Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!
সংবাদ শিরোনাম

অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে: বঙ্গবন্ধু

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আন্দোলন পরিচালনার নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন। দিনটি ছিলো ১৪ মার্চ, ১৯৭১। তিনি ৩৫টি নতুন নির্দেশ জারি করেন। স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের কার্যক্রম আরো জোরদার হয়। জাতীয় পরিষদ অধিবেশনে যোগদান প্রশ্নে বঙ্গবন্ধুর ৪-দফা পূর্বশর্ত মেনে নেয়ার দাবিতে রাজধানী ঢাকায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ছাত্র-শ্রমিক-পেশাজীবী সংগঠন এবং যুব মহিলা, সামাজিক, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে সভা-সমাবেশ শোভাযাত্রা বের করে।

নিজ বাসভবনে ন্যাপ নেতা আবদুল ওয়ালী খানের সঙ্গে বৈঠক করেন বঙ্গবন্ধু। বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে রুদ্ধদ্বার কক্ষে প্রায় দেড় ঘন্টাব্যাপী এই আলোচনাকালে জাতীয় পরিষদে আওয়ামী লীগ পার্লামেন্টারি দলের উপনেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ.এইচ.এম কামরুজ্জামানসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, যতদিন অধিকার আদায় হবে না, ততদিন বাঙালির আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

জাতীয় লীগ নেতা আতাউর রহমান খান আবারো বঙ্গবন্ধুর প্রতি অস্থায়ী সরকার গঠনের আহ্বান জানান। দেশের প্রয়োজনে অস্ত্রধারণ করার ঘোষণা দেন ঝিনাইদহের কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তা। বঙ্গবন্ধুর অসহযোগ আন্দোলনের সমর্থনে সংবাদপত্র প্রেস কর্মচারী ফেডারেশনের উদ্যোগে সকালে বায়তুল মোকাররম প্রাঙ্গণে সমাবেশ শেষে মিছিলসহ বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে গিয়ে তার হাতে একটি আবেদনপত্র দেয়া হয়। তাতে নেতারা যে কোনো নির্দেশ পালনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করে অবিলম্বে একটি জাতীয় সরকার গঠন ও স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ ঘোষণার জন্য বঙ্গবন্ধুর প্রতি অনুরোধ জানান।

চট্টগ্রাম সংগ্রাম পরিষদ সারা শহরে মিছিল করে। হাজার হাজার মুক্তিকামী মানুষ এই মিছিলে অংশগ্রহণ করে। জয় বাংলা ধ্বনিতে প্রকম্পিত হয় সারা চট্টগ্রাম শহর। বিকেলে চকবাজারের উর্দুগলিতে মিছিলে হানা দেয় বিহারী ও জামাতীরা। সাতজন বাঙালি গুরুতর আহত হয়। চট্টগ্রাম মেডিকেলে নেয়ার পথে দুজন মারা যায়। রাতে উত্তেজিত মুক্তিকামী মানুষরা উর্দুগলিতে আক্রমণ করে। বিহারী-জামাতীদের সঙ্গে বাঙালিদের বেশ মারাত্মক সংঘর্ষ হয়। ঘন্টাখানেকের মধ্যে পুলিশের মধ্যস্থতায় সংঘর্ষ শেষ হয়। এ ঘটনায় কারো নিহত হবার খবর পাওয়া যায়নি। পরে রাত সাড়ে এগারোটার দিকে পাকিস্তানি আর্মির একটি ট্রাক এসে চকবাজারের মোড়ে প্রায় পনেরোজন বাঙালি যুবককে তুলে নিয়ে যায়। সারারাত টর্চার করে ভোররাতে কোতোয়ালীর সামনে এদের ফেলে দেয়া হয়।

এদিকে, করাচিতে নিশাত পার্কে পিপলস পার্টির উদ্যোগে জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। জনসভায় পিপিপি’র চেয়ারম্যান জুলফিকার আলী ভুট্টো পাকিস্তানের দুই অংশের দুই সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রস্তাব দেন। তিনি পশ্চিম পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হিসেবে তার সঙ্গে সংলাপ শুরু করার জন্য বঙ্গবন্ধুর প্রতি আহ্বান জানান।

বাংলাদেশের জন্য খাদ্যশস্যবাহী ‘মন্টেসেলো ভিক্টরি’ নামের আরও একটি জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে করাচি নিয়ে যাওয়া হয়। ‘ওসান এন্ডুরাস’ নামের সমরাস্ত্রবাহী আর একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরের ১০নং জেটিতে নোঙর করে বন্দর শ্রমিকদের অসহযোগিতার কারণে ৯ মার্চ ১৬ নং জেটিতে সমরাস্ত্রবাহী অপর জাহাজ ‘সোয়াত’-এর সমরাস্ত্র খালাসের চেষ্টা করে কর্তৃপক্ষ ব্যর্থ হয়। প্রাদেশিক পরিষদে আওয়ামী লীগ পার্লামেন্টারি দলের নেতা ক্যাপ্টেন মনসুর আলী এক বিবৃতিতে ১১ মার্চ খাদ্যবাহী জাহাজ ‘ভিটেজ হরাইজন’ এর গতিপথ চট্টগ্রাম বন্দরের পরিবর্তে করাচি বন্দরে পরিবর্তনের ঘটনা সম্পর্কে অবিলম্বে তদন্ত অনুষ্ঠানের দাবি জানান।

Editor in Chief : Sayed Shakil
Office: Evan plaza, sador model thana road, cox’sbazar-4700. Email: dailycoxsbazar@gmail.com / phone: 01819099070
অনুমতি ছাড়া অথবা তথ্যসূত্র উল্লেখ না করে এই ওয়েব সাইট-এর কোন অংশ, লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনী