সংবাদ শিরোনাম

প্রধানমন্ত্রীকে পুরষ্কার দিল শিশুটি

দেশ-বিদেশের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রায়ই নানা ধরনের পুরস্কার গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে এবার তিনি ভিন্ন এক পুরস্কার পেলেন। ছোট্ট একটি শিশু তার হাত থেকে পুরস্কার নিতে গিয়ে তাকেও দিয়ে গেল নিজের হাতে আঁকা ছবি। ছবিটি আর কারো না প্রধানমন্ত্রী নিজেরেই। আর এটি আঁকতে গিয়ে সে যে অনেক পরিশ্রম করেছে বলে জানায়।

ছোট এই শিশুটির নাম পিয়াসা। সে টাঙ্গাইল সদরের জোবায়দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী। প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব আশরাফুল আলম খোকন আজ বুধবার তার ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এ কথা জানান।

স্ট্যাটাসে আশরাফুল আলম খোকন লেখেন, ‘নিতে এসে প্রধানমন্ত্রীকে পুরস্কার দিয়ে গেলেন ছোট্ট পিয়াসা। টাঙ্গাইল সদরের জোবায়দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী পিয়াসা সরকার। ছবি আঁকার হাত খুবই ভালো। ছবি আঁকাতে জাতীয় পর্যায়ের পুরস্কারও পেয়েছে সে। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা তার স্বপ্নের মানুষ। গত আড়াই মাস চেষ্টা করে পিয়াসা বঙ্গবন্ধু কন্যার একটি পোট্রেট আঁকে। তার মা তাপসী রানী সরকার জানালো, মেয়েটা অনেক পরিশ্রম করেছে। মুখ মিলেতো চোখ মেলেনা, চুল মিলেতো ভ্রু মেলে না। আড়াই মাস চেষ্টার পর বঙ্গবন্ধু কন্যার ছবি নিয়ে পিয়াসার সন্তুষ্টি আসে। উদ্দেশ্য একটাই, যে কোনওভাবেই হোক এই ছবিটি সে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দেবে। তার সেই স্বপ্ন সফল হয়েছে।’

তিনি স্ট্যাটাসে আরও লেখেন, ‘কীভাবে স্বপ্নটা সত্যি হলো আসুন এখন আসি সেই গল্পে। জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ছবিটি নিয়ে তিনদিন আগে তারা ঢাকায় আসে। শিক্ষায় অবদান রাখার জন্য মোট ১০৮ জনকে এই অনুষ্ঠানে পুরস্কৃত করা হবে, পিয়াসা এই ভাগ্যবানদের মধ্যে একজন। গত দুইদিন তারা অনেক চেষ্টা করেও ছবিটি প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়ার কোনো সুযোগ খুঁজে পায়নি। নিরাপত্তা বিভাগ থেকেও বলে দেয়া হয়েছে অতিরিক্ত কোনো কিছু সঙ্গে নিয়ে অনুষ্ঠানে প্রবেশ করা যাবে না।

পুরাপুরি হতাশ হয়েই আজ মা-কে সঙ্গে নিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে আসে পিয়াসা। কাগজে মোড়ানো ছবিটি নিয়ে বাইরে দাঁড়িয়ে থাকেন বাবা শংকর চন্দ্র সরকার। মা-মেয়ে অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের হলেই তারা ছবিটি সঙ্গে করে নিয়েই টাঙ্গাইল চলে যাবেন।

কিন্তু ১১ বছরের যেই শিশুটির স্বপ্নের মানুষ বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা তার সাহস নিশ্চয়ই কম নয়। যথারীতি নাম ডাকা হলে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে গিয়ে পুরস্কার নেয় পিয়াসা সরকার। প্রধানমন্ত্রীর শিশুসুলভ আন্তরিকতায় আরো সাহসী হয়ে উঠেন পিয়াসা। সে বলেই ফেলে ছবিটির কথা। কান্না করে দেয়। তাকে যে আনতে দেয়া হয়নি সেটিও বলতে ভুলেনি। সাথে সাথেই প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তিগত কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন ছবিটি নিয়ে আসার জন্য। তৎপর হয়ে উঠেন সবাই। পিয়াসার কাছ থেকে তার বাবার ফোন নাম্বার নিয়ে তারা যোগাযোগ করেন। বাইরে ছবি নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা বাবাকে ভিতরে নিয়ে আসেন। অনুষ্ঠানের শেষের দিকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ভালোবাসায় আঁকা পোট্রেটটি তুলে দেন পিয়াসা।’

বিকেলে যখন পিয়াসার বাবা-মায়ের সাথে ফোন কথা হয় ততক্ষনে তারা টাঙ্গাইল চলে গেছেন। তারা জানালেন, স্বপ্ন পূরণের আনন্দ আর খুশিতে তখন কাঁদছিলেন পিয়াসা।

বিকেলে যখন পিয়াসার বাবা-মায়ের সাথে ফোন কথা হয় ততক্ষনে তারা টাঙ্গাইল চলে গেছেন। তারা জানালেন, স্বপ্ন পূরণের আনন্দ আর খুশিতে তখন কাঁদছিলেন পিয়াসা।’

Editor in Chief : Sayed Shakil
Office: Evan plaza, sador model thana road, cox’sbazar-4700. Email: dailycoxsbazar@gmail.com / phone: 01819099070
অনুমতি ছাড়া অথবা তথ্যসূত্র উল্লেখ না করে এই ওয়েব সাইট-এর কোন অংশ, লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনী