সংবাদ শিরোনাম

অরিত্রি কেন ফাঁস দিলো…?

শিক্ষার্থী বা তাদের বাবা-মাকে অপমান করার অধিকার কোনোভাবেই একজন শিক্ষকের নেই। ওই শিক্ষার্থী ছোট হোক আর বড় হোক। তার ব্যক্তিগত সম্মানবোধকে শ্রদ্ধা জানানো একজন শিক্ষকের দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। কেউ অপরাধ করলে তার বিষয়ে পারিপার্শ্বিকতা ভেবে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত যখন ক্ষমার বাইরে চলে যায়, তাকে আর শাসন বা আইনের প্রয়োগ বলা যায় না। সেটা হয়ে যায় নিষ্ঠুরতা। আর সেই নিষ্ঠুরতার কারণেই আজ অরিত্রি অধিকারীর মতো মেধাবী ছাত্রী আত্মহত্যার পথ বেছে নিল। ঘুরিয়ে বললে, অরিত্রিকে ফাঁসে উঠানো হলো!

অরিত্রি অধিকারী পড়ত রাজধানীর নামকরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অন্যতম ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে। নবম শ্রেণির এই ছাত্রী নাকি পরীক্ষার হলে মুঠোফোন নিয়ে গিয়েছিল। তাই তাকে পরীক্ষার হল থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। সোমবার তার বাবা-মাকে স্কুলে ডেকে পাঠানো হয়েছিল।

অরিত্রির বাবা দিলীপ অধিকারী একজন ব্যবসায়ী। থাকেন ঢাকার শান্তিনগরে। সোমবার তিনি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, রোববার সমাজবিজ্ঞান পরীক্ষা চলার সময় অরিত্রির কাছে একটি মুঠোফোন পায় তার শিক্ষকরা। মুঠোফোনে নকল আছে-এমন অভিযোগে শিক্ষকরা তাকে ডেকে পাঠান। সোমবার স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে স্কুলে যান তিনি। তাদেরকে নিয়ে যাওয়া হয় স্কুলের ভাইস প্রিন্সিপালের কাছে। সেখানে দিলীপ অধিকারী মেয়ের নকল করার বিষয়ে ভাইস প্রিন্সিপালের কাছে ক্ষমা চান। কিন্তু ভাইস প্রিন্সিপাল কিছু করার নেই বলে তাদের প্রিন্সিপালের কক্ষে যেতে বলেন। সেখানে গিয়েও তারা ক্ষমা চান। কিন্তু প্রিন্সিপালও তাদের প্রতি সদয় হননি। এসময় অরিত্রি প্রিন্সিপালের পায়ে ধরে ক্ষমা চাইলেও সবাইকে উচ্চস্বরে বেরিয়ে যেতে বলেন এবং পরের দিন টিসি নিয়ে আসতে বলেন প্রিন্সিপাল। পরে বাসায় এসে অরিত্রি নিজের কক্ষে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে।

দিলীপ অধিকারীর কথাগুলো সত্যি হলে, অরিত্রির সঙ্গে যে নিষ্ঠুর আচরণ করা হয়েছে সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। সে এতে অপমানিত হয়েই হয়তো আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে। অথচ, সবার দায়িত্ব ছিল অরিত্রিদের জন্য একটি সুন্দর পৃথিবী সৃষ্টি করা। যেখানে তারা নির্ভয়ে-শান্তিতে সাহস নিয়ে বেড়ে উঠবে।

এই প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্তরা শিক্ষার্থীদের মানসিকতা ও মনের অবস্থা ভালো করে বুঝতে পারেন বলে এতদিন জানা ছিল। কিন্তু তারা অরিত্রির সঙ্গে যে আচরণ করল, সেটা কোনো মানবিকতার মধ্যে পড়ে না।

এই আত্মহত্যার ঘটনায় এখন পর্যন্ত বেশ কয়েকটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যে এর প্রতিবেদন জমাও দিতে বলেছেন উচ্চ আদালত। এই আত্মহত্যা ছাড়াও সারা দেশে এ ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে কোন কোন বিষয় জড়িত, কারা দায়ী, এ ধরনের আত্মহত্যার ঘটনারোধে করণীয় এবং এ বিষয়ে একটি নীতিমালা প্রণয়নের সুপারিশ করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলেরও নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচরাপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

এই আত্মহত্যার ঘটনায় স্কুলের প্রভাতী শাখার প্রধান শিক্ষত জিন্নাত আরাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে কর্তৃপক্ষ। হয়তো আগামীতে আরও অনেকের শাস্তি হবে, কিন্তু অরিত্রি কি ফিরে আসবে? তারা বাবা-মা কি আর মেয়ের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন? যদি নাই পারেন, তাহলে এমন নির্মম অপমান করার আগে শিক্ষকদের অবশ্যই ভাবা উচিত। তাদের আচরণ ও শিক্ষার্থীদের মানসিকতাকে বোঝা উচিত। তা না হলে আগামীতে হয়তো এমন ঘটনা বাড়তেই থাকবে।

গত ফেব্রুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। হতাশা, চাকরি না পাওয়া, অভাব ও প্রেমের বেদনা থেকে এমন ভয়ঙ্কর বোকামি করছেন এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

আগামীতে যেন এমন ঘটনা আর না ঘটে, সে জন্য সমাজ-রাষ্ট্র সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। এর পেছনের কারণ অনুসন্ধান করে কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে। তাহলেই হয়তো এই ভূখণ্ডে আর কোনো বাবার কাঁধে সন্তানের লাশ উঠবে না।

Editor in Chief : Sayed Shakil
Office: Evan plaza, sador model thana road, cox’sbazar-4700. Email: dailycoxsbazar@gmail.com / phone: 01819099070
অনুমতি ছাড়া অথবা তথ্যসূত্র উল্লেখ না করে এই ওয়েব সাইট-এর কোন অংশ, লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনী