সংবাদ শিরোনাম

অলির ঘাঁটিতে আ.লীগের হানা!

চট্টগ্রাম-১৪ আসন এবং লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নাম যেন মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। এই বক্তব্য এলাকার মানুষের। বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোট নির্বাচনে আসছে কি না, তার ওপর নির্ভর করছে অলি আহমদের প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয়টি। কিন্তু তাঁর দুর্গে চষে বেড়াচ্ছেন আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী চার নেতা।

এই আসনে এলডিপির প্রধান অলি আহমদ পাঁচবার বিএনপির হয়ে ও সবশেষ ২০০৮ সালে এলডিপি থেকে নির্বাচন করেন। ছয়বারই জয়ী হন। ২০০৮ সালে তাঁকে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দুই প্রার্থীকে মোকাবিলা করতে হয়।

নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে অলি আহমদ প্রথম আলোকে বলেন, খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সামনের সময়ে কী হবে, তা একমাত্র মহান আল্লাহ তায়ালা বলতে পারেন। দেশ কঠিন সংকটের মধ্যে আছে।

ভোটারদের অভিমত, দু-চার দিনের প্রস্তুতিতে নির্বাচন করার ক্ষমতা আছে অলি আহমদের। এলাকায় সাংগঠনিক কাঠামো সেভাবে তৈরি করেছেন তিনি।

চন্দনাইশের দোহাজারী স্টেশন সড়কের তাহসিন গার্মেন্টস নামের একটি দোকানের মালিক ইমাম হোসেনের মন্তব্য, আওয়ামী লীগের বর্তমান সাংসদ নজরুল ইসলাম চৌধুরী ভদ্র মানুষ। উন্নয়নও করেছেন। কিন্তু সংসদে আরও স্মার্ট লোকের প্রয়োজন। তাঁর তুলনায় কর্নেল অলি অনেক স্মার্ট।

এলডিপি ২০-দলীয় জোটের শরিক সংগঠন। তবে এই জোটে বিএনপি থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী মহসিন জিল্লুর করিম। পেশায় চিকিৎসক। তিনি কেন্দ্রীয় বিএনপির পরিবারকল্যাণ সম্পাদক। ২০১০ সালে তিনি খালেদা জিয়ার হাতে ফুল দিয়ে বিএনপিতে যোগ দেন। তখন থেকেই এলাকায় যোগাযোগ রাখছেন। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমানের ছোট ভাই তিনি। মহসিন জিল্লুর করিম প্রথম আলোকে বলেন, ‘২০১০ সাল থেকে এলাকার মানুষের জন্য কাজ করছি। আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন না পাওয়ার কারণ দেখছি না। আমি বিএনপির একমাত্র প্রার্থী।’

 

আ.লীগের চারজন মাঠে

২০১৪ সালে বিএনপির নেতৃত্বে ২০-দলীয় জোট নির্বাচন বর্জন করলে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পান নজরুল ইসলাম চৌধুরী। একতরফা নির্বাচনে তিনি সাংসদ হন। তাঁকে চ্যালেঞ্জ জানাতে মাঠে নেমেছেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, চন্দনাইশ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম এবং গাছবাড়িয়া সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এবং রিহ্যাব চট্টগ্রামের সভাপতি আবদুল কৈয়ুম চৌধুরী।

সাংসদ নজরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘চন্দনাইশের সব ভালোর সঙ্গে আমি আছি। উন্নয়নকাজ করে এলাকার লোকজনের কাছে গ্রহণযোগ্যতা প্রমাণ করেছি। আওয়ামী লীগ বড় সংগঠন। অনেকেই মনোনয়ন চাইবেন। তবে নৌকার জন্য আমরা ঐক্যবদ্ধ।’

দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমানের গ্রামের বাড়ি সাতকানিয়ার খাগরিয়া ইউনিয়নে। ইউনিয়নটি চট্টগ্রাম-১৪ আসনের অন্তর্ভুক্ত। তিনি চট্টগ্রাম নগর ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। তিনিও মনোনয়ন চাইবেন বলে জানান।

অলি আহমদের প্রতিবেশী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম। কাছাকাছি অবস্থানে দুজনের বাড়ি। এখানে একচেটিয়া ভোট পেয়ে আসছিলেন অলি আহমদ। কিন্তু জাহিদুল আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেলে ভোট ভাগাভাগি হতে পারে বলে অনেকের ধারণা।

উপজেলা সদরের বাসিন্দা শাহাদাত হোসেন বলেন, আগে শুধু কর্নেল অলির লোকজন দেখতাম। এখন জাহিদুলের দৌড়ঝাঁপ দেখে মনে হচ্ছে, এলডিপির বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ দাঁড়াতে পারবে। এ প্রসঙ্গে জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘পাড়ায় পাড়ায় যাচ্ছি। মানুষের মনোভাব বোঝার চেষ্টা করছি। অলির দুর্গে আওয়ামী লীগ ফাটল ধরাতে পেরেছে। চন্দনাইশ এখন অলির নয়, আওয়ামী লীগের।’

রিহ্যাব চট্টগ্রামের সভাপতি আবদুল কৈয়ুম চৌধুরী অনেক আগেই বিলবোর্ডে প্রচার শুরু করে দিয়েছেন। ছাত্রলীগের সাবেক নেতা হিসেবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা আছে। আওয়ামী লীগের কোনো পদে নেই তিনি। তিনি বলেন, ‘ছাত্ররাজনীতি করেছি দীর্ঘদিন। এখন ব্যবসা করলেও রাজনীতির মধ্যে আছি। আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন চাইব।’

Editor in Chief : Sayed Shakil
Office: Evan plaza, sador model thana road, cox’sbazar-4700. Email: dailycoxsbazar@gmail.com / phone: 01819099070
অনুমতি ছাড়া অথবা তথ্যসূত্র উল্লেখ না করে এই ওয়েব সাইট-এর কোন অংশ, লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনী