সংবাদ শিরোনাম

জুনেই পাওয়া যাবে ই-পাসপোর্ট

অভিবাসন কার্যক্রম সহজ করতে চলতি বছরের জুন থেকে ডিজিটাল পাসপোর্ট বা ই-পাসপোর্ট বিতরণ শুরু করার পরিকল্পনা করছে সরকার। প্রকল্প পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইদুর রহমান খান আজ মঙ্গলবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা জুন নাগাদ ই-পাসপোর্ট বিতরণের পরিকল্পনা নিয়েছি।’

ই-পাসপোর্টে থাকে ইলেক্ট্রনিক মাইক্রোপ্রসেসর চিপ, যাতে সংরক্ষিত বায়োমেট্রিক তথ্য বিশ্লেষণ করে পাসপোর্ট বহনকারীর পরিচয় শনাক্ত করা হয়।

অভিবাসন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, ই-পাসপোর্টে ২৮ ধরনের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য থাকবে। বর্তমানে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) ডাটাবেজে পাওয়া তথ্যগুলো ই-পাসপোর্টে স্থানান্তর করা হবে।

সূত্র মতে, ই-পাসপোর্ট বিতরণ শুরু করার প্রস্তুতি প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। সরকার এমআরপির পাশাপাশি ইলেক্ট্রনিক পাসপোর্ট চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর গত বছরের ১৯ জুলাই এ বিষয়ে একটি চুক্তি সই করে বাংলাদেশ ও জার্মানি।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে ২০১৮ সালের জুলাইয়ে শুরু হওয়া ই-পাসপোর্ট চালু এবং স্বয়ংক্রিয় সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা’ পদ্ধতি ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত চলবে।

গত বছরের ডিসেম্বর থেকে ই-পাসপোর্ট বিতরণ শুরুর জন্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু তা পরে পিছিয়ে মার্চে নেওয়া হয়। যদিও সংশ্লিষ্ট কর্তপক্ষ নতুন নির্ধারিত সময়েও কাজ শুরু করতে ব্যর্থ হয়।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইদুর রহমান খান বলেন, ‘প্রকল্পের জন্য তহবিলের ব্যবস্থা করতে গিয়ে কাজ পিছিয়ে গেছে। গত বছরের ২১ জুন প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন পায় এবং একই মাসে ২০১৮-১৯ সালের জাতীয় বাজেট প্রস্তাব করা হয়। তাই প্রকল্পের জন্য তহবিলের ব্যবস্থা করতে সময় লেগেছে।’

কাজের সময় বিভিন্ন জটিলতাও তৈরি হয়েছিল জানিয়ে সাইদুর রহমান খান বলেন, ‘এমন দেরি হওয়া গ্রহণযোগ্য।’

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, ই-পাসপোর্টের বৈধতা ১০ বছর রাখার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে কিন্তু ফি কত নেওয়া হবে তা ঠিক হয়নি। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করছে বলেও জানান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খান।

অভিবাসন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর সূত্রমতে, সরকারের প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল জার্মানিতে ছাপানো ২০ লাখ ই-পাসপোর্ট বিতরণ করা। কিন্তু পরে বাংলাদেশ ই-পাসপোর্ট দেশে ছাপানোর সিদ্ধান্ত নেয়। এ বিষয়ে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খান বলেন, ‘আমরা উত্তরায় একটি বিশ্ব মানের ছাপাখানা বসাচ্ছি। কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আমরা আশা করছি এখানে ছাপানো ই-পাসপোর্ট বিতরণ শুরু করতে পারব।’

প্রকল্প পরিচালক বলেন, ‘এখন পর্যন্ত দুই কোটি ৪০ লাখ এমআরপি বিতরণ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে আমরা ঢাকা থেকে ই-পাসপোর্ট বিতরণ শুরু করব।’ অন্যান্য আঞ্চলিক কার্যালয় ই-পাসপোর্ট বিতরণ শুরু না করা পর্যন্ত সেখান থেকে এমআরপি দেওয়া চলমান থাকবে, জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে প্রচলিত এমআরপির গ্রহণযোগ্যতা তাদের বৈধতার মেয়াদ পর্যন্ত বজায় থাকবে।’

অভিবাসন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর সূত্র অনুযায়ী, ই-পাসপোর্ট ব্যবহারের ব্যবস্থা করতে দেশব্যাপী প্রতিটি বিমানবন্দর ও স্থলবন্দরে ই-গেট বসানোর প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।

Editor in Chief : Sayed Shakil
Office: Evan plaza, sador model thana road, cox’sbazar-4700. Email: dailycoxsbazar@gmail.com / phone: 01819099070
অনুমতি ছাড়া অথবা তথ্যসূত্র উল্লেখ না করে এই ওয়েব সাইট-এর কোন অংশ, লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনী