সংবাদ শিরোনাম

অসহনীয় যানজটে নিত্যদুর্ভোগ স্থানীয় ও পর্যটকদের

নানা অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের পর্যটন শহর কক্সবাজার এখন যানজটের শহরে পরিণত হয়েছে। দিনের প্রায় সব সময় যানজটের কবলে থাকে পুরো শহর।
শহরের যানজট নিরসনে অন্তত শতাধিক ট্রাফিক পুলিশ সদস্যের চাহিদা থাকলেও বর্তমানে তা নেই। যে কজন রয়েছেন তাদের বেশকয়েকজন ছুটিতে থাকেন প্রায় সময়। ট্রাফিক বিভাগের এমন চিত্রে অবাক হবার কিছু নেই!।

আরো অবাক করা বিষয় হচ্ছে ট্রাফিক বিভাগের টিআই কামরুজ্জামানের দীর্ঘ বছর চেয়ার আকড়ে ধরা। তিনি কক্সবাজারে যোগদানের পর থেকে এই চেয়ার আর ছাড়েন নি। চেয়ারে বয়স যেমন বাড়ছে, তেমনি বাড়ছে অনেক কিছু। দিনে আটক ও সন্ধ্যা ৭টার পর ট্রাফিক অফিসে দোকান খুলে বসেন এই কর্তাবাবু। ভুক্তভোগীরা দাড়িয়ে থাকেন কাগজপত্র হাতে, কর্তাবাবু চুরুটে ফুক দিয়ে ব্যস্ত ওনার ফ্লাটে স্ত্রী কি ধরনের টাইলস্ দিতে বলেছেন। টাইলসের কালার উনিশ-বিশ হলে স্ত্রী ফ্লাটে উঠবেনা বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। তাই তিনি মহা টেনশানে, কাগজ দেখার সময় নেই।

এতে ভোক্তভোগীরা অবাক হয়না এমন চিত্র দীর্ঘ দিনের তাই সয়ে গেছে।

এখানে পুলিশ কর্মকর্তা রয়েছেন কনস্টেবলের দুইগুণ। এতে চরমভাবে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে দেশি–বিদেশি পর্যটক ও স্থানীয়দের।
কক্সবাজার ট্রাফিক পুলিশ ও সংশ্লিষ্টদের তথ্য মতে, ৩৩ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের কক্সবাজার পৌর শহরের প্রধান সড়কের দৈর্ঘ্য ৬ কিলোমিটার। এছাড়া পর্যটন অঞ্চলখ্যাত কলাতলী সড়কটির দৈর্ঘ্য প্রায় ২ কিলোমিটার। এই ৮ কিলোমিটার সড়কসহ শহরের অন্যান্য সড়কে লাইসেন্সপ্রাপ্ত আড়াই হাজার টমটমের স্থলে ৮ হাজারের বেশি টমটম চলাচল করছে। অন্যদিকে সাড়ে তিন হাজার রিকশার পরিবর্তে সড়কে এর সংখ্যা ১২ হাজারের বেশি। এর সঙ্গে আছে অটোরিকশা, প্রাইভেট কার ও মিনিবাস। সব মিলে মোট ৪০ হাজার যানবাহন চলে শহরের সড়কে। এছাড়া ফুটপাত দখল, যত্রতত্র পার্কিং, যাত্রী ওঠানামায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ এই শহরে যানজট লেগেই থাকে। ছোট–বড় গাড়ির যত্রতত্র পার্কিং ও প্রধান সড়কের দুই পাশে ভ্রাম্যমাণ দোকান, ফুটপাত দখল, প্রধান সড়কের আশপাশে সিএনজি ট্যাক্সির মিনি টার্মিনাল, টমটম ও বড় বড় বাস–ট্রাক দাঁড়িয়ে থাকার কারণে শহরটিতে যানজটস্থায়ীভাবে রূপ নিয়েছে। প্রত্যেকদিন যানজটের কারণে থমকে থাকে জনজীবন। এতে কক্সবাজারের উন্নয়নের গতিও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে উল্লেখ করেছেন সুশীল সমাজ।

জানা যায়, শহরের অভ্যন্তরে প্রায় দশটি স্থানে বেশির ভাগ যানজট লেগে থাকে। তৎমধ্যে বার্মিজ মার্কেট বৌদ্ধমন্দির সড়কের চৌরাস্তার মোড়ে, বাজারঘাটা আইভিপি রাস্তার মাথায়, ভোলাবাবুর পেট্রোল পাম্পের পাশে, খুরুশকুল রাস্তার মাথায় ও পৌরসভার সামনে, শহীদ স্বরণীমোড়, কলাতলী সহ প্রধান সড়কে এই যানজট।
শহরের পিটিস্কুল থেকে টমটমযোগে বাজারঘাটা আসতে যেখানে সময় লাগে ৮ থেকে ১০ মিনিট, সেখানে যানজটেরকারণে প্রতিদিন প্রায় ১ ঘণ্টার বেশি সময় পার হচ্ছে বলে জানান যাত্রীরা।
অনেক যাত্রী জানান, ট্রাফিক পুলিশ ইচ্ছা করলে শহরকে যানজটমুক্ত করতে পারেন। কিন্তু এরা প্রতিনিয়তেইযানজট নিরসনের চেয়ে সিএনজি ট্যাক্সি, টমটম, মোটরসাইকেল ও অনুমোদনহীন গাড়ি থেকে টাকা আদায়ে ব্যস্তথাকেন বলে তাদেও অভিযোগ।
সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা বাংলাবাজারের বাসিন্দা মো. আব্দুস সালাম বলেন, কক্সবাজার শহর নাকিপর্যটন এলাকা। এখানে রাস্তার কোন নিয়ম নীতি নেই। দিন দিন সড়কে যানজট বাড়তেই দেখা গেছে। এযানজটের কবলে পড়ে বার্মিজ মার্কেট থেকে হাসপাতালে আসতে আধা ১ ঘণ্টা সময় লাগছে।
জামাল উদ্দিন মাহমুদ নামে এক ব্যাংকার বলেন, ‘সরকারি বন্ধ ছাড়া রুমালিয়ারছড়া থেকে প্রতিদিন আমাকেব্যাংকে যেতে হয়। যে ব্যাংকে যেতে ৮ থেকে ১০ মিনিট সময় লাগে, সেখানে প্রায় ১ ঘণ্টা পূর্বে বাসা থেকে বের হতেহয়। তা না হলে ঠিক মতো একদিনও ব্যাংকে উপস্থিত হতে পারি না।
ঢাকা থেকে বেড়াতে আসা এক পর্যটক দম্পতি জানান, এখানে কয়েকজন ট্রাফিক পুলিশকে দেখা যায় আশপাশেরচায়ের দোকানে আড্ডায় ব্যস্ত থাকেন।
সড়কে এতো যানজটের মাঝেও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধতন মহলের কোন মাথা ব্যথা নাথাকাটা খুবই দুঃখজনক।
মহিউদ্দীন নামে এক আইনজীবী জানান, যানজট তো নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে রয়েছে। এ যানজটের কবলে পড়ে প্রতিদিন কর্মজীবন থেকে ২ থেকে ৩ ঘণ্টা অপচয় হচ্ছে।
তিনি বলেন, পেশাগত কাজে আদালতে যেতে অর্ধ ঘণ্টা সময়ের জায়গায় এখন লাগে প্রায় ২ ঘণ্টা। অসহনীয়যানজটের কারণে অনেক সময় কর্মস্থলে উপস্থিতও হতে পারিনি।

কক্সবাজার ট্রাফিক পুলিশের ইন্সপেক্টর বলেন, ‘পর্যটন নগরী হিসেবে চাহিদা মতো ট্রাফিকপুলিশ না থাকায় নানা সংকট রয়েছে। তাই মাঝেমধ্যে কিছুটা যানজট সৃষ্টি হয়। তবে আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করেযাচ্ছি শহরকে যানজটমুক্ত রাখার’। তিনি গুরুত্বপূর্ণ শহর হিসেবে যানজট সমস্যা সমাধানে কক্সবাজারে ট্রাফিকপুলিশ সদস্যের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধতন মহলের প্রতি অনুরোধও জানান।

Editor in Chief : Sayed Shakil
Office: Evan plaza, sador model thana road, cox’sbazar-4700. Email: dailycoxsbazar@gmail.com / phone: 01819099070
অনুমতি ছাড়া অথবা তথ্যসূত্র উল্লেখ না করে এই ওয়েব সাইট-এর কোন অংশ, লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনী