সংবাদ শিরোনাম

চট্টগ্রামে বিএনপির রাজনীতিতে ‘ভোটের পরে ভাটা’

অনলাইন ডেস্ক :

বন্দরনগরী চট্টগ্রাম বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত হলেও একাদশ সংসদ নির্বাচনে ভরাডুবির ধাক্কা এখনও সামলে উঠতে পারেনি দলটি। চট্টগ্রামে বিএনপির তিনটি সাংগঠনিক জেলা উত্তর, দক্ষিণ ও মহানগরের কার্যক্রম পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে। নেতাকর্মীরা দলীয় কার্যালয়মুখো হচ্ছেন না। দলের কোন কর্মসূচিও নেই।

চট্টগ্রামের বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, নির্বাচনের পর বিএনপির কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে সাংগঠনিক কোন দিকনির্দেশনা আসেনি। এরপরও স্থানীয়ভাবে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখে দলকে চাঙ্গা করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

১৯৯১ সালে দেশে সংসদীয় গণতন্ত্রের রাজনীতি শুরুর পর ২০০১ সাল পর্যন্ত তিনটি নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে অধিকাংশই বিএনপির দখলে ছিল। ২০০৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিএনপির এই আধিপত্য ভেঙ্গে দেয়। সেই নির্বাচনে ১০টি আসন জিতে নেয় আওয়ামী লীগ। এবারের নির্বাচনে ১৬টি আসনের মধ্যে একটিও পায়নি বিএনপি। ১৩টি আসনই গেছে আওয়ামী লীগের ঘরে। ৩টি আসনে জিতেছেন মহাজোটের শরিক দলের প্রার্থীরা।

তবে বিএনপি নেতাদের দাবি, নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ থাকলে তাদের প্রার্থীরা চট্টগ্রামে ভালো ফল পেতেন।

বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নির্বাচনের পর নগরীর নাসিমন ভবনে নগর ও উত্তর জেলা বিএনপির কার্যালয়ে যাননি বিএনপির কোন নেতাকর্মী। নগরীর দোস্ত বিল্ডিংয়ে দক্ষিণ জেলা বিএনপির কার্যালয়েও পা পড়েনি সাংগঠনিক পদধারী নেতা এবং কর্মীদের।

মঙ্গলবার (৮ জানুয়ারি) নাসিমন ভবনে গিয়ে দেখা গেছে, যে অফিসটি দিনভর বিএনপির নেতাকর্মীদের আনাগোনায় সরগরম থাকত সেটি এখন নীরব, নিস্তব্ধ। অফিসের দরোজায় তালা। বিএনপি অফিসের আশপাশ ঘিরে পুলিশের সার্বক্ষণিক উপস্থিতিও নেই।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু সুফিয়ান সারাবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের নগর কমিটির সভাপতি জেলে, সাধারণ সম্পাদক জেলে। ওয়ার্ড-থানা পর্যায়ের অধিকাংশ নেতাকর্মী মামলার কারণে ঘরছাড়া। আমাদের অফিসের তালা খোলার লোকও তো নেই। এখন আমাদের প্রথম কাজ হচ্ছে- নেতাকর্মীদের ঘরে ফেরানো এবং তাদের জামিনের ব্যবস্থা করা। নেতাকর্মীরা সবাই মুক্ত হয়ে আসলে দলের কার্যক্রমও চাঙ্গা হবে। কারণ জনগণ আমাদের সাথে আছে। জনগণের ম্যান্ডেট আমরা পেয়েছি, কিন্তু সেটা চুরি হয়ে গেছে।’

আবু সুফিয়ান চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও) আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে প্রার্থী হয়েছিলেন।

চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী-বাকলিয়া) আসনের প্রার্থী নগর বিএনপির সভাপতি গত বছরের ৭ নভেম্বর বিকেলে ঢাকায় সিএমএম আদালত এলাকা থেকে গ্রেফতার হয়ে এখন কারাগারে আছেন। কারাবন্দি শাহাদাতকেই নির্বাচনে প্রার্থী করে বিএনপি।

শাহাদাতের বিরুদ্ধে মামলা আছে ৪০টিরও বেশি। মঙ্গলবার (৮ জানুয়ারি) তাকে নগরীর কোতোয়ালী থানায় দায়ের হওয়া নাশকতার আরেকটি মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে বলে সারাবাংলাকে জানিয়েছেন নগর বিএনপির সহ দপ্তর সম্পাদক ইদ্রিস আলী।

সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর গত বছরের ২২ অক্টোবর নগরের জিইসি মোড় থেকে গ্রেপ্তার হন। আবুল হাশেমের সঙ্গে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীম।

মাহবুবুর রহমান শামীম মঙ্গলবার (৮ জানুয়ারি) জামিনে মুক্ত হলেও এখনও কারাগারে আছেন আবুল হাশেম বক্কর।

বিএনপি নেতা ইদ্রিস আলী সারাবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্বে থাকা সাংগঠনিক সম্পাদক মুক্তি পেয়েছেন। তবে এখনও ৬টি থানা এবং ১৫টি ওয়ার্ডের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকসহ কয়েক’শ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা আছে। অনেকে জেলে আছেন। ধীরে ধীরে সবাই বের হলে আবারও জোরালোভাবে দলীয় কার্যক্রম শুরু করব।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নগর বিএনপির কয়েকজন নেতা সারাবাংলাকে বলেন, নির্বাচনের পর সারাদেশেই বিএনপির রাজনীতিতে স্থবিরতা বিরাজ করছে। চট্টগ্রামও একই পরিস্থিতির শিকার। তবে আপাতত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রামের জ্যেষ্ঠ নেতারা মনে করছেন, এই মুহুর্তে হঠকারী সিদ্ধান্ত নিয়ে কোন রাজনৈতিক কার্যক্রম চালানো উচিৎ হবে না।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম মামুন মিয়া সারাবাংলাকে বলেন, ‘মহানগর, উত্তর-দক্ষিণ সবখানে এই মুহুর্তে বিএনপি কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলা করছে। এই মূহুর্তে বিএনপিকে এগিয়ে নিতে হলে নিবিড়ভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত নিতে হবে। জনসমর্থন কিংবা নেতাকর্মীদের মনোবল, কোনোভাবেই আমরা পিছিয়ে নেই। বিএনপির ঘুরে দাঁড়ানো সময়ের ব্যাপার মাত্র।’

সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর তার গঠিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) হাল ধরেছিলেন তার স্ত্রী খালেদা জিয়া। দেশ গণতন্ত্রে উত্তরণের পর ১৯৯১ ও ২০০১ সালে দুইবার দলটি ক্ষমতায় গিয়েছিল। তবে ২০০৭ সালের ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী জরুরি অবস্থায় দলটিতে বিপর্যয় নেমে আসে।

এক যুগ ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকা দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত হয়ে এখন কারাগারে আছেন। তার বড় ছেলে সিনিয়র ভাইস চেয়ারপারসন তারেক রহমান দুর্নীতির পাশাপাশি একুশে আগস্ট বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভায় গ্রেনেড হামলার মামলায় দণ্ডিত হয়েছেন। ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী জরুরি অবস্থায় তত্তাবধায়ক সরকারের আমলে ‘রাজনীতি ছাড়ার মুচলেকা দিয়ে’ লন্ডনে যাওয়া তারেক রহমান আর দেশে ফেরেননি।

একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ভরাডুবির জন্য বিএনপির নেতৃত্বহীনতা এবং মনোনয়ন বাণিজ্যকে দায়ী করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা।

Editor in Chief : Sayed Shakil
Office: Evan plaza, sador model thana road, cox’sbazar-4700. Email: dailycoxsbazar@gmail.com / phone: 01819099070
অনুমতি ছাড়া অথবা তথ্যসূত্র উল্লেখ না করে এই ওয়েব সাইট-এর কোন অংশ, লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনী