সংবাদ শিরোনাম

বদলে যাচ্ছে ঝড়ের মাস , বসন্তেই আসছে কালবৈশাখী

মধুর বসন্ত এসেছে। ঋতুচক্রে এ মাস বরাবরই বাঙালির মনে আলাদা এক অনুভ‚তির জন্ম দিলেও ধূলি ওড়ানো পাতাঝরা শুকনো দিনগুলো খুবই ক্ষণস্থায়ী। তবে আশঙ্কার বিষয় হচ্ছে, বসন্তের আমেজে মৃদু নাড়া দিয়ে আবহমান বাংলার চিরায়ত প্রথা ভেঙে আগাম আসছে ভয়ঙ্কর ‘কালবৈশাখী’ ঝড়। এমন পূর্বাভাসই দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আবহাওয়াবিদদের মতে, সাধারণত কালবৈশাখী আঘাত হানে মার্চ-এপ্রিলে, যদিও এবার তা এগিয়ে আসছে।সার্ক আবহাওয়া কেন্দ্রের সাবেক বিজ্ঞানী আবদুল মান্নান গতকাল আমাদের সময়কে বলেন, বৈশ্বিক উষ্ণতার কারণে গত বছর আগাম বৃষ্টির সঙ্গে শিলাবৃষ্টি হয়েছে। শীতও রেকর্ড ছাড়িয়েছে। আর এবার এগিয়ে আসছে বজ্রঝড় বা কালবৈশাখী। এ মাসের শেষে বা আগামী মাসেই তা আঘাত হানতে পারে।

আবহাওয়ার দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসেও এমন শঙ্কার কথা বলা হয়েছে। তথ্য-উপাত্ত বলছে, এ মাসের প্রথম সপ্তাহেও দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের কিছু এলাকায় বয়ে যায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। কিন্তু সেই শীতল রূপে থাকছে না এ মাস। গত ১৩ ফেব্রæয়ারি শুরু হয়েছে বাংলার ঋতুরাজ বসন্ত। গাছে গাছে যেমন ফুল ফুটবে, গাছের পাতা ঝরবে, এলো নিনোর কারণে একই সঙ্গে তাপমাত্রাও বাড়তে থাকবে। ফলে চলতি মাসের দ্বিতীয়ার্ধে দেশের উত্তর, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে দুয়েক দিন শিলাবৃষ্টিসহ বজ্রঝড় হতে পারে।কিন্তু শীতকাল বিদায় নিতে না নিতেই কেন এ বজ্রঝড় আর শিলাবৃষ্টি? জানতে চাইলে আবদুল মান্নান জানান, প্রতিবছর ২২ ডিসেম্বর উত্তর গোলার্ধে দিনের ব্যাপ্তি কম থাকে। এ তারিখে রাত হয় দীর্ঘ। এর পরপরই সূর্যের অবস্থান বদলে দিন বড় হতে থাকে। সূর্য কিরণের তেজ বাড়ে। কিন্তু বৈশ্বিক উষ্ণতার কারণে এর সঙ্গে পশ্চিমা লঘুচাপ এবং পূর্বদিক থেকে বাংলাদেশ ও আশপাশের অঞ্চলের ওপর দিয়ে বাতাস বয়ে যেতে শুরু করে। পশ্চিমা লঘুচাপ ও পূর্বদিকের বাতাসের সংমিশ্রণ ঘটলে বজ্রঝড় ও শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা থাকে। তাই মার্চ মাসে এ ধরনের ঝড়-বৃষ্টির মাত্রা বৃদ্ধি পায়। তবে মধ্য ফেব্রæয়ারি থেকে বজ্রঝড়-বৃষ্টির প্রাক-প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।এ আবহাওয়াবিজ্ঞানী আরও জানান, তাপমাত্রা যত বাড়ে, ততই বাড়ে কালবৈশাখীর সম্ভাবনা। বঙ্গোপসাগরে তৈরি হয় উচ্চচাপবলয়, যা জলীয় বাষ্পকে ঠেলে নিয়ে যায় বায়ুমÐলের ওপরের স্তরে। জলীয় বাষ্প সেই গরম বাতাসের সংস্পর্শে এলে উলম্ব মেঘপুঞ্জ তৈরি হয়। এর পর জলীয় বাষ্পপূর্ণ উলম্ব মেঘপুঞ্জ এগিয়ে আসে। এক সময় তা জলীয় বাষ্প ধারণের ক্ষমতা হারিয়ে ভেঙে পড়ে। তা থেকেই জন্ম নেয় কালবৈশাখী।

Editor in Chief : Sayed Shakil
Office: Evan plaza, sador model thana road, cox’sbazar-4700. Email: dailycoxsbazar@gmail.com / phone: 01819099070
অনুমতি ছাড়া অথবা তথ্যসূত্র উল্লেখ না করে এই ওয়েব সাইট-এর কোন অংশ, লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনী