সংবাদ শিরোনাম

এরপরও এ এক খুশির যাত্রা

এ এক অন্যরকম যুদ্ধ। আছে দুর্ভোগ, আছে বিড়ম্বনা, পদে পদে নানা ঝক্কি-ঝামেলা, জাঁকিয়ে ধরা ক্লান্তি, এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে আছে জীবনের ঝুঁকিও। এসব কিছু মেনে নিয়েই যুদ্ধে নেমেছে অসংখ্য মানুষ। কারণ এত এত ত্যাগের পরও যে সুখের সন্ধান মেলে, তাতে মুছে যায় সব ক্লান্তি আর যন্ত্রণা। টিকিট কেনা থেকে শুরু, এর পর কর্মস্থল থেকে ছুটি নেওয়া, প্রয়োজনীয় কেনাকাটা সারা, গন্তব্যের উদ্দেশ্যে পথে নামা এবং পদে পদে নানা দুর্ভোগ পেরিয়ে শেষে পাওয়া যায় প্রিয়জনের সান্নিধ্য। সেই সান্নিধ্যই তাদের লক্ষ্য, তাদের প্রাপ্তি। এই প্রাপ্তির জন্যই ছুটছে মানুষ। ছুটছে নাড়ির টানে।

বাস, ট্রেন, লঞ্চে তিলধারণের ঠাঁই মিলছে না। রাজধানীর আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন, সদরঘাট নৌবন্দরসহ সর্বত্রই গতকাল ছিল গ্রামমুখী মানুষের ঢল। দক্ষিণাঞ্চলের ঘরমুখো মানুষের পদচারণায় তিল পরিমাণ ঠাঁই নেই রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ

টার্মিনালে। গতকাল দুপুরে লঞ্চ টার্মিনালে গিয়ে দেখা গেছে ঘাটে ভেড়ার সঙ্গে সঙ্গে মুহূর্তেই ভরে যাচ্ছে লঞ্চ। যাত্রীদের ভিড়ে নির্ধারিত সময়ের আগেই গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা করছে তারা। কেবিন থেকে শুরু করে ডেক, ছাদ এমনকি সিঁড়িতেও বিছানা করে শুয়ে-বসে যাচ্ছেন সাধারণ যাত্রীরা। বেশিরভাগ লঞ্চ অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে ঢাকা নদীবন্দর ত্যাগ করেছে।

বিআইডাব্লিউটিএর যুগ্ম পরিচালক (বন্দর) একেএম আরিফ উদ্দিন বলেন, কোনো লঞ্চকেই অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে যাত্রা করতে দেই না। লঞ্চ ভরে গেলেই ছেড়ে যেতে বলা হয়। তিনি জানান, অন্যান্য দিনের তুলনায় যাত্রীদের চাপ অনেক বেশি। এ কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই যাত্রী নিয়ে লঞ্চগুলো ছাড়ছে। গতকাল সদরঘাট থেকে প্রায় ১৮০টি লঞ্চ ছেড়েছে।

ট্রেন-বাসের ছাদেও এখন তিলধারনের ঠাঁই নেই। ঈদের ট্রেনের যাত্রা শুরু হয় গত রবিবার থেকে। আগামীকাল শুক্রবার পর্যন্ত ট্রেনের আগাম টিকিট সংগ্রহকারীরা গন্তব্যে ছুটবেন। টিকিট নিয়ে গতকাল সকাল থেকেই রাজধানীর কমলাপুর, বিমানবন্দর, ক্যান্টনমেন্ট রেলস্টেশন জড়ো হন উত্তরাঞ্চল, পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ। যাদের অগ্রিম টিকিট ছিল না তারাও আসনবিহীন টিকিটে বগির ভেতরে গাদাগাদি কিংবা ঝড়-বৃষ্টির শঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে ছাদে চড়েছেন। লাখো ঘরমুখো মানুষের ভিড়। আছে জীবনের ঝুঁকিও। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিমানবন্দর রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্মে ট্রেনে কাটা পড়ে সোহেল রানা নামে এক যাত্রীর পা বিচ্ছিন্ন হয়। তার বাড়ি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে।

ভোর থেকেই লাগেজ-ব্যাগেজ আর ঈদযাত্রীর ভিড়ে তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না কমলাপুর রেলস্টেশনে। নির্ধারিত সময়ে ট্রেন আসা এবং ছাড়তে না পারায় এ অপেক্ষার প্রহর ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছিল। উত্তরাঞ্চলের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি কমলাপুর থেকে সকাল ৮টায় ছেড়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু সকাল সোয়া ৯টা পর্যন্ত ট্রেনটি স্টেশনেই এসে পৌঁছায়নি। সবশেষ ৯টা ৫৫ মিনিটে গন্তব্যে ছুট দেয় নীলসাগর।

কমলাপুর স্টেশনের ম্যানেজার সিতাংশু চক্রবর্তী বলেন, শিডিউল ভঙ্গের মূল কারণ অতিরিক্ত যাত্রীর উঠা-নামায় বেশি সময় লাগে। যে কারণে ঠিকমতো ট্রেন পৌঁছাতে পারে না, আবারও আসতে পারে না। এর পরও আমরা ট্রাফিক শিডিউল মেনে চলার চেষ্টা করছি।

সময়মতো ট্রেন-লঞ্চ ছেড়ে গেলেও দূরপাল্লার বাস ছাড়তে বিলম্ব ছিল। গন্তব্যে পৌঁছাতে সকাল থেকেই বাসের জন্য গাবতলী, মহাখালী ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে ছিল অসংখ্য যাত্রী। যেসব সড়কে খানাখন্দ আছে, সেখানে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের। বিশেষ করে ঢাকা-টাঙ্গাইল, ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছে। এ তিন মহাসড়কে যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছতে নির্ধারিত সময়ের চেয়েও বেশি সময় লাগছে।

 

Editor in Chief : Sayed Shakil
Office: Evan plaza, sador model thana road, cox’sbazar-4700. Email: dailycoxsbazar@gmail.com / phone: 01819099070
অনুমতি ছাড়া অথবা তথ্যসূত্র উল্লেখ না করে এই ওয়েব সাইট-এর কোন অংশ, লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনী