সংবাদ শিরোনাম

তারপরও আমরা তামাশায় যাচ্ছি : মির্জা ফখরুল

দেশে নির্বাচন ব্যবস্থা আর নেই উল্লেখ করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘এটা এখন খেলা খেলা, তামাশা চলছে। তারপরও আমরা তামাশায় যাচ্ছি। জনগন চায় আমরা যাই, জনগণ চায় তাদেরকে আমরা উন্মোচিত করি। এটা মনে রাখতে হবে এই যাওয়াটাই স্থায়ী নয়।’

আজ বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের উদ্যোগে খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা ও মুক্তি দাবিতে মানববন্ধনে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন। এতে শিক্ষক, প্রকৌশলী, চিকিৎসক, কৃষিবিদ, আইনজীবী, সাংস্কৃতিক কর্মী, সাংবাদিকসহ পেশাজীবীরা  অংশ  নেন।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘রাজশাহীতে বুলবুলের (ধানের শীষের প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল) মিটিংয়ে বোমা মারল। তারপর সাথে সাথে সংবাদ সম্মেলন করে তারা (ক্ষমতাসীন দল) বলছে, এটা আমরা মারিনি। এটা প্রমাণ করে আপনারাই মেরেছেন।’

দেশে মানুষ রুখে দাঁড়াতে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, ‘আমরা ঐক্য চাই, বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারকে ফিরিয়ে  দেওয়ার জন্য একটি নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে, নির্বাচন কমিশনের অধীনে আমরা একটা সুষ্ঠু নির্বাচন চাই।  যা দিয়ে জনগণ পরবর্তী সরকার গঠন করবে এবং সংকটের সমাধান হবে।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের ভোল্টে সোনা অনিয়মের প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘দুর্নীতির কোন পর্যায়ে সরকার গেছে। এর আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বহু টাকা হ্যাকিং করে নিয়ে চলে গেল তার প্রতিবেদনটা আজ পর্যন্ত প্রকাশিত হয়নি। বাংলাদেশকে আপনারা অর্থনীতির দিক থেকে সম্পূর্ণ ফোকলা করে দিয়েছেন, মাইক্রো ইকোনোমি সিষ্টেমকে আপনারা শেষ করে দিয়েছেন।’

দেশের অর্থনীতির চিত্র তুলে ধরে বিএনপির জ্যেষ্ঠ এই নেতা বলেন, ‘মিথ্যা বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করে, আন্তর্জাতিক বিশ্বকে বিভ্রান্ত করে তারা একটা ধোঁয়া তুলেছেন। তার প্রমাণ হচ্ছে- প্রতিদিন এখানে রেমিটেন্স কমছে, প্রতিদিন বিনিয়োগের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। একটাও বেসরকারি বিদেশি বিনিয়োগ এই সরকার আনতে পারে নাই।’

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নার দুর্নীতি বিরোধী ক্যাম্পেইন প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তিনি (মান্না) বলেছেন প্রতিমাসে এখানে লাখ, হাজার কোটি টাকা পাঁচার হয়ে যাচ্ছে। এই টাকা  কোথা থেকে আসছে? এখন আপনাদের বিদেশে সকলের বাড়ি তৈরি হচ্ছে। সুইস ব্যাংকের একাউন্ট বাড়ছে। কী রেখেছে এদেশের জন্যে?’

দেশের মানবাধিকার ও বিচারবর্হিভুত হত্যাকাণ্ড নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া দেওয়া সম্প্রতিক বক্তব্যকে হাস্যকর বলে অভিহিত করেছেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, এখানে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয় না, এক্সট্রা জুডিশিয়াল কিলিং হয় না- এটা শুনে মানুষ হাসবে।’

বৃটিশ মানবাধিকার প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে ফখরুল বলেন, ‘গতকাল (মঙ্গলবার) এই প্রতিবেদনটি বেরিয়েছে। সেখান পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে বিচারবর্হিভুত হত্যা বেড়েছে, গুম বেড়েছে, হত্যা বেড়েছে এবং রাজনৈতিক নির্যাতন বেড়েছে। প্রতিবেদন বলা আছে, মিডিয়ার ওপরে চাপ আগের চেয়ে অনেক বেশি বেড়েছে। এসব কথা একটাও মিথ্যা নয়। প্রত্যেকটি আন্তর্জাতিক সংস্থা, বিদেশি সংস্থা থেকে পরিষ্কার করে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশে ক্রমশই গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের  স্পেস সংকোচিত হয়ে আসছে।’

কোটা নিয়ে অথবা বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে বিএনপি কোনো রাজনীতি করছে না বলে দাবি করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘দেশের জনপ্রিয় নেতা তিন বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে নির্জন কারাগারে আটকিয়ে রেখে তাকে কোনো চিকিৎসা  সেবা পর্যন্ত দিচ্ছেন না।’

সংগঠনের সদস্য সচিব অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেনের পরিচালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য দেন— ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষক ড. আখতার হোসেন খান, সাংবাদিক নেতা রুহুল আমিন গাজী, শওকত মাহমুদ, সৈয়দ আবদাল আহমেদ, শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের অধ্যক্ষ সেলিম ভুঁইয়া, জাকির হোসেন, সাংবাদিক কাদের গনি চৌধুরী প্রমুখ।

Editor in Chief : Sayed Shakil
Office: Evan plaza, sador model thana road, cox’sbazar-4700. Email: dailycoxsbazar@gmail.com / phone: 01819099070
অনুমতি ছাড়া অথবা তথ্যসূত্র উল্লেখ না করে এই ওয়েব সাইট-এর কোন অংশ, লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনী