সংবাদ শিরোনাম

দুর্নীতির আখড়া কক্সবাজার সদর হাসপাতাল

এইচএম এরশাদ :

জেলা সদর হাসপাতালে নানা দুর্নীতি ও অনিয়ম চলছে। বিএনপি সরকারের আমলে চাকরি নেয়া একটি চক্র সরকারের দুর্নাম রটাতে জিম্মি করে রেখেছে পুরো ব্যবস্থাপনাকে। তারা কারও নির্দেশও মানছে না। স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার এখানে সবকিছু পূরণ করে দিয়েছে। তবে সিন্ডিকেট সদস্যরা হাসপাতালকে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করেছে।

জানা যায়, জেলা সদর হাসপাতালে পেকুয়া সমিতি নামে সিন্ডিকেট চক্রটি বেশ প্রভাবশালী। তাদের কারণে দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালটিতে নানা ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি চলে আসছে। বেশ কয়েকটি বিভাগ নামমাত্র থাকলেও সেখানে চিকিৎসাসেবা পাওয়া যায় না। দন্ত বিভাগে গিয়ে কেউ চিকিৎসা পেয়েছেন এমন নজির নেই বললে চলে। এ বিভাগে গেলে নানা অজুহাতে সেখান থেকে রোগীদের ফেরত পাঠানো এবং ডাক্তারের প্রাইভেট ক্লিনিকে দেখা করার কথা বলা হয়। অভিযোগ পাওয়া গেছে, হাসপাতালটিতে অত্যাধুনিক একটি ‘আল্ট্রাসনোগ্রাম’ মেশিন থাকলেও সেটি কার্যত অকেজো করে রাখা হয়েছে। ফলে রোগীদের বাইরে থেকে আল্ট্রাসনো করতে হচ্ছে। জেলা সদর হাসপাতালটিতে সবচেয়ে উন্নত এক্স-রে মেশিন থাকলেও সেটি ‘নষ্ট’ কিংবা ‘এক্স-রে পেপার নেই’ বলা হয়। হাসপাতালে তিন ভাই সিন্ডিকেট গোলাম মোর্শেদ, মাঈন উদ্দিন ও মহি উদ্দিন মিলে ডিজিটাল হাসপাতাল নামের বেসরকারী একটি ক্লিনিকে আলফা প্যাথলজি খুলে বসেছে। জেলা সদর হাসপাতালের রোগী ভাগিয়ে নিয়ে ডিজিটালে চিকিৎসা ও প্যাথলজিতে পরীক্ষা নিরীক্ষা করানো হচ্ছে। এক্স-রে বিভাগে ডাঃ ওসমান নামে একজন নিয়োগপ্রাপ্ত থাকলেও বেশির ভাগ সময় তিনি অফিসে থাকেন না। সারা মাসই বাইরের এক ব্যক্তি এ বিভাগের সব কাজ করে থাকেন। তাকেও নগদ ধরিয়ে না দিলে কাজ হয় না।

ইন্টার্নি করা ডাক্তারদেরও অফিস সহকারী (বাগান মালী) মাঈন উদ্দিনকে স্যার বলতে হয়। ‘স্যার’ না বললে তিনি রোগীদের সঙ্গেও খারাপ আচরণ করেন। সদ্য বদলি হওয়া হাসপাতালের তত্ত্বাবধায় ডাঃ পুচনুকে প্রতিমাসে মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে ওই বাগান মালী মাঈন উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে অফিস সহকারীর দায়িত্ব পালন করে আসছে। কয়েক হাসপাতাল কর্মচারী বলেন, বাগান মালীকে অফিস সহকারীর দায়িত্ব দেয়ার কোন বিধান নেই। যা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা বিরোধী। এমন কি কোন নীতিমালা বা নিয়মও নেই বাগান মালীর পদোন্নতির। সরকারী হাসপাতালের শোভাবর্ধনে বাগান পরিচর্যার জন্য মাঈন উদ্দিনকে হারবাল বিভাগ থেকে নিয়োগ দেয়া হলেও সেখানে বাগানের কোন অস্তিত্বও নেই। অভিযোগে জানা যায়, জেলা সদর হাসপাতালটি নিয়ন্ত্রণ করছে কথিত ‘পেকুয়া সমিতি’ নামে বিএনপি সমর্থিত একটি সিন্ডিকেট। সাবেক প্রতিমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদের আশীর্বাদপুষ্ট ও চার দলীয় ঐক্যজোট আমলে নিয়োগ হওয়া এসব হাসপাতাল কর্মচারীরই ওই সিন্ডিকেট সদস্য। তারা হাসপাতালে বসেই সরকারবিরোধী প্রচার ও রাজনৈতিক কর্মকা- চালায়। হাসপাতালের খাবার সরবরাহ ও চাদর ধোলাইয়ের টেন্ডার নিয়েও রয়েছে নানা অভিযোগ। হাসপাতালে রোগীদের জন্য খাদ্য সরবরাহের ঠিকাদার নিয়োগ নিয়ে অনিয়ম করা হয়েছে। বাগান মালী মাঈন উদ্দিনের আত্মীয় যুবলীগ নেতা এশাদুল্লাহকে খাদ্য সরবরাহ ঠিকাদার এবং তালত ভাই যুবলীগের নেতা শহীদুল্লাহকে হাসপাতালের চাদর ধোলাইয়ের টেন্ডার সুবিধা পাইয়ে দিয়েছেন। চাদর ধোলাই না করেও প্রতিদিন শত শত চাদর ধোলাইয়ের বিল করা হচ্ছে। খাদ্য সরবরাহ আর খাদ্য বিল পাসেও অনৈতিক সুবিধা নিচ্ছে মালী মাঈন উদ্দিন। প্রতিদিন রোগীদের যে খাবার দেয়া হয় তা একেবারেই নিম্নমানের। প্রতিদিন খাবার তালিকায় যা থাকার কথা, তা দেয়া হচ্ছে না রোগীদের। রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতাল থেকে যে খাবার পরিবেশন করা হয় তা মুখে দেয়া যায় না। বেশির ভাগ রোগীই বাইরের হোটেল অথবা বাড়ি থেকে খাবার এনে ক্ষুধা নিবারণ করছে। দেশীয় রোগীর জন্য ২৪ ঘণ্টায় ১২০ টাকার খাদ্য বরাদ্দ রোস্টারে উল্লেখ আছে। সেখানে কোন দিন কি কি খাদ্য (আইটেম) রোগীদের সরবরাহ দেবে তাও উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু অনিয়ম আর দুর্নীতি করে রোস্টারের কোন নীতি মানা হচ্ছে না এখানে। ফলে সঠিক খাদ্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে রোগীরা। রোহিঙ্গা রোগীদের জন্য ২৮০ টাকার খাদ্য (২৪ ঘণ্টায়) সরবরাহ দেয়ার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু তা করা হয় না। দেশীয় রোগীর জন্য যে খাদ্য বরাদ্দ তা রোহিঙ্গাদেরও দেয়া হয়।

জানা গেছে, রোগীদের ওই খাদ্যগুলোর অর্থ বরাদ্দ দেয় ইউএনএইচসিআর। আর খাবার বরাদ্দের অর্থ দেখভাল করতেন সদ্য বদলি হওয়া তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ পুচনু। এদিকে মাঈন উদ্দিন সিন্ডিকেট প্রতিমাসে অতিরিক্ত রোহিঙ্গা রোগী দেখিয়ে এবং দেশীয় রোগীদের নিম্নমানের খাবার সরবরাহ দিয়ে প্রধান সহকারী তুষারের সহযোগিতায় প্রতিমাসে খাদ্য তালিকা থেকে লাখ লাখ টাকা আত্মসাত করছে বলে জানা গেছে। আর এই বিশাল অঙ্কের টাকার একটি অংশ সাবেক তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ পচনু নিতেন এমন অভিযোগ সবার মুখে মুখে। বাগানমালী মাঈন উদ্দিনের তিন ভাই একই সঙ্গে জেলা সদর হাসপাতালে চাকরির পাশাপাশি তার স্ত্রীকেও (ক্রাইম পুলিশের সুপারভাইজার, ওয়ার্ড ৩য় তলা) এখানে চাকরি দেয়া হয়েছে।

কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের সদ্য যোগদানকৃত তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ সোলতান আহম্মদ সিরাজী এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আগের তুলনায় হাসপাতালের অনিয়ম কমেছে। তিনি বলেন, আমি যোগদানের আগে বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি ছিল। এখন সেগুলো নেই। হাসপাতালে শয্যা সংখ্যা বাড়ানো দরকার। এটিকে ৩০০ বেডে উন্নীত করা হলে ভাল হয়।

Editor in Chief : Sayed Shakil
Office: Evan plaza, sador model thana road, cox’sbazar-4700. Email: dailycoxsbazar@gmail.com / phone: 01819099070
অনুমতি ছাড়া অথবা তথ্যসূত্র উল্লেখ না করে এই ওয়েব সাইট-এর কোন অংশ, লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনী