সংবাদ শিরোনাম

সেন্ট মার্টিন’স-এ পর্যটক নিয়ন্ত্রণ কেন জরুরি

আগামী ১ মার্চ থেকে আমাদের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিন’স-এ পর্যটকদের রাত্রিযাপন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। দ্বীপটির অন্যতম আকর্ষণ ছেঁড়া দ্বীপ ও গলাচিপা অংশে পর্যটকরা আর কখনোই যেতে পারবেন না। দ্বীপটি রক্ষায় গঠিত আন্তমন্ত্রণালয় কমিটি এ সিদ্ধান্তের পাশাপাশি সেখানকার সব হোটেল-মোটেল উচ্ছেদ করার ও দ্বীপবাসীদের অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার দীর্ঘমেয়াদী সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

প্রশ্ন উঠতেই পারে, পর্যটকরা কি এতই খারাপ যে তাদের হাত থেকে সেন্ট মার্টিন’সকে বাঁচাতে সরকারকে এত কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে হচ্ছে? তাহলে সেখানে যাওয়া পর্যটকরা কি কি রেখে আসেন তার অল্পকিছু দেখে নেয়া যাক একবার।

অতিপরিচিত টিস্যু পেপার। পর্যটকরা যেন যেখানেসেখানে এমন আবর্জনা না ফেলেন তাই দ্বীপের টং দোকানগুলোতেও ডাস্টবিন রাখেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। কিন্তু ছেঁড়া দ্বীপের মতো জনহীন প্রান্তরেও ডাস্টবিন না থাকায় এমন দৃশ্য পাওয়া গেল। ডাব খেয়ে ক্লান্তি মিটিয়েছেন কোনো এক পর্যটক। প্রমাণ রেখে গেছেন। এ দায় অবশ্য ডাব বিক্রেতারও। তবে এটুকুই সান্ত্বনা যে, ডাবের খোসা পচনশীল। টিস্যু পেপারটিও হয়তো মাটিতে মিশে যাবে।

ধূমপানের কুফল নিয়ে অন্য কোথাও কথা বলা যাবে। জেনেবুঝে নিজের সঙ্গে যা খুশি করা যেতেই পারে। কিন্তু সেন্ট মার্টিন’স-এর মেইন বীচ নামে পরিচিত সাগর সৈকতে এসে পরিবেশের সঙ্গেও যা খুশি তাই করে গেছেন অনেকে।

অসুস্থ শরীর নিয়েও কোনো এক পর্যটক ছুটে এসেছিলেন সেন্ট মার্টিন’স-এর সৌন্দর্যের টানে।

কারো প্রয়োজন ছিল নিকোটিনের, কারো এনার্জির। সঙ্গে ছিল কার্বনেটেড বেভারেজ। সাক্ষী ছিল সাগরকলমি ফুলে ঢাকা প্রান্তর।

খাওয়া শেষে অবহেলায় ছুড়ে ফেলা হয়েছে কার্বনেটেড বেভারেজের সবুজ বোতল। তার জায়গা হয়েছে কেয়া আর সাগরকলমিতে ঢাকা সবুজ প্রান্তরে।

আহ! ভ্যানিলা আইসক্রিম! কোরাল বীচ নামে পরিচিত সাগর তীরে প্রাণ জুড়িয়েছে কোনো এক পর্যটকের।

চিনিগুড়া চালের সুরভিতে পর্যটকরা মেতেছিলেন কোনো এক হোটেলে। দিনশেষে হোটেলে তৈরি হওয়া আবর্জনার স্থান হয়েছে নীল সাগরের বুকে। সাগর সেসব আবার ফিরিয়ে দিয়ে গেছে।

না, সাগর তীরে এসে কেউ শ্যাম্পু-সাবান মেখে গোসল সেরেছেন, এমন হয়তো না। আবাসিক হোটেলগুলোতে অতিথিসেবার অংশ হিসেবে মিনিপ্যাক শ্যাম্পু সরবরাহ করা হয়। সেন্ট মার্টিন’স-এর হোটেলগুলো নিষ্কাশিত বর্জ্য যে সাগরে এসে পড়ে তার একটি দুর্বল প্রমাণ হতে পারে এ ছবি।

আমাদের পারসোনাল হাইজিন সেন্স অনেক হাই। তাই চা, কফি, জুস আমরা ডিসপোজেবল কাপে করে পান করি। কিন্তু পরিবেশ নিয়ে আমরা কতটা ভাবি তার প্রমাণ পাওয়া গেল সেন্ট মার্টিন’স-এর কোরাল বীচ নামে পরিচিত সাগর তীরে।

শুধু পরিবেশ দূষণ নয়, সেন্ট মার্টিন’স-এর ছেঁড়া দ্বীপ মানসিক দূষণেও জর্জরিত।

পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতিবেদন থেকে আরও জানা গেছে, পর্যটকদের মলমূত্রের কারণে সেন্ট মার্টিন’স-এ বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ডের চেয়ে রোগজীবাণুর পরিমাণ ১০ গুণ বেশি। পর্যটক ও স্থানীয় অধিবাসীদের চাহিদা মেটাতে সেখানে ভূগর্ভস্থ মিঠাপানি তোলায় তৈরি হয়েছে ফাঁকা স্থান। সেখানে সাগরের পানি ঢুকে পড়লেই দ্বীপটি ধ্বংস হয়ে যাবে। এসবই মাসখানেক আগের খবর। তারপরও উপরের দৃশ্যগুলো পাওয়া গেছে তিনদিন আগেই। তাই সেন্ট মার্টিন’স বাঁচাতে সেখানে পর্যটন নিষিদ্ধ করার মতো আরও কঠোর পদক্ষেপ নেয়া উচিত বলে মনে করছেন পরিবেশবিদগণ।

Editor in Chief : Sayed Shakil
Office: Evan plaza, sador model thana road, cox’sbazar-4700. Email: dailycoxsbazar@gmail.com / phone: 01819099070
অনুমতি ছাড়া অথবা তথ্যসূত্র উল্লেখ না করে এই ওয়েব সাইট-এর কোন অংশ, লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনী