সংবাদ শিরোনাম

টেকনাফে তিন হেভিওয়েটে হাড্ডাহাড্ডি!

টেকনাফ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রচার প্রচারণা এখন তুঙ্গে। প্রার্থীরা সকাল সন্ধ্যা ভোট ভিক্ষায় অবিরাম ছুটে চলছেন ভোটারদের দুয়ারে। আগামী ২৪ মার্চ এ উপজেলায় ভোট গ্রহণের দিন। চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দী হয়েছেন তিন জন, পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান পদে আট জন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে তিন জন। তবে ভোটারদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু চেয়ারম্যান প্রার্থী তিন হেভিওয়েটকে ঘিরে।
ছয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এ উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৪৫ হাজার ৮০৮ জন। চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মোহাম্মদ আলী। তিনি কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের সাবেক সাংসদ ছিলেন। তার প্রতিদ্বন্দী প্রার্থী জাফর আলম বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান এবং উপজেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি। তিনি একসময় উপজেলা বিএনপির প্রভাবশালী নেতা ছিলেন। অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী নুরুল আলম টেকনাফ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি এবং সদর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি দীর্ঘ সময় উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। এছাড়া তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক নুরুল বশরের ছোট ভাই।
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দী তিন চেয়ারম্যান প্রার্থীই সমান্তরালে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনজনই শক্ত প্রতিদ্বন্দী হওয়ায় কেউ কাউকে সহজে ছাড় দিচ্ছেননা। নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বিজয়ের মাধ্যমে নিজেদের শক্তি ও জনসমর্থন জানান দিতে প্রাণপণে চেষ্টা করছেন প্রার্থী এবং তাদের কর্মী সমর্থকরা।
এদিকে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী মোহাম্মদ আলীর নিজ এলাকা হ্নীলা। এ ইউনিয়ন ও পাশ্ববর্তী হোয়াইক্যং ইউনিয়নের একচেটিয়া ভোট নিজের করে নিতে দুই ইউনিয়নেই বেশি কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। এ দুই ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা ৫৪ হাজার। এছাড়া নৌকা দলীয় প্রতীক হওয়ায় উপজেলার বাকী চারটি ইউনিয়ন ও পৌরসভা থেকেও বড় অঙ্কের ভোট প্রত্যাশী তিনি।
স্থানীয় সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদি বর্তমানে নৌকার পক্ষে নিজেকে ঘোষণা দিলেও শেষমেষ তিনি কোনদিকে মোড় নেন এমন সন্দিহান নৌকা সমর্থকদের। তাদের ধারণা, অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী জাফর আহমদ সাবেক সাংসদ বদির প্রিয় ও আস্থাভাজন, তাই শেষমুহুর্তের ভোটের খেলায় বদি তার আস্থাভাজন জাফরকেই সমর্থন দিতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন নৌকা সমর্থকরা। এমনটি হলে নৌকার বিজয় নিশ্চিত করা অনেকটা কঠিন হয়ে পড়বে।
মোটর সাইকেল প্রতীকের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী নুরুল আলম সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান হওয়ায় নিজ এলাকায় তার ভোটব্যাংকও রয়েছে । এছাড়া উপজেলা ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতাকর্মীরা তার পক্ষে কোমর বেঁধে নেমেছেন এবং ভোটারদের দ্বারেদ্বারে গিয়ে মোটর সাইকেল প্রতীকের জন্য ভোটও চাচ্ছেন। প্রথম দিকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের তেমন একটা সমর্থনা না পেলেও বর্তমানে তার পক্ষে কাজ করছেন আওয়ামী লীগের একটি অংশ। দিনে দিনে উপজেলার গ্রামে গঞ্জে তার ভোটের পাল্লা ভারি হচ্ছে।
সদর ইউনিয়নে আরেক চেয়ারম্যান প্রার্থী জাফরেরও নিজ এলাকা হওয়ায় এ ইউনিয়নে দুইজনের মধ্যে ভোট ভাগাভাগির সম্ভাবনা রয়েছে। এ ইউনিয়নে ভোটার সংখ্যা ২০ হাজার ৫২১ জন। তবে পাশের সাবরাং ইউনিয়নে এগিয়ে থাকবেন নুরুল আলম এমন ধারণা সাধারণ ভোটারদের। সাবরাং ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা ৩০ হাজার ৩৬৬ জন।
অপর স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী ও বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আহমদ এবার নির্বাচন করছেন আনারস প্রতীক নিয়ে। নিজ এলাকা সদর ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী নুরুল আলমের সাথে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে তার। বাহারছড়া ইউনিয়নের মানুষের কাছে অনেকটা জনপ্রিয় জাফর। তাই ধারণা করা হচ্ছে ওই ইউনিয়নে এগিয়ে থাকবেন তিনি। বাহারছড়া ইউনিয়নে ভোটার সংখ্যা ১৮ হাজার ৫২৫ জন। এছাড়া বিএনপির নেতাকর্মীরা জাফরকে ভোট দেবেন এমন সম্ভাবনা করছেন তার সমর্থকরা। পৌরসভার ভোট ভাগাভাগি হবে দুই স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে। সেখানে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ আলীর তেমন প্রভাব নেই বললে চলে।
সব মিলিয়ে টেকনাফ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে এ মুহুর্তে কাউকে এগিয়ে রাখছেননা সাধারণ ভোটার ও সচেতন ব্যক্তিরা। উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মাস্টার জাহেদ হোসেন বলেন, ‘উপজেলায় এ মুহুর্তে কাউকে এগিয়ে রাখা যাচ্ছেনা, তিন প্রার্থীর প্রত্যেকরই জনপ্রিয়তা রয়েছে। এলাকাভিত্তিক তিন জনরই আলাদা ভোট ব্যাংক রয়েছে।’

Editor in Chief : Sayed Shakil
Office: Evan plaza, sador model thana road, cox’sbazar-4700. Email: dailycoxsbazar@gmail.com / phone: 01819099070
অনুমতি ছাড়া অথবা তথ্যসূত্র উল্লেখ না করে এই ওয়েব সাইট-এর কোন অংশ, লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনী