সংবাদ শিরোনাম

সিলেট টেস্টে ‘রেকর্ড গড়ার’ চিন্তায় মাহমুদুল্লাহরা

খুব কঠিন অবস্থায় আছে বাংলাদেশ। সিলেট টেস্টে দুই দিন শেষে জিম্বাবুয়ের লিড ১৪০ রান। তাদের হাতে ১০ উইকেট। কাল নিজেদের লিড নিশ্চিত আরও বাড়িয়ে নেবে সফরকারীরা। এমন যুবুথুবু অবস্থার মধ্যেও ইতিবাচকভাবে চিন্তা করতে চায় বাংলাদেশ। গড়তে চায় ‘কামব্যাকের রেকর্ড’।

আজ দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে আসেন জিম্বাবুয়ের প্রথম ইনিংসে ছয় উইকেট নেয়া তাইজুল ইসলাম। দলের এই প্রতিনিধি বললেন, বাংলাদেশ সিলেট টেস্টে জয়ের চিন্তাই করছে।

টেস্টে টানা ৭ ইনিংসে বাংলাদেশ দুইশ’ রানের ঘরও পেরোতে পারেনি। কেন এই টানা ব্যাটিং ব্যর্থতা? তাইজুল বললেন, ‘সমস্যাটা কোথায় এটা আসলে বলতে গেলে বলব, আমাদের ব্যাটসম্যানরা যে এর আগে ভাল করে নাই এমন নয়। হয়তো বা হঠাৎ করেই এমনটা হচ্ছে। ক্রিকেটে এমন দিন আসে। আমরা চেষ্টা করব সামনে ভালো করার।’

গেল ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে টেস্টে হতাশাজনক পারফরম্যান্স ছিল মুশফিকদের। সেই সফরে প্রভাব কী রয়ে গেল নাকি আত্মবিশ্বাসের অভাব বাংলাদেশ দলে? না, এরকম কিছু মনে করেন না তাইজুল, ‘না, এমন কিছু না। আমাদের ব্যাটসম্যান-বোলারদের কথা যদি বলেন, এখানে আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি নেই। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে টেস্টের ব্যর্থতার আগেও আমরা বড় বড় দলকে হারিয়েছি। আর দুই-একটা সিরিজ এমন হতেই পারে। আর ম্যাচ যে শেষ হয়ে গেছে তাও কিন্তু না। এখনও আরও অনেক সময় আছে এই ম্যাচে।’

তবে কী ওয়ানডে সিরিজ জেতার পর অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী ছিল বাংলাদেশ দল? এবারও তা উড়িয়ে দিলেন এই বাঁহাতি অর্থোডক্স বোলার, ‘না, অতি আত্মবিশ্বাসের মতো কিছু ছিল না। ক্রিকেটে এমন হয়, কিছু দিন আসে যেদিনটা আমাদের পক্ষে যাবে না। হয়তো আমাদের প্রথমে দুইটি উইকেট পড়ে যাওয়ার পর এমন হয়েছে।’

উইকেট নিয়ে অনুযোগ নিয়ে তাইজুলের, ‘উইকেট খুব কঠিন ছিল না। উইকেট কিছুটা মন্থর ছিল। আপনি এই উইকেটকে ফ্ল্যাট উইকেটই বলতে পারেন।’

ক্যারিয়ারে ইনিংসে চতুর্থবারের মতো পাঁচ বা তার বেশি উইকেট পেয়েছেন তাইজুল। ব্যক্তিগত এই দারুণ পারফরম্যান্সের আনন্দ দিনশেষে দলীয় স্কোরকার্ড দেখে ম্নান হওয়াটাই স্বাভাবিক। তবে তাইজুল বলছেন, ক্রিকেটে এরকম সময় আসতেই পারে, ‘আসলে ক্রিকেটে কখনো ভালো হবে, আবার কখনো খারাপ হবে, এমন সময় কিন্তু আসে। সকালে হয়তো আমাদের সময়টা ভালো কেটেছে। মধ্যাহ্ন বিরতির পর থেকে দুই সেশন আমাদের পক্ষে আসে নি। আমাদের হাতে আরও তিন দিন সময় আছে, আমরা চেষ্টা করব ওদের দ্রুত অলআউট করার।’

তবে উইকেট শিকারের আনন্দ আছে তাইজুলের, ‘অনুভূতিটা ভালোই। আসলে পাঁচ উইকেট-ছয় উইকেট সবসময় আসে না। অবশ্যই ভাল লাগছে। কিন্তু আমি আসলে দলের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে চাইব। দল ভালো করলে ভালো লাগবে।’

নিজের সাফল্যের রহস্য জানালেন তাইজুল এভাবে, ‘আসলে উইকেট ফ্ল্যাট হলে ডিসিপ্লিন বোলিং করতে হয়। অফ স্ট্যাম্পের বাইরে বেশি জায়গা না দিয়ে বল করতে হয়। আমি ওইটাই করার চেষ্টা করেছি।’

এই ম্যাচে বাংলাদেশের ফিরে আসার (কামব্যাক) ব্যাপারেও আত্মবিশ্বাসী তাইজুল ইসলাম। বললেন, ‘আসলে টেস্ট ক্রিকেটটা রেকর্ডের খেলা। রেকর্ড কিন্তু টেস্ট ক্রিকেটেই বেশি হয়। আমরাও তাই চাচ্ছি, আমাদের দল এমন কোনো (কামব্যাকের) রেকর্ডই করুক।’

এরপর রাখঢাক না করে জয়ের কথাই বললেন বাঁহাতি এই স্পিনার, ‘আমরা জয়ের চিন্তাই করছি। ম্যাচে এখনও তিন দিন বাকি আছে এবং তিন দিন অনেক সময়।’

কাল জিম্বাবুয়েকে দ্বিতীয় ইনিংসে ১৫০ রানের মধ্যে আটকে রাখার লক্ষ্যের কথাও জানিয়ে গেছেন বাংলাদেশের দিনের সেরা তারকা।’

Editor in Chief : Sayed Shakil
Office: Evan plaza, sador model thana road, cox’sbazar-4700. Email: dailycoxsbazar@gmail.com / phone: 01819099070
অনুমতি ছাড়া অথবা তথ্যসূত্র উল্লেখ না করে এই ওয়েব সাইট-এর কোন অংশ, লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনী