Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!
সংবাদ শিরোনাম

বঙ্গবন্ধুর ছায়া শেখ হাসিনায়

লাইফটাইম কন্ট্রিবিউশন ফর উইমেন এম্পাওয়ারমেন্ট অ্যাওয়ার্ড লাভ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবার আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে ‘লাইফটাইম কন্ট্রিবিউশন ফর উইমেন এম্পাওয়ারমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’-এ ভূষিত হয়েছেন। আজ ৮ মার্চ (শুক্রবার) বিশ্বব্যাপী নারী দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে। নারী দিবস উপলক্ষে গতকাল ৭ মার্চ বার্লিনে সিটি কিউব আইটিবি প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে এই পুরস্কার প্রদানের ঘোষণা দেয়া হয়।

ইনস্টিটিউট অব সাউথ এশিয়ান উইমেন (আইএসএডব্লিউ) এই পদক প্রদান করে।জার্মানিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ইমতিয়াজ আহমেদ প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে এই পদক গ্রহণ করেন। সংশ্লিষ্ট দফতরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে একথা জানানো হয়।

নারীর ক্ষমতায়নে অসামান্য অবদান এবং দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে দক্ষ নেতৃত্বের জন্য এই পদক অর্জন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

নারীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে বিশ্বে রোল মডেল বাংলাদেশ। দেশের প্রায় ৫ কোটি ৪১ লাখ কর্মজীবী মানুষের মধ্যে ১ কোটি ৬২ লাখই নারী। এর মধ্যে প্রায় ১৬ হাজার ৭০০ নারী ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্যোক্তা রয়েছেন। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের ৮০ শতাংশের বেশি নারী। জাতীয় সংসদে মোট ৭৩ জন নারীর প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। আর এর সবই সম্ভব হয়েছে মাদার অফ হিউমিনিটি খ্যাত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কল্যাণে। 

নারীর অধিকার আদায় ও সম-অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছেন শেখ হাসিনা। নারী শিক্ষা উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নে অসামান্য স্বীকৃতিস্বরূপ অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ‘আজীবন সম্মাননা গ্লোবাল উইমেনস লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেন তিনি। কেবলমাত্র বাংলাদেশেই নয় বিশ্বে নারী অধিকার নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা।  

শেখ হাসিনার রাজনীতির হাতেখড়ি বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছ থেকে। শিশুকালেই দেখেছেন, ১৯৫২ সালে পিতা শেখ মুজিব রাষ্ট্রভাষা বাংলার জন্য কারাগারে অনশন করছেন। দেখেছেন, ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা ভেঙে দেয়ার কারণে আদমজী জুটস্ মিলে বাঙালি-বিহারি দাঙ্গা ঠেকাতে কীভাবে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন পিতা। 

১৯৬৬ সালে ছয় দফা আন্দোলন এবং এর ফলাফলও দেখেছেন শেখ হাসিনা। শিখেছেন, দাবি আদায় করে নেয়ার যৌক্তিক কৌশল। রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান শেখ হাসিনা দেখেছেন ১৯৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান, মুক্তিকামী বাঙালির মিছিল, মিটিং, শত্রুকে প্রতিরোধ করার উপায়। ভালোবাসতে শিখেছেন বাংলার মানুষ ও জনপদকে। 

১৯৭১ বঙ্গবন্ধু বন্দি থেকেছেন পাকিস্তানের জেলে, আর তার নির্দেশ নদীর স্রোতের মতো প্রবাহিত হয়েছে বাঙালির মনে। ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর স্বাধীন হয় বাংলাদেশ।

যে মাটি ও মানুষকে পাকিস্তানী শোষকদের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য শেখ মুজিবুর রহমান ৫৪ বছরের জীবনে ২৫টি বছরই অন্ধ কারাকক্ষে কাটিয়েছেন। এমন নেতার ‘জীবন অধ্যায়’ যে শেখ হাসিনার জন্য রাজনীতি শিক্ষার সবচেয়ে বড় পাঠ, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট নৃশংস এক হত্যকাণ্ডে জীবনাবসান হয় জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের। কিন্তু তার চিন্তা-চেতনা; দীর্ঘ মেয়াদি স্বপ্ন-পরিকল্পনা সেগুলো রয়ে যায়।

শেখ হাসিনা তার ‘শেখ মুজিব আমার পিতা’ বইয়ে লিখেছেন, শোষিত-বঞ্চিত বাঙালি গণমানুষের অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক মুক্তির পথ ধরে তারই (বঙ্গবন্ধু) অসমাপ্ত রাজনীতির উত্তরাধিকার বহন করছি আমি, প্রচণ্ড শোককে অন্তরে লালন করে।’

৭৫ পরবর্তীকালে শেখ হাসিনা রাজনৈতিক আশ্রয়ে ভারতে অবস্থান করেন। এরপর ১৯৮০ সালে ইংল্যান্ড থেকে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন শুরু করেন।

তিনি তার বইয়ে আরো লিখেছেন, ‘১৯৮১ সালে যেদিন দেশে ফিরলাম, মনে হল যেন আরেক বাংলাদেশ, যেখানে আমার আপনজন কেউ বেঁচে নেই। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঘাতকের নির্মম বুলেট কেড়ে নিয়েছে আমার মা, বাবা, ভাইদের।’

দেশের ফেরার পর গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে লিপ্ত হন শেখ হাসিনা। ওই সময় শাসকগোষ্ঠির রোষানলে পড়েন। কয়েকবার কারাবরণ করতে হয় তাকে।

শুধু তাই না, শেখ হাসিনাকে হত্যা করার পরিকল্পনায় কমপক্ষে ১৯বার সশস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। ২০০৪ সালের একুশে অগাস্টে ঢাকায় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার এক সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। যা একুশে অগাস্টের গ্রেনেড হামলা হিসেবে পরিচিত। সেবার প্রাণে বেঁচে যান তিনি। 

সব প্রতিকূলতা আর হত্যার হুমকি উপেক্ষা করে শেখ হাসিনা সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার আদায়ে কাজ করে যাচ্ছেন। উন্নত বাংলাদেশের পথে এগিয়ে নিচ্ছেন দেশকে। 

ডয়চে ভেলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জিডিপির হিসেবে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের ৪৪তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ। আর ক্রয় ক্ষমতার বিবেচনায় এদেশের অবস্থান ৩৩তম।

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি বিবেচনায় বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান এখন দ্বিতীয়। মাথাপিছু আয় বাড়ছে, বাড়ছে গড় আয়ু। আকার বাড়ছে অর্থনীতির, বাড়ছে জাতীয় বাজেট। কমছে বাজেট বাস্তবায়নে পরনির্ভরতা। অবকঠামোর উন্নয়ন হচ্ছে প্রতিনিয়ত। সক্ষমতা বাড়ছে বড় আকারের প্রকল্প বাস্তবায়নের। মহাকাশে এখন নিজেদের স্যাটেলাইট। 

এক সময়ের অন্ধকারের বাংলাদেশ এখন বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত। কৃষি উৎপাদন বেড়ে বাংলাদেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। তরুণদের অংশগ্রহণে তথ্য প্রযুক্তি খাতে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আর এর সবকিছুতে রয়েছে শেখ হাসিনার কারিশমা। বিশ্ব রাজনীতিতে শেখ হাসিনা এখন এক গুরুত্বপূর্ণ নাম। সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে নিজের দায়িত্ব পালন করে শুধু দেশে নয়, বিশ্বে নারীদের এক আইকন হয়ে উঠেছেন তিনি। 

এক নজরে শেখ হাসিনা:

১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনা গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। 

১৭ নভেম্বর ১৯৬৭ সালে শবে-বরাতের রাতে বিয়ে হয় শেখ হাসিনার। তবে বিয়েতে উপস্থিত থাকতে পারেননি বাবা শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি তখনো জেলে ছিলেন। জেল থেকে বিয়ের অনুমতি দিয়েছিলেন। মা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের তত্ত্বাবধায়নে ওয়াজেদ মিয়ার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি।

১৯৭৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ পাশ করেন শেখ হাসিনা। ১৯৮১ সালে তাকে আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন তিনি। 

২০০৮ সালে ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে জয় লাভ করেন। ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি দ্বিতীয়বার সরকার গঠন করেন তিনি। এরপর ২০১৪ সালের নির্বাচনে জয় লাভ করে তৃতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর শপথ গ্রহণ করেন শেখ হাসিনা। 

উল্লেখ্য, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নির্যাতনের শিকার রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দেয়ায় যুক্তরাজ্যের টেলিভিশন ‘চ্যানেল ফোর’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে  ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ আখ্যা দেয়। তাকে ‘স্টার অব দ্য ইস্ট’ (প্রাচ্যের তারকা) আখ্যা দিয়েছে দুবাইভিত্তিক সংবাদমাধ্যম খালিজ টাইমস। 

অর্জন: বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় শেখ হাসিনাকে ১৯৯৯ সালে ‘দেশিকোত্তম’ পুরস্কারে ভূষিত করে। 
১৯৯৯ সালে পার্বত্য চট্টগামে সহিংসতা বনধ ও শান্তি আনার লক্ষ্যে ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি’ সম্পাদনের জন্য ইউনেস্কো হুফো-বোগানি পুরস্কারে ভূষিত হন।

২০০৫ সালে ফিলিপাইনের পার্লামেন্ট ‘কংগ্রেশনাল মেডেল অব অ্যাচিভমেন্ট’ প্রদান করে। ইন্দিরা গান্ধী স্বর্ণপদক ২০০৯ লাভ করেন মানবসম্পদ উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক সমঝোতার জন্য। ২০১০ সালে জাতিসংঘ কর্তৃক ‘মিলিনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল্ড’ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন শেখ হাসিনা। পরিবেশ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখায় জাতিসংঘ কর্তৃক ‘চ্যাম্পিয়ন অব দ্যা আর্থ-২০১৫’ পুরস্কার লাভ করেন তিনি।

সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ : 

সেন্ট পিটার্সবার্গ স্টেট বিশ্ববিদ্যালয় রুশ ফেডারেশন (২০১০), প্যাস্ট্রিস লুবাম্বা পিপলস্ ফ্রেন্ডশিপ বিশ্ববিদ্যালয়, মস্কো (২০০৫), ক্যাথলিক বিশ্ববিদ্যালয়, ব্রাসেলস, বেলজিয়াম (২০০০), ব্রিজপোর্ট বিশ্ববিদ্যালয়, কানেকটিকাট, যুক্তরাষ্ট্র (২০০০), ওয়াসেদা বিশ্ববিদ্যালয়, জাপান (১৯৯৭), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (১৯৯৯) থেকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

Editor in Chief : Sayed Shakil
Office: Evan plaza, sador model thana road, cox’sbazar-4700. Email: dailycoxsbazar@gmail.com / phone: 01819099070
অনুমতি ছাড়া অথবা তথ্যসূত্র উল্লেখ না করে এই ওয়েব সাইট-এর কোন অংশ, লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনী