সংবাদ শিরোনাম

কক্সবাজারে আওয়ামী লীগে ‘বিদ্রোহীরা’ থেকেই গেলেন

কক্সবাজার জেলার আট উপজেলার মধ্যে উখিয়া ও কুতুবদিয়ায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা নির্বাচিত হয়েছেন। তবে বাকি ছয় উপজেলায় দলের মনোনীত প্রার্থীদের কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীরা। গতকাল বুধবার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে সদর উপজেলার তিন বিদ্রোহী চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। তবে এরপরও সদর উপজেলাসহ ছয় উপজেলায় নয়জন ‘বিদ্রোহী’ রয়ে গেছেন। দলের নেতা-কর্মীরা দলীয় প্রার্থীর পাশাপাশি বিদ্রোহী প্রার্থীরও নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন।

রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার সদর উপজেলায় আওয়ামী লীগের তিন ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী সদর উপজেলা সভাপতি আবু তালেব, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইশতিয়াক আহমেদ জয় ও আওয়ামী লীগ নেতা সোহেল জাহান চৌধুরী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন।

 এই তিন প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের পরও পাঁচ চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে নৌকার দলীয় প্রার্থী কায়সারুল হক জুয়েলের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন কক্সবাজার পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগ নেতা নুরুল আবছার।

জেলার অন্য পাঁচ উপজেলা চকরিয়া, রামু, টেকনাফ, মহেশখালী ও পেকুয়ায় ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীরা পুরোদমে প্রচারে আছেন। দলের নেতা-কর্মীদের একাংশের সমর্থনও আছে তাঁদের।

চকরিয়া
এ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী। তাঁর বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ফজলুল করিম সাঈদী।

ভোটাররা বলছেন, দুই প্রার্থীর প্রচারণা এখন তুঙ্গে। এর মধ্যে স্থানীয় (চকরিয়া-পেকুয়া) সাংসদ জাফর আলম দলীয় প্রার্থীর পক্ষে মাঠে নামায় উত্তেজনা ছড়াচ্ছে। দুই চেয়ারম্যান প্রার্থী প্রতিদিনই নির্বাচনী পথসভায় একে অপরের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে চলেছেন। এতে সুষ্ঠু ভোট অনুষ্ঠান নিয়ে উদ্বিগ্ন ভোটাররা। ১৮ মার্চ এ উপজেলায় ভোট গ্রহণ হবে।

রামু
রামুতে বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে বিপাকে দলের প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান রিয়াজ উল আলম। তিনি উপজেলা যুবলীগের সভাপতি। অন্যদিকে ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী সোহেল সরওয়ার কাজল উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম মণ্ডল বলেন, তৃণমূলের নেতারা কেন্দ্রে একক প্রার্থী হিসেবে সোহেল সরওয়ার কাজলের নাম পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু স্থানীয় সাংসদ সাইমুম সরওয়ার কমলের ইশারায় মনোনয়ন পান রিয়াজ উল আলম। তবে উপজেলার ১১ ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা কাজলের পক্ষেই প্রচারণা চালাচ্ছেন।

টেকনাফ
টেকনাফে দলের মনোনয়ন পেয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক সাংসদ মোহাম্মদ আলী। দলের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী আছেন আরও দুজন। তাঁরা হলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও বর্তমান চেয়ারম্যান জাফর আহমদ এবং উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও টেকনাফ সদর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল আলম।

ভোটাররা বলেন, এলাকার সাবেক সাংসদ আবদুর রহমান বদিসহ দলের একটি অংশ মোহাম্মদ আলীর পক্ষে প্রচারণায় অংশ নিলেও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল বশরসহ দলের বড় একটি অংশ নুরুল আলমের পক্ষে মাঠে নেমেছে।

মহেশখালী
এই উপজেলায় দলীয় প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান হোছাইন ইব্রাহিমের বিরুদ্ধে মাঠে আছেন দুই বিদ্রোহী। তাঁরা হলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি শরীফ বাদশা ও উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক সাজেদুল করিম।

পেকুয়া
পেকুয়ায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আবুল কাশেমের বিরুদ্ধেও দাঁড়িয়েছেন দলের দুই বিদ্রোহী। তাঁরা হলেন জেলা আওয়ামী লীগ নেতা এস এম গিয়াস উদ্দিন ও উপজেলা যুবলীগ সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম।

Editor in Chief : Sayed Shakil
Office: Evan plaza, sador model thana road, cox’sbazar-4700. Email: dailycoxsbazar@gmail.com / phone: 01819099070
অনুমতি ছাড়া অথবা তথ্যসূত্র উল্লেখ না করে এই ওয়েব সাইট-এর কোন অংশ, লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনী