সংবাদ শিরোনাম

আওয়ামী লীগের ‘প্লান-বি’

মহাজোট, যুক্তফ্রন্ট ও আওয়ামী লীগের অন্যান্য শরিক দলগুলোর মধ্যে আসন ভাগাভাগি থমকে গেছে। বিএনপি, বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে কি সিদ্ধান্ত নেয় তার জন্য অপেক্ষা করছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। তাদের সিদ্ধান্তের উপরেই এবার নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণ করবে আওয়ামী লীগ। ২০১৪ এর ৫ জানুয়ারির মতো একতরফা নির্বাচন যেন এবারও না হয়, সে জন্য আগে থেকেই সচেষ্ট ছিল আওয়ামী লীগ। এই লক্ষ্যেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক সংলাপে বসেন। এছাড়াও বিএনপি যেন নির্বাচনে আসে সেজন্য আশ্বস্তও করা হয় দলটিকে। সে অনুযায়ী, ২৮ নভেম্বর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে বিএনপি, ২০ দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা মনোনয়নপত্র জমা দেয়। কিন্তু সাম্প্রতিককালে বিএনপি, ২০ দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কথাবার্তা, দৃষ্টিভঙ্গি এবং তাদের ভিতরের খবর মারফত জানা গেছে তাদের মধ্যে নির্বাচন বর্জনের একটি চাপ তৈরি হচ্ছে। অনেক রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, শেষমেশ মনোনয়ন প্রত্যাহারের দিনে নির্বাচন বর্জনের পথে হাঁটতে পারে বিএনপি। এখানে বিএনপির কৌশল হচ্ছে, ৯ ডিসেম্বর মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে যদি তারা নিজেদের সব মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেয়, তবে আবার দেশ একটি একতরফা নির্বাচনের পথে হাঁটবে। তাহলে নির্বাচনের ফলাফল জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্যতা হারাবে। ফলে, একটি বেকায়দা পরিস্থিতিতে পড়বে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। বিএনপির এমন কৌশল আগে থেকেই জানতো আওয়ামী লীগ। সেজন্যই, মহাজোট, যুক্তফ্রন্ট ও ইসলামী দলগুলোকে এখনো পর্যন্ত কোনো আসনই ছাড় দেয়নি দলটি।

আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র বলছে, এবার তিনটি পরিকল্পনা নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে আওয়ামী লীগ।

প্রথমত, আওয়ামী লীগ কোনো অবস্থাতেই ২০১৪ এর মতো একতরফা নির্বাচন এবার হতে দেবেনা। যে নির্বাচনে ৩০০ আসনের অর্ধেকের বেশি আসনগুলোতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়লাভ করেছিল দলটি। আওয়ামী লীগ চায় প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন, সে লক্ষ্যে তাদের প্রথম পরিকল্পনাই হচ্ছে বিএনপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্বাচনে নিয়ে আসা।

দ্বিতীয়ত, আওয়ামী লীগ জানতো তাদেরকে বেকায়দায় ফেলতে পারে বিএনপি। একটি প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনের দিকে ঠেলে দিতে পারে দেশকে। সেইসঙ্গে নির্বাচন বর্জন করে দেশকে একটি অনির্বাচিত সরকার গঠনে ঠেলে দিতে পারে। সেইজন্য নির্বাচনে এককভাবে প্রার্থী দিয়েছে দলটি। এছাড়াও জাতীয় পার্টি, যুক্তফ্রন্ট ও ইসলামী দলগুলো আলাদাভাবে প্রার্থী দিয়েছে। এবারের নির্বাচনী হিসেবে দেখা যায়, আওয়ামী লীগ ২৬৪ আসনে ২৮১ জন প্রার্থী, বিএনপি ২৯৫ টি আসনে ৬৯৬ জন প্রার্থী, জাতীয় পার্টি ২১০ আসনে ২৩৩ প্রার্থী, ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন ২৯৯ টি আসনে প্রার্থী দিয়েছিল। নির্বাচনে বিএনপি ও বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট মোট প্রার্থী দিয়েছে ৮৩৬ জন। এই ৮৩৬ জনই যদি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান, তাহলে ২০১৪ মতো একতরফা কোনো নির্বাচনের সম্ভাবনা নেই এবার। কারণ, আওয়ামী লীগ ও তার মিত্ররা এবার ১০২২ জনের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দল যারা প্রধান মিত্রদের বাইরে তারা ৭০৯ জনের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে। বিএনপি, ২০ দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট যদি নির্বাচন থেকে সরেও যায়, তবে দেখা যাচ্ছে প্রতিটি আসন থেকে গড়পড়তা ৩/৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। এরফলে নির্বাচন হবে অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক।

তৃতীয়ত, কথা ছিল, ২৮ নভেম্বর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনের পর ১৪ দল ও জাতীয় পার্টি নিজেদের মধ্যে আসন ভাগাভাগি নিয়ে বৈঠক করবে। কিন্তু ইচ্ছা করেই এই বৈঠক স্থগিত রেখেছে আওয়ামী লীগ। দলটির পরিকল্পনা হচ্ছে, যদি বিএনপি, বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দল যদি শেষ মুহূর্তে নির্বাচনের মাঠ থেকে সরে যায়, শুধুমাত্র ১৪ দল ঐক্যবদ্ধ ভাবে নির্বাচন করবে। তখন মহাজোটের অন্যতম শরিক জাতীয় পার্টি এবং আওয়ামী লীগের নতুন মিত্র যুক্তফ্রন্টও এককভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। যেহেতু ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন ২৯৯ টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে সেহেতু এবারের নির্বাচনের মাঠে তারাও থাকছে। এবারের নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে যা যা করা দরকার তাই করবে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। ২০১৪ তে বিএনপির সঙ্গে এরশাদসহ অন্যান্য বামদলগুলো নির্বাচন বর্জন করেছিল।

কিন্তু এবার বাম মোর্চার দলগুলো বলছে, বিএনপি যদি এবার নির্বাচনে থাকুক কিংবা বর্জন করুক, নির্বাচনের মাঠে থাকবে তারা। ইতিমধ্যেই বামজোট তাদের নির্বাচনী ইশতেহার ‘ভিশন একাত্তর’ প্রকাশ করেছে।

বাম মোর্চার পক্ষ থেকে মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেছেন, অনেক বাধা ও প্রতিকূলতা থাকা স্বত্বেও নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছি আমরা।

অন্যদিকে যুক্তফ্রন্টের অন্যতম নেতা মাহি বি. চৌধুরী বাংলা ইনসাইডারকে বলেছেন, আসন ভাগাভাগির নিয়ে এখনো পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেইনি আমরা। শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের মাঠে কারা থাকে, কারা থাকে না এটা দেখার অপেক্ষায় আছি আমরা। যদি শেষ পর্যন্ত বিএনপি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ায় তবে যুক্তফ্রন্ট আলাদা নির্বাচন করবে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।

একইভাবে, ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের নীতিনির্ধারকরা বিএনপি নির্বাচনের মাঠে না থাকলেও এককভাবে নির্বাচনের জানান দেন।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, খোদ বিএনপির মধ্যেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে মতবিরোধ আছে। যদি শেষ মুহূর্তে বিএনপি কিংবা জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচন বর্জন করে, তাহলেও ২০ দল ও ঐক্যফ্রন্ট থেকে অনেকগুলো দলই নির্বাচনের পথে হাঁটবে।

এক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের মূল লক্ষ্যই হচ্ছে শেষ পর্যন্ত যেন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন হয়, যা কিনা গ্রহণযোগ্য হয় সবারই কাছে।

Editor in Chief : Sayed Shakil
Office: Evan plaza, sador model thana road, cox’sbazar-4700. Email: dailycoxsbazar@gmail.com / phone: 01819099070
অনুমতি ছাড়া অথবা তথ্যসূত্র উল্লেখ না করে এই ওয়েব সাইট-এর কোন অংশ, লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনী