে না কিনে রোহিঙ্গাদের দিকে ঝুঁকে পড়েছে। বালুখালীতে আশ্রয় নেয়া মিয়ানমারের মেরুল্লাহ গ্রাম থেকে আসা বৃদ্ধ আবু শামা বলেন, আমার বাড়িতে অনেক ত্রাণ আছে। এখন টাকার প্রয়োজন তাই ত্রাণ বিক্রি করে দিচ্ছি। এত কম দামে বিক্রি করছেন কেন- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার টাকার প্রয়োজন। তাছাড়া, দাম কম না হলে কেউ কি কিনবে? কুতুপালং বাজারে চাল বিক্রি করতে আসা রোহিঙ্গা আবদুল মোনাফ বলেন, গত ২০ দিনে বাসায় পাঁচ বস্তাা চাল জমা হয়েছে। এত চাল আমাদের লাগবে না। প্রতিদিন চাল পাচ্ছি। তাই টাকার প্রয়োজনে দুই বস্তাা চাল ৩২ টাকা কেজি দরে বিক্রি করে দিয়েছি।
কুতুপালংয়ে ১ নং ত্রাণ কেন্দ্রে গয়ে দেখা গেছে, আবু সিদ্দিক নামের এক রোহিঙ্গা একটি চেয়ার, একটি পাটি ও একটি বালতি পেয়েছেন। ত্রাণ কেন্দ্র থেকে বের হয়ে সেসব জিনিস মাত্র ২০০ টাকায় বিক্রি করে দিচ্ছেন। এভাবে প্রতিদিন রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে বিক্রি হচ্ছে ত্রাণ সামগ্রী। আর এর সুবিধা ভোগ করছেন স্থানীয় সিন্ডিকেট সদস্যরা।

Editor in Chief : Sayed Shakil
Office: Evan plaza, sador model thana road, cox’sbazar-4700. Email: dailycoxsbazar@gmail.com / phone: 01819099070
অনুমতি ছাড়া অথবা তথ্যসূত্র উল্লেখ না করে এই ওয়েব সাইট-এর কোন অংশ, লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনী