সংবাদ শিরোনাম

পর্যটনে নতুনের হাতছানি

অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি বাংলাদেশ। প্রকৃতি উজাড় করে দিলেও তা খুব বেশি কাজে লাগানো যায়নি। বরং অযত্ন অব্যবস্থাপনায় অনেক দর্শনীয় স্থানও বেহাল। বিদেশি পর্যটকরাও সেভাবে আসছেন না। বরং দেশের ভ্রমণপিপাসুরা ছুটে যাচ্ছেন বিদেশে।

সহসাই পাল্টে যাবে এ চিত্র। দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে দেশের পর্যটনশিল্পে যোগ হতে যাচ্ছে নতুন মাত্রা। কক্সবাজারে গড়ে উঠছে তিনটি আন্তর্জাতিক মানের ট্যুরিজম পার্ক। যেগুলো বদলে দেবে দেশের পর্যটনশিল্পকে।

দেশকে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করতে ১০০ অর্থনৈতিক অঞ্চলের পাশাপাশি এসব পার্ক নির্মাণ করছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)। পার্ক দুটি হচ্ছে কক্সবাজারের টেকনাফের নাফ ও সাবরাং পার্ক এবং মহেশখালীতে সোনাদিয়া ইকো-ট্যুরিজম পার্ক।

পর্যটন খাত থেকে আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি অন্তত দুই লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে পার্ক দুটিতে।

বেজা সূত্র জানায়, প্রস্তাবিত তিনটি ট্যুরিজম পার্ক বাস্তবায়িত হলে প্রতিবছর ২০০ কোটি ডলার বৈদেশিক বিনিয়োগ আসবে। আগামী আট বছরে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় দুই লাখ মানুষের কর্মসংস্থানে ব্যবস্থা হবে। পর্যটনে বৈশ্বিক সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ১২৭তম। পার্কগুলো বাস্তবায়ন করা গেলে পর্যটন সূচকে দেশের অবস্থান ৯৯ এর মধ্যে উঠে আসবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী বলেন, ভারত ও থাইল্যান্ড পরিকল্পিতভাবে পর্যটনশিল্প গড়ে তুলেছে। আমাদের বান্দরবান সুইজারল্যান্ডের চেয়ে সুন্দর। কিন্তু আমরা ব্যবহার করতে পারছি না। পর্যটনশিল্পকে আকর্ষণীয় করতে তিনটি পার্ক গড়ে তোলা হচ্ছে। সোনাদিয়াকে ট্যুরিজম শহর হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

তিনি আরো বলেন, যেখানে পার্ক তৈরি করা হচ্ছে সেই জায়গাটি প্রভাবশালীরা অবৈধভাবে দখলে রেখেছিল। সেটি দখলমুক্ত করা হয়েছে। যাদের ঘরবাড়ি জমি পার্ক এলাকায় ছিল তাদের পুনর্বাসন করা হয়েছে। এখন পার্ক উন্নয়নের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে।

নাফ ট্যুরিজম পার্ক

কক্সবাজারের টেকনাফে নাফ নদীর মোহনার জালিয়ার দ্বীপ। দ্বীপটি নাফ নদীর মাঝখানে অবস্থিত। একপাশে মিয়ানমার, অপর পাশে বাংলাদেশের নেটং পাহাড়। প্রায় ২৯১ একর আয়তনের এই দ্বীপে গড়ে তোলা হচ্ছে নাফ ট্যুরিজম পার্ক। ২০২০ সালের ডিসেম্বর নাগাদ পার্কটির নির্মাণকাজ শেষ হবে।

পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে সাড়ে নয় কিলোমিটার দীর্ঘ ক্যাবল কার স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। নির্মাণ করা হচ্ছে হোটেল, আকর্ষণীয় কটেজ, শিশুপার্ক, ঝুলন্ত সেতু, জেটি ইত্যাদি। ইতোমধ্যে ১০০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। সড়ক, নদী ও আকাশপথ ব্যবহার করে পর্যটকরা সহজেই এই পার্কে যেতে পারবেন।

এই পার্কে ২০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে। এই পার্কে অনেক বিদেশি উদ্যোক্তা বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

সাবরাং ট্যুরিজম পার্ক

টেকনাফ উপজেলায় সাবরাং নামক এলাকায় ১,০৪১ একর জমিতে গড়ে উঠছে নতুন পর্যটন অঞ্চল ‘সাবরাং ট্যুরিজম পার্ক’। থাইল্যান্ডের পাতায়ার আদলে সাবরাংকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন অঞ্চল হিসেবে গড়তে চায় বেজা। ২০১৭ সালের জুনে এটি বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। ২০২১ সাল নাগাদ এটি পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হবে। এখানে পাঁচতারকা হোটেল, সি-ক্রুজ, বিদেশিদের জন্য আলাদা এলাকা, ইকো কটেজ, ভাসমান জেটি, পানির নিচের রেস্তোরাঁ, ভাসমান রেস্তোরাঁ ছাড়া বিনোদনের বিভিন্ন ব্যবস্থা থাকবে। এ স্পটে ৭০ হাজার মানুষের কাজের ব্যবস্থা হবে।

জমি অধিগ্রহণ এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। চলছে ভূমি উন্নয়ন ও বাঁধের নির্মাণকাজ। আগামী বছরের মধ্যে সংযোগ সড়কসহ ভূমি উন্নয়ন ও বাঁধ নির্মাণ শেষ হবে বলে আশা করছে বেজা।

ঝড়, জলোচ্ছ্বাস থেকে পর্যটন এলাকাকে রক্ষায় মেরিন ড্রাইভের সমান্তরাল অর্থাৎ ১৫ ফুট উচ্চতায় নির্মাণ করা হচ্ছে বাঁধ। ভূমি উন্নয়নও করা হবে সমানভাবে। পুরো এলাকায় অর্থনৈতিক কর্মকান্ড বেড়ে গেছে কয়েক গুণ। স্থানীয় অনেকের চাকরি হয়েছে পর্যটন অঞ্চলে।

এই পর্যটন অঞ্চল চালু হলে সেন্টমার্টিনে যাতায়াতে সময় কমে আসবে। এখন টেকনাফের দমদমিয়া নামক জায়গা থেকে সেন্টমার্টিনে লঞ্চে যেতে সময় লাগে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা। সাবরাং পর্যটন অঞ্চল হয়ে গেলে সেখান থেকে মাত্র আধা ঘণ্টায় যাওয়া যাবে সেন্টমার্টিনে। একজন পর্যটকের কক্সবাজার সুমদ্রসৈকত দেখার পর সাবরাং পর্যটন অঞ্চল এবং সেন্ট মার্টিন একসঙ্গে দেখার সুযোগ তৈরি হবে।

কক্সবাজারের ডিসি কামাল হোসেন জানান, পাহাড় থেকে ক্যাবল কারের মাধ্যমে পার্কে যাবেন পর্যটকরা। পার্কটি পুরোদমে চালু হলে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তন হবে। দেশি পর্যটকদের পাশাপাশি বিদেশিদের আগমনের হারও বেড়ে যাবে। বিদেশি পযর্টকদের দেখার জন্য একটি ব্যতিক্রমী স্থান হবে এটি। সব মিলে পার্কগুলো কক্সবাজারের পর্যটনশিল্পে নতুন মাত্রা যোগ করবে।

সোনাদিয়া ইকো-ট্যুরিজম পার্ক

সোনাদিয়া ইকো-ট্যুরিজম পার্কটি মহেশখালী উপজেলার সোনাদিয়া, বিজয় একাত্তর ও সমুদ্র বিলাস মৌজায় অবস্থিত। পার্কটি ৯,৪৬৭ একর জায়গার ওপর গড়ে উঠছে। পার্কটি পরিবেশবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে প্রাথমিকভাবে মোট জমির ৩০ শতাংশ জায়গা ব্যবহারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এটিকে ট্যুরিজম উপশহর হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এখানকার অবকাঠামো চোখে পড়তে শুরু করেছে। বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। মূল ভূমি থেকে যোগাযোগের রাস্তা তৈরির কাজ চলছে। এখানে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দেড় লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে। পার্কের বালুকাময় সমুদ্রতীরের দৈর্ঘ্য ১৯.২ কিলোমিটার। কক্সবাজারের ২.৬ কিলোমিটারের মধ্যে পার্কটির অবস্থান। এখানে থাকছে ঝাউবন, দৃষ্টিনন্দন লাল কাঁকড়া, বিভিন্ন প্রজাতির পাখি, শুঁটকি মাছ প্রক্রিয়াকরণ, সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার সুযোগ। পার্ক গড়ে তোলার জন্য এখানে বসবাসরত ৩৩৩টি পরিবারকে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিয়েছে বেজা।

Editor in Chief : Sayed Shakil
Office: Evan plaza, sador model thana road, cox’sbazar-4700. Email: dailycoxsbazar@gmail.com / phone: 01819099070
অনুমতি ছাড়া অথবা তথ্যসূত্র উল্লেখ না করে এই ওয়েব সাইট-এর কোন অংশ, লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনী