Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!
সংবাদ শিরোনাম

এর পরও গুদাম রক্ষার চেষ্টায় ব্যবসায়ীরা

অনলাইন ডেস্ক : চুড়িহাট্টার আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পেছনে বিভিন্ন ভবনে গড়ে ওঠা গুদামে রাখা দাহ্যপদার্থ ও প্লাস্টিক দানাকে বিশেষজ্ঞরা দায়ী করলেও গ্যাস সিলিন্ডারের ওপর দোষ চাপাচ্ছেন রাসায়নিকের ব্যবসায়ীরা। অগ্নিকা-ে ৬৭ জনের প্রাণহানির পরও ঝুঁকিপূর্ণ-ঘিঞ্জি ওই আবাসিক এলাকা থেকে দাহ্যপদার্থ ও প্লাস্টিক দানার গুদাম স্থানান্তরের বিরুদ্ধে তারা।

দাহ্যপদার্থ বা কেমিক্যালের কারণে আগুন ছড়ানোর বিষয়ে বিস্ফোরক অধিদপ্তরের প্রধান পরিদর্শক গণমাধ্যমে কথা বলায় তাকেও একহাত দেখিয়েছেন পুরান ঢাকায় ‘মৃত্যুকূপ’ তৈরি করা ব্যবসায়ীরা। গতকাল শনিবার দুপুরে চুড়িহাট্টা মোড়ে ঘটনাস্থলে যান ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র সাঈদ খোকন, প্রধান বিস্ফোরক পরিদর্শক মো. সামসুল আলম ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা।

মেয়র সাঈদ খোকন বেলা দেড়টার দিকে ঘটনাস্থলে দ্বিতীয়বার গিয়ে কেমিক্যাল ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভের মুখে পড়েন। তাকে ঘিরে সেøাগান দেওয়া হয়, ‘গ্যাস সিলিন্ডার বন্ধ করো, কেমিক্যাল গুদাম চালু রাখো’। তখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মেয়র গ্যাস সিলিন্ডারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। বিস্ফোরক প্রধান অধিদপ্তরের প্রধান পরিদর্শক মো. সামসুল আলম আগুনে পোড়া ভবনসহ এলাকা পরির্দশন করে গণমাধ্যমকে বলেন, অগ্নিকা-ের সূত্রপাত ও ছড়িয়ে পড়ার কারণ খুঁজতে একাধিক তদন্ত কমিটি কাজ করছে। তদন্ত শেষে জানা যাবে, আগুনের সূত্রপাত ও ছড়িয়ে পড়ার পেছনে গ্যাস সিলিন্ডার না দাহ্যপদার্থ দায়ী। এই বক্তব্যের পর তাকেও ঘিরে ধরেন রাসায়নিকের ব্যবসায়ীরা।

তারা বলেন, আপনি গণমাধ্যমে বক্তব্য দেন কেমিক্যাল নয়, গ্যাস সিলিন্ডারই পুরো অগ্নিকা-ের পেছনে দায়ী। এ সময় বিপাকে পড়ে সামসুল আলম জবাব দেন, আমি তো বলেছি তদন্তের পর বলা যাবে। গতকাল দিনভর ব্যবসায়ীরা এভাবে সরকারি কর্মকর্তা-গণমাধ্যমকে ঘিরে বিক্ষোভ করেন। তাদেরই একজন ব্যবসায়ী নুরুল বাশার আমাদের সময়কে বলেন, সবাই শুধু কেমিক্যালের দোষ দেয়।

কিন্তু আগুনের সূত্রপাত ও ছড়িয়ে পড়ার কারণ গ্যাস সিলিন্ডার। আমরা এই এলাকায় গ্যাস সিলিন্ডার চাই না। সরকারকে পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ করতে হবে। তিনি বলেন, ১৯৯৬ সাল থেকে এই এলাকায় কেমিক্যালের ব্যবসা করি। কোনোদিনও আগুন লাগেনি। গ্যাসলাইনের কারণে এটা হয়েছে। বিক্ষোভের আগে ওই এলাকার বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নামে ব্যানার সাঁটানো হয়।

এতে এলাকায় গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহ বন্ধের দাবি তোলা হলেও কেমিক্যাল বা প্লাস্টিক গুদাম ও কারখানা সরানোর বিষয়টি উল্লেখ ছিল না। তবে বিক্ষোভের আগে চুড়িহাট্টা মোড়ের অগ্নিকা-ে হাজী ওয়াহেদ ম্যানশন নামের যে ভবনটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তার বেজমেন্টে বেআইনিভাবে রাখা বিপুল পরিমাণ রাসায়নিক সরাতে কাজ শুরু করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। তখন মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, এর মধ্য দিয়ে পুরান ঢাকার সব রাসায়নিকের গুদাম ও কারখানা অপসারণের কাজ শুরু হলো। সিটি করপোরেশনের অভিযানের সময় কারো বাড়িতে অবৈধ কেমিক্যালের মজুদ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর পর দুই দফায় দুটি ট্রাক বোঝাই করে ওই মালামাল সরিয়ে নেওয়া শুরু হয়।

তিনি বলেন, সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে এসব রাসায়নিক দ্রব্য কেরানীগঞ্জের ঝিলমিল প্রকল্পের খোলা এলাকায় রাখা হবে। কারো বাড়িতে রাসায়নিকের মজুদের খোঁজ জানা থাকলে তা সিটি করপোরেশন, কাউন্সিলরের অফিসে বা থানায় জানাতে অনুরোধ করেন মেয়র।

এর আগে শুক্রবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন গঠিত তদন্ত দলের সদস্য এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক লে. কর্নেল এসএম জুলফিকার রহমান বলেন, ওয়াহেদ ম্যানশনে অবশ্যই কেমিক্যাল ছিল। ভবনের ভেতরে গ্যাস লাইটার রিলিফের পদার্থ ছিল, যা দাহ্য। এ ছাড়া অন্যান্য কেমিক্যালও ছিল। প্রতিটি জিনিসই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে দিতে সহায়তা করেছে। সেখানে পারফিউমের ক্যানিস্টার রি-ফিল করা হতো।

Editor in Chief : Sayed Shakil
Office: Evan plaza, sador model thana road, cox’sbazar-4700. Email: dailycoxsbazar@gmail.com / phone: 01819099070
অনুমতি ছাড়া অথবা তথ্যসূত্র উল্লেখ না করে এই ওয়েব সাইট-এর কোন অংশ, লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনী