সংবাদ শিরোনাম

বার বার মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছি, পিছিয়ে যাইনি : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘স্বজন হারানোর বেদনা নিয়ে আমাকে চলতে হয়। আমি জানি, আমার চলার পথ কখনোই খুব সহজ নয়। বারবার মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হয়েছে। কিন্তু পিছিয়ে যাইনি। পিছিয়ে যাওয়ার চেষ্টাও করিনি। দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য যা যা করণীয়  সেটাই করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।আজ মঙ্গলবার বিকেলে গণভবনে এক অনুষ্ঠানে রাখা বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে ‘সাসেক সড়ক সংযোগ প্রকল্প : জয়দেবপুর-চন্দ্রা-টাঙ্গাইল-এলেঙ্গা সড়ক (এন-৪) ৪-লেন মহাসড়কে উন্নীতকরণ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় নির্মিত ২৩টি সেতু ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ফেনী  জেলায় ফতেহপুর রেলওয়ে ওভারপাস উদ্বোধন উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমার সব সময় একটা জিনিস মনে হয়। এদেশের মানুষের সুখ-সুবিধার জন্য যদি একটু ছোট কাজও করতে পারি, তাহলে আমার আব্বার আত্মা তো অন্তত শান্তি পাবে। নিশ্চয়ই তিনি একটু স্বস্তি পাবেন। এটা আমার উপলব্ধি।’এ ক্ষেত্রে দেশবাসীসহ সবার সহযোগীতা পাওয়ার প্রতি কৃতজ্ঞতার কথা স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আজকে আমরা সড়ক এবং সংযোগ সেতুগুলো করতে পারছি। এর ফলে আজকে শুধু বাংলাদেশ না, বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের একটা দ্বার উন্মোচিত হল।’দেশ স্বাধীনের পর বঙ্গবন্ধুর আঞ্চলিক ও উপআঞ্চলিক সহযোগিতার কথাটি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা এই দক্ষিণ এশিয়ার উপআঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতার একটি ক্ষেত্র তৈরি করেছি। এটা ‘সাসেক’ হিসেবে পরিচিত। এই সাসেকের আওতায় একটা উপআঞ্চলিক যোগাযোগ তৈরি করা যার মধ্য দিয়ে আমাদের দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নতি হবে। দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন হবে।  সেই সাথে আমাদের উপআঞ্চলিক সহযোগিতার মাধ্যমে শুধু বাংলাদেশ না, বাংলাদেশের সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ার  দেশগুলোরও উন্নতি হবে। এই উন্নয়নের আমাদের দেশের গ্রাম অঞ্চলের  মানুষ পাবে।”১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বাবা শেখ মুজিবুর রহমানকে হারানোর কথা স্মরণ করতে গিয়ে কণ্ঠ ভারি হয়ে আসে প্রধানমন্ত্রীর। এরপর বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে মাত্র সাড়ে তিন বছরে যুদ্ধবিধস্ত বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়ার দিকগুলোও তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘পরাজিত শক্তিরা কখনো বসে থাকেনি। তাদের ষড়যন্ত্র অব্যাহত থাকে। তারা যখন দেখতে পেল, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। অর্থনৈতিকভাবে বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে। তখনই চরম আঘাত হানল ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট। এই আঘাত শুধু যে রাষ্ট্রপতিকে হত্যা করেছিল তা নয়। সাথে সাথে একটি পরিবারকে তারা শেষ করে দিল। তাদের একটিই উদ্দেশ্য ছিল-এই রক্তের কেউ যেন আর কখনো আসতে না পারে। আর তাকে ঘিরে বাংলার মানুষ যেন ঘুরে দাঁড়াতে না পারে।’আওয়ামী লীগ সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশে ফিরে আসলে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাড়িতে তৎকালীন সরকার ঢুকতে দেয়নি উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি জানি আমার বাবার লক্ষ্য ও স্বপ্নটা কি ছিল? ১৫ আগস্ট যখন তাকে কেড়ে নেওয়া হল, তখন থেকে এদেশের মানুষের ভাগ্য আর পরিবর্তন হয়নি। সেজন্য আমার আমার জীবনের একটাই লক্ষ্য স্থির করে নিলাম, যে করেই হোক এদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে হবে।’বক্তব্য শেষে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রকল্পগুলো উদ্ধোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। উদ্বোধনের পর জয়দেবপুর-চন্দ্রা-টাঙ্গাইল-এলেঙ্গা মহাসড়কের চার  লেন প্রকল্পের আওতায় ২৩টি ব্রিজ যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।অনুষ্ঠানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন-আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ।

Editor in Chief : Sayed Shakil
Office: Evan plaza, sador model thana road, cox’sbazar-4700. Email: dailycoxsbazar@gmail.com / phone: 01819099070
অনুমতি ছাড়া অথবা তথ্যসূত্র উল্লেখ না করে এই ওয়েব সাইট-এর কোন অংশ, লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনী