সংবাদ শিরোনাম

মহেশখালীর সুখ-দুঃখ ও পর্যটন সম্ভাবনা

ড. মুহাম্মদ নুরুল আবছার :

সাগর তনয়া মহেশখালী বাংলাদেশের একমাত্র পাহাড়ি দ্বীপ। বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ লীলাভূমি কক্সবাজার শহরের উত্তর- পশ্চিম কোণায় ৫/৬ কি: মি: দূরত্বে স্ব-মহিমায় দণ্ডায়মান এ দ্বীপাঞ্চল। বাঁকখালী নদীর কিছু অংশ এবং বঙ্গোপসাগরের মহেশখালী চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যেতে হয় মহেশখালী। আবার চকরিয়া উপজেলার বদরখালী-মহেশখালী সংযোগ ব্রিজ হয়ে সড়ক পথেও যাওয়া যায় মহেশখালী। সনাতন ধর্মীয় পুরোহিতদের মতে মহাদেব মহেশের নামানুসারে মহেশখালীর নামকরণ। ভূ-তাত্ত্বিকদের মতে মহেশখালী মূলত: কোন দ্বীপ ছিল না, কোন মহা প্রাকৃতিক পরিবর্তন বা দুর্যোগের কারণে মূল ভূখ- হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে এ দ্বীপের সৃষ্টি। টেকনাফ হতে সিলেট পর্যন্ত দেশের পূর্বাঞ্চলে টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহের অবিচ্ছেদ্য অংশই দ্বীপ মহেশখালীর দক্ষিণ থেকে উত্তর জুড়ে অবস্থিত। যেখানে রয়েছে মুসলিম, হিন্দু ও রাখাইন সম্প্রদায়ের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের সংমিশ্রণে বাঙ্গালী জাতিসত্তার এক অপূর্ব সম্মিলন। মহেশখালীতে রয়েছে হিন্দু সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন তীর্থস্থান আদিনাথ মন্দির ও সু-উচ্চ আদিনাথ পাহাড়। আদিনাথ পাহাড় ও মন্দির নিয়ে রয়েছে বহু জনশ্রুতি। তরুণ কবি নিলয় রফিকের ভাষায়:
“রাবণের যাত্রা বিরতি মৈনাক পাহাড়ে
কালের বিবর্তন রূপে ঝলসায়,…
গাভীর পেছনে ছুটতে ছুটতে দুধের জলসায়
ভেসে উঠে পাথর, কালো পাথর।
রূপক কাহিনি গাঁথা শিবলিঙ্গ
পুরাণ থেকে নাথ, আদিনাথ।” (আদিনাথ; বিশুদ্ধ বিষাদে ভাসি আমি রাজহাঁস, পৃ.৯)


শিব চতুর্দশী পূজা উপলক্ষে এখানে আগমন করে থাকেন দেশ-বিদেশের হাজারো ভক্ত। দেশের মূল ভূখ- থেকে বিছিন্ন জনপদ মহেশখালী শিক্ষা-দীক্ষায় এগিয়ে যাচ্ছে ধীর পায়ে। স্কুল-কলেজ, কাওমী ও আধা-সরকারি মাদ্রাসাসমূহের পাশাপাশি অবরোধবাসিনী নারী সমাজকে যুগোপযোগী শিক্ষায় শিক্ষিতকরণের লক্ষ্যে গড়ে উঠেছে বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, বালিকা মাদ্রাসা ও মহিলা কলেজ। জাতিরজনক বঙ্গবন্ধুর নামে প্রতিষ্ঠিত “বঙ্গবন্ধু মহিলা কলেজ” নারী শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। দ্বীপাঞ্চলের নারী শিক্ষার একমাত্র উচ্চ বিদ্যাপীঠ হিসেবে তাকে সরকারীকরণ এখন সময়ের দাবি। মহেশখালী কলেজে চালু করা হয়েছে অনার্স কোর্স। আলমগীর ফরিদ টেকনিক্যাল এন্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজ; কারিগরী শিক্ষা বিস্তারে অভূতপূর্ব অবদান রাখছে। উত্তর মহেশখালীর হোয়ানক কলেজ হাঁটি-হাঁটি-পা-পা করে এগিয়ে যাচ্ছে সম্মুখপানে। মহেশখালী লিডারশিপ ইউনিভার্সিটি কলেজ এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ এবং উচ্চতর আধুনিক শিক্ষার এক নতুন হাতছানি। মহেশখালীতে রয়েছে ১টি ফাজিল মাদ্রাসা, একাধিক আলিম মাদ্রাসা ও দাওরায়ে হাদিস পর্যন্ত একাধিক কাওমী মাদ্রাসাসহ অসংখ্য উচ্চতর দ্বীনি প্রতিষ্ঠান। রয়েছে প্রাচীন ও আধুনিক স্থাপত্য শৈলীর অসংখ্য মসজিদ, মন্দির ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের দৃষ্টি নন্দন ক্যাং। মহেশখালী প্রাকৃতিকভাবে চমৎকার ভৌগোলিক সৌন্দর্য নিয়ে গঠিত ও অবস্থিত। বলতে গেলে এমন দ্বীপমালা পৃথিবীতে বিরল। আয়তনের দিক থেকে মালদ্বীপ, সিঙ্গাপুর এবং হংকং এর প্রায় কাছাকাছি। মহেশখালীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো চারপাশে সমুদ্র ও জলরাশি, যেন ভাসমান বিশাল এক জাহাজ বহর আর উত্তর-দক্ষিণ লম্বা ও উঁচু পর্বতমালা, মনে হয় যেন জাহাজ বহরের সু-উচ্চ পাল। কাছ থেকে আর দূর থেকে যেখান থেকে দেখুন না কেন সমুদ্র ঘেঁষে উঁচু পাহাড় যে কোনো প্রকৃতিপ্রেমী ও নান্দনিক দৃষ্টি সম্পন্ন মানুষকে অনায়াসেই আকৃষ্ট করবে। মহেশখালীর বিখ্যাত মিষ্টি পান, দেশ-বিদেশে যার রয়েছে যথেষ্ট চাহিদা ও সমান জনপ্রিয়তা। তাইতো চট্টগ্রামের আঞ্চলিক গানের সম্রাজ্ঞী শেফালী ঘোষের কণ্ঠে ধ্বনিত হয়েছিল: ‘‘যদি সুন্দর একখান মুখ পাইতাম, যদি নতুন একখান মুখ পাইতাম, মইশ খাইল্যা পানের খিলি তারে বানাই খাওয়াইতাম’’। গ্রাম বাংলার প্রাচীন ঐতিহ্য সারিসারি পানের বরজ আর সুপারি বাগান, পাহাড়ি কাঠ, ফল-ফলাদির বাগান, লবণের মাঠ, মাছের ঘেরের নয়নাভিরাম দৃশ্য, ফসলের সবুজ-শ্যামল মাঠ ও প্রাকৃতিক অপরূপ সৌন্দর্য সবাইকে আনমনা করে।

মহেশখালীর দক্ষিণ প্রান্তের নয়ন জুড়ানো জেটিদ্বয় পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। সোনাদিয়ার শুঁটকি উৎপাদন ক্ষেত্র ও গভীর সমুদ্রে মাছ ধরা জেলেদের হৈ-হুল্লোড়, সৈকতে ঝুড়ি হাতে শামুক কুড়ানো বালক-বালিকাদের চপলতা, ধান ও লবণ চাষিদের হাড়ভাঙ্গা খাটুনির ফাঁকে-ফাঁকে ক্লান্তি নাশী ভাটিয়ালী এবং আঞ্চলিক গান আর ভরা জোয়ারে সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ মনকে আন্দোলিত করে। মহেশখালী জাতীয় অর্থনীতিতে রাখছে অনেক বড় মাপের অবদান। দেশের অন্যতম বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী সম্পদ চিংড়ি উৎপাদিত হয় মহেশখালীতে। পোশাক শিল্পের পরেই চিংড়ি দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনৈতিক খাত। মহেশখালীতে উৎপাদিত বাগদা, লইল্যা চিংড়ি ও কাঁকড়া এবং অন্যান্য সামুদ্রিক সু-স্বাদু মাছ রফতানি করে সরকার বার্ষিক কোটি কোটি টাকার রাজস্ব আয় করছে। মহেশখালীর সু-স্বাদু কালোবাঠার স্বাদ যারা জীবনে একবার আস্বাদন করেছে তারা তা’ খেতে চাইবে আজীবন। দেশে ও বিদেশে সবখানে মহেশখালীর শুঁটকি মাছের রয়েছে ব্যাপক খ্যাতি। দেশের চাহিদা মিটিয়ে তা’ বিদেশে রফতানি হচ্ছে এবং দেশের অর্র্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে। মহেশখালীর সোনাদিয়া বিখ্যাত শুঁটকি উৎপাদন কেন্দ্রের জন্য। তদুপরি সোনাদিয়া আকর্ষণীয় পর্যটন স্পট হিসেবেও ভ্রমণ বিলাসী মানুষের কাছে বেশ জনপ্রিয়। অর্থনীতির আর একটা বড় খাত হলো লবণ। এ দ্বীপে উৎপাদিত লবণ দেশের সিংহভাগ জনগোষ্ঠীর প্রয়োজন মেটাতে সক্ষম। বলা যায়, প্রায় এককভাবে বাংলাদেশের সমস্ত লবণ কক্সবাজার জেলায় উৎপাদিত হয়, খানিকটা হয় চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী উপজেলায়। মহেশখালী হলো বৃহত্তম লবণ উৎপাদন ক্ষেত্র। বাংলাদেশের অবশিষ্ট ৬৩ জেলাকেই মূলত: আমরাই লবণ সরবরাহ করে থাকি। কিন্তু অপ্রয়োজনে বৈধ ও অবৈধ পন্থায় বিদেশ হতে লবণ আমদানি দেশীয় লবণ শিল্পকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাচ্ছে এবং প্রান্তিক চাষিরা লবণ চাষের প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছে পর্যটন ও অর্থনৈতিক অপার সম্ভাবনার জনপদ দ্বীপ। মহেশখালীর শিক্ষা ক্ষেত্রে অনগ্রসরতা, যোগাযোগ ব্যবস্থার বেহালদশা, স্বাস্থ্য খাতে অরাজকতা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ব্যথিত করে। প্রায় চার লক্ষাধিক বনি আদমের আবাসভূমি মহেশখালীতে একটি সরকারি কলেজ নেই। ১৯৪৬ সালে প্রতিষ্ঠিত মহেশখালীর প্রথম উচ্চ বিদ্যালয়, মহেশখালী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়কে এখনও সরকারীকরণের কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি।

মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কোনো ইমারজেন্সি রোগী ভর্তি করানোর সুযোগ নেই, নেই কোন আধুনিক যন্ত্রপাতি। সময় মতো ডাক্তারের দেখা পাওয়াটাই ভাগ্যের ব্যাপার। রোগী যাওয়ার সাথে সাথেই রেফার করে দেয় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে। প্রসব বেদনায় কাতর মহিলারা ছটপট করতে থাকে নৌকা কিংবা স্পিড বোটে। অনেক সময় বাচ্চা প্রসব হয়ে যায় নৌকা কিংবা স্পিড বোটে। অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলা ভূমি মহেশখালীর যোগাযোগ ব্যবস্থার যে বেহালদশা তা বর্ণনাতীত। মহেশখালীর গোরকঘাটা জনতাবাজার সড়ক যার কিছু অংশ পাকা এবং কিছু অংশ ইট দিয়ে গড়া। হোয়ানক ইউনিয়নে প্রবেশের পর দেখা যায়, রাস্তার কোন চিহ্ন অবশিষ্ট নেই। রাস্তার মাঝখানে বিশাল বিশাল গর্ত, লক্কর ঝক্কর মার্কা ছাদখোলা জীপগুলো রাস্তার সন্ধান না পেয়ে মাঝে মধ্যে চলছে ধানের মাঠের উপর দিয়ে। কখনো পুকুরের পাড় বেয়ে, কখনো বা শুষ্ক পাহাড়ি ছরার বুক চিরে। তবুও জীবন থেমে নেই। চলছে তো চলছেই। ঐসব জীপগুলোতে একবার চড়লেই গায়ের ব্যথা সারাতে তিন দিন লাগে, খেতে হয় ব্যথা নাশক ট্যাবলেট। কক্সবাজার হতে মহেশখালী যাওয়ার একমাত্র মাধ্যম নৌপথ। নৌপথে স্পিড বোর্ট, নৌকা ও লঞ্চের অপ্রতুলতা, অস্বাভাবিক ভাড়া আদায়, নৌকা ও লঞ্চের তেলপোড়া গন্ধ, যাত্রী ভর্তির জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় নষ্ট, ভাটার বিড়ম্বনা, ভাটার সময় ডিঙ্গী নৌকার সারিবদ্ধ সেতুর উপর হেঁটে কোমরের বাত-ব্যথা বৃদ্ধি, কাঁদায় পা পিছলে পড়ে যাওয়া, ঘাটের লোকজন ও ইজারাদারদের দুর্ব্যবহার, ভাটার সময় স্পিড বোট মহেশখালী জেটিতে না ভিড়িয়ে আদিনাথ জেটিতে নিয়ে গিয়ে ৭৫ টাকার পরিবর্তে ৯০ টাকা ভাড়া আদায়, অতিরিক্ত ভাড়া দিতে অস্বীকৃতি জানালে মাঝ পথে স্পিড বোট থামিয়ে রাখা ইত্যাদি নানা যন্ত্রণা ও বিড়ম্বনা মহেশখালীবাসীর নিত্যসঙ্গী। ‘জীবন মানে যন্ত্রণা নয়তো সুখের বিছানা’—এ অপ্রিয় সত্য কথাটি মহেশখালীবাসীর জীবনে আজীবন চির অনিবার্য সত্য হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। তাই ‘জোয়ারের টানে এসো বন্ধু মহেশখালীর বাঁকে, ভাটার টানে আস যদি পড়বে তুমি বিপাকে।’ বিশ্বপর্যটন দিবসে আজকে যারা কক্সবাজারকে সত্যিকারের আকর্ষণীয় পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলার গালভরা বুলি আওড়ান, তারা কি কোন দিন ভেবে দেখেছেন, শুধুমাত্র একটি সৈকত, হিমছড়ির একটি মরা ঝর্ণা ও ডুলাহাজারার একটি নাম মাত্র সাফারী পার্ক দিয়ে তারা দেশ-বিদেশের পর্যটকদের মন জয় করতে পারবেন? কক্সবাজার একটি ওয়ান ওয়ে শহর, যানজট যার নিত্যসঙ্গী। এই ক্ষুদ্র শহরের অধিকাংশ জায়গা সরকারি-বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং বিমানবন্দর ও সামরিক-আধাসামরিক বাহিনীর দখলে। এই শহরে নেই কোন আনন্দ-বিনোদনের সু-ব্যবস্থা। এমতাবস্থায় কক্সবাজারকে সত্যিকারের পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে হলে কক্সবাজার শহরের পার্শ্ববর্তী অঞ্চলসমূহে নতুন নতুন পর্যটন স্পট সৃষ্টি করতে হবে। বিশেষত: প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি সাগর তনয়া মহেশখালীকে অপরূপ সাজে সজ্জিত করতে হবে এবং মহেশখালীর পর্যটন সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে। হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রাচীন ধর্মীয় নিদর্শনগুলো অক্ষুণ্ন রেখে প্রাচীন তীর্থস্থান আদিনাথ মন্দিরও আদিনাথ পাহাড়কে সংস্কার করা যেতে পারে। আদিনাথ মন্দির সংলগ্ন পাহাড়গুলোকে কেন্দ্র করে এক বা একাধিক কৃত্রিম হৃদ সৃষ্টি করে আদিনাথ অঞ্চলকে একটি আকর্ষণীয় পর্যটন ও বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত করা যেতে পারে। মহেশখালীর রাখাইন পল্লী ও ক্যাং সমূহের প্রয়োজনীয় সংস্কার, রাখাইনদের হস্তশিল্প ও সংস্কৃতি ইত্যাদিকে কেন্দ্র করে একটি স্বতন্ত্র রাখাইন সাংস্কৃতিক কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করে তাকে একটি পর্যটন স্পটে পরিণত করা যেতে পারে। মহেশখালীর পর্যটন সম্ভাবনার অন্যতম প্রতিবন্ধক হলো দুর্গম যোগাযোগ ও অপর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা। উল্লেখ্য যে, আদিনাথ স্পটে প্রতিবছর লাখ লাখ পর্যটক আগমন করে থাকে। আসা-যাওয়ার পথে তাদের অবর্ণনীয় দুর্ভোগের সম্মুখীন হতে হয়। মহেশখালীর প্রতি পর্যটকদের আকৃষ্ট করার লক্ষ্যে কক্সবাজার-মহেশখালী চ্যানেলে পর্যাপ্ত স্পিডবোট, নৌকা, লঞ্চ ও সী-ট্রাক চালু পূর্বক অস্বাভাবিক ভাড়া বৃদ্ধি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য মহেশখালী থানা প্রশাসনকে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। প্রয়োজনে আদিনাথ অঞ্চলে একটি পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করা যেতে পারে। অবিলম্বে বাঁকখালী ও মহেশখালী চ্যানেলের ভরাট হওয়া নদী ড্রেজিং এর জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। মহেশখালীতে স্থলপথে যাতায়াতের প্রধান সড়ক গোরকঘাটা-জনতাবাজার সড়কের অবিলম্বে ২৭ কি. মি. রাস্তা পূর্ণাঙ্গরূপে পাকা করার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
মহেশখালীতে বাস্তবায়নাধীন কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প ও প্রস্তাবিত গভীর সমুদ্র বন্দর পর্যটন সম্ভাবনার এক নবদ্বার উন্মুক্ত করবে। অভাগা দ্বীপাঞ্চলবাসীর সুবিধার্থে না হলেও মহাভাগ্যবতী জাতীয় ও আন্তর্জাতিক কোম্পানীগুলোর ব্যবসায়িক সুবিধার্থে মহেশখালীর সাথে কক্সবাজার শহরের সরাসরি স্থল যোগাযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে যমুনা কিংবা পদ্মাসেতুর ন্যায় একটি বিশাল বাজেটের সেতু নির্মাণ করা যেতে পারে। মহেশখালীকে পরিকল্পিত নগরী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকারের দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনার খবরও ইতোমধ্যে সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছে। সুতরাং পর্যটন শিল্পের বিকাশ, বৃহত্তর চট্টগ্রামের উন্নয়ন ও জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে ভৌগোলিক কারণে সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্র বন্দর স্থাপনে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এখন সময়ের অনিবার্য দাবি।

Editor in Chief : Sayed Shakil
Office: Evan plaza, sador model thana road, cox’sbazar-4700. Email: dailycoxsbazar@gmail.com / phone: 01819099070
অনুমতি ছাড়া অথবা তথ্যসূত্র উল্লেখ না করে এই ওয়েব সাইট-এর কোন অংশ, লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনী