সংবাদ শিরোনাম

থামানো যাচ্ছে না ইয়াবা পাচার, গডফাদাররা আড়ালেই থাকছে

উখিয়া-টেকনাফের চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীরা আগের যে কোন সময়ের তুলনায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। মৃত্যুদণ্ডের মতো ভয়ংকর সাজাকেও তারা পরোয়া করছেনা। গডফাদাররা পর্দার অন্তরালে থাকায় মূল হোতারা ধরা পড়ছেনা। আবার অনেকেই গ্রেফতার এড়াতে দেশ ছেড়েছে।

মাদকবিরোধী অভিযানেও ইয়াবার রমরমা বাণিজ্য নিয়ে জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার দাবী, তারা চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পৃথক অভিযান চালিয়ে ৫৪ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে। আটক করেছে ৬৫৮ জন পাচারকারীকে।

উখিয়ার সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচার ও সেবন প্রতিরোধে যুবসমাজ নিয়ে গড়ে উঠা সংগঠন পূর্বাঞ্চলীয় মাদক ও চোরাচালান নির্মূল কমিটির সভাপতি এটি এম রশিদ ও সাধারণ সম্পাদক রাসেল উদ্দিন সুজন জানান, তারা সীমান্তের চিহ্নিত স্পটে পাহারা দেওয়ার কারণে পাচারকারীরা রুট পরিবর্তন করেছে। আমতলী সীমান্ত দিয়ে মাদক না আসলেও রোহিঙ্গাদের ব্যবহার করে এলাকার ক্ষতিপয় প্রভাবশালী ইয়াবা পাচার করছে।

কক্সবাজার র‌্যাব-৭ এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর মেহেদী হাসান সাংবাদিকদের জানান, ইয়াবা পাচারকারী সিন্ডিকেট আত্মরক্ষার জন্য অনেক সময় ভয়ংকর অস্ত্র বহন করে মাদক পাচার করে থাকে। যে কারণে ইয়াবার চালান উদ্ধারের সময় পাচারকারীদের সাথে বন্ধুকযুদ্ধের মতো ঘটনা ঘটে থাকে। তিনি বলেন, চলতি মাসের জুন মাস থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সড়ক পথের বিভিন্ন যানবাহন ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৬ লাখ ৭১ হাজার ৮৬৮ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। এসময় আটক করা হয়েছে ১৫৮ জন পাচারকারীকে।

টেকনাফ থানার অফিসার ইনচার্জ রনজিৎ কুমার বড়ুয়া জানান, ইয়াবা পাচারের ট্রানজিট পয়েন্ট হচ্ছে টেকনাফ। বিস্তীর্ণ নদীমাতৃক জল সীমান্ত পথ দিয়ে বিভিন্ন কায়দায় ইয়াবার চালান আসে।
তিনি বলেন, বেশির ভাগ চালান পুলিশ ঝুঁকি নিয়ে উদ্ধার করলেও মাদক ব্যবসায়ীদের ধরা যাচ্ছে না। তবে জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত টেকনাফ থানা পুলিশ ৩০ লাখ পিস ইয়াবাসহ ১৪০ জন পাচারকারীকে হাতেনাতে আটক করেছে।

উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আবুল খায়ের বলেন, সীমিত সংখ্যক লোকবল নিয়ে ভিআইপি প্রটোকল, এলাকার আইনশৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি অতিরিক্ত খাটুনি করে পুলিশ জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ৩ লাখ ৮১ হাজার পিস ইয়াবাসহ ১২৬ জনকে আটক করেছে।
শাহ পরীরদ্বীপ হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ রাজেশ বড়ুয়া জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিভিন্ন যানবাহনে অভিযান চালিয়ে গত ৩ মাসে ৩ লাখ পিস ইয়াবাসহ প্রায় ২৫ জন পাচারকারীকে আটক করা হলেও মূল হোতাদের পাওয়া যায়নি। যেহেতু তারা পর্দার আড়ালে থেকে যানবাহনের চালক হেলপারকে মোটা অংকের লোভ দেখিয়ে ইয়াবার চালান পাচারের চেষ্টা করে।

উখিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার ভুমি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. একরামুল ছিদ্দিক জানান, ইয়াবা পাচার ও সেবন আগের যে কোন সময়ের তুলনায় বেড়েছে। ইয়াবা সেবন করে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই ও পিতা  মাতাকে মারধর করে টাকা পয়সা ও বাড়ীর মূল্যবান মালামাল ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ৩৬৭ জন যুবককে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

মেরিনড্রাইভ সড়কের রেজু চেকপোস্টের বিজিবি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রোববার বিকাল ৪টার দিকে কক্সবাজারগামী একটি সিএনজি গাড়ীতে তল্লাশি চালিয়ে পাবনা সুজানগর ভবানিপুর গ্রামের জালাল হাজারী (৫০), মো. আশিক (২১), মনিরুল ইসলাম (২৬), আশায় আলী মিয়া (৩৫) সহ ৪ জনকে ইয়াবাসহ আটক করে উখিয়া থানা পুলিশের নিকট সোপর্দ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যে পরিমাণ ইয়াবা ধরা পড়ছে তার অন্তত দশগুণ নিরাপদে পাচার হয়ে যাচ্ছে। মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী এলাকায় গড়ে উঠা অর্ধ-শতাধিক ছোট-বড় কারখানায় উৎপাদিত ইয়াবা ঠেলে দেয়া হচ্ছে এদেশে। সাগর, পাহাড় আর সড়ক পথে ইয়াবার চালান আসছে বানের পানির মত। চোরাচালানী সিন্ডিকেটের হাত হয়ে এসব নেশার ট্যাবলেট ছড়িয়ে পড়ছে সারাদেশে। এক সময় এই ট্যাবলেট উচ্চবিত্তের বখে যাওয়া ছেলে-মেয়েদের নাগালের মধ্যে থাকলেও এখন এটি অনেক সহজলভ্য। শহরের বস্তি এমনকি পল্লী গাঁয়েও মিলছে ইয়াবা ট্যাবলেট। পাচারের সময় বড় বড় চালান ধরাও পড়েছে। গত ৫ বছরে কোটি কোটি টাকার ইয়াবা ট্যাবলেট আটক করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এবং র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মারা গেছে অনেক ইয়াবা ব্যবসায়ী। গ্রেফতার হয়েছে অনেকে। কিন্তু এরপরও বন্ধ হয়নি ইয়াবা পাচার।

Editor in Chief : Sayed Shakil
Office: Evan plaza, sador model thana road, cox’sbazar-4700. Email: dailycoxsbazar@gmail.com / phone: 01819099070
অনুমতি ছাড়া অথবা তথ্যসূত্র উল্লেখ না করে এই ওয়েব সাইট-এর কোন অংশ, লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনী