সংবাদ শিরোনাম

‘স্বয়ংক্রিয়ভাবে সড়ক দুর্ঘটনা কমাবে’ সাইক ইনস্টিটিউট শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবন

সড়ক দুর্ঘটনা এখন বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান সমস্যা। প্রতিদিন দেশের সড়কে দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। সেই সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে কোনো উদ্যোগই যেন কাজে আসছে না। শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ আন্দোলনের ফলেও সড়কের নৈরাজ্য কমেনি।

রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত ‘সাইক ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজি’র শিক্ষার্থীরা নতুন এক প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে। এই প্রযুক্তির ব্যবহারে সড়ক দুর্ঘটনা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কমানো সম্ভব বলে দাবি করা হয়েছে।

ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শিক্ষার্থীদের মেধা ও উদ্ভাবনী শক্তির বিকাশের লক্ষ্যে সাইক ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজি আয়োজিত ‘স্কিলস কম্পিটিশন ২০১৮’ এর প্রাতিষ্ঠানিক পর্বে আজ শনিবার সকালে নিজস্ব ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের ওই উদ্ভাবনী তুলে ধরা হয়।

‘অটোমেটিক রোড অ্যাকসিডেন্ট রিডিউস অ্যান্ড কন্ট্রোলিং’ শীর্ষক ওই উদ্ভাবনের জন্য ইলেক্ট্রনিকস বিভাগের এস এম ফিরোজ সাবাব, মো. ফরহাদ হোসেন ও মো. শোভন হোসেন প্রথম স্থান হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

উদ্ভাবকদের দাবি, এই প্রযুক্তিতে একটি সেন্সর ব্যবহার করা হয়েছে। ওই সেন্সরের মাধ্যমে গাড়ির চালক নেশাগ্রস্ত কি না—তা চিহ্নিত করা যাবে। চালক গাড়িতে উঠে একটি নির্দিষ্ট স্থানে রাখা সেই সেন্সরে ফুঁ দেবেন। চালকের শরীরে যদি এক শতাংশ পর্যন্ত অ্যালকোহল থাকে তাহলে সেটি চিহ্নিত করা যাবে এবং গাড়ি চলবে না। স্বয়ংক্রিয়ভাবে গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকবে। একইভাবে একটি ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়েছে এই প্রযুক্তিতে। গাড়িতে থাকা সেই ক্যামেরার মাধ্যমে চালককে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা যাবে। গাড়ি চালাতে গিয়ে তিনি যদি ঘুমিয়ে পড়েন তাহলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অ্যালার্ম বেজে উঠবে। এর মাধ্যমে অন্যরা সতর্ক হতে পারবেন। এসবের মধ্যে দিয়ে সড়ক দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব বলে দাবি করা হয়েছে।

এ ছাড়া ওই দক্ষতা প্রতিযোগিতায় ‘স্টেইরস ক্লিম্বিং রোবট কার’ শীর্ষক উদ্ভাবনের জন্য মেকানিক্যাল বিভাগের মো. জাহিদুর রহমান, শরণ মো. শাহ জালাল ও ইমরান খান অন্তু দ্বিতীয় স্থান এবং ‘টু বিল্ড টানেল ফর রিডিউস ট্রাফিক জ্যাম অ্যান্ড সাস্টেইনেবল কমিউনিকেশন’ শীর্ষক উদ্ভাবনের জন্য সিভিল বিভাগের মো. মিস্তু মিয়া, মো. তানবির আহমেদ খান ও মো. তারিকুল ইসলাম সাদ্দাম তৃতীয় স্থান লাভ করে।

সাইক ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষ জানায়, এই দক্ষতার প্রতিযোগিতা বাংলাদেশ সরকার, বিশ্বব্যাংক ও কানাডার আর্থিক সহায়তায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের নিয়ন্ত্রণাধীন কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

আজ ইনস্টিটিউট চত্বরে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অবিভাবক, স্থানীয় প্রশাসন, গণ্যমান্য ব্যক্তি, শিল্প-কারখানার মালিক, প্রতিনিধি ও গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। প্রতিযোগিতায় প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবিত তিনটি উদ্ভাবন মূল্যায়নের জন্য উপস্থাপন করা হয়।

নির্বাচিত এই তিনটি উদ্ভাবন আগামী ২৪ নভেম্বর ঢাকা মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিতব্য আঞ্চলিক পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় (দ্বিতীয় পর্ব) অংশগ্রহণ করবে।

দ্বিতীয় পর্ব অর্থাৎ ১৩টি অঞ্চলের আঞ্চলিক পর্যায়ের প্রতিযোগিতা থেকে নির্বাচিত ৫২টি উদ্ভাবন বা প্রকল্প ঢাকায় আগামী এপ্রিল মাসে অনুষ্ঠিতব্য চূড়ান্ত পর্বের প্রতিযোগিতায় (জাতীয় পর্যায়) অংশগ্রহণ করবে।

সাইক ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজির সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা (এডমিন ও মিডিয়া) এরশাদুল বারী জানান, সাইক গ্রুপ পরিচালিত অর্ধশতাধিক প্রতিষ্ঠানের অন্যতম সাইক ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজি (এসআইএমটি)। সুনামধন্য এই প্রতিষ্ঠানটি প্রাইভেট পলিটেকনিক হিসাবে ২০০২ সালে যাত্রা শুরুর পর থেকে আজ অবধি দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। পাশাপাশি সরকার ও বিশ্বব্যাংকের স্কিল অ্যান্ড ট্রেনিং ইনহেন্সমেন্ট প্রজেক্ট (STEP) প্রকল্পের সহায়তায় গত ৬ বছর ধরে সফলতার সঙ্গে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সফলভাবে সম্পাদন করছে। শিক্ষার্থীদের চাকরি নিশ্চিত করতে এ পর্যন্ত সাইক চাকরিদাতা প্রায় শতাধিক ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই করেছে।

Editor in Chief : Sayed Shakil
Office: Evan plaza, sador model thana road, cox’sbazar-4700. Email: dailycoxsbazar@gmail.com / phone: 01819099070
অনুমতি ছাড়া অথবা তথ্যসূত্র উল্লেখ না করে এই ওয়েব সাইট-এর কোন অংশ, লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনী