সংবাদ শিরোনাম

মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর ‘বার্তা’

মাদকের অবৈধ বিস্তার রোধে কঠোর হয়ে উঠেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সারা দেশে শুরু হওয়া র‌্যাবের বিশেষ অভিযানের প্রথম ৪ দিনে কথিত ক্রসফায়ারে শীর্ষ ৯ মাদক কারবারি নিহত হয়েছেন। তাদের দমাতে আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগ করার কথা বলছেন র‌্যাব-পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা; চাইছেন মাদক নির্মূলে নজির স্থাপন করতে। উদ্দেশ্য, এর মাধ্যমে মাদক কারবারিদের কাছে শক্তিশালী বার্তা পৌঁছে দেওয়া।এদিকে মাদকবিরোধী অভিযানে আটক ব্যক্তিদের কথিত ক্রসফায়ারে মৃত্যুর ঘটনায় সমালোচনা করছেন মানবাধিকার কর্মীরা। তারা বলছেন, মাদকচক্রের সঙ্গে জড়িতরা যত প্রভাবশালীই হোক না কেন,

তাদের গ্রেপ্তারের পর বিচারের আওতায় আনাটাই যৌক্তিক।র‌্যাব, পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর- এ তিনটি সংস্থার পক্ষ থেকে পৃথকভাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে মাদক কারবারিদের তালিকা। এ তিন তালিকার সমম্বয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নতুন একটি তালিকা তৈরি করেছে। সমন্বিত ওই তালিকা নিয়ে চলমান অভিযানে নেমেছে র‌্যাব। তবে র‌্যাব কর্মকর্তারা বলছেন, তালিকাটি হালনাগাদ করা হচ্ছে। অর্থাৎ অভিযান চলছে, চলছে তালিকা হালনাগাদও।গত ১৪ মে সংবাদ সম্মেলনে মাদকের শিকড় উপড়ে ফেলার ঘোষণা দেন র‌্যাব মহাপরিচালক (ডিজি) বেনজীর আহমেদ। এ সময় তিনি আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগের কথা জানান। মূলত তার এ ঘোষণার পরদিন থেকে সারা দেশে মাদক কারবারিদের ব্যাপক ধরপাড়ক শুরু করে র‌্যাব। ১৫ মে থেকে গতকাল পর্যন্ত অন্তত ৯ মাদক কারবারি নিহত হয়েছেন র‌্যাবের ক্রসফায়ারে। সর্বশেষ গতকাল শনিবার ভোরে যশোরের অভয়নগরে তিন মাদক কারবারি র‌্যাবের সঙ্গে গোলাগুলিতে নিহত হন।মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন আমাদের সময়কে বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আইনের মধ্যে থেকেই এর সর্বোচ্চ প্রয়োগ ঘটাবে বলে আমরা প্রত্যাশা করছি। কোনো অবস্থাতেই জান-মালের ক্ষতি করে ভয়ার্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি করাকে ভালো কিছু বলা যায় না।এদিকে গত ১৩ দিনে সারা দেশে ২ হাজার ২৭১ মাদক কারবারি ও মাদক গ্রহণকারীকে সাজা দিয়েছেন র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। গত বছরের ৩০ এপ্রিল থেকে গতকাল পর্যন্ত ৬ হাজার ৬১৫ মাদক কারবারিকে আটক করেছে র‌্যাব। এ সময়কালে প্রায় ৩১৫ কোটি টাকার মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে। সূত্র মতে, বর্তমানে জেলা প্রশাসনের সহায়তায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছে র‌্যাব। প্রয়োজনে অন্যান্য সংস্থাকেও এতে যুক্ত করা হবে।র‌্যাব কর্মকর্তারা বলছেন, বিশেষ অভিযান কতদিন চলবে, তা নির্দিষ্ট করা হয়নি। পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে পরবর্তীকালে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। তারা বলছেন, যতদিন মাদকের বিস্তার রোধে পরিস্থিতি সন্তোষজনক মনে না হবে, ততদিন অভিযান চলবে।র‌্যাবের সঙ্গে গোলাগুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনাগুলো ঘটেছে নারায়ণগঞ্জ, কুষ্টিয়া, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, চট্টগ্রাম ও যশোর জেলায়। দেশের সব জেলায় সমন্বিত অভিযান শুরু করেছে র‌্যাব। মাদকের জন্য বিশেষভাবে আলোচিত কক্সবাজার, কুমিল্লা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, যশোর, সাতক্ষীরা, ফেনীর মতো জেলাগুলোয় বিশেষ অভিযানের পরিকল্পনা রয়েছে র‌্যাবের।এ বিষয়ে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান আমাদের সময়কে বলেন, র‌্যাব সবসময়ই মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপট বিবেচনায় বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। আইন অনুযায়ী মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে যা যা করা যায়, এর সবই করবে র‌্যাব। তিনি বলেন, অভিযানের নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়নি।পুলিশ সূত্র জানায়, আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী পুলিশের সব ইউনিটকে ইতোমধ্যেই মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন। ওই অনুযায়ী ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশসহ বাহিনীটির সব ইউনিট মাদক কারবারিদের গ্রেপ্তারে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে বলা হয়েছে, মাদক কারবারি গ্রেপ্তার ও মাদকদ্রব্য জব্দের ওপর ভিত্তি করে পুলিশের সংশ্লিষ্ট ইউনিট এবং কর্মকর্তা ও সদস্যদের পুরস্কৃত করা হবে।অন্যদিকে মাদক কারবারে যুক্ত থাকার অভিযোগ আছে পুলিশের যেসব কর্মকর্তা ও সদস্যদের বিরুদ্ধে, তাদের বিশেষ নজরদারির আওতায় আনা হচ্ছে। কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসায় যুক্ত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা রয়েছে আইজিপির।

Editor in Chief : Sayed Shakil
Office: Evan plaza, sador model thana road, cox’sbazar-4700. Email: dailycoxsbazar@gmail.com / phone: 01819099070
অনুমতি ছাড়া অথবা তথ্যসূত্র উল্লেখ না করে এই ওয়েব সাইট-এর কোন অংশ, লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনী